এসএসসি পরীক্ষা বনাম সংগীত সন্ধ্যা

শাহরিন ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ০৬:২৯:২৭অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ১০ মন্তব্য
  • কি সুন্দর একটি গান। হিন্দি গান। ও না-যা, পারিন্দে ঘার আ-যা……..
  • পুরো গান আর কথা গুলো আমারও অনেক পছন্দের। মাঝে মাঝে আমিও শুনি। অনেক কিছুই ভাবি এই গান টা শুনতে শুনতে।  আমার ঘরের অন্য কারো গানটি অতো পছন্দের না। মানে ঘরের মানুষ হিন্দি গান একটু কম পছন্দ করে এই আরকি। এর জন্য অল্প সল্প সাইন্ডে শুনি, আবার মাঝে মাঝে কানে হেডফোন দিয়ে শুনি। কারন ভালো লাগার মানুষদের অত্যাচার করা ঠিক না নিজের পছন্দের জন্য।
  • এখন ব্যাক্তিগত প্রসঙ্গে এতোটা বলার কারন হলো। পাশের বাড়ীর বিয়ে এবং সংগীত অনুষ্ঠান নিয়ে। অবশ্যই ছেলে মেয়ে বড়ো হয়েছে। লেখা পড়া করে স্বনির্ভর হওয়ার পরেই তাদের বিয়ের আয়োজন।  কিন্তু সম্মানিত প্রতিবেশী রা ভূলে গিয়েছেন যে এসএসসি পরীক্ষা চলছে। কতো প্রতীক্ষার পর নিজেদের জীবনের স্মরনীয় একটি দিন আজ তাদের। স্কুল, প্রাইভেট পড়া কোচিং এর পিছনে কতো সময় ব্যায় করে তারা এই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আত্বীয় স্বজনের সাথে দেখা করা, কোথাও বেড়াতে যাওয়া, অনেকে হয়তো আয়নায় দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখেওনি এই পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য। যারা লেখাপড়া করেছেন তারা যানেন এই পরীক্ষা কতো গুরুত্বপূর্ণ একজন শিক্ষার্থীর জন্য। নিজেদের সন্তানের হয়তো লেখাপড়া শেষ, কিন্তু এই পরীক্ষার্থীদের কথা একটু ভাবুন। এদের ও তো বিয়ে শাদী করতে হবে!

 

  • ঠিকমতো না পড়লে কিভাবে পাশ করে ভালো চাকরি করে বিয়ে করবে। লেখাপড়া নিয়ে না ভাবলেও বিয়ে নিয়ে ভাবেন অন্তত। পারিন্দে ঘার আ-যা এই গানের সাউন্ডে আমার ঘরে থাকা দায় হয়ে গিয়েছে। আমার সন্তান পরীক্ষার্থী না।  কিন্তু সে স্কুল থেকে ফিরে একটু বিশ্রাম নেয়। সে বিশ্রাম বাদ দিলাম। অনেক বয়স্ক মানুষ আছেন যাদের বেশি সাউন্ডে কানে সমস্যা হয়। যারা একটু স্পর্শকাতর ঘুমের ব্যাপারে তাদের কথা ভাবুন। যাদের উচ্চ রক্তচাপ রোগ আছে তাদের কথা ভাবুন। কাল ও প্রতিবেশী একজন মারা গিয়েছেন, দু-এক বাড়ী পরেই, তাদের মনের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করেন। বলতে কি পারবেন যে আপনাদের বাসার এমন কেউ নেই? আপনার বাসার কেউ অসুস্থ থাকলে তার কানের সামনে কি এভাবে উচ্চ শব্দে গান ছেড়ে দেন!

 

 

  • আজব!!! আপনাদের বিবেক নিয়ে। এতো বড়ো একটি এলাকায় এভাবে উচ্চ শব্দে গান বাজানোর মানে কি! বলবেন আমার আনন্দ তে আপনার হিংসা হয় বা কেনো আমার আনন্দ কে আপনার আনন্দ মনে করেন না। পাশের বাড়ীর মানুষকে দাওয়াত দিবেন না আবার তাদের জোর করে গান শুনিয়ে আনন্দ দিতে চান 🤣।

 

  • আমরা দিন দিন খুবই স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছি। শুধুই নিজের কথা ভাবী। একজন এর কোন সমস্যা হলে অপরজন ভাবি আমার তো কোন সমস্যা নেই। উল্টো ভুক্তভোগীর পাশে কেউ দাড়াতে চাইলেও তাকে নিরুৎসাহিত করি। বলি আপনার তো সমস্যা হয়নি আপনি কেনো ঝামেলায় জড়াচ্ছেন!!! একটুও ভাবি না যে কাল আমারও কোন সমস্যা হবে না এটা বিধাতা আমাদের আগে জানিয়ে দেয়নি। এটাও ঠিক যে সবাইকে খুশী করা বা সবার উপকার করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কেউ বেচারা হয়েই থাকতে চান কারো দ্বারা উপকৃত হতে চান না। আবার কেউ কেউ আছেন উপকার প্রত্যাশা ভিন্ন। যেমন বাসে একজন ভাড়া দিতে পারছেন না। বাস কন্টাক্টর দূরে বলে। বাস কন্টাক্টর আর সেই যাত্রীর মাঝখানে আমি। ভাবলাম তাকে সাহায্য করি তার হাত থেকে ভাড়া নিয়ে কন্টাক্টর কে দেয়ার সময় ওই যাত্রীর হাত থেকে দুই টাকার কয়েন পরে গেলো, আহা!!! সে কি চাহনি!! আমি ভয়ই পেয়ে গেলাম। তখনও জানতাম না কতো টাকার কয়েন ছিল। পরে আরেকজন তুলে দেয়ার সময় দেখলাম দু টাকা। কয়েন ফেরত পাওয়ার আগ পর্যন্ত ভাবছিলাম বলবো যে কতো টাকা? আমি দিচ্ছি। কি বাচা টা যে বেচেছি। ভয়ে ওই যাত্রীর দিকে তাকাইনি। কিন্তু মনে হয়েছে কন্টাক্টর আমার মনের অবস্থা বুঝতে পেরেছে। এমন কঠিন সময় অতিবাহিত করার পর আমি সে বিয়ে বাড়িতে যেয়ে গান বন্ধ করতে বলার সাহস রাখিনা। জানি গেলেই প্রশ্ন করবে  আপনার বাসায় কে পরীক্ষার্থী? ভূল ভাল বলার অভ্যাস ও নেই। এরজন্য আশাবাদী  যাদের বাসায় শিক্ষার্থী বা এসএসসি পরীক্ষার্থী আছে  তারা কেউ যেয়ে উনাদের সাথে কথা বলবেন। কথা বলার সময় অবশ্যই মনে রাখতে হবে চোরের মায়ের বড়ো গলা।

 

  • আর আমি শুনতে থাকি বিয়ে বাড়ির নতুন গান ” পার্টি আভি বাকি হে”
১৬৫জন ৪৮জন
0 Shares

১০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