DarlinG

গোধূলি ৪ জুলাই ২০১৩, বৃহস্পতিবার, ০৬:১০:৪৭অপরাহ্ন গল্প ২৬ মন্তব্য

‘ “হ্যালো, মা, বলো।”

“তোর কী মাথা ঠিক আছে, কিন্তু?”

“মা, আজ পর্যন্ত কখনো কি তোমার মনে হয়েছে যে আমার মাথা ঠিক আছে?আমি একটু ব্যস্ত ,পরে কথা বলব। আচ্ছা? বাই।” কেটে দিল কৃন্তনিকা।

দশ মিনিটেই আবার এলিনার ফোন এল।

“হ্যালো, এলি।”

“হ্যালো,কি হয়েছে, বলতো? আন্টি আমাকে ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করছে। কিন্তু ,দ্যাখ-”

“তুই আমাকে বুঝাতে আসবি না, সবকিছু জানার পরও মার কথা মেনে নিতে বলছিস? আশ্চর্য!”

“আহা, তুই ব্যাপারটা বুঝছিস না, কিন্তু।”

“তুই খুব বুঝছিস বুঝি? তুই আমার জায়গায় নিজেকে বসিয়ে দ্যাখ আগে। দিনের পর দিন একটা অমানুষের সাথে থাকা যায় না। প্রতিদিন রাতভর এক্সগার্লফ্রেন্ডের সাথে হয় প্রেমালাপ চলতো, নয়ত এসএমএস। রাতে দেরী তো করতই, কোন কোন রাত তো ফিরতই না। গায়ে সেই পারফিউমের গন্ধ। একে কি সংসার বলে? ওপেনলি করত সব। যখন কিছু বলতাম, অদ্ভুত সব রিপ্লাই পেতাম। একদিন বললাম, “যদি এসবই করবে, তো আমাকে বিয়ে করেছিলে কেন? ঐ মেয়েকেই বিয়ে করলেই পারতে ”

– “সামাজিক বাঁধা ছিল, প্লাস মা বাবাও তোমাকে পছন্দ করেছিল।”

– “এসব কি প্লান ছিল? বিয়ে করে সুন্দর সংসারজীবনের পাশাপাশি…ছি…”

– “না, ছিল না। কিন্তু মানুষের মনের উপর মানুষের হাত থাকে না। ফিলিংস তো আর মানুষ কন্ট্রোল করতে পারে না।”

– “আর আমি?”

– “ভালোই তো আছো। খারাপ আছো কি? কোন ধরনের অভাব তো রাখিনি তোমার। বাইরে যাই করি, আল্টিমেটলি তো ঘরে ফিরি। ছেড়ে তো যাই নি। You should be happy. ইচ্ছে হলে তুমিও বাইরে…” বলে বিকৃত হাসি হেসেছিল ঐ অসভ্যটা।”

“সকালে নাকি তোর চেম্বারে গিয়েছিল?”

“হুম, বলছিল- ফিরে যাওয়ার জন্য।”

“তুই কি বললি?”

“সব শুনবি না শুধু sample?”

“বল শুনি।”

“ও এসে বলল, “এভাবে বাড়ি ছেড়ে আসা তো ঠিক না। ঘরের বউ ঘরে ফিরে আসো।” আমি বললাম ,”যখন দিনের পর দিন রাতে ফিরতে না, মনে হত না, ঘরে বউ আছে?”

– “তো তুমি ফিরবে না?”

– “না।”

– “তো ভাল। মিউচুয়ালি ডিভোর্স হয়ে যাক।”

– “না, ডিভোর্স তোমার প্রাপ্য নয়। মজার ব্যাপার হল-ওর হাজব্যান্ডকে তো জানিয়েছি কাল, আর আজ তুমি এখানে। বাহ!”

– “তো কি চাও, কিন্তু?”

– “চাই তো অনেক কিছুই। কোনটা শুনতে চাও? ”

– “কিন্তু, মাথা গরম করো না।”

– “My mind was never so cool, you should know.”

– “OK, তো আমার সাথে থাকবে না, আমাকে ছাড়বেও না। Quite strange. বড্ড ভালোবাসো আমায়,I guess.”

– “অবশ্যই, কেন নয়, ডার্লিং? তোমার কোনটা পছন্দ mental hospital না jail?”

– “কি বলতে চাও?”

– “option দিলাম তোমাকে। যেটা চাও পাবে।”

– “WTF?”

– “দ্যাখো, সবকিছু মা-বাবার বুদ্ধিতে করতে নেই। তার মধ্যে বিয়ে অন্যতম। বিয়ে যখন করেছ আমায়, একটা কিছু তো ভোগ করতে হবে।” ও বিস্ফোরিত চোখে তাকাল আমার দিকে। আরো বললাম, “তোমার মা-বাবা অনেক বেছে আমাকে পছন্দ করেছিল। ডাক্তার মেয়ে,family background ভাল। তুমি তো জানোই, গোটাকতক lawyerও আছে। caseটা কি করব-confusionএ আছি। আলাদা থাকার জন্য তুমি আমার againstএ case করলেও লাভ হবে না। পরকীয়াপ্রেমী husband আমার, আপনার পরকীয়ার বেশ কিছু evidenceও আছে আমার কাছে- চিরকুট, ঘনিষ্ঠ কিছু ফটো…”

