প্রিয় সন্তানেরা, তোমাদের ৯ দফা দাবী বাস্তবায়নসহ সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে গঠনমূলক কিছু সিদ্ধান্ত এসেছে। এবার তোমরা পাঠে ফিরে যাও।
তোমাদের নিয়ে একশ্রেনীর ‘ঝুপ বুঝে কুপ মারা’ গ্রুপের অসুস্থ কার্যক্রম পরিচালনার নমুনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অচলায়তন ভাঙতে তোমরা যে নাড়াটা দিয়েছো সেটা দেশের প্রতিটি নাগরিক আমলে নিয়েছে, সরকারও নিয়েছে, নিতে বাধ্য হয়েছে। যে অচলায়তন তৈরি হয়েছিলো তোমরা আঙুল দিয়ে তা দেখিয়ে দিয়েছো। বুঝিয়ে দিয়েছো গলদগুলি চাইলে মেরামত করা সম্ভব। শুধু প্রয়োজন কঠোর পদক্ষেপ। আগামীদিনের নাগরিক হিসাবে এটাই তোমাদের অর্জন। এবার তোমরা পাঠে ফিরে যাও।
তোমাদের প্রথম কদিনের কর্মযজ্ঞের ধরণ দেখে বাংলার ঈশান কোণে উজ্জ্বল আলোকরশ্মি দেখতে পেয়েছি। মানবের রক্ষার্থে দানবের বিনাশে তোমাদের তৎপরতা প্রশংসনীয়। এখন ভেতরে নষ্টরা ঢুকে গেছে তোমাদের কর্মযজ্ঞকে কালিমালিপ্ত করতে। তাই সোনাবাচ্চা, দানবের বিনাশে তোমাদের প্রতিবাদে যেহেতু সাড়া মিলেছে এবার ফিরে যাও। এখন নিজেকে তৈরি করার সময়। যে স্ফুলিঙ্গ তোমাদের বুকে জেগে উঠেছে, দেশকে সঠিক পথে ধরে রাখতে সেটা যথাসময়ে কাজে লাগাতে গেলে যে প্রস্তুতি দরকার। নিজেকে সুনাগরিক হিসাবে প্রস্তুত করেই তবে মাঠে নামবে প্রশাসনিক অবকাঠামোর অচলায়তন ভাঙতে। সর্বস্তরে দুর্নীতি এখন মহামারী রুপ নিয়েছে। এটা যে রুখতেই হবে।

এদেশে প্রায় সকলেই নিয়ম ভেঙে চলাতেই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলো। এমনকি যারা আইন প্রণেতা, ক্ষমতার দম্ভে তারাও আইন অমান্যকারী হয়ে উঠেছিলো। তোমরা দেখিয়েছো আইন শুধু তৈরি করলেই হবে না, এর প্রয়োগও ঘটাতে হবে এবং প্রয়োগ ঘটাতে গেলে নিজেও মানতে হবে। নিয়ম সবার ক্ষেত্রে সমভাবে কার্যকর হতে হবে। এককথায়, চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছো চাইলেই এ কাজগুলো করতে পারা যায়, মেনে চলা যায়। তোমাদের কাজ শেষ। এবার তোমরা পাঠে ফিরে যাও।
আমি বিশ্বাস করি,
কঠোর আইনি প্রয়োগ ঘটাতে পদক্ষেপ নিতে গিয়ে কর্তৃপক্ষকে যে ভূমিকা রাখতে হবে তার বিপরীতে যদি আইন অমান্যকারি হিসাবে তোমার বাবা-মা বা পরিবারের কেউও হয়, তোমরা সেখানেও ন্যায়সঙ্গত আইনের পক্ষেই দাঁড়াবে। অন্তত এই ভিত্তিটা এখন তৈরি হয়ে গিয়েছে। আইন প্রয়োগে কঠোরতার ক্ষেত্রে আমাদের দেশে এই দুর্বলতাটাই ছিলো।
ছিলো তোমার আমার পরিবারেরই কারো কারো দুর্নীতিকে আশ্রয় করে আইন অমান্যকারীর পক্ষাবলম্বন করা। তোমরা তোমাদের পদক্ষেপে জানিয়ে দিয়েছো, না আর হবে না। আর কোন আইন অমান্যকারীর পক্ষাবলম্বন করা যাবে না।

তোমাদের সব দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে এসেছে।
সহপাঠীদের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর শুনে যে মন্ত্রীর বাঁকা হাসি তোমাদের মনে আগুন জ্বেলেছিলো তাঁকে দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে।
নিহত দুইজনের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে অর্থ সাহায্য দেয়া হয়েছে (যদিও নির্বোধেরা এটা নিয়েও প্যাঁচাতে শুরু করেছে, কেউ কেউ সরকারপ্রধানের বাবার বিচারের প্রসঙ্গও তুলছে, যারা তুলছে তারা নিজেরাও জানে দুই টার্ম অর্থাৎ ১ম মেয়াদে শুরু করে শেষ হয়েছিল পরবর্তী মেয়াদে। মাঝখানে সময় গড়িয়েছে ১৪/১৫ বছর)।
ঘাতক বাসের চালক, হেল্পার, মালিক গ্রেপ্তার হয়েছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী আরো কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছেন যেগুলো কার্যকর করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।
এখন কথা হলো, তোমরা তো দিনের পর দিন আর রাস্তায় এভাবে ট্রাফিকের কাজ করতে পারবে না। একাজ তো তোমাদের নয়। যাদের কাজ তাদেরকে করতে দিয়ে তোমরা পাঠে ফিরে যাও।

অভিভাবকদেরও উচিত বাচ্চাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া। বাচ্চারা যেনো নানারকম খিস্তি খেউরকে ক্ষোভ প্রকাশের ভাষা হিসাবে ব্যবহার না করে সেদিকে নজর দেয়া। শিষ্টাচারটা পরিবার থেকেই দিতে হয়। সুন্দর ভাষা ব্যবহারেও কিন্তু আগুন জ্বালানো যায়। এমন অনেক জ্বালাময়ী বাক্যও নজরে এসেছে। সময় গড়ানোর সাথেসাথে এদেরই কিছুকিছু বাচ্চার হাতে অবক্ষয়ের চুড়ান্ত রুপ দেখে দুদিন যাবত আমি ‘থ মেরে বসেছিলাম। যে বাচ্চারা এখনো কৈশোরই পেরোয়নি তাদের হাতে নষ্টভাষা শোভা পাচ্ছে! বুঝাই যাচ্ছে, ঝুপ বুঝে কুপ মারা’ পার্টি আর বসে নেই। আরও বিস্ময়কর যে, কিছু অভিভাবক শ্রেনি তা গায়ে মাখছেন না একেবারেই বরং সাফাই গাচ্ছেন, প্রশ্রয়ও দিচ্ছেন। কিভাবে সম্ভব? অভিভাবকদের এমন বিকারহীনতা দেখে বিস্ময়ের ঘোর আমার কাটছেই না! সামাজিক অবক্ষয়ের সাথেসাথে এ যে মনোজগতেরও চুড়ান্ত অবক্ষয়।

কাজেই দীর্ঘমেয়াদে আন্দোলনে মাঠে থাকলে আন্দোলনের সৌন্দর্য নষ্ট হয়। বিতর্কিত হওয়ার সমুহ সুযোগ সৃষ্টি হয়। ইতোমধ্যে বিতর্কিত হতেও শুরু করেছে। অতএব ফিরে যাও, ফিরিয়ে নিন।

ছাত্রদের দাবীর প্রেক্ষিতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপঃ

৬২৭জন ৬২৭জন
3 Shares

৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