মূল লেখায় যান

শুনতে পাও এখন; সোনেলা

নাজমুল হুদাসোনেলা বার্তা৪১টি মন্তব্য

কবিতা: ২৫ শে মে; আঁকড়ে ধরা শিখেছি
__নাজমুল হুদা

২৫ শে মে মধ্যদুপুরে
তুমুল আর্কষণে টেনে নিয়ে গেছিলো আমাকে
সাবলীলভাবে; তোমাকে ধারণ করে কারো বাক্য।

সেদিন থেকে আস্তে আস্তে ঝুঁকে গেছি ভারসাম্যতায়
অনুভব করি ঘাস ফড়িংয়ের মতো তোমায়
কনকনে ভোরের আলোয় শিশির ধোঁয়া ঘাসে।

যেমন কেউ প্রেমিক সেজে প্রেমিকার হাত ধরে
শামুকের মতো; ভারী বৃষ্টিতে আঁকড়ে নেয় মাটির বুক

সেই আমিও আঁকড়ে ধরা শিখেছি ২৫ শে মে তপ্ত দুপুরে;

তারপর তোমার ফুসফুসে-
দেখেছি কত শত শালিক বকের উড়োউড়ি
দেখেছি বোনের আগলে রাখার পরশ পাথর
দেখেছি ভাইয়ের হাতে স্ফুলিঙ্গ মহানুভবতা

২৫ শে মে হাতে হাত রাখার সূচনা হলেও
কত তারিখহীন বেসামাল ডুবে গেছি তোমার উঠোনে

তখনেই শুনতে পেয়েছি আমার প্রিয় কারো চোখে
তোমাকে ছিঁড়ে খাওয়ার গল্প-
শুনতে পাই শকুনের মুখোশবাদী খামখেয়ালি
শুনতে পাই শব্দে শব্দে উত্তেজনার জোনাকি
শুনতে পাই হার না মানা তুমি সেই কত মহীয়সী।

অতঃপর, সেই ২৫ শে মে আমি
কবিতার মতোই কিশোরী তোমার হাত পুষেছি বলে
শুনতে পাও এখন; সোনেলা ভালোবাসি.. ভালোবাসি!

রচনা: ৩রা সেপ্টেম্বর ২০১৯
নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ।

সোনেলার জন্ম মাস উপলক্ষে কবিতাটি উৎসর্গ করলাম সোনেলাকে। এই কবিতার চিত্রকল্প পুরোপুরি বুঝতে হলে আপনাকে ।আমাকে তুলে ধরতে হবে সোনেলাকে নিয়ে নিজের কিছু একান্ত কথা।

২৫ শে মে ২০১৯ সাল সেদিন সোনেলায় আমার পূর্ণ আগমন ঘটে । পূর্ণ আগমন বললাম এইজন্য কারণ সোনেলার আগমন ঘটে আমার ভিতর আরো অনেক আগেই‌।

সেই প্রেক্ষাপট জানতে হলে ফিরে তাকাতে হবে পিছনের সময়ে। স্মৃতিচারণ করতে হবে কিছু গুণী মানুষের অবদানের কথা। আমি ফেইসবুক এ্যাকাউন্ট খোলা এবং চালানো শিখি ২০১৪ সালের এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর। এখন যেমন ছোট ছোট বাচ্চাদের হাতে স্মার্টফোন পাওয়া যায় তখন সেই সময়টায় বাটন ফোন ছাড়া স্মার্টফোন ছিলো মধ্যবিত্ত সচেতন পরিবারের সন্তানদের জন্য কল্পনাতীত বিলাসবহুল বস্তু।

এরপর থেকে ফেইসবুকে আমার অবাধ বিচরণ শুরু হয় ছন্দ ছন্দে কথা সাজিয়ে পোস্ট করা । এভাবেই ছন্দে ছন্দে কিছু মানুষের মনে জায়গায় করে নেই যেগুলোকে তারা কবিতা বললেও আমি মুখ ফুটে কবিতা বলতে ভয় পেতাম। ফেইসবুকে এভাবেই বন্ধু তালিকা বাড়তে থাকে আর পরিচিতিও বাড়তে থাকে । একদিন যুক্ত হই কোনো এক ভাগ্যচক্রে ”মা মাটির মানুষ” নামের সাহিত্য গ্রুপটিতে । সেখানে মাঝে মাঝে নিজের লেখা পোস্ট করার আর অন্যের লেখায় মন্তব্য করার মধ্যে দিয়ে চোখে আসে শ্রদ্ধেয় মনির হোসেন মমি ভাইয়ার নামটি । দেখি মা মাটি মানুষ গ্রুপ থেকে ভাইয়া আমার লেখা “তারুণ্যের জমজকন্যা” কবিতাটি শেয়ার করেন উনার টাইম লাইনে। ভাইয়ার টাইমলাইন ঘুরতে ঘুরতে বিভিন্ন পোস্টে লিংকে দেখতাম সোনেলা নামটি। তখন থেকেই সোনেলার আমার ভিতরে আগমন ঘটে। মনে মনে ভাবতাম আমি যদি এখানে লিখতে পারতাম। তখনও সোনেলার ভিতরে ঢুকতে পারি নাই ।

