মূল লেখায় যান

এখানে পাশ করেও হাসা যায় না

আকবর হোসেন রবিনএকান্ত অনুভূতি২২টি মন্তব্য

প্রাইমারির গন্ডি অতিক্রম করার সাথে সাথে বাচ্চাগুলোর কোমল হৃদয়ে একটা ধাক্কা লাগে। বন্ধুদের সাথে দূরত্ব বেড়ে যাওয়ার ধাক্কা। এই ধাক্কার সাথে আরও একটা ধাক্কা এসে যোগ হয়, যারা ভালো পাশ করতে পারেনা তাদের উপর। শুনতে হয় মায়ের বকুনি, বাবার চোখ রাঙানি। প্রতিবেশী আন্টিদের হাজার বাণী।

আবার অনেক সময় দেখা যায়, খারাপ রেজাল্ট করার কারণে খেলার সাথীদের সাথে পূর্বের ন্যায় সম্পর্ক আর থাকেনা। মায়েরা বাসা থেকে বারণ করে দেয়, খারাপ রেজাল্ট করা বাচ্চার সাথে মেলামেশা করা যাবে না। কথা বলা যাবে না। তাদের ঘরে যাওয়া যাবে না। এত না যখন মাথায় এসে আঘাত করতে থাকে, তখন যেকোন বাচ্চার মাথায় ওই ‘না’ শব্দটা সেট হয়ে যায়। ফলে ভালো রেজাল্ট করা বাচ্চাগুলোও খারাপ রেজাল্ট করা বাচ্চাদের সাথে দূরত্ব ‍তৈরি করে বসে।

পরিবার, প্রতিবেশীদের থেকে আঘাত পেয়ে পেয়ে বাচ্চাগুলো যখন মানসিকভাবে অর্ধেক মরে যায়, তখন তাদের সম্পূর্ণ মারার জন্য আসে পরের ধাপ। মাধ্যমিকে ভর্তি ও নতুন ডজনখানেক বই।

যারা ভালো রেজাল্ট করতে পারেনা তারা সরকারি স্কুলে চান্স তো পাই না, এমনকি ভালো মানের কোন বেসরকারি স্কুলেও ভর্তি হতে পারেনা। তাই মা-বাবা তাদের ভর্তি করিয়ে দেয় ‘অমুক-তমুক কিন্ডারগার্টেন এন্ড হাই স্কুল’ নামের স্কুল গুলোতে। যেখানে থাকে শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত পাঠ্য বইয়ের চেয়ে তিন চারটা অতিরিক্ত বই। এর ফলে দেখা যাচ্ছে খারাপ রেজাল্ট করা বাচ্চাগুলোকেই ভালো রেজাল্ট করা বাচ্চাদের চেয়ে বেশি বই পড়তে হচ্ছে! কি অদ্ভুত!

 

ছবি- অনলাইন থেকে সংগৃহীত

 

মোট পড়েছেনঃ ১১২৩জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

২২টি মন্তব্য

  1. কোমলমতি শিশুদের এভাবেই মানসিক ভাবে হেয় করা হয়, ওদের মধ্যে বিষবাষ্প ঢুকিয়ে দেয়া হয়। এদের কাছ থেকে পরবর্তী তে সুস্থ স্বাভাবিক মানসিকতা, ব্যবহার কিভাবে আশা করতে পারি? ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর একটা বিষয় তুলে ধরার জন্য

  2. কোমলমতি শিশুদের এই মানসিক যন্ত্রণা আমাদের পরিবার এবং সমাজের নিত্য নৈমত্তিক ঘটনা যা বন্ধ হওয়া অতীব প্রয়োজন। একজন শিশু তার মেধার মাধ্যমে এগিয়ে যাক এটাই কাম্য। অথচ সমাজে একটি শিশুকে টপ জিপিএ পেতে হবে এজন্য যে মানসিক টর্চার করা হয় তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সুন্দর বিষয় নিয়ে লিখছেন ভাই। অনেকদিন পরে এলেন কিন্তু আশা করি নিয়মিত হবেন।

  3. দারুণ লিখেছেন। সত্যিই অদ্ভুত আমরা
    এভাবেই প্রতিনিয়ত ছোট্ট শিশুদের মনে বিষ ঢালছি। বিষিয়ে তুলছি শিশুদের জীবন।
    চমৎকার উপলব্ধি দাদা ভালো লাগলে খুব।

  4. আমার কেন জানি মনে হয় বাংলাদেশের প্রতিটা গার্ডিয়ানের চাইল্ড সাইকোলজি নিয়ে কাউন্সিলিং করা দরকার। আমারা নিজেরা নিজেদের আজান্তেই বাচ্চাদের মনে বিষবাক্য গেথে দিয়ে তাদের মাথা নষ্ট করি।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।