আলো বলে কিছু নেই

বন্যা লিপি ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১১:০০:৪৯অপরাহ্ন ছোটগল্প ৬ মন্তব্য

ছদ্মবেশে হাঁটতে বেড়িয়েছি কোনো নাম না জানা শহরের কিনার ঘেসে। চারহাত পেয়ে প্রাণীর আনাগোণা ঢের এদিকটায়। যেচে পড়ে আলাপে তাঁদের ভীষণ উৎসাহ। ঠোঁট খুললেই বনেদী আমলের পরিচিত গন্ধ টের পাওয়া এখন শিখে গেছি। ব্যাতিক্রমী কোনো শব্দ কানে এসে আছড়ে পড়লে কিছুটা কৌতুহল জাগে মনে। এই গন্ধটা বোধহয় একেবারে ভীন্নরকম কিছুটা। চোখ তুলে তাকানো যেতে পারে। দেখা যেতে পারে শেষ মেশ ঠোঁট আর জিহ্বার সংমিশ্রন বনেদী ধাঁচ ছেড়ে কইতেও পারে কোনো চাঁছাছোলা সত্যানুভূতির কঠিন সত্যের নিছক মনুষ্য প্রাণীর পরিচিত শব্দের আলাপন! সাত-পাঁচ- তেরো… বহুত ভেবে চিন্তে কঠিনে কোমলে জবাব দেবার জন্য প্রস্ততি নিয়েই দেখি না!!
: Hi!
– Hi, কে আপনি?
:  অচেনা পথিক! পথহারা!
– বাহ্, আমি যাযাবর।
: পথে খোঁজে পথের উপর
– পথ অচেনা।
: অচেনা পথে অচেনা পথিক!
– চলতে চলতে পৌঁছে যাবেন নির্দিষ্ট মঞ্জিল!
: মঞ্জিল তো কুয়াশাচ্ছন্ন!
– তাহলে অপেক্ষা করুন কুয়াশা ছিঁড়ে যাবার!
: কুয়াশাকে বিদীর্ন করতে যে আলো দরকার তাতো আমার নেই!
– তাহলে পথ বদলে নিন।
: চাইলেই কি পথ বদল করা যায়? আমি পরাগ।
আপনি?
– আমি শুভ্র প্লাবন।
: নাম তো দুটো মনে হয়, কোনটা সম্বোধন করবো?
– আপনার স্বাচ্ছন্দ্য যেটাতে!
: প্লাবন
– গ্রেট
: সে ভাসিয়ে নিয়ে যায়
– মনে রাখবেন।
:  কি মনে রাখব?
– এই যে! প্লাবন ভাসিয়ে নিয়ে যায়!
: মনে থাকবে, আমিও ভেসে যেতে চাই।
– এখনো ভাসতে ইচ্ছে আছে?
অচেনা পথিকের চুল দাঁড়ি সে কথা বলছে না যে, এখনো তার কোথাও ভাসাভাসির সুযোগ সুবিধা থাকার কথা। মনের ঠাঁস বুনটে বনেদী গন্ধ পাবার স্মার্ট একটা তরিকা অবলম্বন বলে মনে হচ্ছে একটু একটু। আমি প্রস্তত হচ্ছি যেন খাপখোলা তলোয়ারে শানিত, ধারালো শব্দ প্রস্ততে। যে শব্দে নগ্নতা না থাকলেও নিপাট আঘাতটা প্রতিপক্ষের বক্ষ ভেদ করতে অব্যর্থ হয়। আমি অসভ্য নগ্ন শব্দ ব্যাবহারে মোটেই পটু নই। আমার শেখা ভাষায় বড়জোড় শ্লেষ আর উদ্ধত খরগের ঝলকানী স্পষ্টতর হতে পারে। বর্জিত ভাষা আমার ঠোঁট কিংবা আঙুল চালিত প্রকাশিত শব্দাক্ষরে নয়। মেধা বোঝা যায় ছুঁড়ে দেয়া শব্দের পরিচ্ছদ দেখে। মেধাবী বোঝা যায় উচ্চারিত অথবা