মূল লেখায় যান

নামের বিড়ম্বনা!!!

মারজানা ফেরদৌস রুবাএকান্ত অনুভূতি২৭টি মন্তব্য

বাঙালী ললনার নাম Must Begum! কেমন কেমন লাগছে না? নামের এমন ধরন দেখে কি মনে হচ্ছে? এমন উদ্ভট নাম আবার হয় নাকি? কিন্তু তাইতো হয়েছে। আমাকে Must Begum নামে কেউ একজন ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিলো। প্রথমে আমি ফেক ID ভেবে accept করিনি। পরে দেখি সে আমারই পরিচিতা !!! এ কয়দিন যে কিনা বরের ID ব্যবহার করে আমার সাথে যোগাযোগ করেছে; এবার সে নিজ নামেই Facebook ID ওপেন করেছে। তাকে আমি জলি নামেই জানতাম। গতকাল কথা বলার সময় সেই আমাকে জানালো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে, তখনই জানলাম সেই হচ্ছে Must Begum!

জানতে চাইলাম এমন নামকরনের হেতু কি? শুনালো এক ইতিহাস! ইতিহাস শুনে তো আমি হেসে লুটুপুটি। বেচারী সামান্য ভুলের কারনে আজ নিজের আকীকা দেয়া নামটা হারিয়ে Must Begum হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। আমেরিকার মাটিতে পা রাখার পর থেকে এই উদ্ভট নাম তাকে বহন করে চলতে হচ্ছে।

ঘটনার শুরু এস,এস, সি পরীক্ষার Registration Form ফিলাপের সময়। Registration Form এ নাম লেখার সংরক্ষিত ঘরগুলোর তুলনায় তার নাম বড়। কি করবে সে? এক শিক্ষক তাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে এলেন। তার নাম মোছাম্মৎ মাহমুদা বেগম। শিক্ষক তাকে পরামর্শ দিলেন মোছাম্মৎকে সংক্ষিপ্ত করে Must লিখতে। শিক্ষকের আদেশ শিরোধার্য। ছাত্রী সে কাজটিই করলো। তখনও শিক্ষক বা ছাত্রী কেউই জানতো না যে একসময় ছাত্রী আমেরিকা প্রবাসী হবে আর আমেরিকান নিয়মের বিড়ম্বনায় পড়ে আকীকা দেযা নাম মাহমুদা বেগম হারিয়ে Must Begum নাম ধারন করে তাকে দিনাতিপাত করতে হবে।

ইংরেজীতে Musammat Mahmuda Begum এর সংক্ষিপ্ত রুপ Must Mahmuda Begum আর আমেরিকার নিয়ম অনুসারে Surname হিসাবে Must Begum বলে ডাকা হয়। অনাকাঙ্খিত এই বিড়ম্বনার স্বীকার হয়ে তার অনুযোগের শেষ নেই। এহেন এই ঘটনাটির দায় সে কারু উপড় দিতে না চাইলেও চেনা জগতের সকল অভিবাবকদের প্রতি তার পরামর্শ তাদের সন্তানদের ক্ষেত্রে যেনো এমনটি না ঘটে, যেহেতু একবার Registration হয়ে যাওয়ার পর নাম পাল্টানোতে অনেক আইনি জটিলতা পোহাতে হয়, আর সমযসাপেক্ষ ব্যাপারও বটে।

সুতরাং মা-বাবাদের প্রতি অনুরোধ যেকোন কাগজপত্র ফিলাপের সময় বাচ্চাদের হাতে ছেড়ে না দিয়ে নিজেরা একটু নজরদারি করুন।

মোট পড়েছেনঃ ১০৩৯জনআজ পড়েছেনঃ ০জন
ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

২৭টি মন্তব্য

  1. হা হা, আপাত দুঃখের ঘটনা হলেও নামের কারনে হাসি চাপাতে পারলাম না। 🙂
    কিন্তু মোছাম্মদ কে আমি যতদূর জানি mst লেখে, ওনার বেলায় must কেন? যদিও আমি ভুল করতে পারি। নামের কারনে কি হ্যাপা পোহাতে হয় এখানে এসে বুঝতে পারছি। ভাল পোস্ট আপু। এ ঝামেলা থেকে সবাই দূরে থাকুন।

    1. ঘটনা তো এখানেই। mst কে ‘must’ লিখেই তো সে এই বিড়ম্বনায় পড়েছে।
      বেচারির অনুরোধই ছিলো আমি যেনো বিষয়টা নিয়ে লিখি। আর কারো যেনো এমনন প্রবলেম না হয়।

    1. আমি নিজেই তো শুনার পর অকে টেলিফোন লাইনে রেখেই হাসতে হাসতে শেষ।
      হ্যাঁ, রেজিষ্ট্রেশনের সময় গার্ডিয়ানদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত।
      সেজন্যেই তো এই বিষয়টা তুলে ধরা।

  2. এ দেশে নাম-বিভ্রাট যে কি, সে তো আমি জানি। আমি নীলা ইংরেজিতে লিখি Nila. ওরা একে বলে নায়লা, আর পুরো নাম। আমার ছেলের নাম নভোনীল তীর্থ। ওকে ডাকে নাভোনীল। আর তীর্থ তো টিটো। যাক সেসব। সত্যি খারাপ লাগছে। কিন্তু মিথ্যে বলবো না অনেক হাসিও পাচ্ছে। :D)

    1. ভদ্রমহিলা কতোটুকু সচেতন একবার ভাবুন, নিজে যে জন্যে সাফার করছে আর কেউ যেনো এমন পরিস্থিতির শিকার না হয়, সেজন্যে ব্যাপারটা লেখালেখির মাধ্যমে সকলকে জানানোর অনুরোধ করেছে।
      অবশ্যই সেজন্যে তাঁর ধন্যবাদ পাওয়া উচিত।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।

অনলাইনে ডাক্তার দেখাতে চান?