মূল লেখায় যান

কাপুরুষ

অনন্য অর্ণবকবিতা২৪টি মন্তব্য

হ্যাঁ আমিই কাপুরুষ
জান ? তোমার এই প্রলয়ঙ্করী আর্গুমেন্ট
আমায় এতটুকুও বিচলিত করেনি,
অথবা –
মুহুর্তের জন্যও হতবাক করে নি।

তুমি যখন চাইতে যেভাবে চাইতে-
আমাকে তৈরি থাকতে হতো,
শরীরে-মনে- মননে,
আমাকে তৈরি থাকতে হতো
অর্থে-বিত্তে- প্রাচুর্য্যে

তুমি যখনি বলতে- এই শুনছো ?

আমায় এটা কখনো বলতে সুযোগ দাওনি –
হ্যাঁ বলো, শুনছি ।

তোমার ইচ্ছে গুলো ছিলো সব সময়ই আটপৌরে ঢংয়ে ভরা
কখনো ভীষণ ক্লান্তি নিয়ে যখন ঘরে ফিরেছি
তখনই তুমি বলতে এই শোন, তুমি এমন অলস কেন
সংসারে তোমার কোন দায়িত্ব আছে ! বলি –
সব কাজই তো একা আমাকেই করতে হয়
আজ অন্তত রান্নাটা না হয় করো !

আমি যখন জ্বরের ঘোরে বেহুঁশ-
তখনি তোমার বৃষ্টিতে ভেজার শখ তুঙ্গে উঠে যেতো
বলি শুনছো ? তুমি আসলেই একটা বেরসিক-
ভেবেছি আজ একটু বৃষ্টিতে ভিজতে যাবো,
অথচ তুমি কম্বল মুড়িয়ে বিভোরে ঘুমাচ্ছ ।
যেন আজই জীবনের শেষ বারি বর্ষণ !

সে দিন বামপন্থীদের ডাকা তুমুল আন্দোলন আর অবরোধে –
একটাও যানবাহন ছিল না,
রাজপথ ছিলো শুন্য, খাঁ খাঁ দুপুরের মরুদ্যান –
চৈত্রের খর-রৌদ্রে ভরা দুপুরে হঠাৎ তোমার তলব
তুমি বাড়ি এসো- আমার এখনি চাই !
ব্যাস আমার কি আর বলার কিছু আছে ?
অফিস ছেড়ে ফুটপাত ধরে পাকা তিরিশ কিলো হেঁটে –
ঘরে ফিরে দেখলাম তুমি বিভোর ঘুমিয়ে আছো !!

আমায় কাপুরুষ বলো তাতে আমি একটুও বিচলিত হইনি-
বরং খারাপ লাগছে এটা ভেবে যে –
আমার সমস্ত অকুণ্ঠ ভালোবাসা সঞ্চিত রেখেছি যে-
হৃদয় মঞ্জিলে,
আজ সেই সিংহাসনে অথর্ব কারো পদায়ন –
আমি সন্তর্পণে সে পথ এড়িয়ে চলি ।

হ্যাঁ বহুদূরের সুউচ্চ অট্টালিকায় –
দখিনের খোলা জানালায় বসে,
আমি সুদূরের সাগরের গর্জন শুনতে পাই
আর শুনতে পাই –
তোমার বিলাসী বাসনায় সজ্জিত দেবী সদৃশ মনের
কি বিভৎস করুন বিসর্জন।

আমি সত্যিই এক কাপুরুষ ।।

উত্তরা, ঢাকা
১ লা কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

মোট পড়েছেনঃ ৯৬৯জনআজ পড়েছেনঃ ০জন
ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

২৪টি মন্তব্য

    1. মানুষ চেনা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শিল্প। চোখ ধাঁধানো রূপের আলোয় ঝলসে গেলে অনেক সময় জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে। ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন সবসময় 😍

  1. আমায় কাপুরুষ বলো তাতে আমি একটুও বিচলিত হইনি-
    বরং খারাপ লাগছে এটা ভেবে যে –
    আমার সমস্ত অকুণ্ঠ ভালোবাসা সঞ্চিত রেখেছি যে-
    হৃদয় মঞ্জিলে,
    আপনার সুন্দর লেখনীর কবিতায় আমি এখানেই থেকে পেলাম, কবি। শুভকামনা থাকলো।

  2. “তোমার বিলাসী বাসনায় সজ্জিত দেবী সদৃশ মনের
    কি বিভৎস করুন বিসর্জন।
    আমি সত্যিই এক কাপুরুষ ।।”

    সত্যিকারের ভালবাসার মানুষ গুলো
    হয় কাপুরুষ নয়তো সার্থপর।
    সেটা বলে অভিমানে না হয় অনুরাগে
    তাইতো ভালবাসা হয় জীবন্ত।
    যেমনি ফুটেছে আপনার কবিতায়।
    শুভ কামনা।

  3. আমি যখন জ্বরের ঘোরে বেহুঁশ-
    তখনি তোমার বৃষ্টিতে ভেজার শখ তুঙ্গে উঠে যেতো
    বলি শুনছো ? তুমি আসলেই একটা বেরসিক-
    ভেবেছি আজ একটু বৃষ্টিতে ভিজতে যাবো,
    অথচ তুমি কম্বল মুড়িয়ে বিভোরে ঘুমাচ্ছ ।
    যেন আজই জীবনের শেষ বারি বর্ষণ !

    কেমনে লিখেন ভাইয়া।দারুণ অভিমানী।

  4. আমি যখন জ্বরের ঘোরে বেহুঁশ-
    তখনি তোমার বৃষ্টিতে ভেজার শখ তুঙ্গে উঠে যেতো
    বলি শুনছো ? তুমি আসলেই একটা বেরসিক-

    কি মিষ্টি প্রেমের উপখ্যান-
    উভয়ের উপর উভয়ের প্রতাপ বেশ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

    দারুন / অসামান্য সাহিত্য।

  5. কা-পুরুষই যদি না হবেন তো এমন প্রেমময় পুরুষ হবেন কি করে? আচ্ছা কাপুরুষের স্ত্রীলিঙ্গে কোনো বিষেশন নেই?ওটাই উপযুক্ত ছিলো এমন প্রেমিকার ক্ষেত্রে।
    জয় কাপুরুষ!

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।

অনলাইনে ডাক্তার দেখাতে চান?