আমাদের যুবসমাজ

নীরা সাদীয়া ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, মঙ্গলবার, ১০:১৩:২১পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি, এদেশ ২১ মন্তব্য

আমি একটি গ্রুপের এডমিন প্যানেলে রয়েছি বেশ কিছুদিন যাবত। গ্রুপটি ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি জ্ঞানচর্চার একটি প্লাটফর্ম।
পৃথিবীর ১৯৩ টি স্বাধীন দেশের মাঝে কিছু দেশ বাদে প্রায় সকল দেশের কিছু কিছু নাগরিক গ্রুপটিতে রয়েছেন। সেখান থেকে অনেক কিছুই শিখতে পেরেছি। পাশাপাশি অনেক কিছু অনুধাবনও করতে পেরেছি।

প্রথমেই আসি এডমিন প্যানেলের প্রসঙ্গে। সেখানে একেকজন মানুষ একেক দেশের। যিনি প্রধান এডমিন তিনি একজন আমেরিকান। গ্রুপের সদস্যদের কার্যকলাপ পর্যালোচনা করে সদস্যদের মধ্য থেকে এডমিন নিয়োগ দেন। তাঁর আচরন অত্যন্ত ভালো। কোন প্রকার বিনয়ের ঘাটতি নেই। তাছাড়াও রয়েছেন এক ঝাঁক এডমিন/ মডারেটর, যারা একেকজন একেক রকম,একেক দেশের, একেক বয়সের।কিন্তু সবার মাঝেই রয়েছে আন্তরিকতা।

এবার আসি সদস্যদের কথায়। সদস্যরা আগেই বলেছি নানান দেশের। তাঁরা সবাই এখানে নিজ দেশের সম্মান বজায় রাখার চেষ্টা করেন। সাধারনত কেউ এমন কোন আচরন করেন না, যেটার জন্য তার দেশের মান সম্মান নষ্ট হয়, বাকিদের মনে তার এবং তার দেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারনা তৈরি হয়। সপ্তাহে একটা মিউট, মাসে হয়ত একটা ব্যান করতে হয়। কোন কোন সপ্তায়/মাসে এমনো হয় যে কোন সদস্যকেই মিউট/ব্যান দিতে হয় না।

***তবে সবচেয়ে খারাপ লাগে তখন, যখন দেখি মাসে একটাই ব্যান করতে হলো, তাও আবার সেটা আমার স্বজাতীকে!!! প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাবির ইংরেজি বিভাগের এক ছেলে (ইনফোতে মিথ্যাও লিখতে পারে) সেদিন একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছে না বলে পোস্টদাতাকে গাল দিচ্ছে Mother f***r!!! কী অদ্ভূত আচরন! পোস্টদাতা ছিলেন একজন ভীনদেশী এডমিন, তিনি চুপচাপ ব্যান দিয়ে চলে গেছেন। আমি গিয়ে কমেন্টটা ডিলিট করলাম, করার সময় তার বায়োটাও দেখলাম সে বাংলাদেশী! এরকম বেশ কিছু লোকজনকে আমিই গ্রুপ থেকে বের করে দেই গালি গালাজ করার জন্য, যাদের বেশির ভাগ আমারই স্বজাতি! কতটা যে লজ্জা হয়, কতটা অপমানিত হই, এটা কেবল আমিই তখন বুঝি! (যদিও এডমিনদের কেউ কখনো এটা নিয়ে আমাকে কিছু বলেন না।)

ইউটিউবের বিভিন্ন লিঙ্কে গেলে দেখা যায়, অন্য দেশের মানুষ গঠনমূলক সমালোচনা করে, আর বাঙালি নোংরা গালাগাল দিয়ে কমেন্ট করে! পত্রিকার পেইজগুলোতে দেখা যায়, কোন ঘটনা ঘটলেই শুরু হয় গালিগালাজ। কমেন্টে গালির ঝড় ওঠে। এমনকি, কোন মেয়ের নাম্বারে ফোন দেয়া হলো, মেয়েটি চিনতে না পেরে কথা বলতে চাইলো না, ম্যাসেজে দাও গালি। সেদিন পথ দিয়ে হেঁটে যাবার সময় লক্ষ্য করলাম, স্কুল ড্রেস পরিহিত ২/৩ টা ছেলে গল্প করতে করতে যাচ্ছে। তাদের গল্পের একটাই লাইন, “ঐ ন*র পুত, তুই বল,হিহিঃ হাহাঃ ” অথচ কেউ কোন প্রতিবাদ করছেনা কেন একজন মাকে, একজন ভদ্রমহিলাকে কথায় কথায় ন* বলে নোংরাভাবে সম্বোধন করা হচ্ছে!

মাঝে মাঝে কিছু নিউজ শুনি বাঙালি অমুক দেশে রেইপ করেছে, তমুক দেশে ছিনতাই করেছে, ২ নম্বরী করেছে, এখন জেলে আছে! এরা কি কোনদিন বদলাবে না? এরা কি আজীবন এমনই থাকবে? কোনদিন কি নিজের তথা দেশের সম্মান বজায় রাখতে সচেষ্ট হবে না? দেশকে আর কত ডিজিটাল করতে হবে এদেরকে সহবৎ শেখাতে?

কখনো কি ভেবে দেখেছেন, এই যে শিশু, কিশোর, যুবক সমাজ এভাবে নোংরা ভাষা আর গালিগালাজে অভ্যস্থ হয়ে পরছে, তার কারন কি? কি কি কারন থাকতে পারে এর পেছনে? কিভাবেই বা এর থেকে মুক্তি মিলবে? এটা কি আমাদের দেশের জন্য তথা বাংলা ভাষার জন্য হুমকি স্বরূপ নয়?

আবার ইতিহাস ঘেঁটে শান্তি পাই,আমরাই সে জাতি, যারা ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছি। পরক্ষণেই মনে পড়ে, আমরাই সে জাতি যারা ভাষাটাকে নোংরা গালিতে ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। এর থেকে মুক্তির উপায় কি? কিভাবে গঠন করা যায় একটি ভদ্র সভ্য সমাজ?

১৪৫জন ১৪২জন
4 Shares

২১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য