আরো কিছু সময় পেরিয়ে যায় । আরেকটি নাম চোখের সামনে ঘুরপাক খায় যিনি হলেন শ্রদ্ধেয় তৌহিদুল ইসলাম ভাইয়া। ভাইয়াকে ফেইসবুকে দেখে এবং পোস্ট পড়ে রাগী ভাইয়া মনে করতাম । হয়ত ভাবছেন ভালো মনের একজন মানুষকে হঠাৎ রাগী কেন বললাম। সেটার জন্য আপনাকে আরেকটু মনোযোগ দিয়ে সামনে যেতে হবে।

হঠাৎ একদিন ভাইয়ার একটার মেসেজ আসলো মেসেঞ্জারে।
– সোনেলা ব্লগে ব্লগারদের লেখাগুলি যাতে আপনি পড়তে পারেন সেইজন্য সোনেলা গ্রুপ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সোনেলার গ্রুপ ইনভাইটেশন সাদরে গ্রহণ করে পাশেই থাকুন । আপনিও হতে পারেন একজন ভবিষ্যত ব্লগার।
– ধন্যবাদ ভাই
-দাদা গ্রুপে এ্যাড হবেন কিন্তু।
– রিকুয়েস্ট দিয়েছি
-ওকে

তারপর সেদিনেই নিবন্ধন করে সোনেলার ভিতরে আমার পূর্ণ আগমন ঘটে। পোস্ট করি ব্লগে প্রথমেই- “অপ্সরীর ঘুমোপখ্যান” নামক আমার কবিতাটি । এরপর মন্তব্যে মন্তব্যে সবার সাথে পরিচয় আর আপন করে নেওয়ার অধ্যায় শুরু । সোনেলা তখন হয়ে উঠে আপন একজন কেউ । সেই লেখায় প্রথম ব্লগার সাবিনা ইয়াসমিন আপু মন্তব্যে বুঝতে পারি ব্লগের আপুরা কত স্নেহের সহিত আপন করে নেন সোনেলার সদস্যদের ।

হঠাৎ একদিন তৌহিদ ভাইয়া মেসেঞ্জারে কল দেন । নয় মিনিট কথা হয় । কথায়  কথায় সেদিন ভাইয়াকে বলি,

– ভাইয়া আপনাকে কিন্তু আমার অনেক রাগী মনে হয়।

ভাইয়াও বলেন ,

– হ্যাঁ আমি অনেক রাগী। কিন্তু ভাইয়া আমাকে বারবার আপনি আপনি বলে ডাকাতে লজ্জায় আর হাসতে পারলাম না । বললাম, ভাইয়া আমাকে তুমি করে বলবেন । কিন্তু আজও ভাইয়া আমাকে তুমি করে বলে না।

দূভার্গ্যবশত সোনেলা থেকে আমাকে টানতে নতুন ব্লগ লিংক আসে ইনবক্সে। মলম পার্টির মতো টেনে নেয় সেই ব্লগে তারপর সেখানে একটা কবিতা পোস্ট করি এবং লিংক শেয়ার করি । আমি তখন জানতাম না যে সেই মলম পার্টির বিজ্ঞ মশাই সোনেলা বিতাড়িত চক্রান্তকারীদের কেউ একজন। তখন ভাইয়া সেদিন  নয় মিনিট আমাকে উৎসাহ দেন ও মলম পার্টি থেকে সর্তকতা থাকার জন্য সর্তকতা করে দেন। জিসান ভাইয়া, সাবিনা আপুও ইনবক্সে বিভিন্ন সময় উৎসাহ দেন। এবং সোনেলায় কম উপস্থিতির জরিমানাহীন স্নেহমাখা জবাবদিহিতা নেন । যা সোনেলার প্রতি আমাকে আরো আকৃষ্ট করে তুলে। যদিও পড়াশোনার জন্য তেমন সময় দিতে পারি না ।

