অতৃপ্ত জীবন….ভালবাসা০৫

মনির হোসেন মমি ২৭ নভেম্বর ২০১৩, বুধবার, ০১:১৯:১২অপরাহ্ন বিবিধ ১২ মন্তব্য

১৬ ই ডিসেম্ভর।বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস।এই দিনটি এলে আমরা বঙ্গালীরা মনে দেশ গড়ার সাহস ফিরে পাই।মনে হয় মুক্তিযুদ্ধের যত কালিমা দুয়ে মুছে দেশটাকে আবার পবিত্র করি।এ দিন পাড়া মহল্লায় চলে বিজয়ের আনন্দ।১৯৭১ সালে হানাদার পাক বাহিনীর সাথে বাংলার দামাল ছেলেরা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবর রহমান এর নেতৃত্ত্বে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে প্রায় ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে এসেছিল এই বাংলাদেশ।এ দিনটা এলে সর্বত্র চলে আনন্দের সাথে শহীদদের আত্ত্বার মাগফিরাত কামনা করা।তেমনি একটি অনুষ্টানের আয়োজন চলে আমাদের “সূর্য্য সেনা ক্লাবের” মাধ্যমে।তখন সম্ভবত ১৯৯২ সাল হবে।ক্লাব থেকে উদ্দ্যেগ নেয়া হল একটি নাটক মঞ্চায়স্ত করা হবে।নাটকের স্কিপ্ট লেখার দায়ীত্ত্ব পড়ল আমার উপর।আমার বহু আগে লেখা একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গল্পকে মঞ্চের জন্য উপযোগী করে ফ্রেস করলাম।নাম “রক্তাক্ত বাংলা”।আমাদের স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির কার্যকলাপ নিয়ে কাহিনী এগুতে থাকে….কিছু লোকের চাপে পান্ডুলিপি হতে কিছু স্কুল বিষয়ক স্পর্শকর বাক্য কাটা কাটি করে নাটকটি মঞ্চস্ত করতে হয়।নাটকে এই প্রথম বাবা চরিত্রে অভিনয় এবং নির্দেশনা দেই।ডিসেম্ভরের শুরুতেই চাদাঁ কালেক্টসনে নেমে পড়ি।অনেকে এখন এটাকে চাদাবাজী বলে কিন্তু আমার মতে সামাজিক কোন আয়োজন দশে মিলে করলে সহজ হয়।যাক কালেক্টসনের পাশাপাশী রিয়ারসালও চলছে।সেই সময় মেয়ে পাওয়া মুশকিল ছিল।তাই ভেবে চিন্তেই পারতপক্ষে মেয়েলী চরিত্র আনিনি কিন্তু যেহেতু মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক এখানে মায়ের একটি চরিত্র রাখতেই হল।এখন প্রশ্ন মেয়ে কোথায় পাব?আমাদের অর্থেরও তেমন সামর্থ নেই যে ভাড়া করব।তাছাড়া আমরা সবাই ছাত্র।অনেক চিন্তা করে ক্লাশম্যাট একজনকে রাজি করালাম এবং তার মা বাবার কাছ থেকে অনুমতিও আনলাম।দিন রাত খেটে সব কিছুর আয়োজন শেষ করে ১৬ই ডিসেম্ভর সন্ধ্যায় মঞ্চস্ত হল।ভয় এবং শংকা ছিল মনে।কেমন যেন হয়,শেষ পর্যন্ত মঞ্চায়স্ত করতে পারব কিনা ইত্যাদি।সকলের সহযোগিতা বিশেষ করে আমাদের বড় ভাই ইব্রাহীম প্রধান এবং চেয়ারম্যান আঃ রব প্রধানের সহযোগিতায় সফল।মঞ্চস্ত দিনের একটি ঘটনা আমার স্মৃতিতে আজও অম্লান সে দিন আমি যেহেতু মুক্তিযুদ্ধা নায়কের বাবা সে অর্থে আমার একটি দৃশ্য ছিল রাজাকাররা আমাকে ব্রাস ফায়ার করে আমি সঙ্গে সঙ্গে জয় বাংলা বলে মাটিতে শুয়ে পড়ি ঐদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে রাজাকার আর পাকীদের সাথে যুদ্ধ চলছে আমিতো মাটিতে মৃত অবস্হায় নিথর হয়ে শুয়ে আছি হঠাৎ মঞ্চের কাছে এক পিচ্চি আর এক পিচ্চিকে বলছে…ঐ ঐ মনির ভাই কি সত্যি সত্যি মরে গেল?আর একজন বলছে…আরে না অভিনয় করে ভ্যান ধরছে ।তাদের মধ্যে তর্ক চলছে হঠাৎ একজন আমাকে খোচা মেরে দেখার চেষ্টা করে সত্যি কি আমি মরে গেছি?আর খোচা মেরেছিল এমন একটি স্হান যেখানে খোচা লাগলে কাতুকুতু লাগে।আমি তৎক্ষনাত নড়ে গেলাম।প্রচুর লোক হয়েছিল এবং প্রশংসাও কুড়াইছিলাম।নাটক শুরুর পূর্বে কিছু স্টেজ গুছানো কাজের তদারকী করছি।ধীরে ধীরে লোক বাড়তে থাকে।আমার পরিচিত এক ছোট ভাইয়ের সাথে তার সহপাঠি কয়েকজন মেয়ে আসে তাদের সিটে বসানোর আবদার করছিল নাম তার সেলিম।প্রায় সব মেয়েই আমার বেশ পরিচিত কিন্তু যে মেয়েটি আমার চোখে লেগেছিল তাকে মনে হয় নতুন দেখছি।প্রথম প্রেমের ব্যার্থতার সময় প্রায় বছর হয়ে এলো এখন আর আগের মত প্রেমিক প্রেমিক মন নেই তাই ভাল লাগা সত্ত্বেও কথা চেপে গেলাম।অনুষ্টান শেষে সেলিমকে মেয়েটির পরিচয় জানতে চাওয়াতে সে আরো এক দাপ এগিয়ে বলল।

