পিচ্চি বান্দর (বিবাহ সমাচার)
আমি আমার বাড়ির একমাত্র পোলা ছিলাম আমার বয়স ২২ হওয়া পর্যন্ত। মানে হইল আমার পরের মেল কাজিন টা আমার থেকে পাক্কা ২১ বছরের ছোট। মাঝ খানে মামাত খালাত আর নিজের নিয়া বোনের সংখ্যা ১৯।
তো যা হয় অতি আদরে বাদর।
পড়াশোনা শুরু বাড়ির কাছের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, নিয়তি দিদির (টিচার) কোলে উইঠা ইস্কুলে যাওয়া, আর মমতাজের (বাড়ির পাসের ফুপি) কোলে উইঠা আসা। ভালই চলতাসিল। ঝামেলা যে ছিলনা তা না, ছিল টুকটাক যেমন রোল কলের সময় উপস্তিত বলার সময় ননি দারাইসে আর কেমন কইরা জানি সজিবের পেন্সিল টা অর পাছা বরাবর খারা হইয়া গেসে, সজিব তো ব্যাস্ত আমার আনা টিকটিকির খসে যাওয়া লেজ কেম্নে লাফায় সেইটা দেখতে, বসতে গিয়া মারে বাবারে ননির চিল্লানি। স্যার কয় কে পেন্সিল থুইছে বেঞ্চের ফাটায়? কেউ কি আর স্বীকার যায়। পরে স্যারে কয়, সবাই সবার কলম পেনসিল উচা কর, সইজ্যায় বাদে সবতেই উচা করসে, এমন কি আমিও। ফলাফল 
ঝামেলা বাধল কয় দিন পরেই, ইস্কুলে নতুন ট্রেনিং আফারা আইল। মজাই হইতাসিল যত চিল্লাচিল্লি করি আফারা কিছুই কয় না। মজাই মজা। তয় হঠ্যাত কইরা মনে হইল বিয়া করন দরকার, সেই ভাবনা শেয়ার করলাম সইজ্যার লগে।আহারে অয় যে এই বেঈমানিটা করবো স্বপ্নেও ভাবী নাই, হালায় কয় কি আফা আফা, সাইদ্যায় বলে বড় হইয়া আপ্নেরে বিয়া করবো। কি চটকনা ডা যে দিল আফায়, এক চটকনা তেই প্রেম ফিনিস। আর পুরাটা ক্লাস কানে ধইরা বেঞ্চের উপর। তারপর আবার হেডস্যারের কাছে নালিশ। পুরা বেইজ্জত।
যাই হোক, বিয়া করবানা ঠিক আছে না করলা, তয় মারলা কেন?
আগেই জানি বিষ পিঁপড়ার গর্তের ওপর হিসু করলে সবটি দল বাইন্ধা বাইর হয়। তখন সেখানে পাটখড়ি ধরলে একসাথে গোটা পঞ্চাশ পিঁপড়া পাটখড়িটাকে কামরে ধরে। ম্যাচের বাক্সেরএক বাক্স পিপড়া নিয়া আফার ক্লাসের ঠিক আগে চেয়ার এর নিচে রাইখা দিলাম 🙂 ফলাফল আমার জীবনের দেখা শ্রেষ্ঠতম ড্যান্স। কে আনসে ম্যাচে কইরা পিপড়া, কে আনছে?
বলেন তো কে ধরা খাইল?
শুধু দুজনেই ব্যাগ আনত সজীব আর কান্তা। আর আমি ও শেখর নিতাম টিনের বাক্স। তো সবার ব্যাগ বাক্স আর পকেট চেক কইরা খালি ওরটার মধ্যেই কিছু পিপড়া পাইছিল হানিফ স্যারে। আমি কইলাম কিচ্ছু করি নাই খালি ম্যাচটার মুখ খুইলা চেয়ার এর নিচে রাখার আগে সইজ্জ্যার ব্যাগের ভিতরে………………………………………………….হে হে হে হে 




২২টি মন্তব্য
:D) :D) \|/
😀
আপনি তো দেখছি কুট্টি কাল থেকেই হাড্ডাহাড্ডি ইয়ে ছিলেন।
অবশ্য এখুন ওক্করে ভালু হই গেছেন!
এটি কিন্তু চালিয়ে নিতে হবে অবশ্যই।
একনো আচি 😀
চেষ্টা করব দাদা
কাহিনী পইড়া বুঝা গেল যে “বান্দর বুড়া হইলেও গাছে উডে” :p
:p
পিঁপড়ার ঘটনা আসলেই ঘটাইছিলেন নাকি? :D) :D)
হ্যাঁ , আমি ক্লাশে সাপও ছারছি 🙂
খাইছেতো
আপনা থেকে তো সাবধানে থাকতে হবে।
এমন ধরনের দুষ্টামির কথা এই প্রথম শুনলাম।
পিপড়া বিদ্যা কি এখনো চালু আছে ? 🙂
এই খানে পিপড়া নাই দাদা 😀
এত দুষ্ট ছিলেন আপনি ভাইয়া? হাসতে হাসতে তো শেষ হয়ে যাচ্ছি। আরো জানতে চাই :D)
😀 😀
আপনিতো দেখি এক্কেরে সেইরাম দুষ্ট ছিলেন 🙂
আফা আফা, সাইদ্যায় বলে বড় হইয়া আপ্নেরে বিয়া করবো–এ ধরনের কথা আমারও শোনার সৌভাগ্য হয়েছিলো 🙂
আপনি টিচার 😮
শোনার পর কি করছিলেন :p
ম্যাডাম রূপবান সিনেমা দেখেননি শিওর 🙂 পেন্সিলের ঘটনা কিন্তু বিপজ্জনক ছিলো। দুষ্ট শ্রেষ্ট আপনি।
না দেখিনি 🙂 নামকরা সিনেমা নাকি ?
দুষ্ট শ্রেষ্ট আপনি। থেঙ্কু 😀
সাইদ্যা আর কতো বড় হইলে ম্যাডামরে বিয়া করবো? কত্তদিন বিয়া খাইনা।
আম্মো ম্যালাদিন বিয়া খাইনা 🙁
কেউ এক্টা বিয়া করেনা ক্যারে ;?
এত্ত দুষ্ট আমি এই প্রথম দেখলাম।আরো জানতে চাই (y)
😀 😀 😀
স্টে ইন টাচ
এই সইজ্যা কিন্তু আমিনা :p আমার তো সব ম্যাডামকে বিয়ে করতে ইচ্ছে করতো। কিন্তু ৪ টার বেশি বিয়ের নিয়ম নেই দেখে বলা হয়নি কাউকে :p (y) (y)
:D) :D) :D)