গণ জনবসতিপূর্ণ ঢাকা শহর।এখানে সকালের রং এক রকম আর বিকেলের রং আরেক রকম।সবাই সবার ধান্দায় চড়কার মতন হন্যে হয়ে এদিক সেদিক ছুটাছুটি করছেন।ওরা পাচঁ বন্ধুদের মধ্য থেকে কেবল অজয় আর অয়ণ ঢাকা শহরে আসে বাকী তিন বন্ধু গ্রামেই থেকে যায়।বড় বড় উচু দালান আর গাড়ীর হর্ণ শুনে মাঝে মাঝে আৎকে উঠে ওরা।অজয়ের বাবার বন্ধুর বাসায় যেতে একটি বাসে উঠল তারা।জ্যাম প্রচুর,নিত্য দিনের জ্যামের ঢাকা শহরে যেমন মানুষের ভীড় তেমনি গাড়ী ঘোরার ভীড়।মানুষের তুলনায় যান্ত্রীক গাড়ীর সংখ্যাও নিহাত কম নয়।শহরে এ জ্যামের প্রধান কারন গুলো হলো ট্রাফিক সিগনাল নেই বললেই চলে,যারা ট্রাফিকের দায়ীত্বে আছেন তাদের ধান্দাবাজী আর ভঙ্গুর অচল গাড়ী চলাচল এবং নিদিষ্ট গাড়ী স্টপ প্লেস যাত্রী ছাউনি ও প্লানহীন রোড ম্যাপের খেশারত জনগণকে ঘন্টার পর ঘন্টা দিতে হচ্ছে।
অজয় সিটে বসা পাশের সিটে রোবটের ব্যাগটি রেখেছিল বলে অয়ণ দাড়িয়ে বাদর ঝুলা ঝুলে চলছে।গাড়ী এক পা সামনে যেতে তার দু পা পিছু পিছু করছে।এদিকে ব্যাগের ভিতরে গাড়ীর কর্কশ হর্ণ আর মানুষের চেচামেচিতে রোবট বিরক্ত।রোবটের সাথে কথা বলতে অজয়ের কানে ইয়ারপ্লাগে সংকেত এলো।অজয় গ্লাগের সুইচ অন করল।
“অবস্থা বেশী ভাল না জ্যাম অতিরিক্ত তাই অজয়কে বলল তোমরা দুজনে চোখ বন্ধ কর।অজয়ের প্রশ্ন।
-কেনো?
-আমি পুরো বাসটিকে অদৃশ্য করে উড়িয়ে জ্যামহীন স্থানে নিয়ে যাবো আমার খুব বিরক্ত লাগছে।তোমরা তা সহ্য করো কিভাবে?!
রোবট কিছুক্ষণ সময়ের জন্য লোকভর্তি লোকজনকে তার বিশেষ শক্তির মাধ্যমে নির্বোধ করে বাসটিকে অদৃশ্য করে জ্যামহীন স্থানে নিয়ে আসে।এতো ভিরের মধ্যে লোক ভর্তি বাসটি হঠাৎ অদৃশ্য!ভাবনা এনে দেয় এ অলৌকিক ভাবে বাসটির যখন স্থান পরিবর্তন হয়।বাসটি দৃশ্যমান হয় তখন যাত্রীরা অবাক হন।কারো কারো মনের ভিতর সন্দেহ জাগে এ কোন বাসে সে উঠল এতো দুর চলে এলো নিজের নামবার স্টপিজ ফেলে!অনেকেই তাড়াহুরা করে নেমেও যাচ্ছেন।এরই মধ্যেই অজয়ের মোবাইলে নিউজ ফিডে অনলাইন নিউজ আসে।“হঠাৎ কারিশমায় উধাও একটি জন বহুল জ্যামে আটকে থাকা চলন্ত বাস”।অজয় নিউজটি দেখে এখানেই নেমে পড়ল।অতপরঃ সি এন জি নিয়ে সোজা চলে গেল বাবার বন্ধুর বাসার সামনে।বন্ধুটি একাই একটি ফ্লাটে থাকেন।সে চিরকুমার।

