মূল লেখায় যান

সৎ ( আত্ম–উন্নয়ন মূলক গল্প )

উর্বশীছোটগল্প২০টি মন্তব্য

একজন শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান লোক ছিল।তবে  সে খুবই গরীব , কিন্তু সৎ  ছিল এটাই বড় কথা। একদিন এক ধনী ব্যবসায়ীর কাছে গেল।  এবং একটি চাকরির জন্য আবেদন জানাল। চাকরির যোগ্যতা থাকাতে সে  অনায়াসে তা পেয়েও গেল।

অল্প দিনের মধ্যেই তার সততা ও বিনয় দিয়ে  ব্যবসায়ীর মন জয় করে নিল। ব্যবসায়ী  তাকে থাকার জন্য তার নিজের বাড়িতে আলাদা একটি কামড়া দিলেন। ধীরে ধীরে  সে উন্নতি করতে থাকল।এবং সততার মাধ্যমে নিজেকে সফলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে গেল।

অনেক দিন পর ব্যবসায়ী খেয়াল করলেন যে, লোকটি  প্রতিদিন দুপুরের ছুটিতে তার ঘরে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দেয়।তার সন্দেহ হলো, তিনি ভাবলেন, লোকটি নিশ্চয় টাকা — পয়সা  চুরি করে।  আর ঘরের দরজা   বন্ধ করে কোথাও লুকিয়ে রাখে।

তিনি লোকটির উপর কড়া নজর রাখতে শুরু করেন।  কিন্তু কোনও দোষ ধরতে পারলেন না। শেষে অধৈর্য হয়ে  একদিন  লোকটি যখন দরজা বন্ধ করেছে,আর তখন ই  ব্যবসায়ী  বলে উঠলেন ” দরজা খোলো ”

লোকটি দরজা খুলে দিল। আর মালিকের সামনে হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে  থাকল। ব্যবসায়ীর চোখ পড়ল লোকটির কামড়ায় থাকা  একটি পুরানো বাক্সের উপর, যাতে  একটি  ছোট্র তালা  লাগানো আছে।

তিনি হুংকার দিয়ে  বললেন  ” তালা খোল ” লোকটি অত্যন্ত  লজ্জা ও বিনয়ের সাথে বলল,হুজুর বাক্সে কিছু নেই।  দয়া করে আমাকে লজ্জা  দেবেন না।

জবাব শুনে ব্যবসায়ীর  সন্দেহ আরও  দৃঢ হলো। তিনি মোচড় দিয়ে তালা তালাটি ভেঙে ফেললেন। বাক্স খুলে দেখলেন, তার ভিতরে রয়েছে একটি নোংড়া পাঞ্জাবী ও একট পুরানো লুংগি। আর একজোড়া  ফিতে ছেঁড়া  রাবারের স্যান্ডেল।

ব্যবসায়ীর দু,চোখ কপালে উঠল।  তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এসব কি?  ছেঁড়া স্যান্ডেল বাক্সে কেন?

লোকটি হাতজোড় করে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলল, হুজুর,আমি তো আগেই বলেছিলাম,আমাকে লজ্জা দেবেন না। এটা হচ্ছে আমার সেই জামা ও স্যান্ডেল, যা পরে আমি  প্রথম  আপনার কাজে যোগ দিয়েছিলাম।

প্রতিদিন অবসরে  আমি এসব দেখি  দরজা বন্ধ করে। আর আমার অতীত কে স্মরণ করি। আজ তো আমি আল্লাহ পাকের  দয়ায় ও আপনার  সহযোগিতায়,ভালই আছি। কিন্তু একদিন আমি এরকম ছিলাম না।

সেই সময় আমি কি রকম ছিলাম,তা মনে করার জন্যই প্রতিদিনি লুকিয়ে লুকিয়ে এসব দেখি। আর তা দেখে পরম করুনাময়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। আর আপনার জন্য দোয়া করি।

  1. লোকটির লথা শুনে ব্যবসায়ীর  লজ্জায় চোখ– মুখ লাল হয়ে গেল। তিনি দুহাতে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। তার কাছে ক্ষমা চাইলেন। দুজনার  চোখের কোণ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।
মোট পড়েছেনঃ ১০৭৯জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

২০টি মন্তব্য

    1. ছাইরাছ হেলাল ভাইয়া,
      সহমত পোষণ করছি। আমাদের মানষিকতা তৈরি করতে নারাজ। নতুনদের ভীরে পুরানোকে একদম ভুলে যাই।
      আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। ভাল থাকুন,শুভ কামনা সব সময়।

  1. অনেক সুন্দর একটি শিক্ষনীয় গল্প। মানুষ উপরে উঠলে তার অতীত ভুলে যায়, নিচের দিকে ফিরে দেখে না যেটা কাম্য হতে পারে না। অতীতকে অস্বীকার করা মানে নিজের অস্তিত্ব কে অস্বীকার করা । শুভ কামনা রইলো

  2. আমরা ভুলে যাই একদিন তালপাতায়ও হাতেখড়ি হতো। ভুলে গেছি কাঠপেন্সিলের লেখা ঘসে তুলে তারওপরেও কাগজ বাঁচাবার জন্য লিখেছি নতুন লেখা…… আমরা কি আসলেই কিছু মনে রাখি?

    সবার মধ্যে জাগরুক হোক অতীতের ফেলে আসা দুর্দিন। আজকের বর্তমান যেন অহংকারে তালাবদ্ধ না হয়। শিক্ষাটা খুব প্রয়োজন।
    শুভ কামনা।

    1. বন্যা লিপি আপু,
      আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। সুন্দর সাবলীল ভাবে অতীতের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে এলেন মন্তব্যে। যুগের সাথে তাল মিলাতে বা নতুনদের ভীরে পুরানোকে একদম ভুলে যাই। আসলেই আমরা কিছুই মনে রাখিনা। সকলের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।অফুরান শুভ কামনা।

  3. বাহ্ শিক্ষনীয় বিষয়।আমরা তো কতকিছুই দেখি আসলে কি বদলাই।
    ফলবান গাছের মাথা নিচের দিকেই থাকে॥আর আমরা শেকড়ের হিসাব ভুলে যাই।
    ভালো লাগলো। শুভ কামনা।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।