এলোমেলো স্বপ্ন গুলো (ম্যাগাজিন)

রেজওয়ান ৯ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ০২:০৪:০৯অপরাহ্ন গল্প ৩০ মন্তব্য
  1. ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে সদ্য মাস্টার্স করেছে! কয়েকটা টিউশনি করছে পাশাপাশি ভাল চাকরীর জন্য বিভিন্ন যায়গায় ইন্টার্ভিউ ও দিচ্ছে কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। এদিকে এবার নিয়ে তিন বার বিসিএস ও দিয়ে দিলো! প্রতিবার ই লিখিত পরীক্ষায় পাশ করলেও কোনো এক অজানা কারণে ভাইভায় পাশ করা হয়ে উঠেনা। এদিকে স্নিগ্ধা ও বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে। ওর ও যে অনার্স শেষ হয়ে আসছে, বাসা থেকে বিয়ের কথা শুরু হয়েছে! কতদিন অপেক্ষা করবে রনির জন্য? এইতো গত কালই দেখা হলো বাজার করে ফেরার সময়। শুধু তাকিয়েই ছিল ফ্যাল ফ্যাল করে কিছু বললো না! বাসায় এসে কল দিতেই বললোঃ
    রনি এভাবে আর কত দিন? চুপ করে রইলো। কি বলবে? সেতো চেষ্টার ত্রুটি রাখছে না!

-এই রনি! কথা বলছো না কেন?
-কি বলবো বল? আমি তো চেষ্টা করছি ই তাইনা?
-হুম! কাল ফ্রি আছো? বাসায় থাকবা?
-হুম কাল কয়েকটা ব্যাংকে ইমেইল করবো জবের জন্য। একটা ইন্টারভিউ আছে সকালে ১২টার আগেই শেষ হবে এরপর ফ্রি ই আছি!
-আচ্ছা! আমি দশটার পর আসবো তোমার বাসায়!
-আচ্ছা এসো। রাখছি এখন, রান্না করবো বলেই রেখে দিলাম। আসলে রান্না করা হয়ে গেছে! রুমমেট করলা ভাজি, ডাল আর ভাত রান্না করেছে। করলা ভাজির সাথে সে কিভাবে যে ডালের সংমিশ্রণ করে বুঝি না। আমার কাছে ডালের সাথে করলা মেশালে বেশি তিতা লাগে!

অগত্যা ডিনার সেরে সিগারেট জ্বালিয়ে বারান্দায় এসে বসলাম! কিছুদিন পর আবার বিসিএস পরীক্ষা,পড়তে হবে। এবার চাঞ্চ না পেলে সব ভেস্তে যাবে কিন্তু একদমই পড়ায় মন বসছে না। মাথায় অনেক চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। স্নিগ্ধাকে দেখতে ইচ্ছা করছে। মেয়েটাকে যে অনেক ভালবাসি। কিন্তু বুঝাতে পারি না। এই ভবতে ভাবতে কখন যে চেয়ারে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে গিয়েছি মনে নেই! সিগারেটের ফিল্টার পুড়ে নিভে গেছে আমি জানি ই না! ফোনটাও রুমে ছিলো, রাত দুইটার দিকে রুমমেট ডেকে তুলে ফোনটা দিয়ে গেলো।

বাঁ চোখ খুলে সবে স্ক্রিনটা অন করেছি অমনি স্নিগ্ধার কলে ফোন ভাইব্রেট করে পরে গেল হাত থেকে! হুরমুড় করে ফোন তুলে রিসিভ করে হ্যালো বলার আগেই ওপাশ থেকে-
-ওই পোলা ওই!! কই ছিলি এতক্ষণ? এত্তবার কল দেওয়ার পরেও ধরিস নাই! কানে কি ময়লা জমছে শালা? কিরে কথা কছ না ক্যা?