উপস্থাপনিয় ভাষা শব্দের প্রয়োগ দেখে। তারপরেও বোঝাটা সবসময় ঠিকঠাক মত হয়না। এই কারনেই হয়না…. কখনো মেধা ব্যাবহার হয়ে থাকে ওই তথাকথিত আদি/বনেদী /কলুষিত /পরিচিত দূর্গন্ধযুক্ত মনোকামনা ঢাকা দেবার জন্য। টনকে টনটনা অথচ হেব্বি সতর্কতা টিকিয়ে জ্ঞান ভাণ্ডার পরিপূর্ণ, চকচকা, পোষাকি পোষাক মাত্র, এই তথাকথিত অর্জনকৃত জ্ঞান। দাবা খেলায় দুই খেলোয়ার কেন বাঁধা সময় ধরে খেলতে পারে না? কারন শতরঞ্জি খেলা সবচে মেধা খরচ করা খেলা। হাতি ঘোড়ার নৌকার চালের চেয়েও সৈন্য বড় ভয়ানক হয়ে ওঠে, হাতি ঘোড়া ডিঙিয়ে রাজ্যপাট লোপাট করে দিতে যখন রাজা অথবা রানীর সামনে এসে চেক দিয়ে দাঁড়ায়। প্রতিপক্ষের কাছে শেষ মুহুর্তে এসে খোয়াবার কিছু অবশিষ্ট না রেখেই কারাবাস ভোগ…..!! স্বগোক্তির মত কিছু একটা বলে ফেললেন বোধহয়….ভেবেছিলেন হয়ত আমি শুনব না, বিধি বাম… বাঁকা ঠোঁটে উগড়ে দিলাম শ্লেষ!
– আহহহারে!!!!
আৎকা আরেক প্রসঙ্গ : জীবনের রং কী?
মনে হচ্ছে আবার ট্র্যাকে ফিরতে চাইছেন পরাগ। আমিও তবে চোখ রাখি ট্র্যাকে!
– ধূসর; কুয়াসা, আর কিছু না।
: মিলে গেলো কিভাবে?
– জগৎ জুড়ে কেবলই কান্না!
: এখানে কিছুটা দ্বিমত আছে।
– থাকতেই পারে! কী এসে যায়?
: ক্রন্দন করে অশ্রুপাত করার চেয়ে হাস্যজ্বল চপেটাঘাত ভাল, তাই না? জীবন একটাই
– তারপর দাঁত টাত ভেঙে ম্যাসাকার….
: হুম, তারপর শুধু ঠান্ডা স্যুপ…হা হা হা
– আনন্দ সবার সয়না
: জীবনকে শুধু বেদনা দিয়ে মুড়ে রাখলে তো হবে না! একটাই জীবন।
– মোড়ানোর যা তা এমনেই লেপ্টে থাকে। ছোটানো যায়না।
: হারপিক যেকোন দাগ দুর করে।
– হা হা…. কাশশশ!
: চাইলে  দিতে পারি!!
– কী? হারপিক?
: সেজন্য আন্তরিক ইচ্ছা থাকতে হবে। মানুষ চাইলে অনেক কিছুই পারে….
– একজনকে চাই। এনে দিতে পারবেন?
: আমিও একটা সময় প্রচুর ডিপ্রেশনে ছিলাম।
– তারপর?
: ১০৫ স্লিপিং পিল নিয়েও বেঁচে ফিরলাম। তারপর নিজেকে বদলে ফেললাম! এখন আমি আমিময়।
– কোনোরকম পিল ফিল না নিয়াই আমি ঘোরে আছি। বদলানো আর হবে না।
: কেন?
– আমি প্লাবন….ভাসিনা, ভাসাই না শুধু নিজে ডুবে যাই….
: আমি আপনাকে ভাসিয়ে রাখবো, ভাসবেন আমার সাথে?
– মোটেই না। যাকে চাই…তাকেই চাই….।
: যে যায় তাকে আটকানো যায় না।
– বেশতো! আটকালাম না!
: যার থাকার সে শত কারনেও ছেড়ে যাবে না।

