মূল লেখায় যান

সোনেলায় আমার পথচলা-

শবনম মোস্তারীএকান্ত অনুভূতি, সোনেলা বার্তা৩৮টি মন্তব্য

সেপ্টেম্বর, সোনেলার জন্মমাস। এ এক অনন্য অনুভূতি। লেখালিখির জন্য আমার এবং সবার প্রিয় এই উঠোনকে নিয়ে নিজের কিছু অনুভূতি পাঠকদের সাথে শেয়ার করার দায়িত্ববোধ থেকেই আজকের এই লেখা। বাংলা অনেক ব্লগসাইট আমি দেখেছি, তবে সত্যি কথা বলতে সোনেলার মত জনপ্রিয় ব্লগসাইট আমার ইদানিংকালে খুব একটা চোখে পড়েনি।

সোনেলায় আমার পথচলা খুব বেশি দিনের নয়। লেখক হিসেবে সোনেলায় আমারও একটি আইডি থাকবে এই বাসনা মনে পুষে রেখেছিলাম বেশ কিছুদিন ধরে। এরইমাঝে একদিন আমাদের প্রিয় ব্লগার সাবিনা আপু সোনেলার ফেসবুক গ্রুপ পেজের একটি পোস্টের মন্তব্যে সোনেলা ব্লগে আইডি খোলার জন্য প্রথম আমাকে বলেন। ব্যস, আমার সেই বাসনা যেন আরও তীব্র হয়ে উঠলো। সেই সময় আমার নিজের পড়াশুনার প্রচন্ড ব্যস্ততা চলছিল। আমি ব্লগার তৌহিদকে বলি ব্লগে আমার নিজের আইডি খুলে দেয়ার জন্য। উনি জিসান দাদার সঙ্গে আলোচনা করে এ বছরের মার্চ মাসের ২৮ তারিখে আমাকে নিয়ে এসেছেন এই সোনেলার উঠোনে। আইডি খুলে দেয়ার শুরুতে পাসওয়ার্ড জটিলতার কারণে বেশ কিছুদিন ব্লগে আসতে পারেনি সেসময়। পরবর্তীতে জিসান ভাই আমার আইডি নিয়ে সেই পাসওয়ার্ড জটিলতা নিজের শত ব্যস্ততার মাঝেও অনেক কষ্ট করে সমাধান করেছেন। এজন্য জিসান ভাইয়ের কাছে সত্যিই কৃতজ্ঞ।

এরপর ব্লগের টুকিটাকি বিষয়গুলি আমি শিখতে শুরু করি। তখন থেকেই শুরু হলো সোনেলায় পথ চলা। আমার পড়াশুনার ব্যস্ততার ফাঁকেফাঁকে প্রথম থেকেই ব্লগের অন্যান্য লেখকদের লেখাগুলি পড়তে থাকি এবং মাঝেমধ্যে মন্তব্য করতে থাকি। লেখকদের লেখাগুলি পড়ি আর অবাক হই, সবাই কত সুন্দর লিখেন! প্রতিটি লেখাই যেন আপন মহিমায় উদ্ভাসিত। সেসময় হঠাৎ করেই সোনেলায় কিছুটা প্রতিকূলতা চলে আসে। সোনেলার অক্ষুণ্ণ সুনামকে চিরতরে মুছে ফেলতে কিছু মানুষ উঠেপড়ে লাগে। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে বিভিন্ন রকম তথ্য পাচ্ছিলাম কিন্তু আমি সেগুলোতে বিশ্বাস করিনি। কারণ এই ব্লগের অনেক মানুষের সঙ্গে ফেসবুকে আগে থেকেই আমার পরিচয়। ফলে তাদের সম্পর্কে আমি কিছুটা হলেও জানি বলেই এসব বিষয়কে পাত্তা দেইনি সেইসময়।

যাইহোক, প্রতিকূলতা থাকবেই। প্রতিকূলতা জয় করেই সামনে এগিয়ে যেতে হয় আর তাই হয়েছে। সোনেলাকে যারা মনেপ্রাণে ভালোবাসেন তাদের সহায়তায় সোনেলা ঠিকই নিজের গতিতে এগিয়ে যেতে থাকে বীরদর্পে। আমি চোখের সামনেই দেখেছি একজন মানুষকে যিনি নাওয়া খাওয়া ভুলে কিভাবে রাতদিন লেগেছিল সোনেলার সকল প্রতিবন্ধকতা ঠেকাতে। তার নাম বলার দরকার আছে কি? তার সাথে এবং পাশে ছিলেন বড়ভাইসম শ্রদ্ধেয় ইঞ্জা দাদা। সত্যিই বলছি, আমার নিজেরই চরম বিরক্তিকর লাগছিলো- জগৎসংসার পরিবার সব ভুলে এদের দু’জনার সেসময়কার সেসব কর্মকাণ্ড দেখে। কিন্তু কিছু বলতামনা কারন আমি জানতাম ইঞ্জা দাদা আর তিনি সঠিক কাজটিই করছিলেন সে সময়। আমার উনি এখনো যেভাবে ব্লগে সময় দেন মনে হচ্ছে জগতে সোনেলা ছাড়া আর কিছু নেই। নিজের সন্তানকেও মানুষ সারাদিনে এতবার কোলে নেয়না যতবার তিনি সোনেলাকে নিয়ে আমার সাথে আলোচনা করেন।

