মূল লেখায় যান

একাত্তরের জাতীয় বীর -২: বীর শ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ

হৃদয়ে আমার বাংলাদেশএদেশ, মুক্তিযুদ্ধ৩০টি মন্তব্য
বীর শ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ
জন্ম : ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬
মৃত্যু : ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ (৩৫ বছর)

১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন হাজার হাজার মুক্তিকামী জনতা । ধর্ম , বর্ণ নির্বিশেষে দেশকে স্বাধীন করার প্রত্যয়ে সমগ্র বাঙ্গালী জাতি একতাবদ্ধ হয়ে পাক হায়েনাদের কবল থেকে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরেছিলেন । এত রক্তপাত আর আত্মত্যাগের বিনিময়ে বিশ্বের আর কোন জাতির জন্ম হয়নি।

বীর শ্রেষ্ঠ পদক

 

১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব , অতুলনীয় সাহস ও আত্মত্যাগের নিদর্শন স্থাপনকারী যোদ্ধার স্বীকৃতিস্বরূপ সাত জনকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক পদক ” বীর শ্রেষ্ঠ ” পদকে ভূষিত করা হয় । ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ গেজেটের একটি অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পদকপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়।

 

বীর শ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ সেই সাত জন বীরশ্রেষ্ঠের একজন।
১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল জেলার মহিষখোলা গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে নূর মোহাম্মদ শেখ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মোহাম্মদ আমানত শেখ, মাতা জেন্নাতুন্নেসা। অল্প বয়সে বাবা-মাকে হারান ফলে শৈশবেই ডানপিটে হয়ে পড়েন। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষ করে উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সপ্তম শ্রেণীর পর আর পড়াশোনা করেননি। নিজ গ্রামেরই সম্পন্ন কৃষক ঘরের মেয়ে তোতাল বিবিকে বিয়ে করেন। ১৯৫৯-এর ১৪ মার্চ পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস বা ইপিআর-এ যোগদান করেন। দীর্ঘদিন দিনাজপুর সীমান্তে চাকরি করে ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই নূর মোহাম্মদকে দিনাজপুর থেকে যশোর সেক্টরে বদলি করা হয়। এরপর তিনি ল্যান্স নায়েক পদে পদোন্নতি পান। ১৯৭১ সালে যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮নং সেক্টরে স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগদান করেন।  যুদ্ধ চলাকালীন যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদা’র নেতৃত্বে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন।

যেভাবে শহীদ হলেন
১৯৭১- এর ৫ সেপ্টেম্বর সুতিপুরে নিজস্ব প্রতিরক্ষার সামনে যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে নূর মোহাম্মদকে অধিনায়ক করে পাঁচ জনের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্ট্যান্ডিং পেট্রোল পাঠানো হয়। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে হঠাৎ পাকিস্তানী সেনাবাহিনী পেট্রোলটি তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলে গুলিবর্ষণ করতে থাকে। পেছনে মুক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা থেকে পাল্টা গুলিবর্ষণ করা হয়। তবু পেট্রোলটি উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। এক সময়ে সিপাহী নান্নু মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে নূর মোহাম্মদ নান্নু মিয়াকে কাঁধে তুলে নেন এবং হাতের এল.এম.জি দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করলে শত্রুপক্ষ পশ্চাৎপসরণ করতে বাধ্য হয়। হঠাৎ করেই শত্রুর মর্টারের একটি গোলা এসে লাগে তাঁর ডান কাঁধে। ধরাশয়ী হওয়া মাত্র আহত নান্নু মিয়াকে বাঁচানোর জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেন। হাতের এল.এম.জি সিপাহী মোস্তফাকে দিয়ে নান্নু মিয়াকে নিয়ে যেতে বললেন এবং মোস্তফার রাইফেল চেয়ে নিলেন যতক্ষণ না তাঁরা নিরাপদ দূরুত্বে সরে যেতে সক্ষম হন ততক্ষণে ঐ রাইফেল দিয়ে শত্রুসৈন্য ঠেকিয়ে রাখবেন এবং শত্রুর মনোযোগ তাঁর দিকেই কেন্দ্রীভুত করে রাখবেন। অন্য সঙ্গীরা তাদের সাথে অনুরোধ করলেন যাওয়ার জন্যে। কিন্তু তাঁকে বহন করে নিয়ে যেতে গেলে সবাই মারা পড়বে এই আশঙ্কায় তিনি রণক্ষেত্র ত্যাগ করতে রাজি হলেন না। বাকিদের অধিনায়োকোচিত আদেশ দিলেন তাঁকে রেখে চলে যেতে। তাঁকে রেখে সন্তর্পণে সরে যেতে পারলেন বাকিরা। এদিকে সমানে গুলি ছুড়তে লাগলেন রক্তাক্ত নূর মোহাম্মদ। একদিকে পাকিস্তানী সশস্ত্রবাহিনী, সঙ্গে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রশস্ত্র, অন্যদিকে মাত্র অর্ধমৃত সৈনিক (ই.পি.আর.) সম্বল একটি রাইফেল ও সীমিত গুলি। এই অসম অবিশ্বাস্য যুদ্ধে তিনি শত্রুপক্ষের এমন ক্ষতিসাধন করেন যে তারা এই মৃত্যুপথযাত্রী যোদ্ধাকে বেয়নেট দিয়ে বিকৃত করে চোখ দুটো উপড়ে ফেলে। পরে প্রতিরক্ষার সৈনিকরা এসে পাশের একটি ঝাড় থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে। এই বীরসেনানীকে পরবর্তীতে যশোরের কাশিপুর গ্রামে সমাহিত করা হয়।

