হায়রে! বাংলার পোষাক শিল্প!!!

মনির হোসেন মমি ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, মঙ্গলবার, ০৮:০৪:৫৮অপরাহ্ন বিবিধ ১০ মন্তব্য

১৯৯৪সাল সবে মাত্র ডিগ্রী পাশ করেছি ,সংসারের হাল ধরতে হবে -বাবা সরকারী চাকুরী হতে অবসর নিয়েছেন।সংসারের বড় হিসেবে আমাকেই সংসারের  দায়ীত্ত্ব নিতে হবে।সুতরাং হন্ন্যে হয়ে খুজছি সংসার চলার মত একটি সরকারী কিংবা আধা সরকারীর নাম মাত্র চাকরী।প্রতিদিন পত্রিকার পাতায় কেবল চাকরী বিজ্ঞপ্তির দিকেই নজর যায়। দেশ জাহান্নামে যাক আমার কেবল একটি চাকরীর প্রয়োজন।ঐ সময় এদেশের শতকরা ৮০%লোকের চাকরী নামক সোনার হরিনের পেছনে আমার মতন ছুটতে ছুটতে কয়েক জোড়া পায়ের স্পন্স/সেন্ডেল ক্ষয় করে ফেলেছেন -কেউ পেয়েছেন যার মামা-টাকার জোর ছিল কেউ আবার পাননি।এটাই ঐ সময়ের চাকরীর বাস্তবতা।

আজ ২০১৩ সাল ।চাকরী নামক দুঃষ্প্রাপ্য বস্তুটি এখন তার সোনার হরিন খেতাবটি মুছে ফেলেছেন।এখন ইচ্ছে করলে একজন ডিগ্রী পাস ধারী মিনিমাম বেতনে চাকরী এ্যাভেলেভেল।আর এর মূলে আছে বাংলাদেশের সুনামধন্য মূল রপ্তানী কারী পোষাক শিল্প।যে শিল্পের টানে বাসা বাড়ীতে কাজের বোয়ার অভাব ঘটে।ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের এ শিল্পে কদর বেশী।এক ফ্যামিলির স্বামী-স্ত্রী কাজ করলে বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে সুখী সংসার গড়তে পারেন।প্রথমে ১৫০০/১৬০০ টাকা বেসিক বেতনে কাজ করেও সুন্দরভাবে সংসার চালাত।এর হল ৩০০০ টাকার নূন্নতম বেতন তাতেও সংসার চালাতে বড় কষ্ট হয়।যে ভাবে বাজারে দৈনন্দিন জিনিস পত্রের দাম বেড়েছে হুড় হুড় করে লাগামহীন ভাবে বেড়ে চলছে তাতে সংসারে এক জনই এই টাকায় মাস চালানো কষ্টকর।তার পর ইচ্ছেমত বাড়ীওলার  বাসা ভাড়ার সমস্যাতো আছেই।কোথায়ও সরকারের কোন তদারকী কিংবা নিয়ন্ত্রয়ন নেই।এ যেন এক ভূতের রাজ্যে বসবাস করছি।

