photostudio_1490207863378ডায়রী হাতে অতীত নষ্টালিজায় কিছুক্ষণ ফিরে গেলেন বিউটি।ভাগ্যের কি নির্মম খেলা কতকাল পর আবারো স্মৃতির সমুদ্রে ঢিল পড়ল মনে বিরহের ঢেউ জাগল।ডায়রীর কয়েকটি পৃষ্টা উল্টাতেই বাথ রুম থেকে বেরিয়ে এলেন মবিন চৌধুরী।তড়িগড়ি করে হাতের ডায়রীটি খাটের উপর ফেলে নিজের কাপড় গুছানোর কাজে ব্যাস্ত হয়ে পড়লেন।তোঁয়ালে দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে ডয়রীটি হাতে নিয়ে মবিন বিউটিকে লক্ষ্য করে অনবরত বলে যাচ্ছেন ডায়রীর প্রশংসা।
-শুনছো, আজ একটি কাজের কাজ হয়েছে।ব্যাবসার কাজে গিয়ে একটি ডায়রী পেলাম।ডায়রীটিতে অনেক সুন্দর সুন্দর চিত্র আছে যা যে কাউকে আর্কষিত করবে।আর একটি বিশেষ লক্ষনীয় ব্যাপার হলো ভিতরে যে লেখাগুলো আছে তার মধ্যে তোমার নামটিও আছে।জানি না এখানে তোমার অতীত লুকিয়ে আছে কি না….!!
মবিন ইচ্ছে করেই এমনটি বললেন বিউটিকে একটু ভাবাবেন বলে কিন্তু সে লক্ষ্য করলেন এসি রুমে থেকেও বিউটির কপালে ঘামের শিশির বিন্দুর স্পষ্টতঃ তার চন্দ্র মাখা রূপ যেনো হঠাৎ আমাবশ্যার ঘন অন্ধকার কুৎসিতে রূপ নিল।মবিন ভয় পেয়ে গেলেন সে তার কাছে গিয়ে তাকে শান্তনা দেয়ার চেষ্টা করলেন।
-কি ব্যাপার তোমার শরীর ঠিক আছে তো?
– হ্যা,মাথা নাড়লেন।
-তাহলে,তুমি এ ভাবে ঘামছো কেনো?
-কৈ নাতো…(ব্রুর উপরে জমা ঘাম মুছতে মুছতে )মবিন বিউটিকে জড়িয়ে ধরে বললেন।
-তুমি ভয় পেয়েছো,আরে ডায়রীটিতে তোমার মতো নামটি আছে কেবল,তুমিতো না…কি বলো? বসো এখানে বসো এবার সত্যি করে বলতো তোমার শরীর ঠিক আছেতো?
-না না শরীর ঠিক আছে,তবে সকাল থেকে এত কাজ করতে হয়েছে যে অনেক ক্লান্ত লাগছে।
-তোমাকে কত বার বলেছি তুমি এ সব করো না,এর জন্য কাজের বুয়া আছে।না তুমি অজুহাত দেখাও কাজের বুয়া দিয়ে সব সময় মন মত কাজ হয় না,এখন বুঝো।
কথাগুলো বলতে বলতে সে খাটে পড়ে থাকা ডায়রীটি হাতে নিয়ে পড়ায় মন যোগ দিলেন এর মধ্যে বিউটি বিছানা হতে উঠতে যাবেন ঠিক সে সময় মবিন তার বাম হাতটি ধরে ফেলে।
-কোথায় যাচ্ছো…দেখো বৈশাখকে নিয়ে সুন্দর একটি কবিতা লিখা আছে ডায়রীতে।আমি পড়ি তুমি শুনবে?