আলতো রাগান্বিত কিন্তু মধুর কন্ঠের ঝাড়ি শুনেই যাচ্ছি! কথা বলতে ইচ্ছা করছে না শুধু শুনতেই ইচ্ছা করছে!
-কিরে কথা কবি না?
– হুম বলবো।
-তাইলে কছ না ক্যা?
– আচ্ছা বলো তো যখন স্বাভাবিকভাবে কথা বলো তখন কত সুন্দর করে কথা বলো। শুনে মনে হয় ভাষাটা যেন তোমার মুখ থেকে বেরুনোর জন্যই তৈরি হয়েছিলো। আবার যখন রাগান্বিত স্বরে কথা বলো তখন শুনে মনে হয় এই ভাষাটা একটা আর্ট একটা শিল্প মনে হয় এমন আর্ট অন্য ভাষায় পাওয়া দুষ্কর। যদিও সবার মাতৃভাষাই হয়তো এমন!
-ওই সাহিত্য কপচানো রাখবি? শোন ইম্পরট্যান্ট কথা আছে তোর সাথে! দেখা করতে পারবি এখন?
-আচ্ছা তা না হয় করলাম তবে তুই তুকারি করছো কেন? আমি তোমার হবু স্বামী ভুলে যাচ্ছো?
-আচ্ছা আচ্ছা হয়েছে, ফ্রেশ হয়ে বাসায় চলে আসো, খুধা লাগছে খুব। পাস্তা রান্না করেছি আমি। তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।
-রাত দুইটায় অপেক্ষা করছি মানে! তাও তোমার বাসায়? বাসায় কেউ নাই? তোমার খারুস বাবাতো আমায় দুঃচোক্ষেই দেখতে পারে না।
-না বাসায় কেউ নেই থাকলেতো আর বাসায় আসতে বলতাম না কোনো হোটেল রুমই বুক করলাম। তোমার সাথে জরুরি কথা আছে বাবা-মা হুট করে ঘন্টা খানেক আগে বের হয়েছে বললো গ্রামে যাবে কি যেন জরুরি কাজ আছে। আমি জানি হিমেল ইউকে থেকে ফিরছে আজকেই তাই এয়ারপোর্টে গেছে ওকে নিয়ে সোজা গ্রামে যাবে। যাইহোক তুমি তাড়াতাড়ি আসো কথা বলবো কিছু বিষয়ে।
-আচ্ছা আচ্ছা ফোন রাখ! ঘন্টা খানেকের মধ্যেই আসছি বলে ফোন কেটে সিগারেট জ্বালালাম।

আসলে আমি চাইনা বিয়ের আগে একসাথে এক রুমে এক খাটে থাকা ও ঘুমানো কিন্তু মেয়েটাকে অনেক ভালবাসি তাই বলতেও পারি না কিছু। যদিও একদিন খুব কড়া কড়া কথা শুনিয়েছিলাম তখন কাঁদো কাঁদো স্বরে বলেছিলো এভাবে বকা দিলে মরে যাবো! আমি তোমাকে স্বামী হিসেবেই মেনে নিয়েছি। এর পর থেকে অনচ্ছা সত্যেও যাই। কোথাও ঘুরতে গেলে স্বামী-স্ত্রীর মতই থাকি।

আরো দশ মিনিট ন্যাপ নিয়ে রাত দুপুরে গোসল করে বের হলাম সিএনজি খুজতে! এই সময় কি অত সহজে সিএনজি বা রিক্সা পাওয়া যায় ঢাকা শহরে!! ভাগ্যগুণে একটা ইজি রিক্সা পেয়ে গেলাম। কলাবাগান থেকে ধানমন্ডি ২০০ টাকা চাইলো সাথে আছে ১৭৫ তা দিয়ে এই সপ্তাহ চলার চিন্তা করছিলাম কিন্তু তা আর হলো কই? দর দাম করে ১৫০ টাকায় চলে গেলাম স্নিগ্ধার বাড়ির নিচে। বিশাল পাঁচতলা বাড়ি প্রতিটা ফ্লোরে ছয়টা ইউনিট তবে ওরা স্পেশাল করে তৃতীয় তলা পুরোটা নিজেদের জন্যই করেছে।

বাসার নিচে এসে দেখি মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে আমার জন্য। ভাড়া দিয়ে বাসায় গেলাম সোজা ডাইনিং রুমে। শুধু পাস্তা না পিৎজাও করেছে।

জিজ্ঞাসা করলামঃ
-আচ্ছা রাত দুপুরে খুধা লাগাটা স্বাভাবিক তাই বলে এত ভাড়ি খাবার?
-কেন? খেতে ইচ্ছা করছে না? আমি খাইয়ে দিবো?
-আমিতো ডিনার করেছি। তাছাড়া এত বড় বাসায় বড়লোকি খাবার আমার গলা দিয়ে নামে না এটা তুমি ভাল করেই জানো! আচ্ছা বলোতো তোমার বাবা এত বড় বাড়ি করলো কিভাবে? ঘুস ছাড়াতো সম্ভব না!
-এত কথা বলো কেন? আম খাও আমের আঁটি গুনার দরকার নেই। তোমাকে যে জন্য আসতে বলেছি তাই শুনো। বাবা ঠিক করেছেন হয় হিমেলের সাথে বিয়ে দিয়ে বিদেশ পাঠিয়ে দিবে না হয় কোনো বিসিএস ক্যাডারের সাথে।
-আমি কি কম চেষ্টা করেছি বা করছি বলো? তিনবার রিটেনে পাশ করেও টিকতে পারিনি এটা কি শুধু আমারই দোষ?
-দোষের কথা বলিনি তবে এবার কিছু না হলে আমাকে ভুলে যেতে হবে তোমার আমার কিছু করার নেই বাবার অমতে আমি কিছুই করতে পারবো না।
-আচ্ছা খাও এখন দেখা যাক কি হয়, এমনিতেই অনেক টেনশনে থাকি তুমি বাড়াইয়ো না প্লিজ।

