Quality is better than quantity!

মারজানা ফেরদৌস রুবা ৮ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, ০৭:৩০:১১অপরাহ্ন সমসাময়িক ১০ মন্তব্য

Quality is better than quantity!

গতকাল ফেসবুকে লিখেছিলাম,
“পঙ্গপালের মতো যে চক্রবৃদ্ধিহারে ইতর বাড়ছে দেশে, বুঝা যাচ্ছে তো?

ইতরের পাল্লা কোনদিকে ভারী বেশি, ফেসবুকের পাতায় একটু মনযোগ দিলেই দেখতে পাবেন। দুজনের মৃত্যুতে একজনের বেলায় হা হা রিএক্ট একটাও খুঁজে পাবেন না। আর আরেকজনের বেলায় হা হা রিএক্ট বেশ কয়েকটাই দেখা যাচ্ছে। সমীকরণটা এখানেই স্পষ্ট।”
পাবলিক রিএয়্যকশনের ভিত্তিতে এ লেখাটা লিখেছিলাম।
আর অনলাইন পোর্টালগুলোর পাবলিক মন্তব্যগুলোতে নজর দিলে এর আরও বিকৃত রূপ দেখা যাবে।

আজ বলি আশার কথা।
ওই যে প্রথমেই একটা ইংরেজি বাক্য দিয়ে শুরু করলাম Quality is better than quantity অর্থাৎ পঙ্গপাল দিয়ে দলে ভারী হলেই বা কী যদি মানে উন্নত না হয়? বিপরীতে বুদ্ধিদীপ্ত গোটা ক’জনই শক্তি।
দুজন মুক্তিযোদ্ধার পরপর মৃত্যুতে একজনের বেলায় কোন হা হা রিএক্ট নাই, এর বার্তা কী? বার্তা হচ্ছে, তাঁর বিরোধীপক্ষ তাঁর অপকর্মের ( অপকর্মের বিবরণ তো আর নতুন করে বলার কিছু নেই) কঠিন সমালোচক হলেও তাঁরা যে মানসম্মত, চিন্তাশীল পর্যায়ের, বিবেকবিবর্জিত নয়, স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনায় রেখে পথ চলেন এটা স্পষ্ট হলো। এটাই আশার আলো।

স্পষ্টভাষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঈনুদ্দিন খান বাদল বিরোধী শিবিরের কাছে কতোটা যন্ত্রণার কারণ ছিলেন, নিচে জুড়ে দেয়া তাঁর বক্তব্যটুকুন পড়লেই তা স্পষ্ট হবে। হবিগঞ্জের ঐতিহাসিক শিরিষতলা মাঠে কিবরিয়া হত্যার প্রতিবাদে ১৪ দল আয়োজিত জনসভায় তাঁর বক্তব্য-
“বাংলাদেশে হেলিকপ্টার কিসের জন্য কেনা হয়েছে? চানাচুর বিক্রি করার জন্য? মিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, আপনার পার্লামেন্টের একজন প্রবীণ মেম্বার শুধু তাই নয় আন্তর্জাতিকভাবে সুখ্যাতি সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব শাহ্ এ.এম.এস. কিবরিয়া গ্রেনেডের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে কন্টিনিউয়াসলি ব্লিডিং হতে হতে বিনা চিকিৎসায় মারা গেল! আপনি স্পিকার হয়ে একটা হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করতে পারলেন না? আপনিও খুনীদের একজন।”
হাজার হাজার জনতার সামনে সেদিন বলেছিলেন- “হে হবিগঞ্জবাসী, আমি মাঈনুদ্দিন খান বাদল আপনাদের বলে যাচ্ছি আপনাদের সন্তান কিবরিয়া ভাইয়ের রক্তের দাগ কখনো মুছবে না, কিন্তু খুনী খালেদা- জামাত সরকার চিরদিনের মতো এদেশ থেকে মুছে যাবে।”
এভাবেই তিনি আপোষহীন স্পষ্টভাষায় সত্যকে ছুড়ে দিতেন। তাঁর স্পষ্ট বাক্যবাণে তারা কতোটা বিব্রতবোধ করতো, তাঁর পরলোকগমনে তাদের হা হা রিএক্ট তাই প্রমাণ করে। আর সততার বর্ণনায় এটুকুই বলা যায়, ১২ বছর সাংসদ থেকেও তিনি এমপিদের জন্য ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নেন নি।
স্যালুট হে বীর মুক্তিযোদ্ধা!

মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তিকে ঘায়েল করতে একপাল ইতর প্রকৃতির অনলাইন এক্টিভিস্ট তৈরি করলেই যে জিতে যাওয়া যায়না, ওদের হা হা রিএক্টই এর ফল। সুস্থধারাকে অসুস্থতা দিয়ে কাবু করা যায় না রে পাগলা, অন্তরে সততা থাকতে হয়। অন্তরে সততা ছিলো বলেই সমরাস্ত্রে সজ্জিত একটি সুশৃঙ্খল পাক আর্মি বাহিনীকে নিরস্ত্র মুক্তিবাহিনী মাত্র নয়মাসে নাকে খত দিয়ে বিদায় করেছিলো।

কাজেই বিশাল পঙ্গপাল থাকলেই হয়না, মানসম্মত গোটাকয়েকের শক্তির কাছে পঙ্গপাল নস্যি।
উজবুক, তোমরা বগল বাজাও!
আমরা মানুষ খুঁজি, মানুষ ভজি।

৭৬জন ১১জন
6 Shares

১০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য