মাথা নেড়ে জবাব দেন বিউটি।মবিনের ধরাবস্থা তার হাতটি টান দিয়ে তাকে আবারো খাটে বসালেন।মবিন শুরু করলেন ডায়রীতে লেখা কবিতাটির আবৃর্তি।মবিন নিজেও একজন ছোট খাটো লেখক ও কবিতা পাঠক।
“বৈশাখী হাওয়ায় মন পবনের নাউ বয়ে যায়
উতালা মন ঢেউয়ের ভাজেঁ ভাজেঁ শুধু তাকেই খুজেঁ বেড়ায়,
কখনো সে আসে কাল বৈশাখী হয়ে কখনো বা
আনন্দের শ্রোত ধারায়।
মনের ঘরে ভালবাসিবার প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টি
পাষানীর মন তবুও বলে না তোমায় ভালবাসি,
বৃষ্টিতে ভিঁজে ভিঁজে সে দিন দুজনে,
কাছে এসেও আজ কত দূর,
চেনা পথ গুলো এখন কতোই না অচেনা!
তবে,একেই বলে কি নিয়তী…..।
আকাশঁ বেশ মেঘলা।সকাল থেকেই আকাশেরঁ হাঁব ভাব অন্য রকম জমাট বদ্ধ মেঘের কুন্ডুলিগুলো বাতাসে এ দিক সে দিক দৌড়াচ্ছে যেনো ভেবে পাচ্ছে না কোথায় তা গড়িয়ে পড়বে।ঋতু মার্তৃক দেশ বলে ভিন্ন ভিন্ন ইমেজে আমাদের প্রকৃতিকে হাসায়-কাদায়ঁ।এমনি এক বৈরি আবহাওয়ার পরিবেশে ডায়রীর খোজেঁ মঈনুল ঢাকার উদ্দশ্যে রওয়া দিলেন।ঘরে ছাতা ছিলো তা ঘরেই রেখে দিলেন তার আবার বৃষ্টি ভেজাঁ রোগ আছে তাই ইচ্ছে করেই ছাতাটি রেখে দিলেন।তবে ভাবছেন এখনতো মুষলধারে বৃষ্টি এখন উপায়!অনেকটা পথতো সে এসেই পড়েছেন,যদি নিজ বাসায় যেতে হতো তবে ভিজেঁ ভিজেঁ আনন্দে চলে যেতেন।ঢাকা শহর বলে কথা ভাঙ্গারির কাছ থেকে ঠিকানা নিয়েছিলেন সেখানেতো আর হঠাৎ করেই যাওয়া যাবে না তাছাড়া বৃষ্টির কাদা জলে কাপড় চোপড়ের যে অবস্থা তাতে অপরিচিত লোকের বাসায় এ অবস্থায় উঠা ঠিক নয় তাই প্রথমে উঠবেন তার এক পরিচিত বন্ধুর বাসায় যিনি ঢাকা শহরে এক ধনীর বাসায় লজিং থাকেন।সে বাসার পাশেই ছোট এক তলা বিল্ডিংয়ে সেই ধনী ব্যাক্তির এক মাত্র ছেলেকে পড়ান এবং সেখানেই দিন-রাত্রী যাপন করেন।সে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে লেখা পড়া করেন।সেই বাসায় এমন ভেজাঁ শরীরে গেলে পরিধানে শুষ্ক কাপড় পাবেন কি না মঈনুলের সন্দেহ হলো।তাই ভিজঁতে ইচ্ছে হলেও সে ভিজঁতে পারলো না।অপেক্ষা মেঘের কিছুটা বিরতীর।
মেঘের ভাবটা কিছুক্ষণের মধ্যে মলিন হয়ে আকাশে উকি দেয় ত্যাজ দীপ্ত সূর্য।অসময়ে এমন এই মেঘ এই রুদ্রোরের খেলায় মানব জীবন অতিষ্ট।সে সাথে আনা শিল্পীভাব ব্যাগটি কাধে নিয়ে দোয়েল চত্বর দিয়ে শাহবাগে চারুকলার সামনে থামলেন।বৈশাখীর মঙ্গল শোভা যাত্রার বিভিন্ন রকমের কার্টুন ফ্যাষ্টুন বানাতে ব্যাস্ত চারুকলার ছাত্র ছাত্রীরা।অনেক বছর পর মঈনুল নিজের স্বকীয়তাকে যেন ফিরে পেলেন।এখানে হয়তো পরিচিত কাউকে না কাউকে পাওয়া যাবে।চারুকলার ভিতরে প্রবেশ করে ঘুরে ফিরে দেখছেন সতীর্থদের কাজ।খুব অল্প সময় সে এখানে অবস্থান করলেন।যে কাজে সে এসেছেন সে কাজটি আগে সারার চিন্তায় চারুকলা হতে বের হবেন ঠিক সে সময় দেখা হয় বেশ ক’জন ১৯৯৩ সনের অনার্সে পড়ুরা পুরনো বন্ধুদের সাথে।কিছুক্ষণ চলে চা আড্ডা অতঃপর প্রস্থান।