পোষাক শিল্পের উন্নতির কারনে দিনে দিনে কিছু নতুন শিল্পউদ্দ্যেক্তার সৃষ্টি হয়।এতে বাংলাদেশের অথ`নীতিকে চাঙ্কা করে।কথা হলো যাদের দিয়ে এ শিল্পের এত দ্রুত উন্নতি সাধন রাষ্ট্র এবং ব্যাক্তির আমরা তাদের জীবন যাত্রার মানে কি দেখছি।দিন রাত পরিশ্রম করে নিথর দেহটাকে একটু শান্তি দিতে বাসায় ঢুকতে পারেনা বাড়ীওলার ভাড়া পরিশোধের চাপে,বাচ্চাদের লেখা পড়াতো দূরে থাক তাদের এই সামান্য মজুরীতে বাচিয়ে রাখাই দায়।তার পর কাজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মালিক বিভিন্ন কায়দায় ঠকাচ্ছেন তাদের সেখানে কেউ দেখার নেই।কোন অ্যাকসিডেন্ট ঘটলে শ্রমিকদের উপরই ঘটে।কয়েক মাস আগে দেশের ইতিহাসে “রানা প্লাজা” নামক  এক শোষাক কারখানায় ঘটে যায় এক কালো অধ্যায়।ঘটনার বিবরনে যাবনা শুধু বলব যে সব মালিকদের কারনে এতগুলো লাশ পড়ল তাদের বিচারের রায়ে এত বিলন্ভ কেনো?কেনইবা বিল্ডিং মালিকের অনিয়ভাবে মানুষ হত্যার বিল্ডিং তৈরীর বিচার হবেনা।কত লাশ যে চাপা পড়েছিল সেখানে তা বলা মুসকিল স্বজনদের ফিরে ফিরে তাদের আদরের সন্তাদের খোজ করাই যেন বলে দেয়। সেখানে এখনও চাপা কান্না শুনতে পাবে-আমি বাচতে চাই,আমাকে বাচাও।অনেক শ্রমিকের দাবী ছিল সেখানে শোষাক শ্রমিক কল্যানে কিছু একটা করতে কিন্তু কামাড়ের দোকানে কোরান শরীফ পড়ার মত কে কার কল্যান করবে এ দেশের রাষ্ট্রের নেতা বলেন আর ব্যাসায়িক বলেন “সব শিয়ালের এক রা”।কিন্তু যখন এ জনতা জেগে উঠবে তখন কেহই রেহাই পাবেনা।শ্রমিকদের রক্তচোষা টাকা দিয়ে মালিকরা অট্ট্রালিকায় বসবাস করবে,তাদের সন্তানেরা দেশে নয় বিদেশে পড়া লেখা করাবেন।আর শ্রমিকদের বেচে থাকার নিশ্চয়তা দেবেননা তা কি হয়?যুগ পাল্টিয়েছে শ্রমিকরা আজ কথা বলতে শিখেছে ,শিখেছে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে।

শিল্পের মালিকরা সরকার কিংবা বায়িং হাউস সব ক্ষেত্র থেকেই বিশেষ সুবিদা নিচ্ছেন।ব্যাংক এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগে উদার।অডার পাবার পর মালিক তার অডার এ্যামাউন্টের ৬০/৭০% টাকা উত্তোলন করতে পারছেন।তাহলে তার প্রকৃত মূলধন কত?তাছাড়া এক্সপোটের জি,এস,পি ফ্রি তো আছেই।যা এখন মালিক-শ্রমিক অসন্তুসে সাময়িক ভাবে বাতিল করা হয়েছে।মালিকদের এবং রাষ্ট্রনেতাদের ভূলে গেলে চলবেনা যে এ শিল্পে শুধু শ্রমিকরাই লাভবান হচ্ছেনা এ শিল্পে জড়িয়ে আরো শ’য়ে শ’য়ে ব্যাবস্যা প্রতিষ্টান।লেবেল,ডাইং,ফেব্রিক্স,স্পিনিং, এরকম অনেক প্রতিষ্টানের ভাগ্য জড়িয়ে আছে এ শিল্পের সাথে।সুতরাং দেশী বলেন আর বিদেশী চক্রান্ত বলেন এ শিল্পকে বাচিয়ে রাখা অত্যান্ত এবং প্রধান লক্ষ্য থাকা চাই।নতুবা এর ধষে ভেঙ্গে পড়বে দেশের অথ`নীতি।যারা এ শিল্পে কাজ করে তারাই বলতে পাড়বে এ মূলে দায়ী কারা।শ্রমিকরা তাদের কাজে খুবই আন্তরিক ।ই ,পি জেটের বাহিরে এমনকি ই,পি জেটও এমনও প্রতিষ্টান আছে যেখানে সারা বছর সকাল থেকে রাত ১০/১২ পয`ন্ত কখনও কখনও সারা রাত্র আবার একাধারে দু-তিন পর কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে।যার কারনে বিশ্বে পোষাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ সুনামের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে।এর সব অবদানে কিন্তু শ্রমিকের সন্তুষ্টি উল্ল্যখ্য।শ্রমিকের দেহ মন ভালো থাকলে শ্রমিকের পাশাপাশি মালিক লাভবান হবেন।

