মূল লেখায় যান

এসো হেমন্ত এই নবান্নে

ছাইরাছ হেলালএকান্ত অনুভূতি২৮টি মন্তব্য

 

প্রবল প্রত্যুষে হেমন্তের সোমত্ত-সোনালী-চাঁদ
পশ্চিম আকাশ জুড়ে ম্লান আলো ফেলে রেখে
জানলা জুড়ে এসে দাঁড়ায়!

নবান্ন যে এসে গেল দোর গোঁড়ায়
সোনালী ধানে ছেয়ে যাচ্ছে সারা প্রান্তর;
শিশিরের ঘ্রাণে, উৎসবের আহ্বানে,
উঠবে আঁটি আঁটি সোনা সোনা ধান,
সুস্বাদু অন্ধকার এড়িয়ে এসে দাঁড়াবে
এ সোনালী আঙ্গিনায় চোখে চোখ ঘসে;
হে আজন্ম কৃষক, এসো এ নবান্ন-প্রাণের-উৎসবে।
অকাতর অবসাদহীন শান্তিময় প্রাণ জুড়ে।

জমি-হীন নিষ্ফলা কৃষক, লাঙলের ফলায় নেই
কবিতা-অহংকারের সুপ্ত বীজ, সুগন্ধি ডানা
হারিয়েছে সেই কখন!
হৃদয়েরে বলি, পড়ে থাকুক এই নবান্নের উৎসব
ফিরে গিয়ে-ই না-হয় হারিয়ে যাই তিমির-অন্ধকারে।

হেমন্ত-চাঁদ ঘ্রাণ-ফসল নিয়ে হাসে, নত-চোখে, নত-মুখে,
বলে, অভিশাপ দিচ্ছি এই ঘোর সকালে
আজন্ম থেকে যাবে মরুময়, কবিতা-হীন, জগৎস্বামীর কাছে
এই নিবেদন, ভূতের শিকল পড়ুক ওই পায়ে;

তবুও এসো এই নবান্নের উৎসবে কবিতাকে সাথে নিয়ে।

মোট পড়েছেনঃ ১১৮৫জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

২৮টি মন্তব্য

  1. কবিতা পড়ে আমি আর আমার মাঝে নেই, চলে এসেছি হেমন্তের বুকে। এরকম কবিতা যিনি লেখেন তার মাঝে হেমন্ত কতটা বিরাজমান তা বলাই বাহুল্য।

    দারুণ অনুভাবী লেখা ভাইজান। ধন্যবাদ আপনার প্রাপ্য।

  2. সেই গ্রাম, সেই ধানক্ষেত, এই হেমন্তে আমার মনের মাঝে চির অমিল থেকে যায়। কারণ এখন আর শহরের আশেপাশে গ্রাম নেই। ধানক্ষেত নেই। সোনালী ধানের সেই ঘ্রাণও নেই। তবু আছে হেমন্ত। তাই হেমন্তের শুভেচছা জানাই।

  3. সকল আধার কেটে যাক আসুন নবান্নের আনন্দ।
    ,হেমন্ত-চাঁদ ঘ্রাণ-ফসল নিয়ে হাসে, নত-চোখে, নত-মুখে,
    বলে, অভিশাপ দিচ্ছি এই ঘোর সকালে

    কেমনে লেখেন কবিরাজ!

  4. একটু বেশি-ই বেশি মনে হচ্ছে কিন্তু।
    প্রকৃতি আমার প্রাণ, তাও লিখতে আর পারলাম কৈ।

    আমি বললে আরও বলতাম, বেশি করেই বলতাম।
    আর বলবো না, তৌহিদ ভাই সব বলে দিয়েছে।

    আমি বলব-
    হেমন্ত যেন আপনাকেই ঘিরে-
    প্রকৃতি এনেছে দ্বারে, আপনার কবিতার তরে।

    মুগ্ধতা অশেষ।

    1. প্রশংসা শুনতে খুউউউউউউউউব ভাল লাগে,
      ভাবি কবে যে আরও আরও সুন্দর করে লিখতে পারব! কিন্তু হায় যা লিখতে চাচ্ছি তা পারছি কৈ!

      আজ ও লিখলাম হেমন্ত কে নিয়ে।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।