মবিন চৌধুরী কবিতা পাঠ করছেন দাড়িয়ে জানালায় মুখ করে।তখনো আকাশেঁ বিজলির প্রভাব।যত ঘণ ঘণ বিজলী চমকাচ্ছে ততই তার কণ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে।এক সময় পিছু ফিরে পাঠ করতে গিয়ে দেখলেন বিজলীর গতিতেই সে দৌড় দিল মায়ের অন্দর মহলে।মবিন অবাক হলেন আজ বাদে কাল আসছে পহেলা বৈশাখ,আকশের এতো সুন্দর একটি পরিবেশে প্রিয়ার চলে যাওয়াকে তার মনে ভালো ঠেকছেঁ না।তাই সে নিজেও বিউটির পিছু নিয়ে মায়ের অন্দর মহলে গিয়ে দেখতে পেলেন বিউটি তার মাকে গলা জড়িয়ে বসে আছেন।তাকে এক বার দেখে মুখ ঘুরিয়ে নিল বিউটি।সে তার পাশা পাশি মায়ের পাশে এক সোফায় বসলেন।
-তোমার কি হয়েছে বলতো;কবিতা না শুনে হঠাৎ এ ভাবে চলে এলে কেনো?
-আমি জানি….
-জানি মানে!তুমি কি এ কবিতা কখনো কোথাও শুনেছো?
-না মানে আমার খুব ভয় লাগছিল ঐ যে ঐ বিজলীতে কেমন করে আগুন বের হচ্ছে তাই মায়ের কাছে চলে এসেছি,তাই না মা।
-হ,তুইতো সব সময় কবিতা গল্প আর ব্যাবসায় মজে রইলি এবার একটু বউটারে সময় দে।
-তোমার কাছে বুঝি সে নালিশ করেছে?আচ্ছা ঠিক আছে ওর শুনতে হবে না তুমি শুনো।
-কার লেখা?
-জানি না মা,তবে যার লেখাই হোক সে দুর্দান্ত লিখেছেন যেমন লেখা তেমন তার চিত্র কল্পগুলো।এই দেখো।
ডায়রীটি মা হাতে নিয়ে ডায়রীর মলটটির এক সাইট খুলে ফেললেন।অবাক ছেলে!
-এই দেখ কে লিখেছে?
মবিন বড় বড় চোখ করে মায়ের কৃর্তি দেখতে লাগলেন।লুপ্ত ভাঙ্গা ভাঙ্গা কষ্ট গুলো জাগে বিউটির অন্তরের অন্দর মহলে।সত্যিইতো লেখকের নাম ঠিকানা সব লেখা আছে।লেখাগুলো সুন্দর একটি হাতে আকাঁ আল্পনা দিয়ে ঘেরা।ঠিকানা পড়তে গিয়ে তার সহধর্মীনির জেলার নাম পেয়ে তার সাথে একটু মজা লইতে গেলেন।
-আরে মা এ-তো তোমার বউ মার দেশের কবি শিল্পী।
বিউটি একটু আনমনা ভাবে মায়ের পাশ হতে উঠে চলে গেলেন দু’তলায় তার কামরার খোলা বারান্দায়।মবিন মায়ের কাছ হতে উঠে সোফায় হতাশ হয়ে বসলেন।অবাক হলেন মায়ের এমন বিচক্ষণতায়।তারপর ডায়রীর কভারটি ধীরে ধীরে লাগিয়ে কয়েকটি পৃষ্টা উল্টোতেই চোখে পড়ে অঙ্কিত এক লাল ফুলের সমারোহে ভালবাসা ও ভাল লাগার মতো একটি বৃক্ষ কৃষ্ণচূড়ার ছবিঁ।ঠিক তার নীচেই যে ভাবে গল্পটির লেখা শুরু।

