মূল লেখায় যান

আমি ও বাবা

হালিম নজরুলছড়া১৬টি মন্তব্য

আমি তখন অনেক ছোটো,
ঘুর ঘুরিয়ে বেড়ায় টো টো।
হাঁটতে গিয়ে বসে পড়ি
বসতে গিয়ে ধপাস!
আমায় উনি রক্ষা করেন
থাকেন এ পাশ ও পাশ।

হাত বাড়িয়ে বলেন “ওঠো,
বীর বাহাদুর খোকা “
আমি কী আর বুঝেছি তা,
ছিলাম বোকাসোকা।
চলতে শিখি বলতে শিখি
পড়তে বসি লিখন লিখি
বাবা আমার একটি দিনও
দেয়নি কোন ধোকা।

ছুটির পরেই বিদ্যালয়ের দ্বারে
প্রখর রোদে তিনি রাস্তার ধারে
দাঁড়িয়ে থাকেন একা।
তিনি থাকেন বলেই হয়তো
হয় না যমের দেখা।
বৃষ্টি-রোদে মাথার ছাতা
স্বাদ- আহ্লাদের অন্নদাতা
তিনিই আমায় দেন আঁকিয়ে
জীবন পথের রেখা।

তার ক্ষুধা নেই তার সুধা নেই
নেই ক্লান্তি ঘুম,
নিজেই বাবা হবার পরেও
পাচ্ছি আদর চুম।
তার ছাঁয়াতেই ধন্য জীবন
পারতো হতে অন্য জীবন
আমার জন্য সকল সময়
তার কাটে নির্ঘুম।

যার জন্য এই আমি আজ
পরছি মাথায় বিজয়ী তাজ
বিপদ এলে আজও বলেন
“সোনার খোকন ওঠো”।
বুঝতে পারি বাবার কাছে
কত্ত আমি ছোটো।

চোখ ভিজে যায় জলে,
অসীম কোলাহলে
আমায় বলেন “উঠে দাঁড়াও”
বিপদগ্রস্ত হলে।
আমি দাঁড়ায়, নুইয়ে পড়ি,
আবার দাঁড়ায় উঠে।
কিন্তু বাবা দাঁড়ায় না আর
শক্তি গেছে টুটে।
শয্যাপাশে যখন বসি
হেসে ওঠেন সোনার শশী
এই পৃথিবীর চতুর্দিকে
ফুলরা ওঠে ফুটে।

মোট পড়েছেনঃ ৯২০জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

১৬টি মন্তব্য

  1. শেষটুকু বুকের ভেতর লাগলো। যে বাবা মায়ের বিরক্তিহীন চলা আমাদের নিয়ে অথচ আমরা তাদের শেষ বয়সে কিছুই করি না। একটুতেই চরম বিরক্ত হই।
    বাবাময় ছড়া খুবই ভালো লাগলো। ভালো থাকুক সব বাবারা।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।