হিমুর প্রিয়াত্মা

মুহম্মদ মাসুদ ১২ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার, ০৮:৪৩:৩৫পূর্বাহ্ন গল্প ১৬ মন্তব্য

সত্যি! সে কাঁদছিল। চোখের কোণে বেয়ে বেয়ে অশ্রুসিক্তগুলো এতো আবেগে টলমল করছিলো যে কখনো বারান্দার টিনের চালেও বৃষ্টি ফোঁটার এমন বর্ষণ দেখিনি। ঢোক গিলে গিলে উদাস উদাস চেয়ে চেয়ে প্রেমের গন্ধ এতো মাখামাখি করে ছড়াচ্ছিলো যে প্রেমে না পড়েও উপায় নেই। আর অবচেতনে ওড়নায় এতো গিটঠু দিচ্ছিল যে আজীবন এভাবেই ঠোঁটের ডগায়, নিশ্বাসের স্রোতে, চোখের পাপড়িতে কিলবিল করে হেসেখেলে উড়াল দিতে পারবো। 

হাসি। উমা! খিলখিলিয়ে হাসি। একঝাঁক জংলী পাখিদের নীড়ে ফেরার হাসি। যে পাখিগুলো সাবলীল বাংলায় কিচিরমিচির আওয়াজে রূপ-প্রতিরূপ ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত। যে আওয়াজে মনপবনে প্রতিনিয়তই বসন্ত আসে, হেমন্তে ভিড় করে কাশফুল আর সাদা বকের ডানা। 

দাঁত। বামপাশের ক্রমিক নম্বর ৯। আহা! সে দাঁতের হাসি এতো মধুর দেখতে, পাগল হয়েছি সে দাঁতের ফাঁকেই। চোখ নগরের প্রথম পলক ফটক সেখানেই শিকল বন্দী। আর ভাজ হওয়া গালের ছোট তিলক। ডুবে যাই ডুবতে চাই। তিলকের কিনারে বারবার ভেসে যাই।

লিপস্টিক। হালকা গোলাপি রঙের ঠোঁট। সদ্য ফোঁটা গোলাপের পাপড়ি। যে পাপড়ির ঘ্রাণে মাদকাসক্তের গন্ধ মেলে। এক নিমেষেই শরীর পিষে ঠোঁট তিনটি শব্দ বলে। আর লজ্জায় লাল টিপের গোপনে ঘর বাঁধে সে। 

চোখ। সাত আসমানের বরকত। আকাশী-নীল রঙের ঢেউ খেলে মেঘের আড়ালে। গর্জনে জব্দ হয়ে সূর্যমুখী, কুমড়োর ফুল ফোটে। মাঝেমাঝে চোখ টিপনি ঘুড়ির রশ্মিতে গাঁথে। 

নাক। হাতের চিপায় জব্দ হওয়া রপ্ত করা কৃষ্ণের বাঁশি ন্যায়। যে বাঁশির সুরে কোকিল টিয়ে কথা কয়। আনমনে শোনে বাসন্তী নামের গান। 

ছোঁয়া। লোমহর্ষক স্বাক্ষী। শরীরের শিরা-উপশিরায় অনুভূতিরা আত্মগোপনে যাযাবর। শরীরে ছেদ করে রক্তের লোহিত সরণে বসবাস। দেহ থেকে মুক্ত হয় তৃপ্ত-সন্তুষ্টির ধূপকাঠির ধোঁয়া।

সুরসুরি। হাতের তালুতে নরম চিমটি কাঁটার শব্দ। সত্যি! বিমূর্ত বিমুগ্ধতায় মুখ চাপাচাপির হাসি। সহ্য, সে-তো অসহনশীল। আর অনুভব! মাথা নিচু করে পায়ের সাথে গুতাগুতি। 

হাত। দু’হাতে চার। আঙুলে বিশ। শুধুশুধু মুচকি মুচকি হাসিতামাশা। চোখে চোখে কথোপকথন। নিশ্বাসে নিশ্বাসে অনুমতি। পলকে পলকে প্রেম গ্রহণ।  

কনুই আঙুল। সৌভাগ্যেরা দড়ি বেঁধে কপালের সংসার। আঙুলে ছোঁয়াছুঁয়ি ঘষাঘষির জ্বালাতনে বালিশটাও হেসেছে খুব। 

ছাড়ো…। 

আর একটুখানি।

২৮৬জন ১৭১জন
17 Shares

১৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য