রোবটটিকে ওরা আর যেতে দেয়নি কারন এ  ঢাকা শহরে প্রয়োজনে ওকে ডাকলে ওযে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটিয়ে যে ভাবে আসে তাতে এ পুরো ঢাকা শহর আলোকিত হয়ে জানান দিয়ে দিবে যে এ শহরে কিছু একটা ঘটেছে তাই তাকে একটি বড় ব্যাগে ভরে  কাধে নিয়ে অজয় সঙ্গে নিয়ে এসেছে।অজয়ের বাবা তার বন্ধুকে আগেই ই-মেইলে ছবি পাঠিয়েছেন যাতে তাদের চিনতে বন্ধুটির কোন সমস্যা হয় না।সে অনুযায়ী বন্ধুটি তাদের স্ব স্ব থাকা ঘর মানে জনপতি রুম দেখিয়ে দিলে ওরা আপত্তি জানিয়ে বলে না ওরা  এক সাথে এক রুমেই থাকবেন।বন্ধুটিও আর কোন কথা বাড়ালেন না।
-তোমাদের যেমন খুশি,,,তবে  কোন প্রয়োজন পড়লে এই নম্বরে ফোন দিবে।তোমাদের মধ্যে কারো সাথে ফোন আছে কি?
-জি আংকেল আমি এনেছি,এইতো।
-বাহ এতো দেখছি এ্যান্ড্রুয়েট ফোন।তুমি চালাতে জানো?
-হ্যা আব্বু আমাকে সব শিখিয়েছেন।
-বেশ ভাল।তোমরা রেষ্ট নাও আমি তোমাদের খাবারের ব্যাবস্থা করছি।

বিশাল রুম।ক্লান্ত শরীরে অয়ণ সোফায় বেডে শুয়ে স্বস্থির নিঃশাষ নিচ্ছে।এ দিকে ব্যাগের ভিতরের থাকা রোবটিও ভিতরে বদ্ধ ব্যাগে থেকে থেকে হাফিয়ে উঠেছে।
-আমাকে একটু বের করো অজয়।
-ও হ্যা,
বলে সে ব্যাগের বন্ধন খুলে দিলে ব্যাগ থেকে বেরিয়ে এলো ক্ষুদে এক রোবট যা হাটুর তলায় পড়ে থাকে।তা দেখে সবাই অবাক।সবাই হা করে তাকিয়ে আছে তার দিকে।
-কি ব্যাপার তোমরা এ ভাবে আমার দিকে চেয়ে আছো কেনো।আমি সেই তোমাদের রোবট বন্ধু শুধু আকার পরিবর্তন করেছি যাতে তোমরা আমাকে নিয়ে অনিরাপত্তায় না থাকো।
-গুড বন্ধু,তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

রাতে খাওয়া দাওয়া শেষে সবাই যখন গভীর ঘুমে বিভোর ঠিক তখন রোবট ও অজয় অন্য একটি রুম যেখানে কম্পিউটার ইন্টারনেট আছে সেই রুমে বিশেষ কাজে ব্যাস্ত হল।কম্পিউটারে ইন্টারনেটে সার্চ করে রোবট বন্ধু এ দেশের প্রত্যাকটি কোচিং সেন্টারের অয়েব সাইটগুলো এক এক করে হ্যাক করে।না এটাতে নেই,নাহ!ওটাতেও নেই।প্রায় পনের বিশ মিনিট সার্চ করে কোথাও কোন প্রশ্ন ফাসের আলামত খুজেঁ পেলো না।পরিশ্রম আর সময়ের অপচয়ে রোবট ও অজয় কোন ক্লু খুজেঁ না পাওয়ায় খুব চিন্তিত।রোবট বসা চেয়ারটিতে হেলান দিয়ে উপরের দিকে তাকাতে অটো হাওয়াই ম্যাসেজ আসে তার চোখের সামনে।