****সমর্পন নাকি বিসর্জন,
যেখানে সমর্পণ সেখানেই বিসর্জন।
যে আমি প্রানচ্ছল সে আমিই নির্জীব,
আমার আমি বিলীন হয়ে যাই আমাতে।
একটা চিনচিনে ব্যথা গ্রাস করছে আমায়,
আমিও তাকে নিয়েই চলেছি অজানার উদ্দেশ্যে,
একটা সময় ছিল যখন কারন খুজতাম,
এখন জানি কোন লাভ নেই খুঁজে।
জানি এর শেষ সময়ে,
আর তাই সময়ের অপেক্ষায় অপেক্ষমান আমি।
: প্লাবন আছেন?
– আছি তো!
: চুপ হয়ে গেলেন! আচ্ছা,  আপনার প্রথম বই বের হয়েছে কবে?
– কিসের বই? আমার কোনো বই প্রকাশ হয়নি তো!
: হওয়া উচিৎ ছিল।
– আমার মনে হয়নি কখনো।
: আরেকটা বিষয় আপনার না বলা কষ্ট কার জন্য?
– আপনাকে বলব কেন?
: বন্ধুত্বের দাবীতে জিজ্ঞেস করলাম, এখন যদি আপনি বন্ধু হিসাবে না ভাবেন! তাহলে নাও বলতে পারেন।
– বলছি না।
: আচ্ছা, এর মানে কি আপনি আমাকে বন্ধু হিসাবে ভাবছেন না?
– বন্ধুত্ত্ব ছেলেতে মেয়েতে হয়না।
: আচ্ছা, তাহলে আমি কে?
অচেনা পথিক আমি পথহারা যাযাবর?
– হুমম
:  তাই নাহয় থেকে গেলাম। আমিও বিশ্বাস করি ছেলে মেয়ের মধ্যে যে সম্পর্ক হয় তাকে অন্ততঃ বন্ধুত্ব বলা যায় না।
– এই তো! জানেন দেখছি!

