অণুকাব্য

১:
আহুতির মতো জ্বলছে নিরবধি
জ্বলে জ্বলে অবশিষ্টতার ছাই উড়ছে অদৃশ্য হাওয়ার ভাঁজে।
বেনামী অসংখ্য প্রশ্নের চিতায়
সুগন্ধি রেখে কেটে যাচ্ছে
নির্বোধ বোধের আহুতি!
সজনেপাতায় ঘর বাঁধা মুনিয়া
পালক হারানো দুঃখ নিয়েছে
কিনে। হারানো বিজ্ঞপ্তির নোটিশ
টানানো ভুলেই বসে আছে
অভিশাপের তাড়নায়।
২:
কথারা খুঁজে চলে হাওরের বিলে বৈঠার মাঝি। শাপলা ফোটা জলজজীবনে খেলছে রঙিন মাছেদের নির্ঘুম সাঁতার।
অহমী রাগে বেহাগ বাজে কেবল
রাত্রিচিড়ে এপার ওপার।
তিন প্রহরের শেষের পথে
নিথর পাপড়ির ডগায় নাচে
লোনা স্বাদের জলনৃত্য!
৩:
জলাঞ্জলির গিতীকাব্যে নির্দোষ কাগজের বদনাম। শেষের পঙ্তি হয়না শেষ; তবু শুরু বলেও রয়না বাকি কিছুই। মাঝপথ বলেও থাকেনি কোনো পথ।
গোলকধাঁধার চরণগুলি কেবলই
অনর্থক বোঝা বাড়ায় শাদা পৃষ্ঠায়।
ওজন বাড়ে দাঁড়িপাল্লা আর বাটখারা’র। আক্ষরিক শব্দের ইটপাথর গেঁথে দেয় দুর্বোধ্য দুর্ভেদ্য দেয়াল! হাতুড়ি শাবল উধাও ভাঙতে শব্দের বোধ।
আহুতি…… সময়ের চিঠি লেখা হয়না সময়ে। সময় ঝরে যায় মরা পাতাদের দলে……
বন্যা
১:৬:২০২০


২৭টি মন্তব্য
“আহুতি…… সময়ের চিঠি লেখা হয়না সময়ে।
সময় ঝরে যায় মরা পাতাদের দলে……”
তবুও তো লেখা হলো সুন্দর চিঠি অনু কাব্য বলে।
ভাল লাগলো। শুভ কামনা।
শুভ কামনা জানবেন। ভালো থাকবেন দাদা সবসময়।
এ লেখা পাঠক কতখানি নিতে পারবে তা ভেবে শংকিত বোধ করছি।
পাঠকের নাম জানতে মন চাইতাছে! আপনি কিভাবে নিলেন সেটা জানা হলো না😢
@মহারাজ নিশ্চয়ই এই অধমার কথা ভেবেছেন। অনেক ধন্যবাদ পাওনা থাকলো 😇😇
ময়না তুমি?? প্রত্যেকটা লাইনের শব্দের অর্থ জানা আছে সবার, এবার এগোও সেই পথে….খুলে যাবে দুর্ভেদ্য দুর্বোদ্ধ শব্দের প্রাচীর দরজা।
আপনার প্রতিটি লেখায় একটা জিনিস খুব পাই সেটা হলো ভাবনার বিষয়, খুব গভীরতম অন্তর্দৃষ্টি লাগে, যেটা সহজলভ্য নয় সবার কাছে। সময়ের কাজ আমরা সময়ে করিনা বলে অনেক কিছু আমরা হারিয়ে ফেলে পরে আফসোস করি। আপনার এই লেখাটি প্রিয়তে নিলাম। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। শুভ কামনা রইলো অবিরাম
সাধারনত আমি সহজ ভাষায় অন্তর্নিহিত বোধ প্রকাশে অক্ষম ছোটদিভাই😢, বিকল্প শব্দের কাছে আমি প্রতিনিয়ত ভিখিরী হয়ে থাকি। গভীরের কিছু চিন্তা তুলে আনি এমন করে। সকলের কাছে সহজভাবে পৌঁছাবেনা জেনেও এটা করি আমি। এতেই আমার তৃপ্তি, আমি প্রকাশের ধরনটাকে নিজের মতো আঁকড়ে আছি। সহজিয়া বাক্যের ঘরে আমার যোগ্যতা বড্ড খাটো।
