সকাল থেকেই জেল গেইটে মাইক্রো বাস নিয়ে অপেক্ষমান বড় ভাইয়ের চামচড়া।ছোটন রাজা গেইটের বাহিরে আসা মাত্র ছোটনকে ফুলের মালা পড়াতে গিয়ে ভাইয়ের চামচড়া অপমানিত হন।

-আমি কোন মহান ব্যাক্তি নই যে আমাকে মালা দিয়ে অয়েল কাম জানাতে হবে।আমি মাস্তান এই সমাজের একটি কীট,একটি অশুভ ছায়া ।

ছোটন সহ প্রায় দশ বারো জন মাইক্রোতে উঠে ভাইয়ের সাথে মিট হওয়ার উদ্দ্যেশে রওয়ানা দেয়।সবার কোমরে আগ্নয়াস্ত্র রাখা।তাদের প্রত্যেকে ২৫ থেকে ৩০ বছরের যুবক।মাইক্রো বাসটি ভাইয়ের বাসার সামনে থামে ছোটন সহ আরো যারা ছিল তারা ভিতরে ভাইয়ের অয়েটিং রুমে অপেক্ষা করছে ভাইয়ের আগমনে।ছোটন ছট ফট করছে অপেক্ষা জিনিসটা ছোটনের এক দম পছন্দ নয়।এক সময় ভাই আসেন সবাই দাড়িয়ে সম্মান জানান ভাইকে।হালকা পাতলা শ্যামলা গায়ের রং দেখে মনে হয় না এই সেই ভাই যার কথায় বাঘে মহিষে এক ঘাটে পানি খায়।সে এখন জেলা কাউন্সিলর সচিব।ভাই সম্পর্কে কিছু কথা না বললেই নয়…..

অনেক দিন আগের কথা তখনও ভাই এমন ক্ষমতা ধর ছিলেন না সে ছিল সামান্য ড্রাইভার তাও আবার তার বদ স্বভাবের কারনে কোন গাড়ীতে পারমানেন্ট ড্রাইভারের কাজ করতে পারেননি।ছোটা ছোটি যখন যে কাজ পেতো তাই করতেন ,মাঝে মাঝে সুযোগ পেলে অন্যের গাড়ীর ডিজেলও চুরি করতেন।ধরাও খেয়েছিলেন কয়েক বার।এক সময় সে পরিবহন সংস্হার সাথে সম্পৃক্ত হন।তার চৌরাস্তার মোড় পেরিয়ে বাস ট্রাক ছোট বড় সব রকমের গাড়ী যাতায়াত ছিল নর্থ বেঙ্গল,উত্তর বঙ্গের দিকে প্রতিদিন হাজারো গাড়ীর আসা যাওয়া তার হাতের হাতের কাছ দিয়ে লক্ষ কোটি টাকা পাছ হয়ে যাচ্ছে দুরের কোন এক ক্ষমতাশীল নেতার পকেটে।এক সময় সে  ট্রান্সপোর্ট সমিতির সদস্য হন।ধীরে ধীরে নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকেন।সেই সময় ভাইয়ের অঞ্চলে বেশ কয়েক জন ক্ষমতাসীন অথবা প্রভাবশালী নেতা ছিলেন সেই সময় ভাই ছিল তাদের কাছে চুনোপুটি।একজন প্রভাবশলী ব্যক্তি ছিলেন যিনি এলাকায় স্বাধীনতার সময় মুক্তি যুদ্ধ করেছিলেন সে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার।স্বাধীনতার পরবর্তীতে চেয়ারম্যান পদে দাড়িয়ে পাশ করেছিলেন বেশ কয়েক বার।তারপর জেঃ এরশাদের শাসনামলে সে সারা বাংলার উপজেলার মহাসচিব হন ঠিক সেই সময় ভাইয়ের জীবনে ঘটে কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা।এলাকার দুই প্রভাবশালী চেয়ারম্যান প্রার্থীর মাঝে ভাই ছিলেন নিষ্ক্রীয় প্রার্থী তার মানে কিছু টাকার ব্যাবস্হা হলে সে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিবেন।সে জন্য সে যায়নি এমন কোন প্রার্থী নেই,সব প্রার্থীর কাছেই হন্নে হয়ে গুড়েছেন কিছু টাকার ব্যাবস্হা হলেই সে বসে পড়বে। সে সময় কেউ তার ডাকে সারা দেয়নি লোক মুখে জানা যায় শেষ পর্যন্ত ভাই,মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার এবং উপজেলা মহা সচিবের কাছে সেই নির্বাচনের শেষ রাতে দেখা করেন।

উপজেলা মহা সচিবের বাসায় ভাই মেজেতে কার্পেটে বসে আছেন।মহাসচিবকে আসতে দেখে যথারিতী সালাম দিয়ে মহাসচিব সাহেব বসার পর মেজেতেই মহাসচিবের পা বরাবর বসেন ভাই ।

-কি রে কি মনে করে এলি?

-আর কি ভাই বড় বিপদে পড়ে আছি,একটা উপায় বের করে দেন।

-কি,বল।

-ভাই আপনিতো জানেন আমি চেয়ারম্যান নির্বাচনে দাড়াইছি,

-নির্বাচনে দাড়াইছস ভালো কথা দাড়াইয়াই থাক।

-কি যে কন ভাই,আমি কি সত্যি সত্যি নির্বাচন করতে দাড়াইছি নাকি?

-তবে কেনো দাড়াইছস?