-ও তো আপনাকে প্রথম চিনতে পারেনি আমি বলার পর ওর আগ্রহেই ওর অন্য বান্ধুবীদের নিয়ে এলাম আপনার নাটক দেখতে।

-তাই!বেশ ভাল।

-শুধু ভাল বলেই শেষ করে দিলেন?কিছু বলতে হবে?

-নাহ!থাক,পরে তোর সাথে কথা বলব।

ঐদিন ঐপর্যন্তই।এর পর একদিন খুব সকালে ছাত্র পড়াতে এক ছাত্রের বাসায় যাচ্ছি ।শীতের ঘন কুয়াশায় বদলে দেয় শরীরের পোষাক। দলে দলে মেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে।দুর থেকে লক্ষ্য করলাম সেই মেয়েটি আসছে।বুকের উপর দু হাত দিয়ে বই চেপে মৃধু ছন্দে হেটে আসছে।আজ তাকে সেদিনের চেয়ে আরো আর্কষনীয় লাগছে।মনে হয় সবে মাত্র স্নান সেরেছে তার রেশম কালো কেশের স্হিরতা, গোলাপী গাল দিয়ে বেয়ে পড়া কেয়েকটি চুল রশ্মির ন্যায় ঝুলে আছে নাসিকা বড়াবড়।শীতের হালকা বাতাসে অনবরত ঢুলছে।অসম্ভব সৌন্দর্য্যে ভরা তার কাজল কালো নয়ন যেন বলে দেয় ভালবাসার শূণ্যতা।যতই কাছে আসছে ততই মুগদ্ধ তার রূপে।যাকে হারিয়েছি তাকে যেন হার মানায় তার বাকা নয়নের চাহনি।আমি ঠায় দাড়িয়ে সেখানে মনে হয় ছাত্র পড়ার কথা ভুলে গিয়ে নতুন প্রেয়সীকে সময় দিচ্ছি।একেবারে কাছা কাছি এসে একবার তাকায় আবার চোখ ফিরিয়ে নে মনে হচ্ছিল চোখের ভাষায় লেখা “এসেছে নতুন অতিথী তাকে বরণ করো সাদরে রজনীগন্ধ্যায়”।কখন যে সে আমার এত কাছে এসে গেল বুঝতে পারিনি যখন সে মিষ্টি কন্ঠে বলল “কেমন আছেন?”।উত্তর দেবার সুযোগ পাইনি চোখ যেন বলছে সে স্হির অবিচল কিন্তু ততক্ষনে সে প্রস্হান নেয়।সে দিন ছাত্র পড়াতে আর মন বসেনি।ছাত্র আমার অন্যমনষ্ক বুঝতে পেরে ছুটি চায়।