সে দিন ছিল চৈত্র মাসের অর্ধা অর্ধি।যদিও এ সময় মেঘ বৃষ্টি হবার কথা নয় তবুও হলো।প্রকৃতি আমাকে কথা দিয়েছিল সে মেঘ হয়ে বাতাসে উড়বে আকাশেঁ,বৃক্ষরা নতুন জীবনের আশায় তাদের ডাল পালার পাতা গুলোকে ঝরাবে তবুও বৃষ্টি হবে না।প্রকৃতির এমন ভরসায় আমি তোমাদের বাগানে গিয়েছিলাম ছবি আকঁতে,সাথে ছিল আমার আকাঁর সরঞ্জামাদি।তোমদের বাগানটি ছিলো খুবই চমৎকার!চার দিক কত বড় বড় গাছ পালার মধ্যে বেশ কিছু কমন আন-কমন ফুটন্ত ফুলের গাছ আমাকে মুগ্ধ করে,বাগানের এক পাশে ছিলো শাঁন বধানো ছোট্র একটি পুকুর ঘাট,ছোট্র এ পুকুরটিতে ছিলো অসংখ্য লাল নীল ভিন্ন প্রজাতির মাছদের বসবাস,হয়তো সে গুলোকে পরম যত্নেই তুমি লালন পালন করো।তোমার অনেক কিছুই আমার খুব ভালো লাগে তাই হয়তো তোমাতে আমার বসবাসের ইচ্ছে জাগে।
আকঁতে শুরু করলাম,সে সময়কার দৃশ্য!যখন বাতাসে গাছের পাতা ঝরে পড়ছে ধরণীর মৃত্তিকায়।প্রকৃতি জানান দিচ্ছে প্রকৃতির পুরনো ঝেড়ে ফেলে সাজঁবে নতুন সাজেঁ, ঝড়ে পড়ার পড়ন্ত সময়টুকু এবং সেই সঙ্গে কৃর্তিম প্রকৃতির সবুজ অরণ্যের মাঝে ফুটন্ত একটি ফুল গাছের পাশে বেশ কয়েকটি অচেনা পাখিদের ভাব বিনিময়কে।বেশ কয়েকটি তুলিরঁ টানে ছবিটি জীবন্ত করার মুহুর্তে হঠাৎ বৃষ্টি।
‘প্রথমে বড় বড় ফোটা তার পর হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি।বৃষ্টিতে দু-হাত পাখির ডানার মতো মেলে দিলাম,রং তুলিটি ছিল হাতের মুষ্ঠিতে।আকাশেরঁ দিকে তাকিয়ে মুখ হা করে পড়ন্ত জল মুখে পুড়লাম।ঐ দিকে বৃষ্টির জলে আমার রংগুলো গলে একাকার হয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ছোট খালের ন্যায়।আমার সম্মুখ বরাবর তোমার বেড রুমের জানালাটি ছিলো বলে আমাকে ভিজঁতে দেখে তুমি চিৎকার করে বলছিলে আমি যেনো বৃষ্টিতে আর না ভিজিঁ।কেনো ভিজবোঁ না তা কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলাম।
তুমি নাকি খুব বৃষ্টি প্রিয় ছিলে।বৃষ্টি এলেই তুমি ঘর থেকে ছুটে এসে এই বাগানে দু’হাত দুদিকে ছেড়ে দিয়ে ইচ্ছে মতো ভিজতেঁ,সেই স্থানটিই আজ আমার দখলে।সে দিন তুমি ভিজতে এসেও আমাকে দেখে নিজেকে আংশিক ভিঁজিয়ে কি ভেবে যেন ফিরে গেলে জানালার পাশে।তুমি আবারো ডাকলে,এবার আমাকে শুনতে হবে নতুবা ভাববে আমি বধির তাই আমিও বললাম…কেনো?অকপটে সে দিন তুমি বলে দিলে সর্দি লাগবে।অথচ তখনো তোমার আমার প্রথম হাই হ্যালো আগে কখনো দেখাটুকুও হয়নি।আমি যখনি দৌড়ে তোমার কথায় তোমাদের বারান্দায় এলাম তখনি তুমি দৌড়ে চলে গেলে আমার বৃষ্টি স্নানরত স্থানটিতে যেখানে আমি মনের তৃপ্তিতে ভিজতে ছিলাম।তৎক্ষণাৎ আমিও ফের ভিজতেঁ চলে গেলাম তোমার কাছা কাছি।সে দিন তুমি ভয় পেয়েছিলে কি না জানি না তবে তোমার হার্টবিটটা কাপছিলোঁ,চোখঁ দুটো অস্বাভাবিক নড়ছিলো তা স্পষ্ট দেখতে পেলাম।আমি প্রশ্ন করলাম।
– আপনি আমাকে ভিজঁতে নিষেধ করে,আপনিইতো আবার ভিজতে চলে এলেন,এর মানে কি?
