আম (ম্যাগাজিন)
কাওরান(কারওয়ান) বাজারে গিয়েছি। একটা ছোট ফ্যান কিনবো। দোতলার “ইলেকট্রিক মার্কেটে” উঠে কিনে ফেললাম ৩৬” একখানা City Fantasy Fan. নীচে নেমে মোটর সাইকেলের একপাশে বাক্সসহ কষে বেঁধে অল্পকিছু দূর আসতেই মনে পড়ল আম্মা তেঁতুল নিতে বলেছে। রাস্তার পাশেই বসে বিক্রি করছিল। কিন্তু খোসাসহ তেঁতুল নেবো না ছেলা তেঁতুল নেবো সেটা বুঝতে পারছিলাম না। তাই আম্মাকে ফোন করে জেনে নিলাম। খোসাসহ তেঁতুল-ই নিতে হবে।
১২০ টাকা কেজি। একদাম। ভাল কথা, বললাম এক কেজি দিতে। এরমধ্যে দেখি পায়ের হাঁটুর কাছে কে যেন নরম হাতে টুকটুক করে আলতো ভাবে বাড়ি মেরেই চলেছে। বিরক্ত এবং কিছুটা অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখি নেড়ামাথা এক পিচ্চি, বয়স বড়জোর ৩-৪ হবে, তেঁতুলের ঝুড়ির পাশে রাখা কাঁচা আমের ঝুড়ির দিকে তাকিয়ে আমার পায়ে টোকা দিয়ে যাচ্ছে। আমি পিচ্চির দিকে হাত বাড়িয়ে দিতেই চট করে আমার হাত ধরে ফেললো। চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকল আধা মিনিটের মতো। এরপর ঝুঁকে পড়ে কাঁচা আমগুলোতে হাত বুলাতে লাগলো। আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “আঙ্কেল, আম”। বাচ্চার মুখ দেখে আমি ধাক্কা খেলাম। ফুটফুটে কোমল মায়াভরা মুখ। আমি কিশোর বিক্রেতাকে বললাম, “ওকে একটা আম দে।“
আমি নিজেই নীচু হয়ে একটা আম নিয়ে তুলে দিলাম বাবুটার হাতে। আম পেয়ে আর এক মুহুর্ত দাঁড়ালো না। খুশীতে হেলেদুলে দৌড়ে চলে যাচ্ছে বাচ্চাটা। আমি যতদুর দেখা যায় চেয়ে আছি-


১৭টি মন্তব্য
প্ররথম
ঐ দিন আমি এক শিশুর মত এক বৃদ্ধকে এভাবে পাকা সাগর কলা দিয়েছিলুম। কি যে আনন্দ লেগেছিলো আমার বলে বোঝাতে পারবো না ভাই। চমৎকার অনুভব।
মাহমুদ ভাই, আসলেই অসাধারণ!
আসিফ ভাই, যতক্ষন চেয়ে ছিলেন ততক্ষনই আপনার অজান্তে পিচ্চিটির সুখকর মুখটি বার বার আপনার সামনে ভেসে আসছিলো। এ হলো অল্পতে পাওয়া পরম সুখ।
শামীম ভাই, হুম ঠিক ধরেছেন। পিচ্চির উদ্ভাসিত মুখটি চোখে ভাসছিল।
ছোটবেলার তুষ্টতা খুব অল্পতেই।
একটা জিনিস ভেবে খারাপ লাগে যে গ্রামে বিভিন্ন সময়ের ফল গুলো কত সহজেই পাওয়া যায় ।
কিন্তু শহরে!!!
মেহেরী তাজ, হুম ঠিক বলেছেন। কত সামান্যে তৃপ্ত হয়, খুশী হয় বাচ্চারা! আসলেই খুব নিষ্পাপ একটি সময় এই শৈশব।
বাচ্চাটির মুখের হাসি কতোটা আনন্দ দিয়েছে আপনাকে, পোস্টটা পড়ে অনুভব করছি। একটা খুব ভালো করেছেন।
নীলা, মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ। হ্যাঁ, সত্যি, খুব ভাল লাগছিল।
বাচ্চাদের মুখে হাসি ফোঁটাতে পাড়া বিশাল এক আত্মতৃপ্তির ব্যাপার।
ভাল্লাগছে।
জিসান ভাই, ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।
এরকম ছোট ছোট ঘটনাগুলোই মনে থাকে সব সময়। অপ্রত্যাশিত হঠাৎ করে পাওয়া টুকরো সুখ স্মৃতি হৃদয়ে ধারণ করে বেঁচে থাকার আরেক নাম জীবন। কাউকে কিছু দেয়ার আনন্দের চেয়ে সুখ আর কোথাও নেই। শিশুটির পবিত্র মুখের হাসির সাথে আপনার আত্মতুষ্টির হাসিটাও দেখতে পেলাম আসিফ। 😊😊
ভালো থাকুন, শুভ কামনা অবিরত 🌹🌹
সাবিনা, ধন্যবাদ। এই ব্যাপারে আপনার সাথে ১০০% একমত। ছোট, ছোট ঘটনাগুলোই মনে থাকে, সুখের স্মৃতির জন্ম দেয়। আর সেই সব ঘটনা যদি অপ্রত্যাশিত কোন আনন্দের উৎস হয়, তাহলে তো কথাই নেই। স্মৃতির পটে জমে থাকে আজীবন।
ভাল থাকবেন। গোলাপ আঁকেন কি করে? শিখিয়ে দেবেন তো!
কতো কষ্ট করে শিখছি ! হুট করে বললেই শিখাবো নাকি ? অনুরোধ করতে থাকেন, মন চাইলে দিবো একদিন শিখিয়ে 😜
সাবিনা, আইহাই বলেন কি!!
মনের প্রশান্তি
মুক্তা, প্রশান্তি ভরা সুখ।
ভালো থাকবেন।