সোনেলা নিজের সুনাম নিয়ে এগিয়ে চলেছে এবং পাঠকদের অন্যতম ভালোবাসার একটি ব্লগে পরিণত হয়েছে। পড়াশুনার ব্যস্ততার কারণেই সোনেলায় হয়তো খুব একটা লেখা হয়না। কিন্তু আমি সবার প্রতিটি লেখাই মনোযোগ দিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ি এবং মন্তব্য করার চেষ্টা করি। নিজের এই ব্যস্ততাটুকু কমলে আশাকরি সোনেলায় নিয়মিত লেখালেখি করতে পারব।

নিজে সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করার কারণে লেখালেখির প্রতি একটা আজন্ম টান অনুভব করি সবসময়। নিজে সময় পেলে টুকটাক লেখালেখি করি কিন্তু সোনেলার লেখকদের লেখাগুলো পড়ে যেন অনেক কিছু শিখছি এবং নিজের লেখাকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারছি। এই ব্লগের সবার আন্তরিকতায় এবং ভালোবাসায় সত্যিই আমি মুগ্ধ।

পরিশেষে একটি কথাই বলবো- লেখালেখির জন্য সোনেলা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে এসে লেখকদের লেখার গতি রেলগাড়ির গতির মতো ছুটে চলে দূর্বার গতিতে। সোনেলা ব্লগ তার আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হতে থাকুক যুগ-যুগান্তরে। সোনেলাকে যদি মা বলি তাহলে আমরা সবাই তার সন্তান। প্রিয় সোনেলা, তোমার গুনী সন্তান-সন্ততি আর নাতিপুতিদের নিয়ে এগিয়ে চলো ভালোবাসার অটুট বন্ধনে। তোমার পথ চলা হোক নিষ্কণ্টক এই প্রার্থনাই থাকবে চিরকাল।

নিত্যনতুন সব লেখকদের সমাগমে ভরে উঠুক সোনেলার উঠোন। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ুক সোনেলা নামের জয়ধ্বনি।

প্রিয় সোনেলা-

” শুভ হোক জন্ম মাস
       তুমি হাজার বর্ষী হও “

মোট পড়েছেনঃ ২০৮৪জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

৩৮টি মন্তব্য

  1. ধন্যবাদ প্রিয় আপু, সোনেলাকে নিয়ে আপনার একান্ত অনুভূতি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য, সত্য বলতে কি সেই প্রতিকূল অবস্থায় আমার প্রিয় ভাইটি এবং মনির ভাই ছাড়া আর কারো সাথেই ডিসকাস করার মতো সাহস ছিলো না, ভাইটি এবং মনির ভাই শেষ পর্যন্ত পর্বতসম সময় দিয়েছে এবং দিচ্ছে এই সোনেলাকে, ধন্যবাদ আপনাকেও আপু, আপনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাপোর্টের জন্য, আপনার এই সাপোর্ট সোনেলা সব সময় সরণ করবে।
    সুন্দর লেখাটির জন্য আবারও ধন্যবাদ আপু।

    1. ধন্যবাদ দাদা। আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
      আমি জানি দাদা, আপনাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা। এভাবেই সবার সহযোগিতায় সোনেলার উঠোন আজীবন ভরে থাকবে।

  2. আপনি সাহিত্যের, এটি জেনে আনন্দিত হচ্ছি।
    ঝড়ো বৃষ্টিতে একটু হলেও আড়াল আমাদের লাগেই, আর সেই আড়ালের কাছে আমাদের
    এক-বুক কৃতজ্ঞতা, যা জানা-অজানাতে সহসা জানান দিতেই থাকে।
    অনেক ধন্যবাদ, ত্যাগ স্বীকারের সঙ্গী হওয়ার জন্য।

  3. সত্যিই সোনেলা এবং আমরা ভাগ্যবান তৌহিদ ভাইটি,ইঞ্জা ভাইজান,সাবিনা আপু মানে আমার কিন্তু বড় আফা এবং আপনার মত এ ব্লগটির প্রতি একনিষ্ঠ ব্লগার পেয়েছিলাম। যতটুকু জানি তৌহিদ ভাই বাথরুমে গেলেও সোনেলাকে সঙ্গেই নিয়ে যেতেন। তাদের সবার জন্য আমার অফুরন্ত ভালবাসা আছে এবং থাকবে।তারা ছিলো বলে সোনেলার ঘন অন্ধকার আকাশে জ তারাঁদের মেলা। আমরা যেন এ ভাবেই সকল প্রতিকূলতা কাটিয়ে এক সাথে সোনেলায় পথ চলতে পারি সেই দোয়াই করবেন।