-কেনো নয়;এ বৃষ্টি কেবল আমার তা আর অন্য কারো নয়।যখন বৃষ্টি নামে আকাশ ভেঙ্গে আমি একাই ভিজতেঁ নামি এ বাগানে। আমি ভিজিঁ আর পাখিদের ভেঁজার কৃর্তি দেখি।ওরা যখন গা ঝারা দিয়ে পশমে অতিরিক্ত জল ফেলে দেয় তখন এ দৃশ্য দেখতে আমার ভীষন ভীষন ভালো লাগে,আমিও যদি ওদের মতো পাখি হতাশ তখন এ পাড়া ওপাড়া ভিজতেঁ ভিজতেঁ উড়ে বেড়াতাম।
বিউটি এমনি যখনি আকাশেঁ মেঘের আনাগুনা দেখে তখন থেকেই তার পাগলামি বেড়ে যায়।এ ঘর ওঘর দৌড়ে কম করে হলেও দুজনকে জিঞ্জাসা করবে বৃষ্টি নামবে তো!অথচ কাকে সে জিজ্ঞাস করছে সে নিজেও জানেন না।এতোক্ষণ যার সাথে কথা হচ্ছে সে কে?কার সাথে সে বৃষ্টিতে ভিজছে!।হঠাৎ সে মঈনুলকে প্রশ্ন করে বসে।
-কে আপনি?
মঈনুল হতভম্ভঃ কি বলবেন প্রথম দেখাতে ভাল লাগা বৃষ্টি পাগল এই মেয়েটিকে।
-না মানে আমি শিল্পী,ছবিঁ আকি।
-তাতো দেখতেই পারছি…বাড়ী কই?
-ঐ তো ঐতো ঐখানে।
-ঐ খানেটা কোন খানে।
-শাষণ গায়ে।
-এখানে কি ভাবে এলেন?
-এমনিই শিল্পীদের কোথাও যেতে কোন ভিসা অনুমতি লাগে নাতো তাই।
-কি ছবিঁ আকেনঁ একেঁ দেখাতে পারবেন?
-হ্যা অবশ্যই…তবে বৃষ্টিতে আমার রং জল হয়ে ভেসে গেছে।
-সমস্যা নেই চলেন,বাড়ীর ভিতরে চলেন।আমার সব কিছু আছে।
-মানে?
-অবাক হবার কিছু নেই, আমি না,আমার ছোট ভাই চারুকলায় সবে মাত্র ভর্তি হয়েছে।তার সব রং তুলি সব আছে।
বৃষ্টি থেমে গেলো অমনি বিউটি নেচে উঠে।তার নাচ দেখে মঈনুল আবারো অবাক।
-দেখেছেন!আমি বৃষ্টিতে আর ভিজঁবো না বলে মনস্থির করলাম আর অমনি বৃষ্টিরাও রাগ করে চলে গেলো ।সামনে নিশ্চিত সে আমায় কাদাবে।
-কাদাবে মানে!