-কেনো?আর পড়বেনা?

-না স্যার পড়ব,আপনার মনে হয় মন ভাল নেই।

-কি করে বুঝলে?

-আমি বুঝি ছোট হলে কি হবে আমি মন দেখেই বুঝতে পারি।

-ওরে আমার পাকনা ছাত্র,ঠিক আছে আজকে ছুটি।

ছাত্রের বাসা হতে বের হয়ে রাস্তায় হাটছি আর ভাবছি।কে সে?সেদিন সেলিম মেয়েটির পুরো পরিচয় দেয়নি শুধু নাম বলেছিল “মিলি” মিলি তার নাম।নামের সাথে রূপের মিল একশ ভাগ।হাটতে হাটতে চলে এলাম শীতলক্ষ্যা নদীর পাড় ।কি ভাবে এলাম ,কেনো এলাম ,কোন পথে এলাম তার ভাবনায় কিছুই বুঝতে পারিনি যখন নদীতে জাহাজের করকস বাশিরঁ হুংকার কানে এলো তখন বুঝতে পারলাম আমি দাড়িয়ে আছি আমার শৈশবে স্মৃতি মাখা শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়।কেমন যেন সব কিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।যে ছিল একদিন আমার হৃদয়ে সে আজ কোথায়?হয়তো অন্য পুরুষের বুকে মাথা রেখে ক্ষনস্হায়ী জীবনকে উপভোগ করছে তাহলে আমি কেনো হারিয়ে যাওয়া ভালবাসার মিছে অতীতে বাসা বেধে আকড়েঁ ধরে নিজের সুন্দর ভবিষৎকে উপভোগ করছি না?কি লাভ ,সারা জীবন একা থেকে জীবনকে কষ্ট দেয়া।যার জন্য আমার আকুতি সেতো আছে মহাসুখে স্বামীর সংসারে।এক বন্ধু আমার বিরহের অবস্হা দেখে বলেছিল”পৃথিবীতে সুন্দরের শেষ নেই তোমার চোখে আজ যাকে চাদেঁর জোৎস্নার ন্যায় রূপসী মনে কর তার বিয়োগে নতুনের আগমনে একটা সময় পুরাতনের চেয়েও আরো আকর্ষনীয় মনে হবে।লাইফ ইজ ইজি যাহা সহাবে তাই সইবে।সে দিনের তার কথাগুলো আজ একটু একটু করে অঙ্কুরীত হচ্ছে।আজ একটি কথাই শিখলাম “জীবন কারোর জন্য থেমে থাকেনা জীবনের স্রোত প্রবাহিত হয় তার আপন মনে”।এটাই জীবনের ধর্ম।ক্ষনিকের বিরহেকে বাচার আকাংখা ধ্বংস করবে এটাই বাস্তব।মুছে দিলাম হারিয়ে যাওয়া ভালবাসার স্মৃতি বাচার তাগিতে ক্ষনস্হায়ী জীবনকে উপভোগ করতে বাড়িয়ে দিলাম ভালবাসার আর এক হাত যেখানে বিরহের মাঝে খুজব সুখের অনুভুতি……

চলবে…

অংকন নিজ

 

 

 

২১৭জন ২১৬জন
0 Shares

১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য