মূল লেখায় যান

পৃথিবীর বুকে

প্রদীপ চক্রবর্তীএকান্ত অনুভূতি২০টি মন্তব্য

পূবের হাওয়া এখনো নামেনি পৃথিবীর বুকে।
সবুজ মাঠের উপর এক পরিচ্ছন্ন রঙিন বিকেল।
এ বিকেলে, ধানের ডগায় ঘাসফড়িঙ আর প্রজাপতি এসে দোল খায়।

একে একে সন্ধ্যা নামে।
আকাশের বুকে ধবল গাভীর মতো মেঘেরা চরে বেড়ায়।
থেমে যায় দূর হতে আসা রাখালিয়া বাঁশির ধ্বনি।
ভাটিয়ালি গানে নদীর তীরে এসে তরী ঠেকে।

চারদিক জুড়ে মধুমালতি আর কামিনী ফুলের মায়াভরা সুগন্ধি।
কাশফুলের আগমনী গানে,
পাখিরা ঘরে ফিরে।
গোধূলির রক্তিম আলোয় সন্ধ্যায় নামে।
জ্বলে উঠে পুরনো দেবালয়ে মাটির প্রদীপ।

হাট জুড়ে মশালের আলো।
বাল্যশিক্ষায়,
বাংলা বর্ণমালা আর রবীন্দ্রনাথের সহজপাঠ।
নদীর বুকে জোনাকিপোকার আলো,
তোমার চুলে হেলে পড়া সদ্যজাত বেলি ফু্লের মালা।

এসব কিছু মনে করিয়ে দেয় আমরা সে শৈশবে কত ভালো ছিলাম।
কত সুন্দর ছিলো সেসকল দিনের মধুময় স্মৃতি।

ভালো ছিলো,
ব্যাকরণের নিয়ম ভেঙে সাজানো কবিতার পাণ্ডুলিপি।
ভালো ছিলো জীবনানন্দের সবুজাভ পাঠশালা।
যেখানে কবিতা ছিলো তাসের ঘরের মতো!

প্রতিদিন শব্দ সাজিয়ে কবিতা লেখা।
মাতাল হওয়া তোমার কবিতাপাঠে।
যে কবিতার মন্ত্রমুগ্ধ উচ্চারণে পৃথিবীর বুকে দক্ষিণা হাওয়া এসে লাগে।

মোট পড়েছেনঃ ৮২৮জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

২০টি মন্তব্য

  1. ঘুরে ফিরে- ঘুরে ফিরে আমাদের রুপান্তরিত ভাষায় আসে চলে- চলেই আসে
    এ পৃথিবীর’ই জলছায়া।
    আমরা যেখানেই যাই!
    আমরা যা’ই করি!
    খুঁজে খুঁজে চলি
    সকাল থেকে সন্ধ্যার রূপান্তারিত চিত্র।

    প্রকৃতি বন্দনা ভালো হয়েছে প্রদীপ।
    শুভ কামনা🌹

  2. মানুষের জীবনে সবচেয়ে মধুর নির্মল নির্মোহ হচ্ছে তার শৈশব।
    পৃথিবী থেকে বিলিন বিস্মৃতি হলেও জীবন থেকে হয়না। তা স্পষ্ট আলো ফেলে এমন ক্ষনে ক্ষনে।

  3. “ভালো ছিলো,
    ব্যাকরণের নিয়ম ভেঙে সাজানো কবিতার পাণ্ডুলিপি।
    ভালো ছিলো জীবনানন্দের সবুজাভ পাঠশালা।
    যেখানে কবিতা ছিলো তাসের ঘরের মতো!”

    আপনার লেখা কবিতা পড়ে আমি হারিয়ে গেলাম নিজের ছোটবেলার স্মৃতিতে।

  4. যখন শৈশবে ছিলাম প্রকৃতির মাঝে ছিলাম। এখন প্রাকৃতিক সবই হারিয়ে গেছে শৈশবের মতো করে।

    কবিতায় রাখালিয়া বাঁশির সুর শুনতে পাচ্ছি 🙂

    শুভ কামনা 🌹🌹

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।