-মানে.. ইচ্ছে করলেও বৃষ্টি আর আসবে না।এমনি হয়;এর আগে বহু বার হয়েছে।যদি ‘ওর ইচ্ছের বিরুদ্ধে আজকের মতো ‘ওকে থামিয়ে দিতাম তখন সে প্রচন্ড মাইন্ড করে আমাকে কাদিঁয়ে তার পর সে আবার আসতো আর যদি তার ইচ্ছায় সে চলে যেত তখন যখনি তাকে ডাকতাম তখনি সে ফিরে আসতো।
-আপনারতো দেখছি অনেক ক্ষমতা অনেক কিছুই জানেন।
-জি না আমি কিছুই জানি না তবে একাগ্র চিত্তে মন থেকে কিছু চাইলে এ মন বেঈমানী করে না।
বাড়ীর করিডরে মঈনুলকে বসতে দিয়ে বিউটি ভিতর থেকে তোঁয়ালা এনে তাকে দিয়ে তার গা হতে জল মুছতে বললেন। তোয়লা দিয়ে সে চুল হাত মুখ মুছলেন।আবারো বিউটি ভিতরে গিয়ে রং  পেন্সিলের বক্স,তুলি,পেপার এনে তাকে দিলেন।
-আমি দাড়াবো কোথায়?এখানেই?
-একি অবস্থা আপনার সমস্থ শরিরতো জলে ভেজাঁ,কাপড় চেঞ্জ করে আসুন।
-না আমাকে এ অবস্থায় আকতেঁ হবে।বৃষ্টিস্নান রত বৃষ্টি কন্যার ছবিঁ আকঁবেন।
-পাগল নাকি!
-অনেকটা তাই,বৃষ্টি পাগল।
বিউটি তার ভেজাঁ কালো কেশগুলোকে পিঠে ফেললেন।একটি লম্বা কেশ তার ভেজাঁ মুখে জলের শিশির বিন্দুর উপর পড়ে পড়ে দোল খাচ্ছে।বেশ সতেজ লাগছে তাকে যদিও সে এমনিতেই বেশ সুন্দরী তার উপর জলের ছোয়াঁ।জলের ছোয়াঁ পেলে নারীদের রূপ দ্বিগুণ হয়ে যায়।মঈনুলের মাত্র দশ থেকে পনের মিনিট লাগল ছবিটি আকঁতে।ছবিটিঁ হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ চেয়ে রইল ছবিটির দিকে ।সত্যিই সে চমৎকার আকেনঁ।এর মধ্যে কার যেন বাড়ীতে প্রবেশের আওয়াজ পায় বিউটি।সে তখন তড়িগড়ি করে আমাকে বাগানের  এক চোরাই পথ দিয়ে বের করে দিলো।সেই প্রথম দেখা,প্রথম কথা।অচেনা একটি মেয়ে এতো সহজে এতো ক্লোজ হতে পারে আমার ভাবতেই অবাক লাগে।

গল্প বলার ফাকে মাঝে মাঝে বিউটিকে খোজেঁ ফিরে মবিনের নয়ন দ্বয়।বিউটি দু’তলার খোলা বারান্দায় একা দাড়িয়ে হাওয়ায় তার রেশম কালো কেশগুলো উড়াচ্ছেন।বৈশাখী বাদল হাওয়ায় কখনো তার শাড়ীর আচলঁ উড়ছে কখনো বা তার চুল গুলো।এমন এক হিমেল হাওয়ার সুন্দর পরিবেশে কঠিন পাষানীর মনেও হাসি ফুটবে কেবল হাসির লেস মাত্র নেই বিউটির সুশ্রী মুখোবয়ে।সম্ভবতঃ এ কারনেই আবারো হঠাৎ আকাশেঁ মেঘের আনাগোনা।চারদিক কেমন যেনো অন্ধকার হয়ে আসছে।ভাবতে ভাবতেই বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো।মলিণ মুখটি খুশিতে মুচকি হেসে উঠল।ঝুম বুঝ বৃষ্টিতে দু’হাত বাড়িয়ে দিলেন সামনের দিকে।হেচকা বৃষ্টির ফুটো পড়ে তার নয়ন মুখে।শির শির ভাল লাগার এক বিশেষ অনুভুতি দোলা দেয় তার হৃদয়ে।

