মূল লেখায় যান

ফেব্রুয়ারীর বৃষ্টি।

মনিরুজ্জামান অনিককবিতা৪টি মন্তব্য

আজ সারাদিন বৃষ্টি হচ্ছে। টুপটুপ শব্দ টিনের চাল ভেদ করে মিলিয়ে যাচ্ছে। জানি তাহিরপুরের পুকুরে দু'টো সাদা হাঁস পালকের নিচে মাথা গুঁজে বসে আছে। আমার সামনে একাশিয়া গাছটি তার পাতাদল নিয়ে বারবার কেঁপে উঠে। যেভাবে কেঁপে উঠে কিশোরী তার প্রথম যৌবনে। তুমি চাদর জড়িয়ে জানালার পাশে বৃষ্টি দেখো। বিরবির করে গাইছো রবীন্দ্র সংগীত। আমাকে মনে… [বিস্তারিত]

মনে পড়ে।

মনিরুজ্জামান অনিককবিতা৫টি মন্তব্য

কতো বছর তোমাকে দেখিনা। আর কতো বছর দেখা হবেনা~জানিনা। কতো শীত পাড়ি দিয়ে দু'টো ছানাপোনা সাথে নিয়ে তুমি পাড়ি দিলে সুদূর আমেরিকায়, চোখের বাহিরে। বাচ্চারা কেমন আছে? তুমিই বা আছো কেমন! উত্তর দিতে হবেনা,বুঝে নিতে পারি এখন, হাওয়ার ভাষা, চুপ থাকার ব্যাকরণ। অনেকদিন আর কোথাও যাইনা আমি, ঘাপটি মেরে দরজা বন্ধ করে বসে থাকি। আমার… [বিস্তারিত]

অলস দুপুর।

মনিরুজ্জামান অনিককবিতা২টি মন্তব্য

অলস দুপুর। কবির ভাইয়ের চায়ের দোকানে বসে আছি। হাতে এককাপ চা। চায়ের সাথে তোমাকে গুলিয়ে খাচ্ছি। তুমি মিশে আছো মন-মস্তিষ্কে। চারদিক অলস দুপুর,, কয়েকটা মাছি ভো ভো করে উড়ছে, দেখছি... ভাবছি! তুমি কি আজ শাড়ি পড়েছো! পুরনো শাড়ি, আলমারিতে ভাজ করা ছিলো ন্যাপথলিনের সুবাস বাতাসে মিশে গেছে। মাঝে মাঝে আমি এমনই করি। অফিসে থেকে পালিয়ে… [বিস্তারিত]

তোমাকে ভুলতে গিয়ে।

মনিরুজ্জামান অনিককবিতা৬টি মন্তব্য

তোমাকে ভুলতে গিয়ে যে নারীতেই চোখ রাখি। সেখানেই দেখি তুমি। হুবহু তোমার প্রতিচ্ছবি। তোমার গড়ন__নাক,ঠোঁট,চোখ যেনো আমার পরিচিত। তোমার ভেতর-বাহির। তোমার অভিমান,অভিযোগ, প্রেম-প্রীতি,তোমার স্থির - অস্থির; সবকিছুই ধবল বকের মতোই আমার চোখে জীবন্ত হয়ে উঠে। আমি বিস্মিত চোখে চেয়ে থাকি। শুনতে পাই তোমার হৃদ যন্ত্রের উঠানামা। দেখতে পাই তোমার চোখের জলজ জাহাজ অতিক্রম করে গেছে… [বিস্তারিত]

এক মুঠো সাদা ভাত।

মনিরুজ্জামান অনিককবিতা৮টি মন্তব্য

যেই লোকটা রাস্তায় ঘুরে ময়লা চামড়ার, মাথায় তার খেলা করে শুধু - বাড়িতে রেখে এসেছে ক্ষুধার্ত সংসার। যাবজ্জীবন মৃত্যু বুকে নিয়ে হাটে না তো কেউ! ঐ লোকটা হেঁটে যায় শুধু,রাজ্যে যখর উন্নয়নের ঢেউ। জানি,সমাজপতি .. লাল ইটে পৌঁছায় না হাহাকার। সীসা গলানো কানে শুনতে কি পাও! চামড়ার বুকে স্লোগান উঠেছে - একমুঠো সাদা ভাত দরকার। [বিস্তারিত]