খাওয়া শেষে রনি বারান্দায় গিয়ে সিগারেট জ্বালায়। কিছুক্ষণ পর স্নিগ্ধা দু কাপ কফি নিয়ে রনির পাশে এসে দাঁডায় বলেঃ আচ্ছা রনি আমি যদি কখনো তোমাকে ছেড়ে অনেক দূরে অন্যকোথাও চলে যাই কি করবে তুমি? রনি কাপ দুটো রেলিংএর উপর রেখে বাঁ হাতে স্নিগ্ধার চুলের মুঠি ধরে বলে “ভাগ্যের নির্মমতা মেনে নিয়ে বেশ্যা বলে গালি দিবো তোকে!” এই কথা কখনো বলিস না প্লিজ। কলিজায় ছ্যাঁত করে উঠে। খুব কষ্ট হয়রে। এভাবে বলিস না প্লিজ! দেখেনিস আমি বিসিএস ক্যাডার হবোই। অনেক ভাল প্রিপারেশন নিচ্ছি একটু সময় দে আমায়। ছেড়ে যাস না কোথাও..

সকাল নয়টা,ফোনের এলার্মে ঘুম থেকে উঠে রনি বিছানায় আধো শোয়া অবস্থা দেখে স্নিগ্ধা পাশে নেই। সামনের ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে ভেজা চুল আঁচড়াচ্ছে একমনে আর গুনগুন করে গাইছে আয়নাতে ওই মুখ দেখবে যখন..

রনি ড্রেসিং টেবিলটার কাছে গিয়ে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলে উঠলো- স্নিগ্ধা! আমাকে ছেড়ে যাবেনাতো ! ক্লান্ত গলায় শুধু বলে উঠে- উহু!
ফের প্রশ্ন করে রনি – আচ্ছা তোমার কি ঘেন্না লাগেনা?
স্নিগ্ধা চুল আঁচড়ানোতে ক্ষান্ত দেয়। মেঝের দিকে তাকিয়ে থাকে..
বলে- নাহ ঘেন্না লাগবে কেন! আমিতো চাই তুমি আমাকে আজীবন এমনি করেই আদরে রাখ। চির বন্দোবস্ত করে নাও। তখন আর কষ্ট করে তোমার ঐ অমূল্য নির্যাস মেঝেতে ফেলতে না হয়। থাকবে আমার শরীরে..একটু একটু করে বড় হবে আমাদের ভালবাসার নিদর্শন। তুমি তাড়াতাড়ি কিছু একটা কর রনি। আমি তোমাকে হারাতে চাই না তবে বাবার অমতের বিরুদ্ধে আমি কিছুই করতে পারবো না রনি…

চুপ করে জড়িয়ে ধরে শুনছিলো স্নিগ্ধার কথা হঠাৎ ওর বাবার কথা শুনেই মনে পরলো ফ্রেশ হয়ে বেরুতে হবে। কখন আবার খাসুসটা এসেপরে কে জানে? স্নিগ্ধার কপালে আলতো চুমু দিয়ে রনি ওয়াশরুমে যায়। দ্রুত ফ্রেশ হয়ে জামাকাপড় পড়ে স্নিগ্ধার কাছথেকে ৫০০ টাকা নিয়ে বেড়িয়ে যায়। রনি রিক্সাকরে আসতে আসতে ভাবে যদি স্নিগ্ধাকে যদি চিরতরে ঘরে বউ করে রাখা যেত! কিন্তু সেটা কি করে সম্ভব এখন? বিসিএস ছাড়া বা বিদেশি ডিগ্রী ছাড়াতো স্নিগ্ধাকে পাওয়া সম্ভব না ভাবতেই চোখ ছল ছল করে উঠে রনির। স্নিগ্ধাকে নিয়ে প্রতিটা মুহূর্ত তার দুশ্চিন্তায় কাটে ওর। দুজনতো দু মেরুর মানুষ। এই পৃথিবীতে দুই সমাজের মানুষের সাথে যত অমিল, বা বিচ্ছেদ হয় হয়তো ততটা হয়না দুই ভীন গ্রহের প্রাণীরও!