– “বাড়াবাড়ি করছ,কিন্তু।”

– “পরকীয়া করার আগে একটু সতর্ক হবে না, ডার্লিং? এতো অস্থির হচ্ছ কেন? Hindi filmএর common dialogue তা বাংলাতে শোনো- এতো শুধু trailer ছিল, পুরোটা এখনো বাকী। দাম্পত্য পুনরুদ্ধারের adulteryর case আমি করব না। ওতে তোমার কিচ্ছু হবে না।”

ও হাতমুষ্টি করে টেবিলে সজোরে আঘাত করে দাঁড়িয়ে পড়ল ও বলল, “অনেক বাজে বকছ। আমাকে কিন্তু চেনো না।”

– “এখন কি মারবে? তাহলে নারী নির্যাতনের caseএর জন্য সহজ হবে। তোমার নির্যাতনের সত্যিকার signএর পাশাপাশি পাশের রুমের কিছু সাক্ষীও পাবো। জানো, forensic medicine subjectটাকে অনেক dislike করতাম। এবার বেশ কাজ দিবে। ক্ষত-জখমকে সত্যি prove করাটা easy হবে। তোমার জেল তো must। নাকি asylum prefer করো? ডার্লিং, জানো, কিছু chemicals আছে যা মানুষের মস্তিষ্ককে ক্ষণিকের মধ্যে…হা হা হা…তোমার শরীরে সেটা কিভাবে ঢুকবে-আমার উপর ছেড়ে দাও। একবার ঢুকলে ওটাকে তোমার permanent আবাস করার ব্যবস্থাও করব, don’t worry. আর যদি তোমার preference জেল হয়, তবে আরো কিছু  include করব। তোমাদের বাসার কাজের মেয়ের বয়স তো তের। তুমি কি জানো, ষোল বছরের নিচে কোন মেয়ের সাথে… সেটাকে আর sexual assault বলে না, বলে rape।”

-“কিন্ত, তুমি কি পাগল হয়ে গেছো?”

-“কি expect করো তুমি? কথা তো শুনতেই না,পায়েও ধরেছিলাম। হাত তুলতেও দ্বিধা করো নি । বাদ দাও । ‘ঘেঁটুপুত্র কমলা’ দেখেছ ?যে ছেলেটা paper দিত, দেখতে অনেকটা-”

-“please,stop it.”

-“আমি যখন বলেছিলাম, শুনেছিলে? একরাতে ভেবেছিলাম, তোমাকে মেরে bonesগুলো 1st yearএর কোনো medical studentকে গিফট করি। বাংলাদেশে প্রতিদিনই কেউ না কেউ নিখোঁজ হচ্ছে। এই তো সেদিন ইলিয়াস।”

-“তো মারলে না কেন?”

-“মেরে ফেললে তো মজা শেষ। pain মৃত্যুতেই শেষ। তুমি অনেক lucky,জানো? অন্য একটা প্লান এসেছিল। রাতে muscle relaxant দিয়ে পুরো শরীর অবশ করে without analgesic তোমার castration করতে চেয়েছিলাম। pain হবে, কিন্তু নড়তেও পারবে না এতোটুকু। সাথে সাথে পরকীয়ার ভেড়াটাও সরাসরি উপরে। কেমন হতো, বল? হা হা…এখন যাও, ফোন করে জানাতে ভুলো না, ডার্লিং, জেল না asylum ” ‘

পড়া শেষ করল সাহিত্য। ভয়ার্ত চোখে তাকাল মেঘলার উৎসুক চোখে। মেঘলা উত্তেজিত কণ্ঠে, “কেমন হয়েছে? কেমন হয়েছে?”

“ভয়াবহ রকমের-”

“thrilling হয়েছে?”

“মেঘলা, শোনো” সাহিত্য ঢোক গিলল।

“বলো”

“দ্যাখো, রিমির SMSএর কোন reply কিন্তু আমি দেই নি। তুমি আমাকে ভুল বুঝছো …”

“মিথ্যে বলবে না একদম”

“আচ্ছা, ‘কৃন্তনিকা’ নাম কেন? অদ্ভুত!”

“‘কৃন্তনিকা’ মানে যার কৃন্তন আছে, generally ছুরি types বোঝায়। মেয়েটা তার লম্পট জামাইকে কেমন এফোঁড়ওফোঁড় করলো, দেখলে না?”

“তুমি ঠিক কীজন্য গল্পটি লিখেছ? গল্পের মেয়ের সাথে তুমি যাও, কিন্তু আমি তো পরকীয়া করি না, ডার্লিং, বিশ্বাস করো ”

“এখন ডার্লিং, বেবি, জান, পরানপাখি,ময়না কতোকিছু বের হবে…”

“মেঘলা…”

“যাতে ওসব না কর সেজন্য গল্পটা ছিল তোমার primary treatment। আর গল্পেরটা হলো final stageএ tertiary treatment।”

“তাহলে secondary টা কি?”

“পরকীয়া শুরু করলেই practically বুঝতে পারবে, ডার্লিং…”

©কৃন্তনিকা

 

৩৮০জন ৩৮০জন
0 Shares

২৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

️️ 🍂️️ 💝 ️️ 🌟 🌺 💐 💥 🌻 🍄 🌹 💐 ⭐️ 🎉 🎊