লজ্জিত মুখ।

মনিরুজ্জামান অনিককবিতা৬টি মন্তব্য

জীবনের কাছে চরমভাবে হেরে যাওয়া যেই লোক সে জানে - সন্তান যখন বলে, বাবা! ওরা নিয়মিত আপেল খায় আমায় কিনে দাও না কেন? এ প্রশ্নের জবাবে কতোটা নীরবে কেঁদে উঠে বুক। অতোটা শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেনা পাহাড়, যতোটা শক্ত গাঁথুনি লজ্জিত ঐ বাবার পাঁজরের হাড়। [বিস্তারিত]

পাখির মতন জীবন।

মনিরুজ্জামান অনিককবিতা৪টি মন্তব্য

দূর আকাশে একটা মেঘ অন্ধকার করে আছে। এখনি বৃষ্টি নামবে হয়তো! নাগরিক কোলাহল কিছুটা থেমে গেলে, আমি জানালার পর্দা সড়িয়ে ভাবি তোমাকে। যতদূর চোখ যায় আকাশের ঠিকানায়, দেখি একটা পাখি এখনো হিসেব করে উড়ছে তার নাকি আরো কিছু পথ উড়া বাকি!! মানুষের জীবন কিছুটা পাখির মতন... সারাদিন উড়া উড়ি, বেলা শেষে ক্লান্ত পায়ে ঘরে ফিরে।… [বিস্তারিত]

জামরুল ঠোঁটের প্রেমিকা।

মনিরুজ্জামান অনিককবিতা৯টি মন্তব্য

তোমার ঐ জামরুল ঠোঁটে চুমু এঁকে দেয়, যদি এক তৃষ্ণার্ত প্রেমিক। কি করে তাকে অগ্রাহ্য করবে! জামরুল ঠোঁটের মালিক। তুমি কি মামলা ঠুকে দিবে আদালতে? শাস্তি হবে! চুমুর দায়ে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে তার কি ফাঁসি হবে? নাকি কাটিয়ে দিতে হবে জীবন, কনডেম সেলে। প্রতিটি দৈনিক পত্রিকায় উৎসুকে নিউজ ছাপা হবে, চুমুর দায়ে সামনের বিষ্যুদবারে ফাঁসিতে ঝুলে… [বিস্তারিত]

নীলাম্বরী, তোমায় দেখেছি সেদিন রেস্তোরাঁয় বসে অপেক্ষমান দুটি চোখ। কার জন্য এতো গভীর প্রণয়ের অসুখ? জানালার কাঁচ গলে বৃষ্টি ছুঁয়ে যায়.. খানিকদূরে কৃষ্ণচূড়া গাছ ফুলে ফুলে লাল। তোমার ভ্রূক্ষেপ নেই সেদিকে, যেনো দখিনা বাতাসের মতো উদাস তোমার মন। একাকী দুল খাওয়া দোলনার মতো শূণ্য আয়োজন। নীলাম্বরী, এভাবে বসে থাকবে কি! সময়ের কাঁটা ভেঙে। চলো বাইরে… [বিস্তারিত]

খারিজ (পরিত্যক্ত)

মনিরুজ্জামান অনিককবিতা৯টি মন্তব্য

আমাকে হত্যা করতে এসেছে একদল স্বাধীনতার পায়রা। আমি পায়রা ভালোবাসি, একথা ওদের বুঝাতে পারলাম না। আমার সমস্ত দলিল দস্তাবেজ খুলে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা উল্টেপাল্টে ওদের দেখালাম। নাহ্! কিছুতেই ওরা বিশ্বাস করলো না। সবিশেষ আমি খাটের তলায় লুকানো পুরনো ট্রাঙ্ক খুলে বের করলাম এক ডজন স্বাধীনতাকামী কবিতা, রক্ত লেগে আছে এখনো কবিতায়। ওরা কবিতা দেখলো,রক্তের দাগ… [বিস্তারিত]