২০১৫ সাল থেকে রনির সঙ্গে তার সম্পর্ক। তিনটা বছর পেড়িয়ে গেছে। এই তিন বছরে দুজন বিশিরভাগ রাত ব্যতীত এক সঙ্গেই কাটিয়েছে পুরো সময়। খাওয়া,ঘোরা, আড্ডা দেওয়া সব করেছে এক সাথে। একজন আরেকজনের প্রতি প্রচন্ড দূর্বল। কেউ কারো সঙ্গে কথা না বলে থাকতে পারেনা, দেখা না করে থাকতে পারে না। কিন্তু পরিস্থিতি আজ অনেক ভিন্ন। কি করবে রনি বুঝে উঠতে পারে না। তবে যেকোনো মূল্যতে সে স্নিগ্ধাকে স্ত্রী রূপে পেতে চায়। চায় ভাল ও খারাপ দুই সময়ই স্নিগ্ধা পাশে থাকুক। ও ই যে রনির বেঁচে থাকার নির্যাস! কিন্তু স্নিগ্ধার পরিবার এটা বুঝে না। রনিকে পছন্দ করে না। কেন করবে না আছে পারিবারিক নাম সম্মান বা অঢেল অর্থ। বাবা যে ছিলেন গ্রামের গরীব কৃষক মারা গিয়েছেন বছর সাতেক আগে। আর মা গত বছর। এই তিন কুলে রনির কেউ নেই একমাত্র স্নিগ্ধা ছাড়া তাই হয়তো ভয় ও ভালবাসা এক সাথে কাজ করে রনির আত্মায়..

এইতো গত সপ্তাহে বিসিএস দিয়ে এল রনি চতুর্থবারের মত। তবে এবার রনি বেশ খুশি মিলিয়ে দেখেছে বেশিরভাগ প্রশ্ন নির্ভুল ভাবে উত্তর দিয়ে এসেছে। অনেক সেটিসফাই সে, এবার যাই হোক না হোক জবটা হবেই। হবে না কেন সেভাবেইতো কষ্ট করেছে সে। কতকিছু সেক্রিফাইজ করেছে। আজ স্নিগ্ধাকে বলেই দিবে যদি এবারের বিসিএস পরীক্ষায় এক জন পাশ করে তাহলে আমিই করবো। দ্রুত বিয়ে করে রাঙা বউ করে নিয়ে আসবো আমার ছোট্ট কুটিরে! ভেবেই বেশ কয়েকবার কল দিলো স্নিগ্ধাকে কিন্তু সে রিসিভ করছে না।

ঘড়ির কাঁটায় বিকেল চারটা। লাঞ্চ করে স্নিগ্ধাকে আবার কল করছে বেশ কয়েকবার কিন্তু সে কল রিসিভ করছে না। কল করতে করতেই রনি বাসায় ফিরে তবুও স্নিগ্ধার খবর নেই। রনি বাসায় এসে ফ্রেস হতে ওয়াশরুমে যায়, গোসল করে এসে দেখে স্নিগ্ধা শুধু একটা মেসেজ দিয়েছেঃ “আমাকে আর কল দিও না। আমি সকালে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি। যদি পারো আমায় ক্ষমা করো”

মাথা ঘুরে উঠে রনির। এসব কি বলছে স্নিগ্ধা!! আবারো কল দেয়! এবার কল রিসিভ করেই কাঁদতে থাকে স্নিগ্ধা কিচ্ছু বলে না..এদিকে রনি হ্যালো হ্যালো করেই যাচ্ছে…ব্যালেন্স শেষ হয়ে কখন কল কেটে গেছে রনি জানেনা। স্নিগ্ধাও কল ব্যাক করেনি…

ছোটখাটো রনিটা এখন বিসিএস ক্যাডার। লাল সাইরেন লাগিয়ে দেশের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ঘুরে বেড়ায় কিন্তু স্নিগ্ধাকে খুজে পায় না। আসলে দুজনের আর কোনদিন যোগাযোগ হয়নি!!

আজ পদ্মা নদীর ধারে দাঁড়িয়ে রনি। পরন্ত বিকেলের কোমল হাওয়ায় এলোমেলো ঝাঁকড়া চুলগুলো উড়ছে। বাতাসে কেমন যেন একটা পরিচিত গন্ধ! কিন্তু বুঝার আগেই গন্ধটা মিলিয়ে যায়। ইদানিং এ শহরটা খুব ফাঁকা লাগে তার কাছে অপরিচিত মনে হয়। রনি ছলছল চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে সিগারেটের ধোয়া ছাড়তে ছাড়তে অস্ফুট স্বরে বলে- “বেশ্যা”

😇বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে!

✌ছবিঃ গুগোল!

৪১১জন ১৪৮জন
41 Shares

৩০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য