তুমি বৃথা চেষ্টা করছো!এই কম্পিউটার দিয়ে তা তুমি খুজেঁও পাবে না।প্রশ্ন ফাসকারীরা বড় শেয়ান ওরা খুব টেকনিকে তা করে থাকে তাই এই হাওয়াই কম্পিউটারে তা খুজতেঁ হবে ওদের ব্যাক্তিগত সাইটগুলোতে।
তাছাড়া আমার মনে হয় ওদের কোচিং সাইটে না ঢুকে ওদের মোবাইলগুলোকে হ্যাক করলে ওরা কোথা হতে প্রশ্ন পত্র ছাপাচ্ছে তা জানতে পারবে।যদি তা পাওয়া যায় তবে তোমাদের কাজ হবে প্রশ্নগুলো  মুছে দেয়া নয় প্রশ্নগুলোকে পরিবর্তন করা তাহলে যারাই টাকা দিয়ে প্রশ্নগুলো ক্রয় করবেন আর যখন পরীক্ষার সেই প্রশ্ন কমন পড়বে না পরবর্তীতে প্রশ্ন ক্রয়কারীরাই একজোট হয়ে তাদের গণপিটুনি দিবেন তাতে সহজেই দেশবাসী প্রশ্ন ফাসদের চিনতে পারবেন তখন সরকার এর একটি সমাধানে বা তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিবেন।
…..এই হাওয়াই কম্পিউটার তোমার কাজের জন্য রেডি।

অজয় অবাক বিষ্ময়ে তাকিয়ে রইল এ আবার কেমন কম্পিউটার!রোবট দ্রুততার সহিত অজয়কে জিজ্ঞাসা করছে আর রোবট দ্রুতই সেই সব সাইটগুলো হ্যাক করছে।
-তোমাদের দেশে কি কি মোবাইল ফোন অপারেটর আছে দ্রুত বলো।
-টেলিটক,বাংলা লিংক,এয়ারটেল,রবি,গ্রামীন ফোন।
-সবচেয়ে পুরনো কোনটি?
-গ্রামীন।
-ওকে,,,,,,দ্রুত দু হাত চালিয়ে একের পর এক দেশের কোচিং সেন্টারগুলোর টিচারদের মোবাইল নম্ভর হ্যাক  করছে,কিছু না পেয়ে দ্রুত ডিলিট করছে।এভাবে প্রায় কয়েক হাজার নম্ভর হ্যাক ও চেক করা হয়।নাহ্ কোথাও কোন ক্লু নেই,,,,হঠাৎ তার মনে পড়ল কোচিং সেন্টারের অফিস বয় গুলোর কথা।প্রথম ধাপেই সন্দেহ হল এবং পেয়েও গেলো।একটি স্বনাম ধন্য কোচিং সেন্টারের অফিস বয়।তার কর্ল রেকর্ডটি ওপেন করল,হ্যা স্পষ্ট কথা ভেসে আসছে।সার্চে সাফল্য পেয়ে হিতাহিত জ্ঞান ভুলে আনন্দে হঠাৎ রোবট ইউরেকা বলে চিল্লান দিলে বন্ধু অয়ণ ঘুম থেকে জেগে যায় এবং এ ঘরে ঢুকতে দরজায় নক করল।আনন্দে দরজা খুলে অজয়।সাফল্যের ভাগিদার হলো তার বন্ধু।

ফোন রেকর্ডে জানতে পারল কোথায় তা ছাপাতে দিয়েছেন।শুরু হলো ছাপানো কারখানাটির হ্যাক।না নেই কোন অনলাইনেই শো করছে না।তাহলে উপায় অজয় ঘড়িতে লক্ষ্য করে দেখল রাত অনেক হয়ে গেছে এবার ঘুমাতে যাওয়া দরকার।

-সমস্যা নেই আমরা কাল সকালেই ঐ কারখানায় যাবো।সবাই ঘুমোতে যাও কাল ফাষ্ট আওয়ারে আমরা সেখানে পৌছব।ফোন রেকর্ড হতে ঠিকানাটা নোট করে নিল রোবট।সেও কিছুটা রেষ্ট নিতে নিজ রুমে মানে বন্ধুদের রুমে এলো।