উল্টো পথে।

মনিরুজ্জামান অনিককবিতা২টি মন্তব্য

সবকিছু আজ উল্টো পথে চলে। ঘড়ির কাটা। আমার জীবন। রাশি ফল। এমনকি মাস শেষের মাইনে... যারা বুঝে আমাকে, যারা চলেছে একসাথে, অথবা যাদের সাথে দু-কদম হেঁটেছি, আড্ডা মেরেছি ছোট্ট কোন চায়ের দোকানে। সবাই আজ উল্টো পথে।কেউ আর এগোয় না। করমর্দন করে বলেনা কেউ, একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। তোমার কি হলো! তুমিও ঠিক নিয়ম ভেঙে… [বিস্তারিত]

তোমার ফুলের সু-ঘ্রাণ।

মনিরুজ্জামান অনিককবিতা১৩টি মন্তব্য

তোমাকে ভেবে ভেবে যে ফুল ফুটে সে ফুলের সু-ঘ্রাণ আমার নাকে লাগে। মাধকতাময় সে গন্ধ... রাত্রির আধারে আমি চুপিচুপি যাই সে ফুলের কাছে। সদ্য ফুটেছ তুমি - এখনো আড়মোড়া ভাঙেনি। অবাক নয়নে তাকিয়ে থেকে বলো - প্রেমিক এতো রাতে কেনো এলে? কেনো মনে বাড়ালে জ্বালা। তুমিতো জানোই, আমার ঘরের বাহিরে যেতে মানা। তবুও কেনো এলে!… [বিস্তারিত]

শূন্য বারান্দা।

মনিরুজ্জামান অনিককবিতা১১টি মন্তব্য

এশার আযানে আমার উঠানে নেমে আসে এক ঝাঁক শূন্যতা। কেউ কোথাও নেই। আকাশে চাঁদ নেই, ঢেকে আছে ঘন কুয়াশা। আমি জানালার পাশে এসে দাঁড়াই। দূরে দেখা যায় একটা বাতির টিমটিমে আলো। দোল খায় - হয়তো কোন জেলে পল্লীর নৌকায়। বাড়িতে বধূ উঠানে চড়িয়েছে রান্না, বধূর চোখে ও কি মাঝে মাঝে ভেসে আসে! দূর দেশ থেকে… [বিস্তারিত]

শেষ ফেরী চলে গেলো এ পাড়ে বসে আমি একলা। অথচ আমার ছিলো কত তাড়া। গত হাটে কেনা-বেচা শেষে বাড়ি ফিরলো দোকানী, আজ কোথাও হাট বসেনি। আমি কিছু সদাই কিনবো ভেবেছি। কুপি বাতির সলতে পুড়ে নিভেছে আলো, জোনাকির বুক চিঁড়ে আলো কেড়ে নিলো.. আমিও চেয়েছিলাম কিছু আলো যা গত হয়ে গেলোপাইনি, সব কেড়ে নিলো একদল দস্যি… [বিস্তারিত]

জোৎস্না বন্দনা।

মনিরুজ্জামান অনিককবিতা৭টি মন্তব্য

নীলাম্বরী, দোয়ার খোলো। আমি ভিজে যাচ্ছি জোৎস্নায়! বাইরে কেমন মন খারাপের জোৎস্না বয়! কি চাপিয়েছ উনুনে? ভাত,আলু সেদ্ধ! দোয়ার খোল, চলো আজ পাখি হয়ে উড়ে যাই কোন আদিম বৃক্ষে। অন্ধকার শাড়ি পড়ে যে দাঁড়িয়ে থাকে। তার সবচেয়ে উচু ডালে দুজনে জিরিয়ে নিই, এক পৃথিবীর দীর্ঘশ্বাস মুছে দিই দুজনে। যেখানে থেকে পৃথিবীর কেনাবেচা আর স্পর্শ করবেনা… [বিস্তারিত]