কিছু মানুষ সত্যিকারের মানুষ বলে এখনো পৃথিবীটা টিকে আছে বলে বিশ্বাস টিকে আছে। গহনে অযাচিত স্তূপাকার নির্জলা যন্ত্রণার দলা নিয়ে টিকে আছে একটুখানি নির্ভেজাল কথা সঙ্গির কথোপকথনের স্বস্তি খুঁজে পেতে। পরাগকে অন্তত তাই মনে হচ্ছে। নিরাপদ একজন বেঁচে ফিরে আসা, পোড় খাওয়া আমিময় মানুষ। একান্তে কিছু শব্দ ছড়ায় নিজের মত করে। সস্তা বা দামী বলে তোয়াক্কা করার কোনোই তাড়া নেই। আছে কষ্টের দেয়াল ভাঙা কিছু সৃষ্ট শব্দের ব্যবহার। পরাগ খুঁজে পেয়েছে নির্ভার একজন সমমনা শব্দ বাক্যের সঙ্গী। কোনো বিরক্তি নয়। নয় বনেদী সেই পুরোনো পরিচিত গন্ধের দুরভিসন্ধিমূলক আচরন। পরিপাটি শব্দের ব্যাবহার বরং প্লাবনকে নির্ভয়তার ইঙ্গিতে নির্ভার রাখতে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। মর্নিং ওয়াকে বের হওয়া হলে বেশ সজীব লাগে। ঘুমহীন রাতটা বড্ড দীর্ঘ হয়। সুবহে সাদিকের পর দেখা যায় আকাশের বদলানো রূপ। ডেভিলের শিংএর মাঝ বরাবর দিয়ে পথ করে জাগতে থাকে দিনকে আলোয় ভরিয়ে দিতে সুর্য। একটা লম্বা ছালাম পাঠিয়ে দিয়েছেন  পরাগ….. : আচ্ছালামু আলাইকুম, ওয়া বরাকাতুহু।
– ওয়ালাইকুম আসসালাম।
দিনের আলো আঁধারে মিলিয়ে যাবার পরঃ
: পাথর কালো রাত…
তারার বাগান শুন্য…

