একজন মানুষ হয়ে বাঁচি
একই পাড়ায় থাকা এবং পাশাপাশি বাসা হওয়ার সুবাদে আমরা দু’জন বান্ধবী।আবার, এক সঙ্গে শিল্পকলা একাডেমীর রতন’দা এর কাছে গীটার শিখতাম। ওর মেজদি’র কাছে আমি গানও শিখেছিলাম বেশ কিছুদিন। এমনি করে আমাদের অনেক সুন্দর স্মৃতি। ওর নাম শিখা।
যখন পাসপোর্ট, ভিসা, এম্বেসি, এয়ার টিকেট… সব মিলে আমার ব্যস্ততা, তখন কিছুটা অর্থ সংকটে পড়েছিলাম। শিখা’র পরিবার আমাকে সহযোগিতা করতে চাইলো। মেজদিদির বিয়ের জন্য যে গহনা রেখেছিল, তার অংশবিশেষ বিক্রি করে তারা আমার সমস্যার সমাধান করার আগ্রহ ব্যক্ত করলো। আমি আবেগে আপ্লুত হলাম। চোখে মুখে কৃতজ্ঞতা। সে রাতে আনন্দে ঘুম হলনা। যদিও শেষ পর্যন্ত সে সাহায্য নিতে হয়নি, তবুও এমন মানসিকতা ক’জনারই বা থাকে!!
অবশেষে, এক এপ্রিলে আমার ফ্লাইট। ছেড়ে যাবো আমার শহর, আমার স্বজন। বিষণ্ণ মন। পরিবারটি দাওয়াত করল আমাকে। অতিথি আমি একজনই। ফ্লোরে শীতল পাটিতে খেতে বসেছি। ছোট ছোট কাঁসার বাটিগুলোয় হরেক রকম আইটেম। শুধুই আমার জন্যে এত আয়োজন__!! ওরা তরকারিতে পেঁয়াজ খায় না, শুধুই আমার জন্য সব আইটেম পেঁয়াজ দিয়ে রান্না করেছে__ জানালো। আমি আবারো আপ্লুত হলাম। এতোটুকুন আমাকে এত ভালবাসা__!!
৫ বছর পর দেশে গেলাম যখন… ততদিনে শিখা চট্টগ্রামে স্বামীর সংসারে। অনেক কষ্ট করে শাঁখারি বাজারের বাড়িটি খুঁজে বের করলাম। ভীষণ সারপ্রাইজড হল। আবেগে আপ্লুত দু’জনই। চোখে জল। কেন জল_! অন্তর্যামী জানেন।
এক যুগ পর আবারও চোখে জল। আজ শুধু আমার অন্তর্যামীই নন, আমিও জানি কেন এই জল। অল্প কিছু সংখ্যক খারাপ মানুষের বীভৎস হিংসার শিকার ওরা… অমুসলিম বলে। বিশাল অংশ আজ জিম্মি ছোট অংশের কাছে। আমার আর ওই জড় বস্তুর মাঝে কোন তফাৎ খুঁজে পাইনা। নিরীহ জড় বস্তুর যেমন কিছু করার নেই, তেমনি আমারও। সংখ্যা লঘিষ্ঠ আর সংখ্যা গরিষ্ঠ দিয়ে মানুষকে বিচার করা তো শিখিনি আমরা। মাথা উঁচু করে আর যে দাঁড়াবার সাহস নেই ওদের সামনে। খুব জানবার সাধ হয়, কেমন আছে শিখা সাহা, শিল্পী দি, মাসীমা… ওরা সবাই।


২০টি মন্তব্য
সত্যি প্রাণ ছুঁয়ে যাওয়া অনুভুতি ।
আজ আমরা অনেক অনেক অসহায় ।
অসহায় আর কতকাল থাকবো…?
কিভাবে দেব সান্তনা যানি না। তবে আমি প্রতিবাদে ও প্রতিরোধে সোচ্চার।
আমাদের সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে প্রতিরোধের জন্য…
আপু বড় হৃদয়ে ছুয়ে যাওয়া বর্ননায় বলে দিলেন পরম মমতা ভালবাসার বন্ধনের স্মৃতি।আমারও বেশ কয়জন ক্লোজ হিন্দু বন্ধু ছিল এখনও আছে ৫/৬জন তাদের কখনও ভাবিনি ভাবতে পারিনি জাত দিয়ে তারা আগে যা ছিল ভাইবন্ধু এখনও তাই আমার কাছে,তাদের তপ্লিতপ্লাহ সহ খবর জানা থাকে….কিন্তু যারা অত্যাচারী তারা কোন মাটির তৈরী তা বলা মুসকিল ওরা পশুড় চেয়েও অধম ওদের আমরা হয়তো কিছুই করতে পারবনা তাই স্রষ্টার কছে বিচার তুলে দিলাম তিনি অবশ্যই নরপশুদের কঠিন শাস্তি দিবেন। (y)
কত যে পূজায় নাড়ু খেতে যেতাম পাড়ার সব মাসীমাদের নেমন্ত্রনে… সবই আজ স্মৃতি
সরকারের প্রতি অনুরধ কঠর হাতে এদের দমন করুন।
তাছাড়া কিছুই করার নাই।
ধন্যবাদ অশেষ … ভাল থাকবেন।
খুবই অসহায় আমরা 🙁
আমাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নেয় নরপশুগুলো।
ভালো নেই তারা ..আমরাও ভালো নেই
পরিবর্তন আসবে,আসতেই হবে কিন্তু কতোদিনে?
অনেক আবেগি লেখা..
এমন ছোট খাটো স্মৃতি আমাদের সবারই কম বেশি আছে। স্মৃতি বড় কাঁদায় আজ…
কি লিখবো বুঝতে পারছিনা ,
আমার অনুভূতি আপনারই মত
এমন দেশ আমরা চাইনি
আমাদের স্বপ্ন ছিল এক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের , সমাজের ।
অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ কি স্বপ্নই থেকে যাবে…?
আপনাদের মতো কিছু মানুষ আছে বলেই বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখি আজো। 🙁
খারাপ মানুষের সংখ্যা কিন্তু আসলেই কম… ভাল মানুষগুলো আজ জিম্মি খারাপদের কাছে।
এমন নির্যাতনের খবরে মানুষ হিসেবে নিজের কাছেই ছোট হয়ে যেতে থাকি …
প্রিয় লুনাদিকে মনে পড়ে যায় । ভয় পেয়ে বসেছে, নিরাপদ আছেন এখনও কিন্তু কয়দিন থাকবেন ?
আমরা আজ কতটা লজ্জিত লুনাদি দের কাছে…
এমন অনেক কিছু জানার সাধ থাকলেও জানতে পারছি না
আমরা । দুঃসহ যন্ত্রনা ।
এ যন্ত্রণার অবসান হোক … সেই কামনা করছি।