জন্মমাস উপলক্ষে ব্লগার বীথি আপু একটি লেখায় বলেছেন,
-“সোনেলার সকল  পুত্র সন্তান কন্যা সন্তানদের ও  নাতি-নাতনি কে শুভেচ্ছা জানাই।”
আমিও সোনেলা নামটিকে একটি নারী চরিত্র মনে করি। কিন্তু আমি সোনেলার পুত্র সন্তান নই, আবার নাতিও নই। সোনেলাকে শুধু আমি আমার একটি বিশেষ নারী চরিত্র মনে করি এবং ভালোবাসি ।

এইজন্য আমার কবিতায় বলি,

”অতঃপর, সেই ২৫ শে মে আমি
কবিতার মতোই কিশোরী তোমার হাত পুষেছি বলে
শুনতে পাও এখন; সোনেলা ভালোবাসি.. ভালোবাসি!

জন্মমাসে জয় হোক সোনেলার ও সকল ব্লগারদের।

মোট পড়েছেনঃ ১৬২৮জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

৪১টি মন্তব্য

  1. ভাইয়া আপনিতো সত্যিই লেখায় ফাটাফাটিতে অবতরন করলেন। এ পর্যন্ত সোনেলায় তার জন্ম মাস এ যতগুলো লেখা এসেছে সবগুলো লেখাই এক কথায় অসাধারণ তার মধ্যে আপনার এ পোষ্টি আরো অসাধারণ লাগল। কারন আপনার এ লেখাটি মুলত কবিতায় সোনেলাকে শব্দের সূনিপণ বিন্যাসে বাক্যের সঠিক ব্যাবহারে অলঙ্করিত করেছেন যা আর কারো লেখায় তেমন একটি দেখি না। সে জন্য আপনার প্রতি রইল আমাদের সোনেলার বিশেষ ভালবাসা ও শুভ কামনা।
    আর একটি বিষয় আপনি সবাইকে মলম পার্টি ব্লগ সম্পর্কে অবগতি করেছেন।খুব ভাল লাগল শুনে,সতর্ক থাকতে হবে ঐ সব বেঈমানদের নজর হতে।

    ”অতঃপর, সেই ২৫ শে মে আমি
    কবিতার মতোই কিশোরী তোমার হাত পুষেছি বলে
    শুনতে পাও এখন; সোনেলা ভালোবাসি.. ভালোবাসি!

    এমন গভীর ভালবাসায় সোনেলার না শুনে কি আর উপায় আছে। সাথেই থাকুন।পরামর্শ দিবেন কি ভাবে সোনেলাকে আরো উন্নত এবং বিস্তৃত করা যায়। ভাল থাকবেন।

    1. এতো সুন্দর মন্তব্যে আমার কিছু বলার থাকে না শুধু ভালোবাসা জানানো ছাড়া।
      সোনেলা এবং সোনেলার টিম আমাকে ভুলে না গেলে আমি সোনেলাকে ভুলবো না।

  2. সোনেলাকে নিয়ে এমন একটি লেখা পড়ে সত্যি আপ্লুত হলাম।
    খুব অল্প সময়ের মধ্যে নাজমুল হুদা সোনেলার একজন জনপ্রিয় এবং আকাঙ্ক্ষিত ব্লগার, লেখক হয়ে উঠেছে।
    সোনেলার সবচেয়ে কম বয়সি ব্লগার সম্ভবত আপনি। নতুন এবং যুবারাই সোনেলাকে নিয়ে যাবে আরো অনেক পথ।
    সোনেলার লেখার ভান্ডার সমৃদ্ধ হচ্ছে আপনার লেখা দিয়ে।

    সোনেলায় আপনার পদচারনায় মুখরিত হোক আরো এই কামনা করি।
    সোনালের ব্লগ টিমের পক্ষ হতে আপনাকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা।
    লেখাটি অত্যন্ত ভালো হয়েছে 🙂

  3. একজন প্রকৃত কবির মতই উৎসর্গটি,
    আপনি/আপনাদের মত নিপুন যোদ্ধাদের হাত ধরেই সোনেলা এগিয়ে যাবে
    শত প্রতিকূলতার মাঝে।
    আপনি এমন বিস্তারিত না বললে অনেক কিছুই না-জানাতে থেকে যেত।
    আপনাকে ধন্যবাদ। সোনেলায় থাকুন, সোনেলার হয়েই থাকুন।

  4. সোনেলার জন্মমাসে এর থেকে ভালো লেখা আর হতে পারেনা নাজমুল ভাই। আসেন বুকে আসেন ভাইটি।☺