-তারারাও আজ যায় দূরে সরে সরে
: অমাবশ্যার রাতে আকাশে শুধুই তারার মেলা বসে।
আর পুর্নিমায় তারারা বিলীন।
– পূর্ণিমা রাতেও তারারা আলোতে ঢাকা থাকে।
: কিন্তু! পুর্নিমার আলোর সামনে তারা ম্লান!
– দেখা যায়না। শুধু ধ্রুব তারা ছাড়া।
: দিনের আলোর সামনে চাঁদ ম্লান
– সুর্যের কাছ থেকে আলো নিয়ে বাড়ায় চাঁদের গর্ব।
দিন দীপ্ত হয় সুর্যের আলোয়।
: হুম… তাহলে বিষয়টা কি দাড়ালো?
– যে কোনো অবস্থাতেই, দুই আলোর ভিন্ন ভিন্ন চাহিদা! কালোকে আলোকিত করে চাঁদ।
আর দিন একটি মহা জাগতিক কর্মজজ্ঞের সংকুলান বলে সুর্যের দাপট!
: তাহলে তারাদের স্থান কোথায়?
– মরুর বুকে দিক নির্দেশনায়!
: জীবন দর্শনে অসহায় নির্বাক।
– কে?
: আমি।
– হা হা হা…. আমি পরীক্ষা দিতে বসিনি নিশ্চই। দর্শন বোঝাতেও আমি অপারগ।
তপন চৌধুরীর একটা গান গেয়ে উঠলেন পরাগ। ‘ আলো ভেবে যারে আমি জীবনে জড়াতে চাই… সে তো আলো নয় যেন আলেয়া’
-আমার প্রিয় শিল্পী।
: ১৯৯৩-৯৫
– কী?
: প্রথম ছ্যাকা
– ছ্যাকা বলছেন কেন? বলুন সংগৃহিত যন্ত্রণা।
: হুমম… তখনকার দিনগুলোতে বিরহের গান শোনা হতো।
– কষ্টের সময়ে কোনোকিছু শোনা/দেখাগুলোও বিষ লাগে।
: এখন বেশ আছি। নিজের ভুবনে নিজের মতো।
– ভালো।
: বানিজ্যিক দুনিয়ায় এখন সব অংক এক জায়গায় এসে মিলে যায়।
– বানিজ্য বুঝিনা। বুঝতে গিয়ে মরেছি ভালবাসায়।
: ভালবাসা!!!
২টা বেডরুম, ১টা ড্রয়িং রুম, ২টা বারান্দা, কিচেন আর ২টা টয়লেট।
– আমার তিন বেড, তিন বারান্দা, ড্রইং, ডাইনিং, কিচেন, অলওভার টাইলস, তিন বাথরুম লাগব ভালো বাসায়😃
: আমার লাগবে দখিনা হাওয়া,
সাথে টিনের চালে বৃষ্টির টুং টাং শব্দ,
শরতের কাশ ফুলের দোলা
হেমন্তের হাওয়ায় গাছের পাতার ঝিরি ঝিরি শব্দ…
শীতের হিমেল সকালে খেজুর রসে ভেজানো চিতৈ পিঠা…
আর বসন্তের কোকিল ডাক।
– আহা আহা….
: সুর্যের কাছে আলো চেয়েছিলাম
সে আমায় বললো, আমি তো রাতের আধারে বিলীন
কোন এক পুর্নিমায় চাঁদকেও বলেছিলাম
আমায় কি কিছুটা আলো দেবে?
সেও আমায় ফিরিয়ে দিয়ে বললো
আমি ভাই অমাবশ্যায় বিলীন
অতঃপর তারারা আমায় বললো
আমরা তোমার সাথে চলবো
সেই থেকে আমার আঁধার জীবনে
তারাই আমার সাথী।
– আমি নিমিত্তের জঙ্গল খুঁজে গড়েছিলাম নিবাস। জোনাকির আলোয় মুঠো ভরে আমি চলতে চেয়েছিলাম পথ। দুঃখ বিলাসী পাহাড়ি পুড়িয়ে দিয়ে গেলো আমার শখের সবটুকু বাগান…..
: কঠিন!!
– এটা  কঠিন? সহজ বাংলা তো!
: এ কঠিন সে কঠিন না তো!
– তাহলে?
: কেমনে বোঝাই!!
– আপনি কবি, বোঝাতে সমস্যা?
: এই ধৃস্টতা আমার নাই।
– দূর দূর তক আমারো নাই এ ধৃষ্ঠতা।
: আসলে জীবনের উপলব্ধিগুলো অক্ষরে বন্দি করার অতি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। সফলতা এখনো ধরা দেয়নি।
– সেই একই কথা আমিও বলি।
: একটা ছোট্ট প্রশ্ন ছিল। অনুভব আর অনুভূতির মধ্যে পার্থক্য কী?
– অনুভব- যা আমি বুঝতে পারি অপরের ছোট ছোট অপ্রকাশ্য কিছু। অনুভূতি- যখন আমি নিংড়ে যাই ভালবাসা অথবা কষ্টে!
এরচেয়ে ভালো করে বোঝাতে পারিনা।
: আমার কাছে দুটোই মারাত্মক স্পর্শকাতর স্থান।
– হুমম…
: অথচ এই দুটো স্থানেই আঘাত আসে সবচেয়ে বেশী।
– একদম।
: ঝড়া পাতার মানে জানো?
তুমি হয়তো বলবে এ আর এমন কি,
বৃক্ষ থেকে পাতা পড়ে গেলেই হলো।
এখন আর কেউ ঝড়া পাতার গল্প বলে না
এমনকি বৃক্ষও না,
অথচ ছোট্ট চারাটিকে এই পাতাই বৃক্ষে পরিণত করেছে;
ঝড়া পাতার ঠাই আজ চুলোর আগুনে,
সে জ্বলতে জ্বলতেও খাবার জোগান দিয়ে ছাই হয়ে মাটিতে মিশে যাবে।