ছবি লেখা সুত্র : উইকিপিডিয়া

একাত্তরের জাতীয় বীর -১: বীর শ্রেষ্ঠ মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর

মোট পড়েছেনঃ ১০৪৫জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

৩০টি মন্তব্য

  1. স্যালুট সকল বীর শহীদের সাথে আপনাকে জানাই ধন্যবাদ।লিখতে থাকুন ইতিহাস আমরা জানতে চাই জানাতে চাই
    :THANK-YOU: “আমরা যদি না জানাই ভাই
    কেমনে জানবে নতুন প্রজম্মরা”

  2. বীর শ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখকে জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা । খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে তেমন কিছু জানিনা ভাইয়া। কষ্ট করে যদি লিখতেন তাহলে আমরা জানতে পারতাম। লেখার জন্য কৃতজ্ঞতা।

  3. আপনাকে অনেক ধন্যবাদ লেখাটির জন্য, চেয়েছিলাম কেউ শুরু করুক। আমি মনে হয় প্রথম লেখাটা মিস করেছি, পড়ে নেব পরে।
    অনেক শ্রদ্ধাঞ্জলি এই বীরের জন্য।

    1. শুরু করেছিলাম আপু বেশ ভালো ভাবেই। পাঁচ পর্ব শেষও করেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত সাইট থেকে অনেক পোষ্ট বিনষ্ট করা হয়েছে। সমস্ত ব্লগারের একটি নির্দিষ্ট তারিখের আগ পর্যন্ত সব পোষ্ট ছাগলে খেয়ে ফেলেছে। তখন আপনি আসেননি এখানে। কিছুটা হতাশা এসে যাওয়ায় পরবর্তিতে আর পোষ্ট দেয়া হয়নি। আবার শুন্রু করলাম।
      অনেক শ্রদ্ধাঞ্জলি এই বীরের জন্য। -{@

  4. অনেক শ্রদ্ধাঞ্জলী এবং স্যালুট এই বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদকে।

    এই বীরশ্রেষ্ঠদের উদাহরন আমাদের অনূপ্রানিত করে।

    অনেক ভাল উদ্যোগ। আমাদের অনেক সম্মানিত বীরশ্রেষ্ঠগন সম্পর্কে আপনি আমাদেরকে জানানোর যে উদ্যোগ গ্রহন করেছেন, সেজন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

  5. স্যালুট এই বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদকে । সমস্ত বীরদের কথা লিখলে দারুন একটি কালেকশন হবে । -{@
    ধন্যবাদ আপনাকে ।

  6. গতবছরের শেষের দিকে সাত বীরশ্রেষ্ঠদের নিয়ে পড়েছিলাম কিছুটা। আপনার লেখাটা পড়ে ভালো লাগলো। আশা করি এভাবে সবাইকে তুলে ধরবেন। তাতে আমাদেরও জানা হবে আর সোনেলাও সমৃদ্ধ হবে।

    সম্মান সকল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে। সম্মান সকল বীরদের শ্রেষ্ঠদের জন্যে। সম্মান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ এর জন্যে -{@

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।