মূল লেখায় যান

শিউলি ফুলের স্পর্শ

সুরাইয়া পারভীনএকান্ত অনুভূতি২৫টি মন্তব্য

গতদিন শিউলি ফুল নিয়ে কথা হচ্ছিল। শিউলি কার কতোটা প্রিয়! কথায় কথায় আমি বললাম কাল প্রভাতে শিউলি ফুল কুড়াতে যাবো। তিনি বললেন..

বাহ্ দারুণ ব্যাপার! তা ম্যাডাম শিউলি হেমন্তে ফোঁটে। এখন কই পাবেন?

-জ্বী না স্যার শিউলি শরৎ কালে ফোঁটে।

সে কাল শিউলি তলায় গেলেই দেখতে পাবেন।

 

মনের মধ্যে কেমন করে উঠলো! আরে ধুর এতো বছর থেকে জেনে আসছি শিউলি শরৎ কালে ফোঁটে। আর এখন..

উইকিপিডিয়ায় সার্চ দিলাম। কোথাও় লেখা আছে শরৎ আবার কখনো হেমন্ত। গুগলে সার্চ দিয়ে দেখলাম শরতে ফোঁটে  হেমন্ত অব্দি থাকে।

ধুর! কিছুতেই মন মানছে না। স্বচক্ষে দেখতে হবে।

ভোরে উঠে ফজরের নামাজ পড়ে বেরিয়ে পড়লাম। হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেলাম শিউলি তলে। সবুজ পাতার সাথে লেগে থাকা লাল শুভ্রর ফুল দেখে চোখ জুড়িয়ে গেলো। তখন একটু একটু কুয়াশা, ভোরের শীতল বাতাসের স্পর্শ। দারুণ অনুভূতি।

 

গাছ ভর্তি শিউলি থাকলেও একটা নিচে পড়েনি। ধুর মন খারাপ হয়ে গেলো! এতো প্রিয় ফুল না ছুঁয়েই চলে যেতে হবে? না কিছুতেই না। প্রয়োজনে গাছে উঠে ফুল তুলবো। তখন একজন বললেন শিউলি এখন ঝরবে না। সূর্য ওঠার সাথে সাথে ই বৃষ্টির মতো ঝরে পড়বে সব গুলো ফুল।

এই প্রথম জানলাম শিউলি শিশির সিক্ত ভোরে নয় সূর্য ওঠা সকালে ঝরে।

 

তাইলে এখন আর গাছে উঠে পাড়ার দরকার নেই। তার চেয়ে বরং জগিং সেরে আবার আসবো শিউলি তলে, শিউলি ফুল কুড়াতে। যেমন ভাবা তেমন কাজ

জগিং শেষ করে ঘেমে ঘেঁটে চলে এলাম শিউলি তলে। তখন সময় ৬:৫০। দু চারটে পড়েছে বটে কিন্তু এতে আমার আকাঙ্ক্ষা পূরণ হচ্ছে কই? আজ সূর্যের হলোটা কী, এখনো উদয় হচ্ছে না কেনো? অপেক্ষা করলাম আরো কিছুক্ষণ। সাদা মেঘে ঢেকে গেছে পুরো আকাশ। না আর অপেক্ষা নয় এবার শিউলির স্পর্শ চাই-ই চাই। গাছ ঝাকিয়ে পড়ে থাকা শুকনো ডাল দিয়ে বেশ কিছু ফুল নিয়ে অঞ্চলে করে ফিরে এলাম ঘরে।

মোট পড়েছেনঃ ৩২০২জনআজ পড়েছেনঃ ০জন
ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