সকালে হেদায়েত সাহেব বেড টি হাতে নিয়ে চুমুক দিয়ে চা পান করছেন আর টিভির স্কিনে চোখ রাখছেন।হঠাৎ এক খবরে তার চেতন ফিরে এলো।খবরটি হলো বাংলাদেশে এই প্রথম কোন ভিন গ্রহের এলিনের আগমন।যদিও সেই আগত অতিথিটি কারো নজরে পড়েনি কিন্তু এ দেশের কিছু বিশিষ্ট গবেষক তার ছায়া দেখতে পেয়েছেন যা দূর্গের ভিতর এর প্রমাণ প্রমাণীত হয়েছে।এখন দেশের প্রশাসন তাকে খুজতেঁ বেরিয়ে পড়েন দুর্গের বিভিন্ন আনাচে কানাচে।এই খবরটি যখন টিভিতে প্রচার হচ্ছে তখন মনে পড়ল অজয়ের কথা তার গবেষক বন্ধুর কথা।ফোন করলেন বন্ধুকে।
-হ্যালো,
-হ্যা বল কেমন আচিস?
-ভাল,খবর দেখেছিস?
-না,
-ওরা কোথায়?
-এইতো সবাই মিলে বাহিরে ঘুরতে গেলো।
-বলিস কি তুই ওদের একা ছাড়লি কি করে!
-কেনো?তাতে কি হয়েছে,ওরা বলল এই আশে পাশেই থাকবে।
-না,এমনি!যদি ওরা পথ হারিয়ে ফেলে তাই?
-কোন চিন্তা করিস না।আমি আছিতো!তাছাড়া অজয়ের ফোন নম্ভর আমার কাছে আছে।
-আচ্ছা,ওদের দেখে রাখিস,রাখলাম।।
অজয় অয়ণ দুজনে বেড়িয়ে পড়ল ছাপা কারখার উদ্দ্যেশ্যে।কাধে ব্যাগে ভরে ঝুলিয়ে নিল রোবটিকে।অজয় মোবাইলে অনলাইনে লোকেসন দেখে দেখে এগুচ্ছে।হঠাৎ ফুটপাতে বসা পত্রিকার দোকানে পত্রিকার দিকে নজর পড়ল।প্রথম পেইজেই বড় হেড লাইনে একটি নিউজ “বাংলাদেশে এলিয়েনের আগমন”।।কিছু ক্ষণ থমকে দাড়িয়ে পত্রিকাটি হাতে নিয়ে পড়ল।তারপর এগিয়ে চলল গন্তব্য স্থানে।

ঠিকানা অনুযায়ী একে বেকে সরু রাস্তা দিয়ে সেই ছাপা কারখানায় অবশেষে তারা পৌছলো।ছোট ছাপা কারখানাটিতে যখন তারা পৌছল তখন কারখানার মালিক ছিলো না যখন মালিক আসল তখন তাকে দেখে বুঝাই গেলো না সে একজন ব্যাবসায়ী।তার অনবরত ফোনে কথা বলা দেখে অজয় বুঝতে অসুবিদা হলো না যে সে কোন এক দলীয় ছত্র ছায়ায় সুবিদাবাদী পাতি নেতা।ফোনটা রেখে অজয়কে দেখে জিজ্ঞাসা করল।
-কে তোমরা কি চাও?
-অজয়’একটি লেখা ছাপাবো।
-ও আচ্ছা,এই করিম দেখতো এদের কি কাজ।
এরমধ্যে আবারো তার মোবাইলে ফোন কল আসে।সে অত্যান্ত বিনয়ের সাথে সালাম দিয়ে কথা বলছেন।অজয়ের কানটা ছিলো তার কথার দিকে।
-না স্যার না কোন সমস্যা নেই,কেউ বুঝতে পারবে না।এ ব্যাপারে আমি আপনাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি তবে স্যার আমার ফি টা একটু দেইখেন।বুঝেনইতো এক নম্বর আর দুই নম্বর বলে কথা।জি জি আছে একেবারে লকারে চাবি আমার কাছে।হ্যা আজ রাতেই কাজটা সেরে ফেলবো।