আপনার প্রিয়তে আমার লেখা ঠাঁই পাওয়া মানে হলো…. আমি কিছু একটা তো পেরেছি সৃষ্টি করতে! যেটা আপনার প্রিয়তে চলে গেছে। অশেষ কৃতজ্ঞতা রইলো। ভালো থাকবেন সবসময়।
ফোঁটা, গীতিকাব্য, পংক্তি, সাদা এগুলো মনে হয় একটু দেখলে ভালো হয়।
এহন আর পারতাম না সম্পাদনা করতে। আপনি তো বুঝছেন মিসটেক কইরা মিসটেক হইছে 😊 ধন্যবাদান্তে বন্যা লিপি।
অনিন্দ্য সুন্দর লেখনী । অনবদ্য প্রকাশ।
মন্তব্যে কৃতজ্ঞতা অশেষ। ভালো থাকবেন।
এত এত গভীর চিন্তা নিয়ে ঘুম আসেতো? প্রতিটি কবিতার অন্তর্নিহিত ভাবে বিমোহিত হলাম।
ভালো থাকুন আপু।
আপনে ধইরাইছেন কেমনে? এই লেখাটা সত্যিই নির্ঘুম চোখের সৃষ্টি শেষ রাতে!
ভালো থাকবেন সবসময়।
গোলকধাঁধার চরণগুলি কেবলই
অনর্থক বোঝা বাড়ায় শাদা পৃষ্ঠায়।
একদম দিদি,
এ ধাঁধা যখনতখন অনর্থক বোঝা বাড়ায়।
সেই বোঝাই তো ঝেড়ে দিলাম সাদা পৃষ্ঠার বুকে এমন কাব্যের তলে!
শুভ কামনা দাদা ভাই।
কবিতাকে আজ কিছুটা গাদ্যিক কিছুটা পদ্যময়
এরি মাঝে কিছু নিগুর তত্ব যা সত্যি ধাধা ময়।
সমিকরনের বেরাজালে গানিতিক সংক্রমন
বুঝিতে বুঝিতে পিলে চমকায় হৃদযে জাগায় কম্পন।
=======================================ধন্যবাদ সুচয়নী
হা হা হা হা….. আপনার মন্তব্য অম্লমধুর।
থাক আর পিলে চমকে কাজ নেই। ভালো থাকুন ভাই।নিরাপদে থাকুন।
ওরে বাপরে!!
এতো গুরুগম্ভীর ভাবের উপস্থাপন।
এই সব অনুকাব্যের পাঠ উদ্ধার করা আমার পক্ষে খুবই শক্ত কাজ।
থাক ডরাইছ না সুরু। নিরাপদে থাক, ভালো থাক সাবধানে থাক।
আমি ভয় পেয়েছি।
এখন শুধু মনে একটা প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে,,
আত্মা কি দেহের ভেতর থাকে? নাকি দেহ শুধুমাত্র আত্মার বাহক!!
যাই বলবে না কেন ঘুরে ফিরে কথার মানে একটাই ময়না! আত্মা শরীরের বাহক অথবা শরীর থাকে আত্মার পরিপূরক হয়ে…..
যাহা লাউ উহাই কদু!
ডরাইও না। তুমি ভয় পাইলে আমি যামু কই?
অসাধারণ লিখলেন আপু, সত্যি বিমোহিত হলাম।
কৃতজ্ঞ রইলাম ভাইজান।ভালো থাকবেন।
আপনিও ভালো থাকবেন আপু।
অণু কাব্য তিনটিই ভালো লেগেছে,
২ আর তিন বেশী ভালো লাগলো।
শুভ কামনা।
কাব্য চলুক আপন গতিতে।
কয়েকমাস ধরে মগজও লকডাউনে যাচ্ছে ধীরে ধীরে….কি যে অবস্থা! গুছিয়ে উঠতেই পারছি না। তবু এরই মাঝে চলছে টুকটাক অনুভূতির প্রকাশ। শ্রদ্ধা সহ কৃতজ্ঞতা। ভালো থাকবেন, সাবধানে থাকবেন।