২৫টি মন্তব্য

  1. আমি ছোট বেলায় ভোরে উঠতাম শিউলি কুড়াতে। আহ্ সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে গেল। মামা বাড়িতেও একটা বড় গাছ ছিল। ভোরে উঠেই আমার কাজ ছিল ফুল তোলা ও কুড়ানো পূজোর ফুলের ঝুড়ি ভরে নানান ফুল । খুব খুব মিস করি শিউলি ফুলে গাছতলা ভরে যাবার দৃশ্য গুলো। তখন তো ক্যামেরা , মোবাইল ছিল না তাই দিনগুলো এভাবেই মনে মনে মিস করি। আপু অনেক সুন্দর হয়েছে ছবিগুলো আর ফুলগুলো একদম তাজা। ভালো থাকুন শুভ কামনা রইলো

  2. ছাইরাছ হেলাল ভাইয়ার মত বই পড়িনি। তবে বসেবসে মালা গেঁথেছি। এবং এটা রেগুলার কাজ ছিল আমার ও আমার সেজো বোনের যতদিন শিউলি ফুকের সিজন থাকতো।আব্বার অফিসের ডাকবাংলোয় শিউলিফুলের গাছ ছিল। পাশেই ঘন জংংগল ছিল প্রাচীর টাও বেশ পুরানো ছিল পিছনের দিক বলে।সাপে কামর দিয়েছিল। তারপর থেকে আম্মা আর ফুলের কাছে যেতে গাছ তলায় যেতে দেন নি। ভাল লাগলো আপ্নার লেখা পড়ে। ছোট বেলায় ফিরে গেলাম। ভালোবাসা রইলো।

    1. মহান রাব্বুল আলামীনের কৃপায় ক্ষতি হয়নি এটাই অনেক। আমার মনে হয় শিউলি ভালোবাসে না এমন মানুষ পাওয়া বিরল।

      কৃতজ্ঞতা সহ আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন আপু
      ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সবসময়

  3. জানতাম শিউলি ঝরে রাতে
    এই প্রথম জানলাম শিউলি শিশির সিক্ত ভোরে নয়
    সূর্য ওঠা সকালে ঝরে।
    তার চেয়ে ঠিক গাছ ঝাকি দিয়ে শর্টকাট।
    যেমন করি সকাল বিকাল রাত।
    ভালই লিখলেন। শুভ কামনা।

    1. অপেক্ষা মানে কষ্ট
      তারচেয়ে এই ভালো
      তার চেয়ে ঠিক গাছ ঝাকি দিয়ে শর্টকাট।
      যেমন করি সকাল বিকাল রাত।

      আন্তরিক কৃতজ্ঞতা অশেষ দাদা
      ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন সবসময়

    1. একদম ঠিক বলেছেন ভাইয়া
      শিউলি ফুলের মাতাল করা গন্ধে বার বার মনে ছুটে যায় শিউলি তলায়।

      আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন ভাইয়া
      ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সবসময়

  4. শিউলির সাথে আমার রয়েছে নস্টালিক যত স্মৃতি। তোমার একসকালের শিউলিতলার গল্প মনে করিয়ে দিলো আমার দুরন্ত শৈশব।

    তবে একটা কথা…….. ছবিগুলো সুন্দর সন্দেহ নাই। পোষ্টের জন্য একটু বেশিই হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। নিচের থেকে কয়েকটা বাদ দেয়া যায় নাকি দেখবে? পোষ্টের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে আরো বেশি।
    শুভ কামনা।
    ভালবাসা💕💕

  5. শিউলি আমার খুব পছন্দের ফুল। সকাল ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখি টবের চারপাশ শিউলি ফুলে ভরে আছে। কখন ঝরে তা জানিনা।

    শিউলি উপাখ্যান ভালো লেগেছে আপু।

  6. প্রিয় ফুলের মধ্যে অন্যতম। বড়ো শুদ্ধ অনুভূতি হয় এর সাহচর্যে। মা দুর্গা যেন আঁচলে করে নিয়ে আসেন, আর তা থেকে টুপটাপ ঝরে পড়ে। এই অতিমারীর আবহে ভুলতে বসা সেই মাহেন্দ্রক্ষণটিকে মনে করিয়ে দিল আপনার ফুলের মত অনাবিল লেখাটি….

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।

অনলাইনে ডাক্তার দেখাতে চান?