-আপনিতো সবই জানেন,আমার তেমন কোন টাকা পয়সা নেই যা জমা ছিল তা এ কয় দিনে সব শেষ,,,,এখন যদি কিছু টাকা অন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে পাওয়ার ব্যাবস্হা করতেন তাহলে বসে পড়তাম।

মহাসচিব সাহেব ভাইকে নগণ্য তাচ্ছিল্য ভেবে কোন পাত্তাই দিলেন না।বরং উল্টো সে গালি গালাজ করেন ভাইকে।ভাই সেখান থেকে অপমানিত হয়ে ফিরে আসেন ছোটনদের মাঝে,ছোটনরা তখন তার নির্বাচনী ক্যাম্প দিয়েছিল মহাসচিবের বাসা বরাবর বাজারে।সেই দিনের অপমান ভাই আজও ভুলতে পারেননি।অপমানের পর ইলেকসনের দিন,ঠিক দুপুর সময় গোজব ছড়ায় ওমুক কেন্দ্রে ওমুকে দখল করে ইচ্ছে মত সিল মারছে ‘ভাই এই সুযোগটা কাজে লাগায় ভাইও তার পোলাপান নিয়া তার নিকট এলাকার নির্বাচনী ভোট কেন্দ্রে এক প্রকার সন্ত্রাসী কায়দায় সিল মারতে থাকে ভাইয়ের মার্কায় ।ভোটের সংখ্যার দিক থেকে ভাইয়ের এলাকাই ভোটার সংখ্যা মোট ভোটারে চার ভাগের তিন ভাগই ছিল সেই জন্যে সেই সময় ভাই বিপুল ভোটে জয়ী হয়।ভাইয়ের এমন জয়ে এলাকা বাসী অবাক এবং খুবই চিন্তিত এই বুঝি ক্ষমতা চলে গেল একজন সন্ত্রাসী কুলাঙ্গারের হাতে।কিন্তু নির্বাচিত হবার পর ঘটনা উল্টো দিকে মোড় নেয়।ভাইয়ের সে সময় একটাই কথা ছিল “আমি এক সময় অনেক গরীব ছিলাম অনেকের লাথি উষ্ঠা খেয়ে বেচে আছি আমার নির্বাচনে ছন্ন ছাড়ারাই কাজ করেছে তাই যত দিন বেচে থাকব ততদিন আমি বড় লোক মানে ধনীদের জম গরীবের বন্ধু হয়েই থাকতে চাই।শেষ পর্যন্ত তাই হলো এবং এখন পর্যন্ত কেউ বলতে পারবেনা কোন গরীব কিংবা কোন অসহায় ব্যাক্তিতার কাছে গেলে তাকে খালি হাতে ফেরত দিয়েছেন।এমন কি তার মেম্বারদের বলে দিয়েছেন রিলিফের যত টাকা হয়,সেই পরিমান টাকা সে তাদের দিয়ে দিবে তবুও যাতে গরীবরা সবাই রিলিফ পায়।সেই ভাই পরবর্তীতে এতই জনপ্রিয় হলো এলাকাবাসীর কাছে যে পরবর্তী নির্বাচনে অপজিট সরকার দলীয় প্রভবশালীর মিথ্যে মামলায় সে জেল থেকেও বিপুল ভোটে পাশ করেন। একেই বলে কর্মেই ফল।এখন সেতো আরো বেশী প্রভাশালী সে এখন সিটি কর্পোরসনের কাউন্সিলর সচিব।তা ছাড়া সব চেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে সে অক্ষর জ্ঞানহীন নিজের নামটিও লিখতে জানতেন না।প্রতিপক্ষ মামলা করার পর ভাইয়ের বড় ভাইয়ের সার্টিফিকেট দিয়ে নিজের নামের কিঞ্চিৎ পরিবর্তন করে টিকে থাকেন শিক্ষিত অসভ্য সমাজের মাঝে অশিক্ষিত ভাই সভ্যতার দৃষ্টান্ত দেখিয়ে।

ভাই ছোটনকে দেখেই চিনে ফেলেন।ছোটনও ভাইকে আগে থেকেই চিনেন।ছোটন,কাইউম,মমি,সালাউদ্দিন,বাদশা ছিল ভাইয়ের ছোট ভাইয়ের স্কুল পড়ুয়া বন্ধু।ভাই ছোটনকে ভিতরে একা ডেকে নিয়ে প্রায় এক ঘন্টা কথা বলেন।কি কথা হয়েছিল তা পরে জানা যায়নি তবে পরবর্তীতে ছোটনের কার্যক্রম জানিয়ে দেয় সে দিন কি কথা হয়েছিল ভাইয়ের সাথে।

বেলা প্রায় মধ্যাহ্ন অফিসিয়াল লাঞ্চ আওয়ার।শহরে এ সময় অনেক লোকের যাতায়াত লক্ষনীয়।ছোটন ভাইয়ের বাসা থেকে বের হয়ে রোডে মাছ বাজারে  আসতেই চোখে পড়ে ফুলীঁকে।ফুলীঁ লাঞ্চে যাওয়া অনেক লোকজনের ভিরে সেও লাঞ্চ করতে যাচ্ছে।ছোটন ফুলীঁকে ডাক দেয় ফুলীঁ চিনতে পেরে ছোটনের কাছে আসে…

-কি ব্যাপার ফুলী তুমি এখানে?

-এ মাস থেকে এখানে এসে পড়লাম।জেল থেকে কখন ছাড়া পেলেন?

-এইতো কিছুক্ষণ হলো,

-এখানে কি করছেন?

-ভাইয়ের সাথে দেখা করলাম….চলো তোমাকে বাসায় পৌছে দেই…..

-চলুন….

চলবে…………….।

ঘূণে ধরা সমাজের ফুলীঁরা০৬

১৪৩জন ১৪৩জন
0 Shares

১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য