মোবাইল ফোন ক্ষতিকর / ক্ষতিকর নয়

শিশির কনা ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৪, মঙ্গলবার, ১০:২৮:১৩পূর্বাহ্ন চিকিৎসা ২২ মন্তব্য

আমি কিছুই লিখবো না  । শুধু এই বিষয়ে একই পত্রিকায় প্রকাশিত দুটি নিবন্ধ এখানে শেয়ার করবো   :p

মোবাইল ফোন মানবদেহের কোনো ক্ষতি করে না  ( শিরোনামে লিংক )
অপবাদ থেকে থেকে মুক্ত হলো মোবাইল ফোন। ক্যান্সারের অন্যতম কারণ, এই ভয়াবহ অপবাদ ছিল মোবাইল ফোনের ঘাড়ে । নতুন এক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে শিশু অবস্থায় ক্যান্সার বা রক্তের ক্যান্সারের (লিউকোমিয়া) কারণ নয় এই দরকারি যন্ত্রটি। বহুদিন ধরেই ভয় ছিল মোবাইল ফোনের অতি ব্যবহারকে কেন্দ্র করে। মনে করা হতো মোবাইল ফোন ও টাওয়ার থেকে যে রেডিওতরঙ্গ নির্গত হয় তা মস্তিষ্কে টিউমার, মাথা যন্ত্রণা ও ক্যান্সারের অন্যতম কারণ। কিন্তু ব্রিটেনের নতুন গবেষণা অনুযায়ী মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। পৃথিবীজুড়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিটেনের মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ প্রোগ্রামের তরফ থেকে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ বিশেষজ্ঞ মার্টিন গ্লেডহিল জানিয়েছেন মোবাইল থেকে নির্গত রেডিওতরঙ্গ শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক কি না সে বিশেষ কোনো প্রমাণই পাওয়া যায়নি বিশেষজ্ঞ দলের গবেষণায়। এক দশকের গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন , গর্ভবতী অবস্থায় মোবাইল ফোনের ব্যবহার গর্ভের ভ্রূণের বিন্দুমাত্র ক্ষতি করে না। লিউকোমিয়ার কারণ হিসেবেও সেল ফোনকে দায়ী করার বিরোধিতা করেছেন বিশেষজ্ঞরা।মোবাইল ফোন ও wi-fi ডেটা থেকে যে রেডিও সিগন্যাল নির্গত হয় স্বাস্থ্যের ওপর তার কোনো প্রভাব পড়ে না বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

মোবাইল ফোনে স্বাস্থ্যঝুঁকি!  ( শিরোনামে লিংক )

মোবাইল ফোন ছাড়া যেন এক মুহূর্ত চলে না আমাদের। কিন্তু এই অতি প্রয়োজনীয় যন্ত্রটির অধিক ব্যবহারেও রয়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি।

বর্তমান যুগে মোবাইল ফোন অনেক প্রয়োজনীয় একটি বিষয় হলেও এর রয়েছে হাজারো কুফল, যা আজ আমাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। টানা ১৫ মিনিট মোবাইল ফোনে কথা বললে অনেক Radiation আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। এর ফলে মুখমণ্ডল ও মাথার অসুখগুলো অনেক বেশি হয়। যেমন :

মাথা ব্যথা  · খিটখিটে মেজাজ  · অবসাদ

Brain Tumor যেমন : Astrocytoma, Acoustic neuroma, Glioma, Meningioma · Salivary gland tumors · Pituitary tumorsবিখ্যাত ইসরায়েলি গবেষণা ও সমরকন্দ স্টাডি থেকে ওপরের তথ্যগুলো জানার পাশাপাশি আমরা আরো জানতে পারি, Brain Tumor প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে যায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে। এ ছাড়া পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, Parkinsonism & Alhzehmar’s Disease বেড়ে যায় মোবাইল ফোনের Radiation-এর জন্য। তাই একসঙ্গে তিন মিনিটের বেশি মোবাইল ফোনে কথা বলা উচিত নয়। আর দ্বিতীয়বার কথা বলার মাঝখানে অবশ্যই অন্তত ১৫ মিনিট ব্যবধান থাকা উচিত।

মোবাইলের এই ঝুঁকির তালিকায় সবার আগে রয়েছে বাচ্চা, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারী। গর্ভের সন্তানের ওপর Radiation-এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। তাই যতটুকু সম্ভব এ বয়সের মানুষের কাছ থেকে মোবাইল ফোন দূরে রাখা উচিত। Base Station-এর কাছাকাছি বাসাবাড়ি থাকলে সরিয়ে নিতে হবে। এ জন্য উপযুক্ত আইন থাকা দরকার।

মোবাইলে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হওয়া কিংবা গাড়ি চালাতে গিয়ে অনেক দুর্ঘটনার খবর আমরা হরহামেশা পাই। তাই গাড়ি চালানোর সময় Hands Free থাকতে হবে। মোবাইলের অপব্যবহার করে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা বিপথে যাচ্ছে। এ জন্য উন্নত বিশ্বে এইচএসসির আগে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ।

সিগারেটের প্যাকেটে সচেতনতামূলক লেখা আনার জন্য ২০০ বছর আন্দোলন করতে হয়েছে। তবে আজ বর্তমান দুনিয়ায় মোবাইল ফোনের বিক্রি থেকে শুরু করে ব্যবহারবিধি ও স্বাস্থ্য সর্তকতা অবলম্বনে এত বছর সংগ্রাম করতে হবে না বলেই মনে করি। আসুন, আমরা আজই সচেতন হই এবং নিয়ম মেনে মোবাইল ফোন ব্যবহার করি।

ক্ষতিকর নাকি ক্ষতিকর নয়  ? 

৪১৯জন ৪১৯জন
0 Shares

২২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য