মূল লেখায় যান

বসন্তের পাখি বসন্ত বাউরী।

শামীম চৌধুরীপরিবেশ৩৭টি মন্তব্য

ইংরেজি নামঃ Coppersmith Barbet.

বাংলা নামঃ ‘ছোট বসন্ত বাউরি’।

বৈজ্ঞানিক নামঃ Megalaima haemacephala

আকার ও বৈশিষ্টঃ প্রজাতির গড় দৈর্ঘ্য ১৬-১৭ সেন্টিমিটার। কপাল, বুক পরিষ্কার লাল। চোখের দু’পাশ থুতনি ও গলা হলুদ। মুখাবয়ব কালো। পিঠ ঘাসরঙা সবুজ। নিচের দিকে খাড়া খাড়া মোটা রেখা। ওড়ার পালক কালচে। বুক উজ্জ্বল লালের সঙ্গে সোনালি হলুদের পট্টি। লেজ খাটো। লেজের শেষপ্রান্ত সবুজাভ নীল। চোখের মনি কালচে-ধাতব। ঠোঁট শক্ত মজবুত, কালো। ঠোঁটের গোড়ায় ক’টি শক্ত লোম। পা বাদামি-লালচে। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম।

খাদ্যঃ ছোট ছোট বুনোফল। বট-পাকুড়, বকুল, দেবদারু, পেয়ারা, জাম, আতা, সফেদা, জামরুল ইত্যাদি ফলের প্রতি আসক্তি বেশি। ফল সংকটে পোকামাকড়েও ভাগ বসায়।

প্রজনন কাল ও বাসস্থানঃ ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল। অঞ্চলভেদে সময়ের হেরফের হয়। যেমন ভারত, শ্রীলঙ্কায় ভিন্ন সময়ে বাসা বাঁধে। তবে সব স্থানেই এরা গাছের খোড়লে বাসা বাঁধে। নিজেরাই খোড়ল করে নেয়। ডিম পাড়ে ৩-৪টি। ফুটতে সময় লাগে ১৪-১৫দিন। শাবক উড়তে শেখে ১৫-২০ দিনে।

বর্ণনাঃ এরা নানান নামে পরিচিত, যেমন বসন্ত বউরি, বসন্ত বাওড়ি, বসন্ত বৌরি ইত্যাদি। বসন্তকালে এদের দেখা মেলে। গ্রামের নির্জন রাস্তা ধরে হাঁটলে প্রজাতির ‘টুক্-টুক্-টুক..’ আওয়াজ কানে আসে। অনেক দূর থেকে শোনা যায় সে আওয়াজ। হঠাৎ আওয়াজটি কানে গেলে যে কেউ কামারের হাতুড়ি পেটার আওয়াজ মনে করতে পারেন। বিদঘুটে আওয়াজ হলেও সুরে রয়েছে চমৎকার তাল-লয়। শোনার আগ্রহ জাগে। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে এরা আকারে চড়ুই পাখির সমান হলেও অনেক উচ্চস্বরে ডাকতে পারে। পাখি দেখতে ভারী চমৎকার। প্রথম দর্শনেই ভালো লাগে। সাধারণত এরা বসন্তকালে জনসন্মুখে আসে। অন্য সময়ে চলে যায় আড়ালে অবডালে। তাই বলে এরা কিন্তু পরিযায়ী নয়। দেশি প্রজাতির পাখি। হরেক প্রজাতির দেখা মেলে দেশে। তারমধ্যে এরা অতি সুলভ দর্শন। ঢাকা শহরেও হরহামেশাই দেখা মেলে। চোখ-কান খোলা রাখলে রাজধানীর উদ্যানগুলোতে নজরে পড়তে পারে এদের। উঁচু উঁচু গাছে এদের বিচরণ। ঘন পাতার আড়ালে থাকতে পছন্দ করে। বৃক্ষচারী পাখি; পারতপক্ষে মাটিতে নামেনা এরা।

ছবিটি ঢাকার মিরপুরে জাতীয় উদ্ভিদ বাগান (বোটানিক্যাল গার্ডেন) থেকে ২০১৪ সালে তোলা।

“এই পাখি সহ সকল বণ্যপ্রাণী ও পাখি শিকার করা, মারা ও খাঁচায় পোষা বন্য আইনে আইনতঃ দন্ডনীয়  অপরাধ। পাখিদের অবাধে প্রকৃতিতে বসবাসের সহযোগিতা করা আমাদের কর্তব্য। পাখি বাঁচলে প্রকৃতি বাঁচবে”।

সবাইকে ধন্যবাদ।

মোট পড়েছেনঃ ১৯২জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

৩৭টি মন্তব্য

    1. শুধুই কি ভালোবাসার সম্পর্ক? গভীর প্রেম আরাফাত ভাই। আর তথ্য বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করি। কিছুটা নিজেরও জানা। আপনিও পারবেন যদি এদের নিয়ে স্টাডি করেন। ভালো থাকবেন।
      শুভ কামনা রইলো ভাই।

    1. ধন্যবাদ বোরহান ভাই।
      না ভাই খাঁচায় পাখি পালন করি না। খাঁচায় পোষা পাখিওয়ালাদের নিরুৎসাহিত করি। এরা প্রকৃতির অলংকার। নারীর গলায় যেমন মুক্তার হার শোভা পায়। তেমন পাখি ও বন্যপ্রানী প্রকৃতির শোভা বাড়ায়।

      1. মোঃ বোরহান উল ইসলাম

        আপনাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ।মহান সৃষ্টিকর্তা আপনার মঙ্গল করুন।

  1. মন্তব্য কি লাগবে? পাখি নিয়ে প্রত্যেকটি পোস্টই খুব ভালো দিচ্ছেন। আমরা জানতে / চিনতে পারছি। ধন্যবাদ সুন্দর করে প্রতিটি পাখি নিয়ে বিস্তারিত লেখার জন্যে।
    ভালো থাকুন, শুভ কামনা 🌹🌹

      1. আপনি অত্যন্ত সামাজিক মানুষ শামীম ভাই, অন্য সবার লেখা পড়ে মন্তব্য করে তা প্রমান করলেন।
        সবাইকে এমন ভাবে উৎসাহ দেয়াটা ভাল লাগলো।
        এমন উৎসাহ সবাই দিতে পারেনা।

  2. আমি একজন পাখিপ্রেমী। তাই আপনার দেয়া পাখির বর্ননা জেনে ভালো লাগলো। নতুন জানলাম এই দৃষ্টিনন্দন পাখির কথা। চোখ জুড়ানো রূপ আর সুন্দর বর্ননা মন কেড়ে নেবার মত।

  3. আপনাকে পাখি ভাইয়া বলে ডাকি? 🙂 পাখিটি সম্পর্কে জানলাম। আমার ওয়ালে শেয়ার দিয়েছি। ধন্যবাদ ভাইয়া।

    1. জ্বী নির্ভয়ে পাখি ভাই ডাকতে পারেন। তবে আপু ঘটক পাখি ভাই নাহ। হা হা হা…!! দেখেছি আপনার ওয়ালে শেয়ার করেছেন। সে জন্য আমি গর্বিত। ভালো থাকবেন সাথে থাকবেন। তবেই আরো দূর্বার গতিতে অগ্রসর হতে পারবো।

  4. পাখিটাকে দেখেছি,কিন্তু নাম জানা ছিল নিয়া, নাম সহ বিস্তারিত জানলাম। অসাধারণ পোষ্ট

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।