#পরাগ

– জমিয়ে রাখি বাদামী পাতাদের।
রোজ দেখি ওদের মৃত হতে থাকা গল্প।
কিছু তৃণলতা ঝুলিয়ে দিয়েছি ক্যাকটাসের শরীরে।
আমার দণ্ড হওয়া উচিত।
বুঝিয়ে দিয়েছি আমৃত্যু তুই এভাবেই বাঁচবি……

#প্লাবন
– একেই বাঁচা বলে?
এভাবে কি বেঁচে থাকা যায়?
বাদামী পাতাগুলোও মাঝে মাঝে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে,
আর তখনি গর্জে ওঠে আগুনের লেলিহান শিখা,
বাদামী পাতাগুলো ছাই হয়ে মিশে যায় মাটি আর বাতাসে,
শুধু রয়ে যায় একটা না বলা গল্প আর দীর্ঘশ্বাস।

#পরাগ

– আমি সময় নেইনা সময়ের কাছ থেকে, বদলে যাব ভেবে…..ছাই শুধু অপেক্ষার দোসর
বৃষ্টি শুধু আমার সহচর।
#প্লাবন।
: আর আমি সময়ের নৌকায় চেপে ভেসে চলেছি কোন এক অজানা গন্তব্যে,
নৌকাটা তীরে ভেড়ানোরও কোন উপায় নেই,
কোন ফাঁকে যে বৈঠাটা হারিয়ে গেছে
খেয়ালও করিনি,
কারন আমি তখন সময় নদীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ,
এখন অপেক্ষার প্রহর গুনি নৌকা তীরে ভেরার…
#পরাগ
– অজানা গন্তব্য?
সেতো আরো ভালো!
অমন কোনো হাল ছাড়া নৌকো হলে বেশ হত….
আমি আর তীরে ফিরতাম না কখনো…..
#প্লাবন।
: ছাই, কারো কাছে শুধুই দু অক্ষরের শব্দ,
আবার কারো কাছে একটি বেদনার কাব্য,
আর আমার কাছে ঝড়া পাতার গল্প।
: জীবন নদী আর সময় তরী নিয়ে বেড়িয়ে পড়ুন…
সাথে একটা পাল টানিয়ে নিবেন,
অতঃপর সব ছেড়ে সব ভুলে
বাতাসের হাত ধরে ভাসতে থাকুন…
এতে হয়তো ক্ষনিকের জন্য হারিয়ে যেতে পারবেন
কিন্তু চাইলেই কি আর হারিয়ে যাওয়া যায়?
জানেন বৃষ্টির শব্দ আমার অনেক প্রিয়,
বর্ষাকালে যখন টিনের চালে ঝমঝম শব্দে বৃষ্টি হয়
মাঝে মাঝে মনে হয় আকাশ কাঁদছে
হয়তো আকাশের কান্নাকেই আমরা বৃষ্টি নাম দিয়েছি।
– আমি জেনেছি…..
আকাশ কাঁদে না।
ওর বুকে ঠাঁই নিতে চেয়ে মেঘ কাঁদে অঝরে….
বৃষ্টি নিয়েছি কিনে
অমূল্য দামে।
ভীষণ ভালবাসি বলে,,,,,ভুলেই গিয়েছি পৃথিবীতে আর কোনো ঋতু আছে…..
: কৈশোরে জানতাম ষড় ঋতুর বাংলাদেশ,
যৌবনে এসে বসন্তকালটা বেশ লাগতো,
চারিদিকে সব রঙিন ফুলের সমারহ।
প্রথম যেদিন কলেজে যাচ্ছিলাম
মা বলেছিল এখন সব রঙিন লাগবে
সাবধানে থাকিস,
তখন মর্মার্থ বুঝিনি।
আর এখন চৈত্রের খর তাপে দগ্ধ হয়ে,
বর্ষার জলে ভিজে,
সেই আমি ঝড়া পাতা হয়ে পচে গলে মিশে যাই মাটিতে।
– আগুন হয়ে আগুন পোড়াইনা আমি কখনো।
শীতও এসে চলে যায় তারে তোয়াক্কা করিনা।
সাবধানে থাকার কথা বলছেন?
বসন্ত বোঝার আগেই ঘর বদল হয়ে গেছে আমার ষড়ঋতুর।