    আমি রাগি এটা সত্যি, তবে সবার সাথে সব জায়গায় নয়। উল্টাপাল্টা দেখলেই আমার মেজাজ গরম হয়ে যায়। তবে এখন আর রাগটাগ করিনা। আসলে সত্যি বলি সোনেলায় আসলেই আমার সারাদিনের ক্লান্তি রাগ সব দূর হয়ে যায় আপনাদের লেখা পড়ে। এই যেমন আজ ভীষণ টায়ার্ড ছিলাম। মনে হচ্ছিলো ব্লগে আজ যাবই না, কিন্তু আপনার লেখা পড়ে এতটাই আপ্লুত যে মনে হচ্ছে নাহ! কিছুক্ষণ থাকি আরও। এটাই আপনাদের প্রতি ভালোবাসা ভাই।

    মলম পার্টি!! হা হা হা!! তারা থাকুক তাদের মত। আপনি সোনেলায় নিজের শক্ত অবস্থান করে নিয়েছেন ভাই। লিখুন নিজের মতন করে।

    আজ আপনার লেখা পড়ে মনে হচ্ছে- সেদিন আপনাকে কল করে কথা বলে ভুল করিনি তাইনা? আমি আপনার সম্পর্কে যা যা বলেছিলাম দেখলেন সোনেলায় আপনাকে নিয়ে তাই ই কিন্তু বলছেন!! পাজি ছ্যাড়া, দিন মাস বছর ঘণ্টা, মিনিট সব খেয়াল রাখছস ☺☺☺

    একবুক ভালোবাসা রইলো নাজমুল। আজ আবার বললাম- সোনেলায় লেখা চালু রাখো, ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল কিন্তু।☺☺

    1. হা হা হা, ভাইয়া আরো কিছু মনে আছিলো কিন্তু বলি নাই।
      আর মলম পার্টির লিংক তো আর দেখি না , ভেনিস হয়ে গেছে নাকি ওদের কার্যক্রম?

      আর ভবিষ্যত উজ্জ্বল তো দেখি না, শুধু সংগ্রাম দেখি । কিন্তু এভাবেই পাশে থাকবেন ভাইয়া।
      রাগী মানুষ ভালো হয়, আমিও রাগী তবে যৌক্তিক রাগী ।

  5. আগে একচোট হেসে নেই, তারপর কমেন্ট করছি 😀😀..
    গরুর হাটে, ট্রেনে, বাসে, লঞ্চে, ঈদ-বাজারে, মাছ-মাজারে, মাজারে সব জায়গায় মলম-পার্টি আছে শুনেছি। পত্র-পত্রিকায়, টিভির ব্রেকিং নিউজে তাদের তাণ্ডবলীলা দেখেছি। কিন্তু….. অনলাইনে মলম-পার্টি!! এই প্রত্থম জানলাম/ শুনলাম 😂😂

    আহারে!! ভাগ্যিস তুমি পুরো জ্ঞান হারাওনি, নয়তো আমরা শোক জানানোরও সুযোগ পেতাম না। 😜

    1. বিনামূল্যে হাসানোর দাম দিতে হবে আপু 😛
      যাক তবে আমার মলম পার্টি শব্দটা মার্কেট পাইছে, চিল্লাচিল্লি করে কী আর মার্কেট পাওন যায় 😝😄

      আর কবিতাটা আমার সোনেলায় আসার পুরো প্রেক্ষাপট তুলে ধরে , যাতে কোনো হৈচৈ নাই 😄

  6. সোনেলায় এসেছি মাত্র দুদিন।
    অথচ এ দুদিনের প্রেমেই আমি মুন্ত্রমুগ্ধ।

    ভালোবাসা রইলো, প্রিয় সোনেলা এবং এখানকার প্রিয় উদার মানষিকতার মানুষ গুলোর প্রতি।

  7. সুন্দর উপস্থাপন। সোনেলা ভাংতে এসে নিজরাই ভেংে মুছড়ে চুরমার হয়ে বিতাড়িত নেট দুনিয়া থেকে। সোনেলা আপন গতিতে এগুয়ে যাবে ইন শাল্লাহ।
    আমি অনিয়মিত ফেবু থেকেও। আমাকে মনির বলার পর অনিয়মিত থেকে আবার এসেছি কিন্তু এখন পুরন নিয়মিতি হতে পারিনি।
    কারো দয়া ভিক্ষা নিয়া সোনেলাকে ভালবাসিনি তাই কারো অনুরোধে সোনেলা ছাড়বনা।
    সোনেলা অন্তরে হ্রিদয়ে গভিরে,থেকেও গভিরে।
    ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি। সোনেলাকে।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।