লোকটি লকারের শব্দটা উচ্চারণ করার সাথে সাথে ব্যাগের ভিতরে রোবট আনন্দে আটখানা।অজয় রোবটের সংকেত পেয়ে তাকে ব্যাগ থেকে খুলে একটি টেবিলের উপরে রাখল।ইতিমধ্যে মালিক ফোনে কথা বলতে বলতে কারখানা হতে বের হয়ে গেলেন।

রোবট টেবিলে দাড়িয়ে নজর দিল লকারের দিকে।রোবটের স্কেন মেমোরিতে দ্রুত স্কেন করতে লাগল।লকারের ভিতরে সকল কাগজ পত্র একের পর এক স্কেন করলেন।এর মধ্যে পাশের মসজিদ হতে যোহরের আযান ভেসে আসছে।কারখানার কর্মচারী এক জন ঐ করিম মিয়া আর একজন অপারেটর।অপারেটর এখনো কারখানায় আসেননি তাই সে দুপুরে খেতে বাসায় যাবেন বলে ছেলেটি অজয়কে একটু বসতে বললেন।

-ছোট ভাই তুমি একটু বসো আমি বাসা থেকে আমার আর কারিগরের খাবার আনতে যাবো।এসেই তোমার কাজটি হাতে নেব।বসবে একটু?
-হ্যা হ্যা সমস্যা নেই।
করিম কারখানা থেকে বের হতে আলতু ভাবে হাত পড়ল রোবটির উপর।চমকে উঠে সে যেন হাতে বিদুৎ এর সর্ট খেল।হাতটি হঠাৎ সরিয়ে ফেলেন।তারপর রোবটটির দিকে ভাল করে তাকালেন।
-বাহ্ পুতুলটিতো বেশ সুন্দর।তবে এর বডি এতো গরম কেনো?
-আরে ও কিছু না অনেক সময় চালিয়েছিতো তাই ওর বডি একটু গরম হয়েছে এই আর কি।
-ও আচ্ছা!ঠিক একটু খেয়াল রেখ।
মাথা নাড়ালেন অজয়।পাশে বসা অয়ণও সায় দিলেন।লোকটি বেরিয়ে যাবার সাথে সাথে রোবটের মেমোরিতে রাখা প্রশ্নগুলো চেঞ্জ করে নিজের পশ্চাৎদেশ হতে প্রিন্ট হয়ে বের করলেন দুটো কাগজ।তারপর সে লকারের লকের দিকে লক্ষ্য করলেন।খুলে গেল লকারের তালা।সেই লকারের ভিতর হতে আসল প্রশ্নপত্র বের করে রোবটের চেঞ্জ করা প্রশ্নপত্র ঢুকালেন।অতপর মার তালা।লকার ঠিক আগের মতই হয়ে গেল।ওদের কাজও আপাতত শেষ।এরই মধ্যে লোকটি  খাবার নিয়ে চলে এলেন।
-কি খবর ছোট ভাই কেউ আইছিল?
-না,
-আচ্ছা তোমার কাজটি দাও
-না মানে এই যে একটা পোষ্টার ছাপাবো এই রোবটের ছবি দিয়ে।কত কি দাম পড়বে তাই জানতে এলাম।
-ও আজকে অর্ডার দিবে না?
-না শুধু টাকা কত লাগবে তা জেনে আগামীকাল এ্যাডভান্স নিয়ে আসব।
-একশ ছাপাতে মিনিমাম তিন হাজারে পড়বে।
-ও আচ্ছা আজ তাহলে আসি।
-ঠিক আছে।
-ধন্যবাদ
রোবট যখন লোকটিকে ধন্যবাদ দিলেন তখন লোকটি অবাক হয়ে গেল।লোকটি কোন কিছু বুঝার আগেই অজয় রোবটটিকে দ্রুত ব্যাগে ভরে কাধে নিয়ে দোকান হতে বেরিয়ে পড়ল।

