★★একদিন বিভুর সনে★★
একদিন বিভুর সনে
★*★*★*★*★*★
বিভু! আপনি তো কিছুদিন
সুন্দরবন এলাকায় ছিলেন?
খুলনা আপনার তাই ভাল-ই দেখা আছে।
আপনার অবস্থানের সময়
শিল্পাঞ্চলের ভরা যৌবন!
মানুষ-যন্ত্রের মিলিত রসায়নে
আনন্দে ভারী এক বাতাসে ভেসেছেন আপনি।
.
আমার শৈশবে গিয়ে দেখে আসি চলুন…
হৃদয়গুলির রক্তাক্ত হয়ে ওঠার ইতিহাস
একটা জনপদের ইতিহাসের আগেই লেখা হয়ে যায়।
হৃদয় আর জনপদের রক্তক্ষরণের
বীজ কিন্তু বিভু
পেছনের সেই কাঁচা রাস্তার মাথা থেকেই শুরু।
.
ছিমছাম এক মহল্লা
ছবির মত সাজানো এক গ্রাম যেন!
আসলে জায়গাটা ছিল
বিভাগীয় শহরের অন্যতম কেন্দ্র বিন্দু।
ইটের সলিং বিছানো প্রসস্ত রাস্তার পাশ দিয়ে
চওড়া ড্রেণের কাজ শুরু হবে বলে শুনছিলাম।
আমি তখন কলাপাতার ঘোড়ায় চড়ে
ইটের রাস্তা দাবড়িয়ে বেড়ানো বালক
আত্মহারা.. নিঝুম নিমগ্ন সুখে!
নিতান্ত এক বালকের
আলোয় ঝলমলে বাল্য জীবন!
.
কিন্তু কি জানেন বিভু?
শত আনন্দ মাঝেও নিরানন্দ ঠিক-ই
আনন্দের হাত ধরে ধরে হেঁটে চলে.. বিষন্ন করে তোলে মন।
আমাদের ঐ জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে
খেলার ছলে দেখার মত করেই
আচমকা সামনে হাজির হল পরিবারতন্ত্র!
নেতৃত্ব দিচ্ছে মানুষের খোলসে অমানুষ!!
তখন আমাদের মানুষ-ই বুঝে আসত না বিভু
অমানুষ বুঝব কিভাবে?
.
শেষে মানুষ- অমানুষ মিলেমিশে
এক বিচিত্র সমাজে বড় হয়ে উঠতে লাগলাম।
যখন বুঝলাম একটু
শিখলাম ঢের বেশী
পেতে হলে ছিনিয়ে নাও
অন্যের নেবার আগে।
কোনোকিছুই কারো জন্য স্থির হয়ে
অপেক্ষায় থাকে না চীরকাল’।
.
আপনার কি মনে আছে বিভূ
দেশে পলিমার দানা ইম্পোর্টের শুরুর দিকের সময়ের কথা?
একটা দেশের প্রধান নির্বাহীর অদূরদর্শিতায়
কিভাবে একের পর এক
পাটকলগুলি বন্ধ হয়ে যেতে লাগল!
আদিগন্ত বিস্তৃত ইমারতগুলির নি:সঙ্গ ছায়ারা
কায়া হারিয়ে নির্বাক মৌণতায় মৃতপুরী!
আর সেখানে আরেক আধাঁরের জগতে
কিছু নব্য ইম্পোর্টারদের নগ্ন উল্লাসমুখর দৃশ্য
এখন কারো চেতনায় একটুও কি ভাসে, বিভু?
.
মিলগুলির শ্রমিকদের পাওনা টাকা বুঝে নেবার সময় এলো..
কেউ পুরো কেউ আংশিক পেলো
কেউ কিছুই পেলো না
পাশের অন্য আরো পরিবারগুলোর মত
আমরাও বিভু পথে বসে গেলাম!
এক মৃত শিল্পাঞ্চলের
হাহাকারের শব্দে
আমার অনেক রাত ঘুম ভেংগে গেছে
আমি শব্দ শুনেছি কেবল.. কানে বেজেছে
কিছুই করতে পারিনি সে এক দু:সহ সময় ছিল বিভু।
.
এরকম অনেকগুলি পরিবার
তাদের হাহাকারগুলো নিয়ে এক হল
বাঁচতে হবে বাঁচাতে হবে
প্রয়োজনে ছিনিয়ে নিতে হবে
না খেয়ে থাকা বড্ড কষ্ট বিভু!
দিনবদলের কিংবা পরিবর্তনের নি:শব্দ শ্লোগানে
রাতের ঘুম ভেংগে গেলে তাই
এই পরিবারগুলোর কোমল যুবকেরা
হিংস্র হয়ে উঠতে থাকে..
