মূল লেখায় যান

একটি অ-লেখার ছিন্নাংশ……৫

ছাইরাছ হেলালবিবিধ২০টি মন্তব্য

দ্বিতীয় জনের আর একটি গল্প , স্যারের কাছে শোনা ।
একবার কী হল — সে ঠিক করল ভূত পুষবে , বেশ তো কেউ নিষেধ করেনি , তা বাবা তুমি ভূত কেন ব্রহ্মদৈত্য ও পুষতে পার । এখন প্রাথমিক সমস্যা হল ভূত তো হঠাৎ পড়ে পাওয়া দু’আনা বা চৌদ্দআনা গোছের বস্তু না বা  চাইলেই পাওয়া যায় এমন কিছু । যাই হোক কী করে না করে ভূত একটি সে জোগার করেই ফেলল এবং ভূতের সাথে এই মর্মে একটি অলিখিত চুক্তিতে উপনীত হল যে ভূতটি পোষ মানবে কিন্তু পোষ মানবে না । এ রকম ও যে চুক্তি হয় তা জীবনে প্রথম শুনলাম । যাক আমার কোন সমস্যা নেই , যার পাঠা সে ঘাড়ে বা লেজে যেখানে কেটে খুশি থাকুক ,তা থাকুক না  । অপেক্ষায় থাকলাম দেখিনা কি হয় টাইপের । কয়েকদিন পরে আবার দেখা , বেশ ঝিম ধরা ভাব , জানাল  বেশ ভালই চলছে ভূতের সাথে বসবাস , যদিও অধিকাংশ ব্যাপারেই দ্বিমত , তা সত্বেও বহু ভাষাবিদ জ্ঞানী ভূতটি যখন যে বইপত্র দরকার তা এনে দিতে কাল-বিলম্ব করে না । আবার তর্জমার কাজটিতেও ভালই পারঙ্গম । ভাবছি এবারে কিছুদিন ফ্রানৎস কাফকা পড়ব । মনে মনে প্রমাদ গুনলাম । এ যাত্রায় কথাবার্তা এখানেই শেষ । এর বেশ কিছুদিন পর তাকে আবিষ্কার করি হাসপাতালের বেডে , প্লাস্টার করা হাতটি গলায় ঝোলান । আমি কাছে গেলে আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল এবারে সে ঠিক করেছে সন্ন্যাস নিয়ে হিমালয়ে গিয়ে কিছুদিন থাকবে সন্ন্যাসীদের সাথে , এ লাইনে আমার কোন পরিচিত কেউ থাকলে যেন তাকে জানাই । এ গল্প শোনার পরে আমরা ভেবেছি , যে মানুষ এই সব উন্মাদ নিয়ে চলে-ফেরে সে কি পুরোপুরি ঠিক আছে ? সিদ্ধান্তে আসতে পারিনি আমরাও। উত্তুঙ্গ উত্তম্মন্যতা ছাড়াই স্যার ছিলেন অভেদ্য উচ্চতায় আমাদের কাছে ।

মোট পড়েছেনঃ ৭৮৮জনআজ পড়েছেনঃ ০জন
ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

২০টি মন্তব্য

    1. দেখুন ভূতদের কিন্তু আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না ,
      ইচ্ছে বা অনিচ্ছায় ।যদিও হ্যানডেল করা বেশ ঝামেলার ,
      তারপর যদি পড়ার বিষয় হয় ‘কাফকা’ তাহলে বেশ কঠিন ব্যাপারটি ।

  1. হা হা হা হা হা , হাসি পেলো খুব ।
    কিছু মানুষ থাকে এমনি , তবে এরা নিজের মনেই চলে , ক্ষতি করেন না তেমন।
    হিমালয়ের আইডিয়াটা খারাপ না , এত জটিলতা নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে সন্যাসি হয়ে যাওয়া উত্তম।

    ” যে মানুষ এই সব উন্মাদ নিয়ে চলে-ফেরে সে কি পুরোপুরি ঠিক আছে ? সিদ্ধান্তে আসতে পারিনি আমরাও। উত্তুঙ্গ উত্তম্মন্যতা ছাড়াই স্যার ছিলেন অভেদ্য উচ্চতায় আমাদের কাছে ।”’ — দারুন উপলব্দি ।

    1. ব্যাপারটি কিন্তু মন্দ না , কিছুটা ঝুঁকি নিয়েই কাজটি করতে হয় । তাছাড়া পড়াশোনার জন্য যে পরিমাণ বইপত্র দরকার তা ভূত বাবাজি সাহায্য ছাড়া সংগ্রহ করা সম্ভব নয় কোনভাবেই , যেমন ধরুন এই মুহূর্তে বিনয় মজুমদারের নির্বাচিত কবিতার বইটি দরকার , সেটি যেহেতু পাওয়া যাবে না তাই ও ওই শেষ ভরসা ।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।

অনলাইনে ডাক্তার দেখাতে চান?