গত শনিবার হতে আবারও শুরু হল পোষাক শিল্পের অস্হিরতা।নূণ্যতম ৮২০০ টাকা মজুড়ীর দাবীতে গত শনিবার হতে শুরু হয় শ্রমিকদের আন্দোলন।বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এ দেশের শ্রমিকরা অনেক কম বেতনে চাকরী করেন।তাছাড়া অন্যান্য অসুবিদাতো আছেই।রানা প্লাজার ধ্বষের সময় এক বিদেশী বলেছিল এ দেশের শ্রমবাজার সস্তা বলে মালিকদের এবং বায়িং হাউস গুলোর সূ নজর শ্রমিকদের উপর পড়েনা।তাইতো তারা একের পর এক দূঘ`টনার স্বীকার হন এবং মালিক শ্রমিকের মধ্যে দূরত্ত্ব বিরাজ করে।মূলত সেই কারনে বিদেশী বায়িং হাউস গুলোর টনক নড়ে এবং সরকারকে একের পর এক ফরমূলায় চাপে রাখেন।এমনকি ডিজনী ওয়াল্ডের মত বড় বায়িং হাউস তাদের ব্যাবসা এ দেশ হতে গুটিয়ে নিয়েছে।সরকারের অনেক সিদ্ধান্ত এখনও বাস্তবায়ন করতে পারেনি সে ক্ষেত্রে সরকার ব্যাথ`।তাই বিদেশী বিনিয়োগকারীরা এ দেশের এ শিল্পকে নিয়ে চিন্তিত ।তারা চিন্তিত কারন শ্রমমূল্য অনেক কম এর কিছুটা উন্নতি হলে তারাও নিশ্চিন্তে ব্যাবসা করতে পারতেন।

আসছে সামনে জাতীয় ইলেকশন।নোংরা রাজনিতী দলগুলোর মধ্যে শুরু হয়ে গেছে ভোটের হিসাব-নিকাশের পলিসি।কে কি ভাবে ভোটের পাল্লা ভারী করবে সেই উদ্দ্যেশ্যেই জনতার উপর চালাচ্ছে তরবারী শেষ মেশ যা টিকে।পোষাক শিল্পটা এখনকার প্রেক্ষাপটে ভোটের সব চেয়ে বড় প্লে গ্রাউন্ড।এখানে কেউ ছাড় দেবেনা।সন্ভত নৌ ও পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান সাহেব সেই ভোটের হিসাব কষতেই শ্রমিক সমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন।আর যায় কোথায় শ্রমিকদের মাঝে কিছু অশ্রমিক বিভিন্ন ভাংচুড়ে লেগে পড়ে।মন্ত্রী ব্যাবসায়িকদের তোপেড় মূখে পড়েন।হঠাৎ এ ভাবে সমাবেশের ডাক কারো কাম্য নয়।কারন সেই সময় কারো না কারো সিপমেন্টের সিডিউল থাকতে পারে।সিপমেন্টের সিডিউলে সমস্যা করা  কারো উচিত নয় না শ্রমিক না মালিক আর রাষ্ট্রের পক্ষেতো প্রশ্নই উঠে না।সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের একজন মন্ত্রী তার দায়ীত্ত্বজ্ঞান থাকা উচিত বিভিন্ন মহল হতে প্রচুর সমালোচনায় তোপেড় মূখে পড়েন।গতকাল মালিক-শ্রমিক সরকার ত্রিপক্ষী সমাবেশ থেকে ঘোষনা আসে আজ সকল শ্রমিকরা কাজে যোগ দেবে।ঘোষনার উল্টো ঘটনা ঘটে আজ।আগে ঘোষনা আসতে হবে তার পর কাজের কথা,এ দাবী হঠাৎ আজকের নয় অনেক আগের –এ শিল্পের রক্ষা কতা` বি,জে,এম,ই ও বি,কে,এম,ই মনে হয় নাকে শষে` তৈল দিয়ে ঘুমায়।শুধু নিজেদের থলে ভরতেই ব্যাস্ত।মনে রাখা জরুরী এ শিল্পের অস্তিত্ত্বের সাথে আপনাদের অস্তিত্ত্ব জরিত।এ দেশে কোন সমস্যাই ততক্ষন পয`ন্ত সমাধানে আসেনা যতক্ষন না ভাংচুড়-হাঙ্গামা না হয়।

এক সময় এ দেশের প্রধান অথ`কারী ফসল ছিল পাট।যাকে আমরা সোনালী আশ বলতাম।সেই পাট আজ মসলিনের শাড়ীর মত প্রায় ধ্বংসের পথে।এক প্রকার ধ্বংসই বলা চলে।এখন আমাদের প্রধান অথ`নৈতিক শক্তি হলো পোষাক শিল্প এর ধ্বংস চাই না চাই এর উন্নত ভবিষৎ।যা আগামী প্রজন্মের জন্য হবে বেচে থাকার প্রধান হাতিয়ার।

“এ শিল্পকে রাজনিতীর বাহিরে রাখা খুবই জরুরী অন্ততঃ জনতার কল্যানে”

 

 

 

 

 

 

 

 

 

৩০৫জন ৩০৫জন
0 Shares

১০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য