মূল লেখায় যান

অ-বোধ্য নিরুপণ- কথোপকথন

বন্যা লিপিঅণুগল্প৯টি মন্তব্য

ভরদুপুরের ছায়ায় হাঁটছে কিছু নয় অনেকগুলো ধুলোর মিছিল।মিছিলে আওয়াজ থাকার কথা ছিলো, অথচ নিরবে বয়ে যাচ্ছে প্রতিবাদের  কতগুলো দীর্ঘশ্বাস। টেলিস্কোপের প্রচার কেন্দ্রের বাইরে যাত্রি ছাউনীতলায় অপেক্ষারত সময়ের বাহক। বাঁ পাশের গলির ভেতর  থেকে বেরিয়ে আসে মধ্যদুপুর। দুজনেই এই প্রথম মুখোমুখি হওয়ার বিস্মিত রোদের উৎসব পালনে উন্মূখ।

 –কিছু বলব…

: কী?

— ভাবছি…সহজ স্বীকারোক্তি করেই যাব

: বলে ফেলো…

— সহজ নয় যদিও সহজে সহজ কথা…

: এত পেঁচাচ্ছ কেন? শুধু শুধু কালক্ষেপন

— আচ্ছা!!…..

: হুম!! 

— আমি বললেই বুঝবে তোমরা?

: এখানে আমি ছাড়া আর ত কেউ নেই! তাহলে “তোমরা” বলছ যে?

— এই তো! দেখলে-বুঝলে? এই সহজ কথাটাই বুঝলে না।  বুঝলেনা, আসলে তুমি একা নও, তুমি মানে তোমার সাথে সাথে সমষ্টিগত জনতা থাকে তোমাকে ঘিরে….. আমার কথা কেবল শুধু মাত্র আমার একার নয়, যেমন তোমার একার জন্যেও নয়……. তাহলে?

: আসলেই! তোমার সহজ স্বীকারোক্তি তুমিই বোঝো.. তাহলে আর দোষ দেবে কাকে কাকে?

— সেখানেই আমার ব্যর্থতা….জানো!!

: আমি শোনার জন্য সময় নিয়েছি সময়ের কাছ থেকে…..তুমি বলো, বুঝি বা না বুঝি, তোমার গলার স্বর থেকে নিসৃত শব্দের পিপাসু আমি….

— হা হা হা .।… আমার কন্ঠস্বরের পিপাসা তোমার? জানতাম না তো! যদি এমন হতো! এ কন্ঠস্বর বজ্রকন্ঠ হতো! তবে বড় ভালো হত বলো!

: অতশত বুঝিনা….. বুঝিনা যেমন তোমারে… শুধু বুঝি ভালোলাগে তোমাকে….

— ওহে নবীন যুবক! সামলাও নিজেরে…. এই বুঝি আসন্ন ঝড়ের পূর্বাভাষ…. এখানে মেঘে মেঘে বেলা ফুরবার চলছে আয়োজন…. তুমি পাহাড় দেখোনি? সে বড় নিশ্চুপ মৈণাকের ধ্যানে নিজেকে রেখেছে অটল…… 

: তাতে কী? পাহাড়ের উচ্চে চিরহরিৎ বসন্ত…. আমার আকাঙ্খা সে বসন্ত ছুঁয়ে যাবার, 

— আজ আর বলা হলোনা আমার সহজ স্বীকার্য না বলা কথা, উঠি তবে আজ।

: এখনই ? বলেছিলাম থেকে যাও আজ সারাবেলা…আরো কিছু বলতে চেয়েছি তোমাকে শুনবে না?

— আচ্ছা, বলে দেখো, আমি মিলিয়ে দেখি মেলে কিনা, আমি যা ভাবছি, তুমি তা বলছো কিনা!

: এই তো আবার গুলিয়ে ফেললাম…

— কি হলো?

: তুমি একটু চুপ থাকতে পারো তো! তোমার কন্ঠস্বরে আমার গোছানো আয়োজন ভেস্তে যেতে থাকে, আমি শুধু ভুলে যাবার আগে বলে দিতে চাই…….