: আগুনের ক্ষমতার উৎস তার উষ্ণতা,
উষ্ণ শব্দটার মধ্যে একটা আদীম মাদকতা রয়েছে,
আগুনের উষ্ণতায় শীতের হীমেল হাওয়া টের না পাওয়ারই কথা..
বসন্তের আয়ুষ্কাল অনেকটাই কম,
আর তাই এটার স্থায়িত্ব ক্ষনিকের,
এজন্য ঘর বদল হলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই।
বসন্ত প্রতি বছরই আসে…
– হা হা হা…সারাকাল জুড়ে বর্ষাকাল।
: মাঝে শরত হেমন্তও আছে।
– হয়ত!!
: চৈত্রের খরতা অপেক্ষায় থাকে বর্ষার বৃষ্টির,
আর শীতের তীব্রতা অপেক্ষায় থাকে চৈত্রের উষ্ণতার,
কিন্তু বসন্ত কারো অপেক্ষায় অপেক্ষমান নয়…
– কোকিল অপেক্ষা  করে বসন্তের। কিছু  ফুল ফুটবে বলে অপেক্ষা  করে ফাগুনের…
: আসলে অপেক্ষা সবাই করে,
কেউ পায় আবার কেউ অপেক্ষার প্রহর গুনে কাটিয়ে দেয় সহস্র জীবন।
– ছাই শুধু অপেক্ষার দোসর
বৃষ্টি শুধু আমার সহচর।
: অতি বৃষ্টি প্লাবন ডেকে আনে
অনা বৃষ্টি খরা।
– নিজেই প্লাবন
প্লাবনে কি ভয়?
: তাও ঠিক!
– হু
: প্লাবনে প্লাবনময়
– নিয়তি মানতে হয়।
: তাও ঠিক, তারপরও নিয়তি চেষ্টার মাধ্যমে পরিবর্তন  যোগ্য।
– আপনি করছেন না কেন?
: কে বললো, আমি করছি না?
– শুভ প্রার্থনা।
: কিছুটা হলেও করতে পেরেছি।
– আলহামদুলিল্লাহ্
: দেখুন আমি প্রায় সময়ই একটা কথা বলি জীবন একটাই।
– রং অনেক।
: হুম
– সাদা কালো আরো ভালো। রঙে বিভ্রম….
: কিন্তু এই জীবনের সব রং গায়ে মেখে পার করা যায় না।
– ওতে সমাজ টালমাটাল।
: তাই সাদা কালোর সাথে কিছুটা আবির হলেই বিন্দাস।
– থাকেন বিন্দাস।
: হা হা হা….আছি তো!
– ও আপনাদের পুরুষ জাতের জন্য। মেয়েদের হাজার দোষ।
: জাত বললে কিছু অশোভন লাগে।
– কি করব বলেন? ,,,,বিদ্রোহটা  এই ভাষাতেই প্রকাশ পায়।
: কখনো ঢালাওভাবে সবাইকে এক ছাঁচে ফেলা কি ঠিক?
– আপনারাও ছাড় দেননা সেক্ষেত্রে!!
: হাড়ির সব চাল কি পরিস্কার পাওয়া যায়? দুই একটা মরা চালও থাকে।
– বলার সময় তবু, ঢালাও ভাবে সব সেদ্ধ করে ফেলে…
: সেটাও অনস্বীকার্য।
– হু…
: কিন্তু খাবারটা খাওয়ার সময় মরা সিদ্ধ ভাতটা বেছে ফেলে দেই।
– গুড…কিপ ইট আপ
: Yap… Let the time fly…
– গুড উইশেজ…
: Same to u too
– Thank you।
: কষ্ট সবার জীবনেই আছে
কেউ এটা বয়ে বেড়ায়
আবার কেউ বাড়ীতে রেখে আসে…
– মহান তারা….
: কেন?
– স্ব স্ব ক্ষেত্রে!!
: নীলিমায় নীল….
নীল শব্দটায় কেমন যেনো একটা বেদনা মিশে আছে,
অথচ নীল আমার অনেক পছন্দের একটা রং…
আরো একজন এই রংটা পছন্দ করতো,
সে কবেকার কথা…
আজো দিনটা ভেসে বেড়ায় চোখের সামনে…
তারপর কোন কাল বৈশাখী ঝড়ে সব এলোমেলো,
সেই থেকে বুঝতে পারলাম নীলের অর্থ বেদনা,
আর সেই বেদনাকে জড়িয়ে নিয়েছি আষ্টেপৃষ্টে।
– নীল মানেই শুন্য
শুন্য মানেই আকাশ।
পৃথিবীতে সবচে উঁচু বলে যদি কিছু থেকে থাকে! তাহলে তা হলো কোনো পাহাড়……
পাহাড়টা বুকে ধরে  আছি শুন্যে হারাব বলে…..ব্যস্…… আর কিছু জানি না/ জানতে চাই ও না।
: ডুবন্ত সূর্যকে সময় দিয়ে বেঁধে রাখতে পারলে বেশ হতো,
তাহলে হয়তো আঁধারকে ঢেকে রাখা যেতো আলো দিয়ে,
আঁধারকে ঢেকে দিলে আলোর আবার মর্যাদা থাকে না,
আসলে সবই একে অন্যের পরিপুরক,
একটির সাথে অন্যটি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে।
কে যেন বলছিল তুমি আমার বন্ধু হবে?
প্রতি উত্তরে বলেছিলাম আর তো কিছু হওয়ার অধিকার নেই!!!
তারপর থেকে তার বন্ধু হয়ে থাকার সেকি প্রানান্তকর প্রচেষ্টা…
বিধাতা তখন ওপর থেকে হয়তো অন্য কিছুই লিখে ফেলেছেন।
# পরাগ

– আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম কাউকে,,,,আমি তোমার কি হই? মুহুর্তকাল সময় ব্যয় না করেই জবাব দিয়েছিলো- কিছু না। তারপরও আমরা কথায় কথায় অনেকটা খুঁজেছিলাম স্বস্তি, শান্তি,,,,তারপর একদিন বুঝলাম…কথারা বাঁক নিয়েছে বাঁয়ের দিকে,,,,নিজেকে সরিয়ে নিলাম সবরকম স্বস্তি থেকে….

আলো বলে কিছু নেই। শুধুই বস্তু চেনার উপকরন ফেলে রাখে তার উপস্থিতী…..
****
আসলেই আলো বলে কিছু নেই….

১৫৬জন ৭১জন
0 Shares

৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য