মূল লেখায় যান

তুমি ও তোমরা (ম্যাগাজিন)

আসিফ ইকবালকবিতা১৬টি মন্তব্য

রচনাকালঃ ১লা বৈশাখ, ১৪২৬


একদিন যাকে হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যেত

আজ তাকে এক ঝলক দেখাও কত কঠিন!

মানুষের-ও পাখা আছে, উড়ে যায় চিহ্নহীন।

 

এভাবেই দিন, মাস, বছরগুলো ক্ষয়ে যায়-

ঝরে যায় শুকনো পাতার মতো দিনদিন।

হাতের ভেতরে ঘাম জমে ওঠে আরেকটি হাতের অপেক্ষায়!

চৈত্র সংক্রান্তি ঘুরে বৈশাখ আসে, বৈশাখ চলে যায় বারবার

প্রতিবার আগুনের অমিতাভ ডালি সাজায় পলাশ আর শিমুল-

প্রতিবার কালবৈশাখী শেষে ঝরে যায় সেই আগুনের ফুল

প্রিয় নারীর কোলের উষ্নতার প্রতীক্ষায়-

বয়স বাড়ে হুতুম প্যাঁচা আর শংখচিলের।

যেই পথে তুমি হেঁটে চলে গেছ একদিন

সেই পথে তোমার শরীরের রমণীয় ঘ্রাণ

খুঁজে ফেরে দিশেহারা বিষণ্ণ কোকিল।

যেই লালসাদা শাড়ি বহ্নিশিখার মত জড়িয়ে ছিল

তোমার অলৌকিক নারকোল শাঁস তনুলতা-

যেই রক্তিম ব্লাউসে ঢাকা ছিল তোমার উদ্ধত স্তন-

সেই শাড়ীতে, রক্তিম ব্লাউসে জমা হয় যুগান্তের ধূলো

মাকড়সার জাল, ন্যাপথালিনের কড়া গন্ধের ভেতরে

তারা পড়ে থাকে তোমার শরীর থেকে ঝরে পড়া

শুকিয়ে যাওয়া স্বেদবিন্দুর স্মৃতির লবণ বুকে নিয়ে।

 

এদিকে সোনা, ডলার, আইফোন আর জাগুয়ারের

প্লাস্টিক উত্তাপে, গুচ্চির চাকচিক্যে তুমি গলে যাও

তুমি তুষারিত হয়ে রও- উত্তর অক্ষাংশে।

আগুনের দিন ছেড়ে দিয়ে, ঠোঁটের ওপর গড়িয়ে আসা

এক বিস্তীর্ণ দগ্ধ দুপুরের ঘামের লবনাক্ত স্বাদ ছেড়ে দিয়ে

নিউ মার্কেটের খাবার দোকান, পলাশীর মোড়, মধুর ক্যান্টিন,

দক্ষিণ সমুদ্রের ঢেউ, বেলাভুমির অলোকসামান্য আলোক ছেড়ে গিয়ে-

ভৌতিক মেরুপ্রভার সবুজ আলোর দিকে বিস্ফারিত চেয়ে থেকে

নিঃসঙ্গ মৎস্য কুমারীর মতো দুগ্ধসরণির শরীরে তোমার

স্তরে স্তরে জমে ওঠে বোকা এপ্রিল দিনের বরফ আর তুষার।

মোট পড়েছেনঃ ১০৩২জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

১৬টি মন্তব্য

  1. কিভাবে লেখেন ! কারো অপেক্ষায় থেকে যদি এমন লেখা চলে আসে, তবে অপেক্ষাই উত্তম। নিজের যা হয় হোক, পাঠক বিদগ্ধ কবিতার স্বাদ পেয়ে নড়েচড়ে বসবে।

    আসিফ, সত্যি বলতে আপনাকে কবিতাতেই চেনা যায়। কবিতায় আপনি নিজেকে সবটুকু উজাড় করে দেন। তারপরেও কবিতায় কেন যে কম থাকেন, বুঝিনা।

    সবটুকুই ভালো লেগেছে, তাই কোনো লাইন আলাদা করলাম না। থাকুক, লাইনগুলো একসাথে এক অনন্য কবিতা হয়ে। শুভ কামনা। 🌹🌹

    1. সাবিনা, দীর্ঘ মন্তব্যটির জন্যে অনেক ধন্যবাদ। প্রাণিত হলাম। এটা ঠিক বলেছেন, কবিতাতেই নিজেকে মেলে ধরতে পারি অসংকোচে। কবিতাই আমার আত্মপ্রকাশের সত্যিকার মাধ্যম। কিন্তু, আসলে সবসময় হয়ে ওঠে না, কাব্যলক্ষী মাঝে মাঝে কানামাছি খেলেন- হয়ত পূজার যে ফুল তাঁর প্রাপ্য সবসময় সে ফুল দেয়া হয়ে ওঠেনা, তাই তিনি অভিমান করেন। তবে আন্তরিক ভালবাসায় তিনি ধরা দেন, একান্ত আপন হয়ে।

      ভাল থাকবেন। এই রকম মন্তব্য পেলে মনটা ভাল হয়ে যায়। লেখার উৎসাহ আসে।

  2. এ যেন আমারই মনের কথা,
    অনেক ভালো লাগলো আসিফ।

    আমি বাদেও অনেক লেখক কিন্তু এখানে আছে, আপনার মন্তব্যে পেলে তারা লেখায় উৎসাহিত হবে নিশ্চিত।
    শুভ কামনা।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।