“ও আমার দেশের মাটি তোমার পায়ে ঠেকাই মাথা”মনের আনন্দে ভাঙ্গা ভাঙ্গা শব্দে চমৎকার গান গাইছেন রোবটটি।অজয় তাকে কাধে নিয়ে নিউ মার্কেটের দিকে গেল।জনগণের কত টাকা যে আছে তা মার্কেটগগুলোতে না এলে বুঝা যায় না।গানের তালে আনন্দে অজয় অয়ণও কম যায় না।রীতিমত অয়ণতো চলন্ত গাড়ী রাস্তায় ব্র্যেক ডেন্স দিতে দিতে হেটে যাচ্ছে।তা দেখে অনেকে মোবাইল ক্যামেরায় ছবি তুলছেন।এর মধ্যে ব্যাগে থাকা রোবট অজয়কে বলছেন।
-বন্ধু!আমার অবস্থাতো খারাপ।
-কেনো?কি হয়েছে?
-আমাকে যেতে হবে।
-মানে!
রাস্তার পাশে একটি ল্যাম্প লাইটের খাম্বার পাশে থমকে ধাড়ালেন অজয় ও অয়ণ।এর পর ব্যাগটিকে চোখ সম্মুখে ব্যাগের আংটায় হাত দিয়ে ঝুলিয়ে ধরে কথা বলছেন।
-মানে কিছু নয়।এটা কেবল আমার জগতের নিয়ম অন্যেদের কি নিয়ম জানি না ।কেউ দুদিনের বেশী এলিয়েন জগতের বাহিরে অনুপস্থিত থাকতে পারবে না।আমিতো দুদিন পার করে দিচ্ছি।ইতিমধ্যে আমার মেমোরিতে রেড এলার্ড এসে গেছে।
-ও আচ্ছা তুমি যে এখানে মানে পৃথিবীতে এসেছো তোমাদের কেউ কি জানেন না?
-সবাই জানেন না,তবে আমার লিডার জানেন।তার সাথে চ্যালেঞ্জ করেছি পৃথিবীর মানুষের সাথে আমি মিশবো তেমনি ভাবে যেমনি তোমরা তোমাদের দৈনিক কাজ কর্ম সহ সাংসারিক হও।লিডার বলেছিল পৃথিবীর মানুষ অনেক খারাপ অনেক ভয়ংকর।অনেক চালবাজ দয়া মায়াহীন।আমি নাকি তোমাদের সাথে মিশলেই তোমরা আমাকে ধ্বংস করে দিবে।তখন আমি তাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম পৃথিবীতে আমি যাবো মিশবো এবং ওদের ভালবাসা অর্জন করতে আমি সক্ষম হবো।আর তার ফলশ্রুতিতে আমি তোমাদের এ সব অপারেসনে নেমেছি।আমি বা আমরা এ মিশনে কামিয়াব হলে নিশ্চয় মানুষ আমাদের ভালবাসবে।ভালবাসা পেতে হলে কিছু দিতে হয়।কি বলো বন্ধু অয়ণ।
-হ্যা অবশ্যই।
-কিছুই করার নেই বন্ধু এখন এই মুহুর্তে আমাকে বিদায় নিতে হবে।তোমরা আমাকে কোন নির্জন স্থানে নিয়ে চল।