বেচারা মঈনুল ঠিকানা মতো  সোজাঁ চলে এলেন তার যাত্রার গন্তব্যে বাড়ীর গেইটে ভাবলেন বন্ধুর বাসায় পরে উঠবেন আগে মনের তৃপ্তিটা মিটিয়ে নিক।তখনি নামলো বৃষ্টি।এ বৃষ্টি হতে রক্ষা পেতে তার আশ্রয় খোজার মনে আগ্রহ নেই  বরং খুশিই হলেন।ভাবলেন এটাই বুঝি তার নিয়তি যখনি তার সংস্পর্শের গন্ধ পায় তখনি বৃষ্টি এসে তা আরো গভীর করে দেয়।তাই বৃষ্টিকে সে জানায় বরাবর অভিবাদন।কিন্তু গন্তব্য তার যেখানে সেখানে হয়তো ডায়রীটি  তার আছে কিন্তু ডায়রীর মানুষটি কি আছে!অবশ্যই নেই।বাড়ীর ভিতরে প্রবেশের সময় মনে এ সব যা তা চিন্তা আসায় নিজের মনে নিজেই হাসছেন আর পাখির মতো দু’হাত দুদিকে মেলে উপর দিকে চেয়ে বাড়ীর আঙ্গিনার কাছা কাছি যেতে দুতলায় চোখঁ পড়ে তার।বৃষ্টির দিকে দুটো হাত এগিয়ে দেয়া  কে যেনো এক রমণী একাগ্র দৃষ্টিতে তার দিকে চেয়ে আছেন।চোখেঁ চোখঁ পড়তে চোখঁ ফিরে মাথা নীচু করে এগোলেন নিদিষ্ট লক্ষ্যে মঈনুল।
বিউটি এক দৃষ্টিতে শুধু চেয়েই রইলেন আগত বৃষ্টি স্নান যুবকের দিকে।এতোটা বছর পর এ কে আসছে আমার ঘরে।কেমন যেনো মনের ঘরে বিশেষ এক ধরনের ভালোলাগা ভয়ের সাগরে ঢিলে জল তরঙ্গ খেলে গেল।ভাবছেন যার হৃদয়হীনা মন সেতো আসবার কথা নয়।তবুও সে এলো হ্যা স্পষ্ট সে এখন দেখতে পেলেন।কিছু ক্ষণের জন্য বিউটি দেব দাসের পার্বতী-পারুল হয়ে গেলেন।

স্বামী শাশুড়ীর সামনে দিয়ে এক প্রকার জ্বিনে ধরা রমণীর মতো বহু বছরের ভালবাসা নামক মায়ার বিশেষ প্রভাবে পৃথিবীর সবচেয়ে একাকিত্বের নারী,নিঃশব্দে মেইন দরজা খুলে এগোনেল তার আপনেরও আপনের নিকট।তখনকার মতো ভুলে গেলেন কে স্বামী কে বা তার শাশুড়ী সন্তান।দুজনেই একটু কাছে আসতেই থমকে দাড়ালেন,কিছুটা দূরত্বে তবে দুজনেই বৃষ্টিতে ভিঁজছিলেন তখন।দুজনের মনে বেজে উঠল করুণ সাঁনাইয়ের সূর।
-এতোটা বছর পর!কেনো এলে?
-হারিয়ে যাওয়া একটি মৃত আত্মার খোজেঁ।তুমি এ বাড়ীর…!!!
-হ্যা…এ বাড়ীর মবিন চৌধুরীর বউ।
-ফিরে যাচ্ছো যে?
-যে আত্মাকে খুজতেঁ এসেছিলাম সেই আত্মা তার নিজস্ব আত্মার আশ্রয়েই আছে।আমি মনে করি ওর সৃষ্টি হওয়াটা স্বার্থক হলো কেননা সে তার আপণ ঠিকানায় পৌছেঁ গেছে।

……………………………………………….. -{@
কষ্ট বড় লেখা পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

২৬৭জন ২৬৭জন
0 Shares

৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