মূল লেখায় যান

২০৮০ সাল

শাফিন আহমেদঅন্যান্য৪০টি মন্তব্য

শান্ত ওর বাবার সাথে বসে একটা পত্রিকা দেখছে আর অবাক হচ্ছে।
বাবা বাবা এটা কি ?
– কই দেখি,ও আচ্ছা এটাকে বলা হয় গাছ আজ থেকে আরও ৬০/৭০ বছর আগে আমাদের দেশেও এমন গাছপালা ছিল , তবে খুব বেশী ছিলনা ।
– ও আচ্ছা সুন্দর তো , বাবা এটা কি ?
-ও আচ্ছা এটাও একধরনের গাছ এটাকে বলা হয় সুন্দরী গাছ ।
– হি হি , সুন্দরী কেন বাবা ? এটা দেখতে কি অনেক সুন্দর ? এটা তো আগের গাছটার মতই সবুজ চুল ,খয়েরী শরীর ।
-সুন্দর তো সব গাছ,তবে এটার নাম রাখা হয়েছে সুন্দরী । আমাদের দেশে একসময় একটা বন ছিল সুন্দরবন নামে , এই বনে এই গাছ বেশী পাওয়া যেত বলে নাম রাখা হয়েছিল সুন্দরী গাছ ।
-হি হি ভালোই । এখন কোথায় বাবা বনটা ?
-এই যে বাবা আমাদের বাসার পাশেই ঐ যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটা দেখছো ওখানেই ছিল,জানো আব্বু একসময় আমাদের নিঃশ্বাস নিতে এই অক্সিজেন এর সিলিন্ডার গুলো লাগতো না ,এই যে তোমার আমার মুখে অক্সিজেন মাস্ক পরা এগুলো কিছুই লাগতো না
– কি বল তাহলে শ্বাস প্রশ্বাস কিভাবে নিতাম আমরা?
– এই যে গাছ গুলো তখন ছিল, ওরাই তখন আমাদেরকে অক্সিজেন দিয়ে বাচিঁয়ে রাখতো
– সত্যি বাবা?? গাছের কাছে অক্সিজেন ও ছিলো ?
– হ্যা ছিলো বাবা । এখন এগুলো শুধুই স্মৃতি ।
-বাবা ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হয়েছিল কি সব গাছ মারা যাওয়ার পরে?
– না বাবা জীবিত গাছগুলোকেই কেটে তৈরি করা হয়েছিল ।
বিদ্যুৎ চলে গেলো …
বাসায় এসি থাকা সত্যেও গরমের তীব্রতায় বাবা ও ছেলে দুজনেই অস্থির হয়ে যাচ্ছে
হঠাৎ ওপাশ থেকে মিতু ডেকে উঠলো , শান্তর বাবা আমার অক্সিজেন বোধহয় শেষ তোমার টা একটু দাও আর দ্রুত নতুন সিলিন্ডার আনতে বল । অবশেষে শান্ত কে গরমের কষ্ট থেকে বাঁচানোর জন্য একটা ইঞ্জেকশন পুশ করা হল (কুল স্লিপ নামের ) । শান্ত কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে ঘুমিয়ে পড়লো , ওর বাবা অসহ্য গরমে মিতুর কাছে তার অক্সিজেন সিলিন্ডার টা নিয়ে এগিয়ে গেলো । বিদ্যুৎ না থাকার কারনে নতুন অক্সিজেন সিলিন্ডার বাসায় আসলো না । অর্ডার করা হয়েছে তবে বাসায় একটা মেশিন আছে অটোমেটেড ডেলিভারী মেশিন , সেটায় পর্যাপ্ত চার্জ না থাকায় সময়মত আসল না ।
অত্যাধুনিক যন্ত্র গুলো তৈরির কারনে অস্বাভাবিক হারে বিদ্যুৎ প্রয়োজন হচ্ছে যার ঘাটতি ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র মেটাতে পারছেনা । আরো বেশকিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র দরকার অন্ত্যত অক্সিজেন সরবরাহ ঠিক রাখার জন্য ।

মোট পড়েছেনঃ ৪৯০জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

৪০টি মন্তব্য

  1. সোনেলায় স্বাগতম।নিয়ম মাফিক নিয়ম রক্ষা করতো কষ্ট হবে আমার 😃😃।তবুও আপনি করে বলতে পারবোনা। তুমিতেই থাকি( যদিও আমাদের সম্বোধন তৃমি/তুই।
    ব্লক ব্লাষ্টার লেখা নিয়ে প্রধমেই বাজিমাৎ করে দিলে শাফিন!! আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কি ভয়াবহ হুমকির মুখে!! তারই প্রতিচ্ছবি। চমৎকার লেখনি শৈলী! আরো লিখো সময় করে। শুভ কামনার সাথে ভালোবাসা ❤❤