    লেখাটি স্টিকির অনুরোধ করছি। খুব চমৎকার ভাবে পোষ্টের প্রতিটি বাক্যই বিস্তৃত হয়েছে।অসংখ্য ধন্যবাদ আপুকে।

  4. সুন্দর সাবলীলভাবে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করলেন দেখে সত্যিই ভালো লাগছে। এভাবেই পাশে থাকবেন আমাদের। সোনেলা আপনাকে পেয়ে আনন্দিত।

    লেখালিখি চালু রাখুন। শুভকামনা রইলো। 🌹

  5. অত্যন্ত গুছানো এবং আবেগময় একটি স্মৃতিচারণ পড়ে মুগ্ধ হলাম আপু।
    সোনেলাকে কতটা ভালোবাসেন এই লেখা পড়লেই অনুধাবন করা যায়।
    সোনেলার জন্য তৌহিদ ভাইয়ের ব্যাকুলতা, আপনার মানসিক সমর্থন ভাইকে শক্তি জুগিয়েছে।
    আপনি নিজের বিবেক, যুক্তি দিয়ে বুঝেছেন কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যে।

    আপনার প্রতি অনেক অনেক শুভেচ্ছা আর কৃতজ্ঞতা।
    সোনেলা সমৃদ্ধ হোক আপনার লেখনিতে।

    পোষ্ট খুবই ভালো হয়েছে।

  6. অনুভূতির চমৎকার প্রকাশ। আমার ছোট বোনটি যে সাহিত্যের ছাত্রী, জানতাম না তো! ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই অনেক সুন্দর সুন্দর লেখা পাবো। ভালো থাকবেন সবসময়। অনেক ভালোবাসা আপনাকে আর সোনেলাকে।

    1. ধন্যবাদ আপু।💜
      😁 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স করেছি আপু। এখন আইন পড়ছি।
      লেখা -লেখি কেবল শিখছি আপু।
      দোয়া করবেন।

  7. অনেক অনেক ফুলের শুভেচ্ছা আর অভিনন্দন শবনম। তুমি দেখতে যেমন শান্ত স্নিগ্ধ সুন্দর, তেমনি তোমার অনুভূতির প্রকাশটাও হৃদয়-ছোঁয়া। সোনেলাকে মনের মাঝে ধারণ করে নিলেই কেবল এভাবে লেখা যায়, বলা যায়।

    আমাদের সবার ভালোবাসায় সাফল্যের চুঁড়ায় পৌছে যাবে সোনেলা।

    অনেক শুভ কামনা আর ভালোবাসা নিও। ভালো থেকো সারাক্ষন। ❤❤🌹🌹

    1. অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু।💜
      আপনার হাত ধরেই সোনেলায় আগমন।💜
      নিয়মিত হয়তো লিখিনা, কিন্তু সবসময় সোনেলার পাশেই আছি। আপানাদের ভালোবাসায় আমি আরো অনুপ্রানিত হই।😊
      শুভেচ্ছা জানবেন আপু।

  8. আপু আপনি আমাদের একান্নবর্তী সাবজেক্ট বাংলার পূর্ব বংশধর। মাঝে মাঝে আমাকে বাংলা সম্পর্ক আর সাহিত্য চর্চা সম্পর্কে টিপস দিবেন বিনামূল্যে , সোনেলার জন্মমাসে আমার এটা বলা।

    সাহিত্যের ছাত্র হিসেবে সাহিত্যের আপুর লেখায় মন্তব্য করার কিছু থাকে না, শুধু টিপস দিয়েন আমাকে তাতেই আমি খুশি থাকবো।

  9. সাহিত্যের ছাত্রী’র কাছ থেকে বেশি বেশি সাহিত্যপূর্ণ লেখা আশা করি।সাবলীল উপস্থাপনায় ফুটিয়ে তুলেছেন একান্ত অনুভূতি।
    আমরা সোনেলার পরিবার বর্গ ভাবতেই ভালো লাগায় ভরে ওঠে মন। শুভ কামনা সবসময়।

  10. পরিশেষে একটি কথাই বলবো- লেখালেখির জন্য সোনেলা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে এসে লেখকদের লেখার গতি রেলগাড়ির গতির মতো ছুটে চলে দূর্বার গতিতে। সোনেলা ব্লগ তার আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হতে থাকুক যুগ-যুগান্তরে। সোনেলাকে যদি মা বলি তাহলে আমরা সবাই তার সন্তান। প্রিয় সোনেলা, তোমার গুনী সন্তান-সন্ততি আর নাতিপুতিদের নিয়ে এগিয়ে চলো ভালোবাসার অটুট বন্ধনে- শেষের এই কথা গুলো হৃদয় ছুঁয়ে গেলো।