★মায়া, মহাপুরুষ এবং আমি★

মামুন ৪ ডিসেম্বর ২০১৬, রবিবার, ০৩:০৯:১৪পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ১৫ মন্তব্য

হুমায়ুন আহমেদ যতদিন বেচে ছিলেন, আমি তার যে কোনো বই এক বসায় না পড়লে মনে শান্তি পেতাম না। এমনও সময় গেছে ইলেট্রিসিটি চলে গেছে, বই এর ভিতর এমন এক জায়গায় ডুবে আছি সামনে আগাতে না পারলে ভেসে উঠতে হবে। মোমবাতি জ্বালিয়ে ওই অবস্থায় ও পড়া চালিয়ে গেছি। অফিসে কাজের ফাঁকে ফাঁকে, ই-বুকগুলো গিলেছি হাভাতের মতো।

তার মিসির আলী চরিত্রের থেকে আমার হিমু চরিত্রটি বেশী ভাল লাগতো। এটা যে কেনো সেটা কখনো বোঝার চেষ্টা করিনি। মিসির আলী বেশী ভারিক্কি অথবা জ্ঞানী বলে? কিংবা হিমুর ভিতরে এক সাধারণ যুবকের কিছু অসাধারণ কর্মকান্ড চোখে পড়ে বলে? নাকি রুপার মত এক লাবন্যময়ী নারী যে হিমুর জন্য এক সাগর ভালবাসা হৃদয়ে নিয়ে উন্মুখ হয়ে থাকে যদিও সে জানে হিমু আসবে না তার জন্য?

অনেক চিন্তা করলাম।
নাহ! হুমায়ুন আহমেদ এর লিখার জন্য আমার ভিতরে এক মায়া সৃষ্টি হয়েছে। যদিও হিমু চরিত্রের দ্বারা তিনি এই জীবনে সব কিছু থেকে ‘মায়া’ বা ‘মোহ’কে কাটানোর শিক্ষা দিয়েছেন। আমিও সেই মায়া কাটানোর অনুশীলন করা শুরু করেছিলাম। আমার যেটা বেশি ভাল লাগতো, সেখানে আমি জোর করে খারাপ লাগাতাম… ভাল কোনো কিছু মনের ভিতরে দেখার ইচ্ছে জেগে উঠলেই সেখান থেকে ভেগে যেতাম… ফেসবুকে এসে লাইক দেয়াটাও বাদ দিয়েছিলাম… যাকে ভাললাগে তার সাথে ইচ্ছে করে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করতাম যাতে সে আমাকে ঘৃণা করে। এভাবে কাটাচ্ছিলাম আমার সময়।

কিন্তু একদিন হঠাত করে অনুভব করলাম, আমি যতই মায়াকে কাটাতে চাচ্ছি – মায়া আমাকে আরো বেশী করে জড়িয়ে নিচ্ছে… সর্বত্র। আমি আমার পরিবার থেকে সমাজ জীবনের সকল স্তরে মায়ার বাঁধনে ক্রমশ তলিয়ে যাচ্ছিলাম। প্রকৃতিও আমার চোখের ভিতরে এতোটা মায়া ঢেলে দিচ্ছিলো যে, আকাশ-মেঘ পানি-বাতাস এবং গাছপালা- যেদিকেই তাকাই আমি হারিয়ে যেতে থাকি… মায়ার গভীর থেকে গভীরতর অংশে।

যেদিন কোনাবাড়ীতে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের ১০ তলা গার্মেন্টসটিতে আগুন লাগে, সেদিন বন্ধু বিপ্লব সুদুর অস্ট্রেলিয়া থেকে আমাকে ফোন করে আমি ঠিক আছি কিনা জানতে চেয়েছে.. খুলনা থেকে আম্মা সেই মুহুর্তে কোথায় আছি- ভাল আছি কিনা জানতে চেয়েছেন। মোবাইল বন্ধ থাকায় চাটগা থেকে বন্ধু মনসুর সে রাতে আমাকে পায় নাই.. পরের দিন ফোনে পেয়ে আমি কেমন আছি জানতে চেয়েছে, সেইফে থাকার অনুরোধ করেছে।
এগুলো কি মায়া নয়?

… আমার বউ কাজের ফাঁকে ফাঁকে আমাকে ফোন করে বিভিন্ন কথা জিজ্ঞেস করে রেখে দেবার আগ মুহুর্তে জিজ্ঞেস করতো,
– কেমন আছ তুমি?!
আমার চারপাশে কলিগদের দ্বারা বেষ্টিত এই আমি একটু হেসে ফোন রেখে দিতাম। বউ সেই হাসিটা কি দেখতে পেতো? দু’পাশে দুইজন অদৃশ্য মানুষ তাদের মায়াকে দেখাতে না পারলেও মায়ার অস্তিত্ত কে অস্বীকার ও করতে পারে না। আমি আমার প্রিয়তমাকে কেমন আছি এই কথাটুকু ও ভালভাবে বলার সঠিক সময়টুকু পেতাম না।
এই অনুভুতি ও কি মায়া নয়?

কোনো এক জায়গা থেকে কেউ একজন যখন আমাকে বলতো,
– সাবধানে থেকো… বউ দিবসে সাভারে দেখেশুনে যেও।
আমি অদৃশ্য এক মায়ার জালে আটক হতাম।

এই সবার মায়াকে দূরে ঠেলে দিলেই কি আমি মহাপুরুষ হয়ে যাবো?
কি লাভ এমন মহাপুরুষ হয়ে যদি মায়ায়ই সবাইকে জড়াতে না পারি? … কিংবা নিজেই ওদের মায়ায় জড়িয়ে থাকতে না পারি!
মহাপুরুষের কাজটা কি? সবাইকে মায়ায় জড়িয়ে রাখা নয় কি? মায়ায় জড়িয়ে নিয়েই মায়া কাটানো শিক্ষা দেয়া অধিকতর সহজ বলে মনে হয় আমার কাছে।

এই জগতটাই কি একটা মায়া নয়?

#ব্যক্তিগত_স্ট্যাটাস

৫৬৫জন ৫৬৫জন
5 Shares

১৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