  2. আমি জানিনা যে আসলেই কিছু বোঝাতে পেরেছি কিনা এই লেখা দিয়ে । এটা সম্পূর্ণই আমার কল্পনা এবং ভুলে ভরা একটা লেখা । তবুও তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাকে উৎসাহিত করার জন্যে এবং অনুরোধ আপু আমার সব ভুলগুলো ধরিয়ে দিবে । ভালোবাসা অফুরন্ত ।

      1. ধন্যবাদ আপু । বাংলাদেশ সহ সমগ্র বিশ্বের প্রাকৃতিক পরিবেশ এখন হুমকির মুখে। সরকার ও জনসাধারণের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে ।
        শুভ কামনা ।

  3. আগামীর প্রজন্ম অনেক কিছুই দেখতে পাবেনা যা আমরা দেখেছি।
    ইতিহাস হয়ে থাকবে আমাদের মাছ গাছ পশুপাখি শুধু বইয়ের পাতায়।

    ভালো লিখেেন। শুভকামনা।

    1. আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যত আসলে তাদের হাতেই , তাদের চেষ্টা আর স্বদিচ্ছা থাকলে হয়ত সামনের দিনগুলোকে আসন্ন হুমকির হাত থেকে রক্ষা সম্ভব । ধন্যবাদ আপু আপনার গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যের জন্য ।

      1. আমরা যা তুলে দেবো নবীন হাতে।
        চিনিয়ে দেবো প্রভাতের আলো তাই নিয়ে এগিয়ে যাবে তারা।।
        এ বিশ্বকে এ শিশুর বাস যোগ্য করে না যেতে পারলে তারা কেবল যান্ত্রিক হয়ে যাবে এটা নিশ্চিত। পথর দিশারী হতে হবে সবাইকে তবেই আগামীর ভবিৎসৎ হাটবে সেই পথে।

  4. আপনার মন্তব্যের সাথে একমত । আসলে আমাদের দেখানো পথেই তারা হাটে। আমাদের বদ অভ্যাসগুলোর পরিবর্তন তাদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবে । অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার মন্ত্যব্যের জন্য ।

  5. সোনেলায় আপনাকে স্বাগতম।

    সুন্দর শিক্ষামূলক, নির্ভুল, পরিচ্ছন্ন একটি গল্প দিয়ে ব্লগে প্রবেশ করলেন। আপনার গল্পের থীম অনুযায়ী যা মনে হলো, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও প্রযুক্তিগত চাহিদার কাছে একদিন সব কিছুই আমরা হারিয়ে ফেলবো। আগামী প্রজন্মে আমাদের চিরচেনা জগৎটা তাদের ইতিহাস এবং যাদুঘরে শোভা পাবে। ভালো লাগলো।

    আরও লিখুন, অন্যদেরগুলো কম-বেশি পড়ে মতামত দেয়ার চেষ্টা করুন। ভালো থাকবেন, শুভ কামনা 🌹🌹

    1. যার যার সাধ্যমত নিয়মিত বৃক্ষরোপণ ও অন্যদেরকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করলে আমরা হয়তো আবার ১০০ বছর আগের সবুজ বাংলাদেশকে ফিরে পেতে পারি ।
      মন্তব্য করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ শামীম ভাই ।

      1. শাফিন ভাই, তারা বোঝে বাট কিছু কারনে করতে পারেনা হইত। কিন্তু ক্ষমতায় থেকে না করতে পারা দুঃখজনক। তবে এই রকম লেখা সোনেলায় আরো চাই যা দেশমাতৃকার কল্যানারথে।

  6. এ্যাকশন রিপ্লাই।
    আগের মতো তরুণরা থেমে আছে কেনো?
    এখনকার তরুণরা শুধু চায় কীভাবে অল্পতে বড় হবে।কিন্তু বিপর্যয় যা হওয়ার হয়ে যাচ্ছে।
    আগের মতো প্রতিবাদী হোক।সবকিছু সুন্দর হোক।তবে প্রকৃতিকে বাদ দিয়ে নয়।

    1. প্রতিবাদী সবক্ষেত্রেই হতে হবে আর এরকম প্রাকৃতিক বিপর্যয় এর হাত থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতে অবশ্যই তরুণদের দরকার । আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আপনার গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যের জন্য ।

  7. লেখাটি ভাবালো আমাকে, আসলে সবারই ভাবা উচিত, আমাদের নিজেদের আরও সচেতন হতে হবে, সাথে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে, নাহলে এই ধরিত্রী মরে যাবে।