অয়ণ অজয় দুজনেই চার দিকে তাকাচ্ছেন।এই ঢাকায় নির্জন নীরব স্থান আর কোথায়!তবুও ওরা একটু নীরব স্থানে গেলেন যেখানে গাড়ীর হর্ণ না বাজলেও টুকটাক মানুষ জনের চলাচলতো আছেই।ব্যাগ থেকে রোবটকে বের করল।রোবট আলোর বিচ্ছুণ যথা সম্ভব কমিয়ে হঠাৎ মিশে গেলেন ঐ দুর আকাশের দিকে।তবুও তার যাওয়ার রেস থেকে যায় বাতাসে।অনেকটা রকেটের মতন সাদা সরু রেখা তৈরী হয় আকাশের বাতাসে।অনেকে তার চলে যাওয়া অস্পষ্ট ভাবে দেখে ফেলেন।তবে আন্দাজ করতে পারেননি কিছুক্ষণ আগে এখানে প্রকৃত কি ঘটনা ঘটেছিলো।শুধু বিঁজলির মত চঁমকাতে দেখলেন।টিভি সাংবাদিকক ক্যামেরা ম্যানরা তার চলে যাওয়া পদ চিহ্নটি ভিডিও করছেন।প্রত্যাক্ষ স্বাক্ষীর জন্য এর মধ্যে এক জন সাংবাদিক টিভি ক্যামেরা নিয়ে তাদের সামনে এলেন।
-তোমরাতো এই আলোর নিকটবর্তীই ছিলে তা তোমরা কি কোন কিছু দেখেছো?
ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল অজয় ও অয়ণ।কি বলবে তারা!
-না মানে কিছুইতো দেখলাম না।
-ও আচ্ছা!
-ভাই আমাদের একটু তাড়া আছে।আমরা গেলাম।
এরই মধ্যে আরো অনেক টিভি ক্যামেরাই তাদের সামনে আসছিলো।কিন্তু তারা অত্যান্ত কৌশলে তা এড়িয়ে দ্রুত সেখান হতে প্রস্থান নিল।

দুদিন পর:
এস এস সি পরীক্ষা শেষ হয়নি চলছিলো।বাকী বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপর।এরই মধ্যে শহরে একটি প্রভাবশালী লোকের সাথে ঝগড়া হলো শিক্ষামন্ত্রণালয়ের পিয়নের সাথে।বিষয় ছিল প্রতারণা করা।ঝগড়াটি এক সময় এমন এক পর্যায়ে চলে যায় দ্বিতীয় দফায় পিয়নকে এমন ধোলাই দিলেন সেই প্রভাবশালী ব্যাক্তির লোকজন যা তাকে হাসপাতালের বেডে শুইতে বাধ্য হয়েছিলো।এর পর পরই মিডিয়ার মাধ্যমে ঝগড়ার কারনও স্পষ্ট হয়।প্রশ্ন ফাসে জড়িতদের সংখ্যা মানে টাকার ভাগ বাটোয়ারের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

এক সময় বেড়িয়ে আসে থলের কালো বিড়ালটিও।সরকার বিপাকে পড়লেন।কারন প্রশ্ন ফাসঁ ছিলো বাঙ্গালী জাতি ধ্বংসের পায়তারা।

যে জাতি যত শিক্ষিত সে জাতি তত উন্নত কথাটি সুশিক্ষায় কুশিক্ষা বা নকল করে নয়।শিশু কিশোদের মনে রাখা বাঞ্ছনীয় লেখা পড়া কেবলি চাকুরী বাজারের জন্য নয় লেখা পড়া নিজ জ্ঞান অর্জনের জন্য বেশী অপরিহার্য।নকল বা প্রশ্ন পত্র ফাস হওয়া প্রশ্নপত্র দিয়ে কেবল মাত্র পাস হওয়া যায় কিন্তু সুশিক্ষিত হওয়া যায় না আর এ ভাবে পরীক্ষা দেয়া মানে নিজেকে নিজের বিবেকের কাছে অপরাধী করা তাই এ সব নকল বা প্রশ্নপত্র ফাসঁ হওয়া প্রশ্নগুলোকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে এসো না বলি সত্য সুন্দর জ্ঞান অর্জনের পথে চলি।

এর পর আসছে বিভিন্ন এলিয়েন সম্পর্কে চমৎকার কিছু তথ্য সহ ভিন্ন আরেক বিষয় ।

চলবে

২য় পর্বটি পড়ুন

১৩৩জন ১৩৩জন
0 Shares

২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য