— আচ্ছা, ক’টা বাজে বলোত?  তুলসী তলায় প্রদীপ জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় সন্ধ্যা নামছে ধীরে…. পাখিরাও ডানা মেলেছে নীড়ে ফেরার তরে…. আমাকে বলে গেছে, এখন ঘরে ফেরার সময় হয়েছে….. আবার সুযোগ পেলে যখন আসব এখানে! আমায় ধরে রেখো তোমার বুকে সমাধি গড়ে……

মধ্যদুপুর  চারদেয়ালের ভেতরে ফিরে আসে একটুকরো রোদ পেছনে রেখে।

মোট পড়েছেনঃ ১১৭০জনআজ পড়েছেনঃ ০জন
ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

৯টি মন্তব্য

    1. সহজে যায়না যেমন সহজ কথা বলা, তেমনি সহজ কথাটাও সবাই সহজে বোঝেনা। সময়ের ধুলো, রাষ্ট্রের কাছে আমজনতা। সময়ের বাহক,প্রতিবাদী কন্ঠস্বর,মধ্যদুপুর না বলতে পারা কথা। পুরো গঠন পড়ুন।ভালো লাগাটাও হতে পারে লেখার সার্থকতা।

  1. ধুলো, সময়ের বাহক,মধ্যদুপুর কল্পনা মিশ্রিত চরিত্র গুলোর সমন্বয়ে সহজ কথোপকথন সহজভাবে না হয়ে অনেক জটিল হয়ে গেল।
    অনেক সময় সহজ কথা সহজ ভাবে বলা মুশকিল আবার জটিল কথা সহজ ভাবে চলে আসে।
    কথোপকথন উপভোগ করলাম।

    1. আমি একটা কথা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি। কিছু শব্দ কেন, কি, কিভাবে ব্যাবহার করা হলো কোনো লেখায়! তা অবশ্যই জানতে/বুঝতে হবে আমাকে। তবেই লেখার অলংকরন নজরে আসবে। আমি অনবরত সেই চেষ্টায় পড়ার চেষ্টা করি। যখন দেখি পড়ার জন্য মানসিক স্থিতীটুকু বজায় রইছে না! তখন লেখা চলে আসে এমন দুর্বোধ্যাকারে। যার ফলাফল এই আপনার মন্তব্য। আপনি ধারঘেসে চলে গেলেন কয়েকটা শব্দের শরীর ছুঁয়ে। উপভোগটাই আপনার জন্য এ লেখার মান। শুভ কামনা রইলো।

    1. অচল সমাধি” উপমাটা দারুন পছন্দ হইছে মহারাজ। সমাধি কবে সচল ছিলো জানা গেলে ভালো হতো। ওইটাই সবচে বড় কথক, মিলিয়ে মিলিয়ে, মিলে যাবে এমন নয়……আসলে হয়ই না মেলানো ফেলানো……. যে যার অবস্থানে টুকরো টুকরো রোদের মত…….

  2. মধ্য দুপুরে প্রচণ্ড রোদ থাকলেও মিলিয়ে যেতে সময় নেয়না। হয়তো, ভাবে প্রতিবাদের ভাষা নিরবে গুমড়ে মরে। কি লাভ! যার কাছে জানাবে প্রতিবাদ, সেই হয়তো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়। তাই নীরবে সন্ধ্যা বাতি জ্বালিয়ে সমাহিত করা হয় প্রতিবাদের ভাষাকে।

    1. আহা!!! ঘোর ঘোর কলিযুগের ঘোর….. আছি এখন -থাকব না আর কিছু বাদে…..মধ্যদুপুর সময়ের বাহক যতই ছুঁয়ে যাক দুপুরকাব্যের খোলা উপন্যাসের পৃষ্ঠা।
      পশ্চিমে হেলে পড়লে রোদের কিরণ! সন্ধ্যাবাতি আয়োজন শুরু করে জ্বলে উঠবে বলে……

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।

অনলাইনে ডাক্তার দেখাতে চান?