মূল লেখায় যান

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৩৯) “দু’একদিন আমরা রিপন স্ট্রিটে মিল্লাত অফিসে এসে চেয়ারেই শুয়ে পড়তাম।” ——শেখ মুজিবুর রহমান।

মারজানা ফেরদৌস রুবাএদেশ, খ্যাতনামা ব্যক্তি১২টি মন্তব্য

iDxJmGLYdGEv

যুদ্ধের সময় বৃটিশ গভর্নমেন্টের পক্ষ থেকে মিস্টার চার্চিল ভারতে ক্রিপস মিশন পাঠিয়ে ছিলেন, কিন্তু কোন ফল হয় নাই। যুদ্ধের পরে যখন মিস্টার ক্লিমেন্ট এটলি লেবার পার্টির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী হন তখন তিনি ১৯৪৬ সালের ১৫ই মার্চ তারিখে ক্যাবিনেট মিশন পাঠাবার কথা ঘোষণা করলেন; তাতে তিনজন মন্ত্রী থাকবেন, তাঁরা ভারতবর্ষে এসে বিভিন্ন দলের সাথে পরামর্শ করে ভারতবর্ষকে যাতে তাড়াতাড়ি স্বাধীনতা দেওয়া যায় তার চেষ্টা করবেন। ভারতবর্ষে বিভিন্ন দলের প্রতিনিধি নিয়ে যত তাড়াতাড়ি হয় একটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে–বড়লাটের সাথে পরামর্শ করে। এই ক্যাবিনেট মিশনের সদস্য ছিলেন, লর্ড পেথিক লরেন্স, সেক্রেটারি অব স্টেট ফর ইন্ডিয়া, স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস, প্রেসিডেন্ট অব দ্য বোর্ড অব ট্রেড এবং মিস্টার এ. ভি. আলেকজান্ডার, ফার্স্ট লর্ড অব এডমাইরালটি— এঁরা ভারতবর্ষে এসে বড়লাটের সাথে এবং রাজনৈতিক নেতাদের সাথে পরামর্শ করে একটা কর্মপন্থা অবলম্বন করবেন। মিস্টার এটলির বক্তৃতায় মুসলমানদের পাকিস্তান দাবীর কথা উল্লেখ তো নাই-ই বরং সংখ্যালঘুদের দাবীকে তিনি কটাক্ষ করেছিলেন। মিস্টার এটলি তাঁর বক্তৃতায় এক জায়গায় যা বলেছিলেন, তাই তুলে দিলাম: “Mr. Atlee declares that minorities cannot be allowed to impede the progress of majorities.” মিস্টার এটলির বক্তৃতায় কংগ্রেস মহল সন্তোষ প্রকাশ করলেন। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এই বক্তৃতার তীব্র সমালোচনা করলেন।

ক্যাবিনেট মিশন ২৩শে মার্চ তারিখে ভারতবর্ষে এসে পৌঁছলেন। তাঁরা ভারতবর্ষে এসে যে সকল বিবৃতি দিলেন তাতে আমরা একটু বিচলিত হয়ে পড়েছিলাম। আমরা দলবল বেঁধে শহীদ সাহেবের কাছে যেতাম, তাঁকে বিরক্ত করতাম, জিজ্ঞাসা করতাম, কি হবে? শহীদ সাহেব শান্তভাবে উত্তর দিতেন, “ভয়ের কোন কারণ নাই, পাকিস্তান দাবী ওদের মানতেই হবে।” আমরা দিনের বেলা তাঁর দেখা পেতাম খুব অল্পই, তাই রাতে এগারটার সময় নূরুদ্দিন ও আমি যেতাম। কথা শেষ করে আসতে আমাদের অনেক রাত হয়ে যেত।

আমরা প্রায়ই হাঁটতে হাঁটতে থিয়েটার রোড থেকে বেকার হোস্টেলে ফিরে আসতাম। দু’একদিন আমরা রিপন স্ট্রিটে মিল্লাত অফিসে এসে চেয়ারেই শুয়ে পড়তাম। ‘মিল্লাত’ কাগজের নতুন প্রেস হয়েছে, অফিস হয়েছে, হাশিম সাহেব সেখানেই থাকতেন। খন্দকার নূরুল আলম তখন মিল্লাত কাগজের ম্যানেজার হয়েছেন। তখন লীগ অফিসের থেকে আমাদের আলোচনা সভা মিল্লাত অফিসেই বেশি হত। মুসলিম লীগ অফিসে এমএলএরা ও মফস্বলের কর্মীরা এসে থাকতেন। বরিশালের ফরমুজুল হক সাহেব মুসলিম লীগের জয়েন্ট সেক্রেটারি ছিলেন, তিনি অফিসেই তাঁর ফ্যামিলি নিয়ে থাকতেন। শহীদ সাহেব তাঁকে মাসে মাসে বেতন দিতেন।

অসমাপ্ত আত্মজীবনী, শেখ মুজিবুর রহমান। (পৃষ্ঠা নং- ৪৯ হতে ৫০)

অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৩৮)

মোট পড়েছেনঃ ৯৩৬জনআজ পড়েছেনঃ ০জন
ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

১২টি মন্তব্য

  1. দেশকে ভালোবাসতেন বলেই পেরেছেন মিল্লাত অফিসের ব্রেঞ্চে এসে শুতে।
    এখন কোথায় তেমন প্রকৃত রাজনীতিবিদ, যারা দেশের কথা মন থেকে ভাবেন নিঃস্বার্থভাবে?

    চলুক, আছি সাথে রুবা’পু।
    শুভ মহালয়ার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। -{@

    1. শারদীয়া শুভেচ্ছা নীলাদি।
      হ্যাঁ, দেশের জন্য প্রেম কেমন হতে পারে বা কতোটা ভালোবাসা থাকলে মানুষ এমন করতে পারে এ বইটি না পড়লে বুঝা যেতো না।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।

অনলাইনে ডাক্তার দেখাতে চান?