মূল লেখায় যান

মজুতদার যখন ভোক্তা

আতা স্বপনসমসাময়িক৮টি মন্তব্য

এক.
এই শুনছ! চাউলের দাম বাড়তেছে, কয়েকটা বস্তা কিনে রাখা দরকার সামনে রমজান।
ঠিক বলছ । ডাল তেল লবন এসবও লাগব।
লাগলে সবই কিনে আনো।
সহিহ বুজ। তবে সমস্যা হইলো পকেটতো ফাঁকা।
এত শত বুঝিনা। কেমন আনবা তুমিই জান।
ও এ্ই কথা। শুশুরের থেইকা যৌতুক বাগানের এইতো সুযোগ।

দুই.
শামিম : কই যাস?
আবুল: বাজারে যাই। কিছু আটা কিইনা রাখি। করোনা আর পংগপালের কারণে দেশে দুভিক্ষ লাগল বইল্যা।
শামিম: শুধু আটা কেন? আরো জিনিসওতো কিনা লাগব।
আবুল: আটা কিনুম হেইটা ধার দিয়া পেয়াজ নিমু-পেয়াজ ধার দিয়া তেল নিমু……….
শামিম: হইছে হইছে থাম থাম। দম ল।

তিন.
আপা আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন?
ওয়াআলাইকুম আসসালাম । ভাল আছি।
আপা আপনার বাসায় কি চাল আছে? বাজারে চাল দাম অসম্ভব বাড়তি। শুনলাম আপনারা অনেক চাল কিনে রেখেছেন। আমাকে ৫ পট চাল ধার দিবেন?
ভিতরে এসে বসেন । দিচ্ছি।

চার.
আম্মা ভিক্ষা দিবেন?
এই নে! ৫ টাকা।
টাকা লাগত না আম্মা। ৫টা পেয়াইজ দেন?

পাঁচ.
এই অফিসে যাচ্ছ ! আসার সময় বাবুর জন্য ৫টিন দুধ নিয়ে এস।
এত দুধ দিয়ে কি করবে ? বাবুকে গোসল করাবে নাকি?
আরে দুর! শুধু ফান করে। আরে দুধের দাম বেড়ে যাচ্ছে হু হু করে। কিছু কিনে রাখা দরকার।

ছয়.
নেতা: ভাইসব আমরা কান কথা শুনব না । বাজার শান্ত। আমাদের কোন জিনিস বাড়তি কিনে মজুত করার দরকার নাই। (ঠিক তখনই ফোন)
সরি, একটা ফোন…. (হ্যালো ……)
(এই বাজারে লবনের দাম বেড়ে আগুন। বাসায় লবন নাই। কি করবো ।

ফিস ফিস করে ( আরো দাম বাড়ার আগে বেশি করে কিনে রাখো )।

সাত.

দোস্ত বাজারে জিনিসের দাম বাড়তাছে হুহু কইরা। চল কিছু কিইনা রাখি বেশী কইরা।

আরে দোস্তা! এত চিন্তা করস ক্যান। আমাগো কিনা লাগবনা। কোন কিছু দরকার হইলে যারা কিইনা রাখব হেগো বাড়ীতে যাইয়া ধার কইরা লমুনে

আট.

আম্মা বাজারে হ্যাক্সাসল আর স্যাভলন এ জাতীয় কিছুই নাই। সব বিক্রি হইয়া গেছে।

সাবান নিয়া আস!

সেই চেষ্টাও করছিলাম। সাবানও নাই।

এক কাজ কর বাইরে রাস্তায় বালি আছে, নিয়া আস।  এইটা দিয়াই কাজ চালাই।

নয়.

ভাই এত জিনিস কিইনা লাভা নাই। খাইয়া যাইতে পারবেন তো? এর চেয়ে কাফনের কাপর কিনেন। কামে লাগব। করোনাতে সমানে মানুষ মরতাছে। মাস্কের দাম বাড়ছে দেখেছেন না। দেখেন কাফনের দাম বাড়ল বুঝি।

দশ.

বুয়া তোমাদের ক্ষেত্রে নাকি থানকুনি পাত আছে? আমার পেট্ অসুখ কিছু দিয়োতো?

আম্মাগো কি আর কমু ! কাইলক্যা কে জানি কইলো থানকুনি খাইয়া করনার বেবাগ ভালা হইয়া যাইতাছে। সবাই হুরাহুরি কইরা কিইনা লইয়া গেছে সব।

বল কি? কি জমানা আসলো!  এখনতো দেখছি ঘাস এ রোগ সারে বলে প্রচার করলে পাবলিক সব ঘাস খেয়ে উজার করে দিবে।

মোট পড়েছেনঃ ৬৬৭জনআজ পড়েছেনঃ ০জন
ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

৮টি মন্তব্য

  1. “বল কি? কি জমানা আসলো! এখনতো দেখছি ঘাস এ রোগ সারে বলে প্রচার করলে পাবলিক সব ঘাস খেয়ে উজার করে দিবে।”

    ঠিক তাই !
    হুজুগে বাঙালী, কানটা নিল কাকে
    কাকের পিছে দৌড়াই
    নিজের কানটা আছে কিনা
    খোঁজার সময় নাই।
    শুভ কামনা।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।

অনলাইনে ডাক্তার দেখাতে চান?