অতৃপ্ত জীবন…ভালবাসা০৭

মনির হোসেন মমি ২৮ ডিসেম্বর ২০১৩, শনিবার, ১১:৫৫:৪০পূর্বাহ্ন বিবিধ ১৩ মন্তব্য

সূর্য্যের কাছা কাছি

যেতে নাহি হয়,পুড়ে হবে আঙ্গার

সমুদ্রে দিবে না সাতারঁ

পাবেনা কোন কুলের কিনারা।

সময় যখন হবে আসবার

আসবে,ধরা দেবে সে তোমার মায়ার জালে

গ্রহন করবে তোমার ভাল লাগা না লাগার

প্রস্তাবিত অনুমতি।

অতৃপ্ত জীবন….ভালবাসা ০৬>> http://www.sonelablog.com/archives/9661

মন এখন রঙ্গীন নেশায় মাতাল।একটি ভালবাসার মরনে হাজারো ভালবাসার উকিঁ।প্রথম প্রেমিকার ফুফাত বোন অনন্যা, যতই সময় যাচ্ছে ততই যেন তার মন মানষিকতার পরিবর্তনের সাথে দৈহিক পরিবর্তনও যেন ঈর্ষনীয়।কালো কুকঁরানো কেশেঁ যেন সমুদ্রের ঢেউ খেলে,ডাগর কাজল কালো আখিঁ যেন যে কোন পুরুষকে কাত করা তার চোখের বিজলী।প্রায় সময় সে গুড়ে যায় আমার রুমের পাশ দিয়ে চলন- বলনে ইঙ্গিত দেয় ভালবাসার উঞ্চ আবেদন।আজ বেশীক্ষন সময় পাবনা ঘরে থাকতে হাতের কাজটি শেষ করে চলে যেতে হবে স্কুলের মাঠে।কাল যে ১ জানুয়ারী ১৯৯৩ সাল আমাদের রেবতী মোহন স্কুলের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে একটি মেলা।নাম দিয়েছে শিক্ষামেলা।স্কুল কলেজের শিক্ষনীয় কিছু মঞ্চস্হ করা এবং মাঠের চার পাশে তৈরী করা হয়েছে বিভিন্ন পণ্যের স্টল।আমি সে সময় বি এন পি’র অঙ্গ সংগঠন জিসিস এর থানা সাংগঠনিক সম্পাদক এবং থানা ছাত্রদলের আহবায়ক সদস্য।স্বভাবত কারনে আমার স্টল নিতে হবে দলীয় ভাবে কিন্তু মেলা কমিটির নিষেধ আছে রাজনৈতিক কোন স্টলের অনুমতি দিবেনা কাউকে।কিন্তু আমার দুটো স্টলের একটিতে বই এবং অন্যটিতে ফুল বিক্রির দুটো স্টলই আমি পেয়ে যাই।”কমল”জিয়া উর রহমানের ছোট বেলার ডাক নামে একটি স্টল অনুমতি দেয় সম্ভবত মেলা কমিটি নামটা ধরতে পারেনি “কমল”কার নামে ।তাছাড়া সে সময় বি এন পি ছিল ক্ষমতায়।আর প্রতিদিনই কোন না কোন মন্ত্রী,নামজাদা কোন ব্যক্তি মহোদ্বয়ের অতিথী ভাষনে মেলা শুরু হবে তা ছিল মেলা কমিটির প্লান।বলা বাহুল্য মেলাটির প্রধান উদ্দ্যেক্তা হলের আমদের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার সুযোগ্য সন্তান মুক্তি যুদ্ধের সাহসী যোদ্ধা জনাব গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ।তার সম্পর্কে আরো একটু পরিচয় দিতে হচ্ছে কাহিনীর খাতিরে।আমার জ্ঞাতার্থে সে প্রথম চেয়াম্যান ইলেকশনে জয়ী হন বিপুল ভোটের ব্যাবধানে।এর পর এরশাদের আমলে হন বাংলাদেশ উপজেলা মহাসচিব,এর পর বি এন পি তে যোগদান করে নির্বাচিত হন নারায়নগঞ্জ চার আসনের এম পি।তার প্রত্যকটি নির্বাচনের নির্বাচনী ব্যায় বহন করেছিল এলাকার জনগণ আর তার প্রয়াত ভগ্নিপতি ঢাকার কমিশনার।বলতে গেলে তার ভাগ্য ছিল রাজকপাল।মুক্তি যুদ্ধের পর জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বহুবার চেষ্টা করা হয়েছিল তাকে দলে নেয়ার এমন কি তাকে সেনাবাহিনী দিয়ে রাতের আধারেও ধরে নিয়ে তিন চার দিন পর আবার ছেড়ে দিত।ব্যাক্তি গিয়াস ছিলেন অমায়িক ব্যাবহার সে যতই অন্যায় করুক তার সামনে একবার কেউ কথা বলতে পারলে সাত খুনও মাফ।তার চেহায় তার বাচন ভঙ্গিতে আল্লাহ এমন কিছু গুন দিয়েছেন যে সে বার বার তার কর্মে সফল হন অথাৎ মানুষকে ম্যানেজ করার ক্ষমতা ছিল তার অসাধারন।তার তত্ত্বাবধানেই শিক্ষা মেলা হচ্ছে রেবতী মোহন মাঠে।এ উপলক্ষ্যে চলে চাদাঁ বাজীর মহরা।প্রগতি ক্লাব থেকে ভাগ করে দেন বিভিন্ন গ্রুপে।যেখানেই যেতাম সেখানেই তার নামের উপর চলত নিয়মের কার্যকারীতা।যদিও চাদাঁ কিন্তু ওটাই ছিল টাকা কালেকসনের  উত্তম পন্হা।মেলার কার্যক্রম শুরু।চারদিকে সাজ সজ্জার রব রব ভাব।উভ্বোধনী ভাষন দেন আমন্ত্রিত অতিথি ভয়েস অব আমেরিকার বাংলার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র গিয়াস কামাল চৌধুরী এর পর তথ্যমন্ত্রী নাজমুল হুদা।এর পর শুরু হয় আমাদের অনন্দের কার্যক্রম প্রায় প্রতিদিনই মেলায় মন্ত্রীদের আগমনে মেলা লোকে লোকারণ্য।প্রতি মন্ত্রীই কমল স্টলে কিছুক্ষন দাড়িয়ে জিয়াউর রহমানের উপর ল বিভিন্ন লেখকের বই দেখেন।মেলাটি ছিল শিক্ষনীয় ।মঞ্চে বাংলাদেশের বিভিন্ন একাডেমী হতে দল এসে মঞ্চকে মাতিয়ে রাখেন রাত দশটা পর্যন্ত।

