নক্ষত্র ভরা আকাশ আর আটকা বাতাসের ভ্যাপসা গরমের রাতে তুমি এসেছো, একঝাঁক ঘুম নিয়ে–
হুম, তুমি এলে তোমার সঞ্চিত বেহাগের সুর বিছিয়ে দিলে পোড়া মাটির ঘরে। প্রবালদ্বীপের ঘুমন্ত শিশুরা উপলব্ধি করলো এক মহাজাগতিক বোধ!

মানুষ স্পর্শের চেয়ে উপলব্ধিতে বেশি সুখী জানো?
স্পর্শ যদি উপলব্ধি না করতে পারো তাহলে, তুমি কিছুই পাবে না।
মানুষের মধ্যে বুঝি ইশ্বরের বাস! ইশ্বর কি নিকটবর্তী উপলব্ধির হৃদয়ে? ঐশ্বর্য মন্ডিত সুর কি তবে উপলব্ধির বিন্যাস? চড়ুইের ঘুম কি এক মহাজাগতিক শান্তি?

এতো প্রশ্নের প্রত্ত্যুতরে…
আমাদের কিছু মুহুর্তের চোখাচোখি এই যে থমকে থাকা পৃথিবীর কিছুটা সময় সে এক অনুভবের ক্ষণ।

যেন প্রতি রাতে তোমাকে দেওয়া নিবেদিত ভালোবাসা সত্য জলের মত প্রবাহিত হতে হতে পৃথিবীর ওজন বাড়াতে থাকে। বহুজাতিক ভাবনায় আমি তলিয়ে যাই স্বপ্নসঙ্গমে। বিশ্বাসের সবুজ মিনারে দাড়িয়ে জানতে চাইনি হলুদ শাড়ির পাড়ে অসংখ্য চিত্রকর্মের ইতিহাস কি?শব্দহীন গভীরতা যেনো দুর্বোধ্য বাতাসে অথচ আশ্চর্য জাদুকরী শব্দে কাঁচের উপর লেখা ‘স্বাগত’!তবে কি একফোঁটা পানি আর একফোঁটা পানি মিলে দুই ফোটা পানি?
আমাদের কান্তি আরাম কেদারায় ঘুমাতে চায়? আমরা জেগে থাকি বিস্ময় অনুভূতির প্রচ্ছদে অথচ চোখ বন্ধ হয়ে যায়…
অনাগত ইতিহাসের আদিম সভ্যতায় দু’জন হেঁটে যাই বহুদূর….

একঝাঁক বুনোহাঁস সেখানে উড়ছে দেখো! হাসের নরম পালক খসে পড়ে তোমার চোখে-
পৃথিবীর একটি হাত অন্য পৃথিবীর হাতে রাখতেই প্রসারিত রাত হ্রস্ব হতে থাকে। আমরাও সময় চাই সময়ের কাছে।

তুমি কানের কাছে এসে বললে –

ভীরু আসমানে, চাঁদ ফুটেছে;জানো?
একটু পরেই বজ্র-জ্যোৎস্না নামবে-
[আগেও বলেছি],মনে আছে নিশ্চয়!
বিনাশী শীতে কাদের শরীর ঘামবে?
বর্ষা শেষেই ঋতু যাবে মহাশীতে,
শিখর লুটাবে শিখড়ে–আচম্বিতে

তারপ হঠাৎ একটা নির্জন দ্বিপে গিয়ে পড়লাম । চারপশে নীল জল ছুঁয়েছে দীগন্ত। নিস্তব্ধতার মধ্যে নানা ধরনের পাখির শব্দে আমরা দু’টি প্রাণ। মনে হচ্ছিল পৃথিবীতে কেউ নেই, কোনো ঘর নেই, আর কোনো বসবাসের জায়গা নেই।কোথাও কেউ..নেই। আমরা এখানে শস্য ফলাবো, ঘর বাঁধবো নতুন করে।
সমুদ্রের গভীর থেকে মৎস্য স্বীকার করবে তুমি, আমি কাঠ ঘসে ঘসে আগুন ধরাবো।

আবার হঠাৎ – তুমি পাশে নেই ! আমি হন্তদন্ত হয়ে খুঁজে যাচ্ছি।
আমার সাথে থাকতে থাকতে কখন হারিয়ে যেন গিয়েছো?
তেমাকে খোজার জন্য বেরিয়েছি, খুঁজতে খুঁজতে একটা বাচ্চা শিশুর দেখা পাই।
শিশুটা শুধু রাস্তা দেখিয়ে দিয়েই হারিয়ে গেলো।
আমার কাছে এলো না। জানো? সে
খুব সুন্দর, নাক আর চোখ দুটো একদম তোমার মতো,চুলটাও অবিকল তোমারই মত! কেবল দাড়ি ছিলো না মুখে। একটা নাম না জানা হলুদ ফুল আমাকে দিয়ে সেও হারিয়ে গেলো।
তারপর, ঠিক যেভাবে তৃষ্ণার্ত বাঘ জলের সন্ধান পেয়ে এগিয়ে যেতেই নরম কাঁদায় আটকে পড়ে পা জল ছুঁতে পারছে না ।
একটু দূরেই তোমাকে খুঁজে পেয়েছি তেমনি করে।

তৃষিত চোখে দেখলাম তোমাকে!
একটা গভীর নালায় চিতল হরিণ বসে আছে পাশেই ;
তুমি একা একা অনেক গুলো পশুপাখির সাথে কথা বলছো।
আমাকে হঠাৎ দেখে তুমি ভয় পেয়ে গেছো, আমাকে বললে কোথায় ছিলে তুমি?
কিন্তু আমাকে দেখার আগে তুমি কি সুন্দর সাবলীল সাহসী ছিলে। তোমার মুখের উপর বড়ো বড়ো গাছের ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো এসে পড়েছিলো। ধপধপে সাদা সার্ট তোমার গায়ে। চারপাশের আশ্চর্য এক অদ্ভুত আলোর বলয়ের মধ্যে তুমি। কিছু ছোট ছোট পাখি উড়াউড়ি করছিলো চারপাশে । ময়ূর তার পেখম ছড়িয়ে ডাকছিলো। আমি চাইছি তুমি দৌঁড়ে এসে জড়িয়ে ধরো আমাকে। তোমার বুকের পাঁজরে লুটিয়ে পড়ি।

তারপর ওখান থেকে ফেরার গল্পটা হাওয়া।
আবার হঠাৎ মহারোমান্টিক উভয় সঙ্কটের চিত্রকলা।
তোমাকে আজকে খুব কাছে পেয়েছিলাম। খুব কাছে!
একদম বাস্তব যেমন হয় ঠিক তেমন উপলব্ধি।
কিন্তু কোথা থেকে একটা শব্দ এসে শেষ হতে দেয়নি স্বপ্ন টা। আমি আবার ঘুমাতে চেষ্টা করি, স্বপ্নটা দেখতে চেষ্টা করি, কিন্তু আমার আর ঘুম এলোনা….তোমার গন্ধ সকালের নরম আলো পৃথিবীর বুকে এক স্বর্গীয় সুখ এনে দেয়।

১০৯জন ১২জন
0 Shares

৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