ব্যবহারকারীরা ওদের ইচ্ছেমত ব্যবহার করে
তাই যুবকদের চরিত্রগুলি ক্রমশ: মিথে পরিণত হয়।
এক সিনেম্যাটিক জীবন পর্দার বাহিরে
ক্ষমতাধর অন্য পুরুষে রুপান্তরিত করে যুবকদের!
‘ফাইট না সাইট’ আহবানে
নীরবে সরে যাওয়া ঐ সময়ের প্রশাসনের নত মুখ
যুবকদেরকে আরো উদ্ধত অহংকারী করে তুলেছিল।
কিন্তু একটা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কখনো
বিচ্ছিন্নভাবে টিকে থাকা যায় না
বুঝে আসেনি কারো।
.
তারপর.. বিভু?
কেবল-ই ইতিহাস! বলির.. খুনের..ক্রোধের!
না পাওয়ার বঞ্চনায় অক্ষম ক্রোধে তাড়িত হয়ে
অন্য এক সমাজের বাসিন্দা হয়েও দেখেছি-
কোথায়ও সত্যম শিবম সুন্দরম এর মূল্য নেই।
.
অনেক কথা বলে ফেললাম কি বিভু?
যাবার আগে আরেকটু তবে বলে যাই-
প্রতিটি সময়ে এক রক্তাক্ত জনপদে
নীলচে স্বয়ংক্রিয় ধাতব ক্ষমতাবান যুবকেরা
একের পর এক বাতাসে মিলিয়ে যেতেই
অন্যরা হিংস্র হয়ে ওঠে..
একসময় ওরাও হারায় সুদূরে..
তখন আরো একদল জায়গা দখল করে
মারে আর মরে.. আবার জন্মায়!
এ ভাবে জড় থেকেই যায়..
বিপ্লবীরা কখনো-ই মরে না
তাই না, বিভু?
★ বিভু: সাওতালদের দেবতা। বর্তমানে বড় ভাই প্রকাশ করায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকায় ব্যবহার করা হয়।

৭টি মন্তব্য
খুলনা বসুপাড়া আমার দাদার একটা বাড়ি ছিল। আপনার লেখা পড়ে মিলের মানুষের জীবনচিত্র মনে পড়ল। আমাদের অনেক আত্নীয়ই মিলে কাজ করত।
আসলে রাজনীতি অর্থাৎ শাষনতন্ত্রে পরিবারতন্ত্র অনেক বড় প্রভাব পড়ে একটি দেশে। পোষ্টে ভালোলাগা রইল।
সুন্দর বলেছেন।
আমার অনেক বন্ধুর পরিবার এভাবে শেষ হয়েছিল, আমি দেখেছি।
ধন্যবাদ আপনার অনুভূতি জানানোর জন্য।
আমি কবিতার ”ক” বুঝি না, তাই হয়ত আমার কাছে কবিতার মত লাগল না।
বিষয় এর উপস্থাপন ভালোই করেছেন। শুভ কামনা।
আপনার অনুভূতি জেনে ভাল লাগল।
ঔপন্যাসিক এবং কবি ভাস্কর চৌধুরির ‘ নিরঞ্জন আমার বন্ধুর নাম’ কবিতাটি পড়ে দেখতে পারেন, হয়ত কবিতা সম্পর্কে কিছুটা জানা হবে আপনার।
ধন্যবাদ, ভাল থাকুন।
ধন্যবাদ ভাই, পড়ব।
জানলাম বিভু মানে সাঁওতালদের দেবতা।
ভালো লিখেছেন। সমাজ-চিত্র তুলে ধরেছেন কবিতায়। লেখাটিকে কবিতাকারে না লিখে এভাবে লিখলে আরোও ভালো হতো। যেমন,
“বিভু! আপনি তো কিছুদিন। সুন্দরবন এলাকায় ছিলেন? খুলনা আপনার তাই ভাল-ই দেখা আছে। আপনার অবস্থানের সময় শিল্পাঞ্চলের ভরা যৌবন! মানুষ-যন্ত্রের মিলিত রসায়নে আনন্দে ভারী এক বাতাসে ভেসেছেন আপনি।” অবশ্য আপনি যেভাবে লিখেছেন সেও কম সুন্দর নয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ওয়াল্ট হুইটম্যানের একটি কবিতা নাম I Saw in Louisiana A Live-Oak Growing অনুবাদ করেন। ঠিক এমন আকারেই। কেন লিখলাম জানেন? গদ্য কবিতার অনেক ধরণ। মজা হলো আজ অনুবাদ নিয়ে পড়তে গিয়ে এটা পেলাম।
ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনার দেখানো ফরম্যাট অনেক ভাল লেগেছে, পরেরবার সেভাবে লেখার ইচ্ছে রয়েছে।
ভাল থাকুন।