প্রথম দিন মেট্ট্রিক পরিক্ষার পর সাত পাকে ধরা দিবে এই শর্তে আমার পছন্দের প্রিয়া মিলি মঞ্চে আজ কবিতা পাঠ করবে স্বভাবত আমার আগ্রহটা একটু বেশীই।দোকানের সবচেয়ে বড় মোটা তাজাঁ গোলাপটি তার জন্য পাঠিয়ে দিলাম।মঞ্চে উঠে কবিতা পাঠ করে মাথার খোপায় গোজা ছিল সেই টকটকে লাল গোলাপটি।কবিতা পাঠ শেষে প্রচুর হাত তালি পেয়ে চলে আসে আমার স্টলে সাথে কয়েক জন বান্ধবী ছিল।অত্যান্ত লাজুক স্বভাব ভঙ্গিতে  এক বান্ধবীর পিছনে দু’হাত দিয়ে কোন হিংস্র বাঘের থাবা হতে বাচার চেষ্টায় হরিনের কৌশল অবলম্ভন করে বান্ধুবীর কাধে ফাকে মুখটি জাগিয়ে, বান্ধবী এবং দোকানদারের বইয়ের মুল্য নিয়ে কথা শুনছে আর কে কোনটা পছন্দ করছে তাই বলাবলি করছে।

-ভাইয়া,এই বইটা মিলির,এটা আমার ওটা নুপুরের আর এ গুলো অন্য সব বান্ধবীদের।

প্রায় ৫/৬টি বই ফ্রি বিক্রি হতে চলছে।হায়রে মেয়ে মানুষ ফাও তে  এক পা এগিয়ে।আমার চালানের বারোটা বাজলেও স্বার্থক যে প্রিয়ার হাতে ছিল পদ্মফুল।এর মধ্যে সেলিম চটপটি দোকান হতে প্রায় আট প্লেট চটপটি নিয়ে আসে এখানে নগদ ক্যাস গচ্চাতে কোন রক্ষা নেই।মিলি চটপটি খাচ্ছে আর কি যেন ভাবছে মঞ্চে গানের আসরে ঢাকা হতে আগত শিল্পীদের গান চলছে।”কবিতার মত চোখ যে তোমার,ভাষা খুজে না পাই কোন উপমার”সেলিম চৌধুরীর সেই মিষ্টি রোমান্টিক সুর ভেসে আসে কানে সম্ভবত দু’জনেই সেই সুরে কিছুক্ষন হারিয়ে যাই।

-এই …সুরটা কত সুন্দর, ঠিক যেন সেলিম চৌধুরীই গাচ্ছে।এক বান্ধবীর কথন।

-হ্যা…খুব মিষ্টি….

-কি রে চল একটু ঐ দিকে যাই,মিলি তুই এখানেই থাক আমরা আসছি…..বান্ধবীদের এক এ কথা বলে ওরা চলে গেল অন্যত্র।মিলি আন ইজিতে দাড়িয়ে রইল দোকানের সামনে।দোকানে আর যারা ছিল তারাও এক এক করে কেটে পড়ে।এখন শুধু আমরা দুজন যেন বিধাতার ইশারায় মিলনের ইঙ্গিত।প্রায় দশ পনের মিনিট দু’জনের কারো মুখে কোন শব্দ নেই।হঠাৎ মঞ্চে গানের শেষে হাত তালির শব্দে তাল ফিরে পেলাম।

-কি খবর মিলি তুমি যে কিছু বলছ না।

-কি বলব,আমিতো বলেছি পরীক্ষার আগে কোন কিছু নয়।

-প্রেম ভালবাসা কোন শর্তে হয় না।প্রেম মানে না কোন বাধা,প্রেম বুঝেনা কোন নিয়ম নিতী।

-সুন্দরতো… গুছিয়ে বলেন…বই লিখলেইতো পারতেন।

-ঐটাই বাকী…বক্তিতায় আসে লিখুনিতে আসেনা তাইতো, না হলাম কবি না হলাম কারো ছবি।

-কিছু ছবি আছে মনে বাধানো থাকে স্বযতনে….সময় হলে প্রকাশ্যে আসবে।

-বুঝেছি..এখনও বাকী অনেক প্রতিক্ষার প্রহর ….থাক তবুও যদি  কাছে পাই।

 

সুযোগ যখন পেয়েছি আজ আর সহজে ছাড়ছি না।শুনেছি মেয়েদের রূপের প্রশংসা করলে মেয়েরা নাকি অনেক খুশি হয় তাছাড়া আজ সত্যি মিলিকে খুব সুন্দর লাগছে।স্কুল ড্রেস ছেড়ে আজ সে লাল পাইড়ের নীল শাড়ীটি পড়েছে যা আমার পছন্দ রংয়ের একটি।মেলার চাকচিক্য আলোতে ঝলমল করছে মশৃণ গলা ভরে বুকের মাঝে বিছিয়ে আছে গলার হাড়।কানে ছিল ঝুমকা ফুলের দুল ,কপালে সূর্য্যমূখী লাল টিপ যেন সমস্ত গোধূলী সন্ধ্যার সৌন্দর্য্য ভর কড়েছে প্রিয়ার কপালে।কবি মত বলতে ইচ্ছে করে “চুল তার কবে কার অন্ধকার বিদিশার দিশা,মূখ তার শ্রাবন্তীর কারুকার্য”।এরই মধ্যে বান্ধবীরা এসে যায়।…..রাত যে হল চল বাড়ী ফেরা যাক বান্ধবী ছামা বলেই সাথে মিলি নিয়ে যায়।চোখের দৃষ্টি পড়ে থাকে তার চলার পথে তা ধীরে ধীরে নিস্পিত হতে থাকে আর পুরনো প্রেমের স্মৃতি মনে পড়ে যায়, সেই সোনার গায়েঁ বিউটিকে সঙ্গ দেয়া কিংবা বাড়ীর পাশে অপেক্ষায় থাকা কখন টেপরেকর্ডারে বাজাবো “পাখিরে উড়ে যা ” বিউটির পছন্দের গানটি।কখন বিদ্যুত চলে যাবার ছলে আগুন নিতে আসবে আমার ঘরে।না আর ভাল লাগছে না কিছুতে পুরনো প্রেমের স্মৃতি ভুলতে পারছি না।যতই চেষ্টা করি অন্যত্র অন্য কোন খানে বাসা বেধে সুখি হতে ততই যেন সে কাছে আসে…….মনের অজান্তেই মন কেদেঁ উঠে…….

চলবে

 

 

 

 

৩৪৯জন ৩৪৯জন
0 Shares

১৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য