মূল লেখায় যান

মেঘালয় ভ্রমণ

চাটিগাঁ থেকে বাহারকবিতা২২টি মন্তব্য

মেঘালয় ভ্রমণ
★

মেঘেদের দেশে এসেছি আমরা তাই
খুশিতে ভেসেছে মেঘ,
নিজেকে উজাড় করে দিয়ে মেঘ বলে
দেখরে আমায় দেখ।

মেঘের উদারতায় আমরা
দেখতে পাইনা কিছু,
নতুন কিছু দেখার আশায়
ছুটছি মেঘের পিছু।

অভিমানী Seven Sister
ঘোমটা পড়ে লুকিয়ে আছে,
এত লাজুক বোনগুলো তাই
মেঘি পর্দার আড়ালে নাচে।

রোদের আশায় চলে গেলাম
Mousmai Cave,
সুরঙ্গ বেশ ভয়ংকর হলেও
আমরা ছিলাম সেইভ।

এডভেঞ্চারে সুরঙ্গ জয় করে যাই
Nohkalikai (Falls) ঝর্ণা,
মেঘেরা কয় এসো আবার
আমরা তো আর পর না!

কত আশা ছিলো মনে
মেঘের উপর ভাসবো,
তাই বলে এতো দূরে
কী করে আর আসবো!

কুয়াশা ভরা দৃষ্টি
আহা, কী অপরূপ সৃষ্টি!

Maw-Sa-Wa Water Falls এ যেতে
দূর্গম পাহাড়ি সরু পথ,
সুন্দরতম দৃশ্যাবলী যেন
মন মাতানো রথ।

বন্ধুরা মোর নেচে গেয়ে
কাটছে সারা বেলা,
ঝর্ণার জলে স্নান করেছে
মন করে উজালা।

Dainthlen Falls চোখ ঝলসানো
সুন্দরের ফুলঝুরি,
এতগুলান রূপসী ললনা
আমাদের করলো মনচুরি।

রিভার রূট ব্রীজ হল
গাছের শিকড়ের কারুকাজ,
মিস করলে কেউ সারাটি দিন
নিজের কাছেই পাবেন লাজ।

Mawlynnong village এশিয়ার
পরিস্কার তম গ্রাম,
ইচ্ছে হবে রাস্তায় শুতে, আহা!
সচেতনতার কী দাম!

পুরো গ্রামটাই যেন একটি
সুসজ্জিত নার্সারী,
আসুন সবাই সচেতন হই
এটা যে খুব দরকারী।

সরোয়ার বেশ চঞ্চল বটে
নঈম আছে সাইড,
হাসান কিছুটা বিজ্ঞ হলেও
মঈন করেছে গাইড।

ওরা যদি ডে-লাইট হয়
আমি হলাম নাইট,
যখন ওরা গোসল করে
তখন আমি সাইড!

বিবেক নামের পাইলট ছিলো
শুরু থেকে শেষ,
নেপালী পুলাটি বন্ধুসুলভ
ভাষাও জানে বেশ।

ডাউকি সিলং চেরাপুঞ্জি
মেঘালয়ের তিন কন্যা,
তাদেরও যুবতী কন্যারা আছে
যেন বৃষ্টির পর বন্যা।

Awesome যেমন ডাউকির পয়েন্ট
তেমনি Awesome সিলং,
চেরাপুঞ্জির Awesome এরা মিলে
যেন বাসরে সাজানো পালং।

Krang Suri Water Falls
সবার শেষে দেখা,
ফিরতি পথে সবার কেমন
লাগছে একা একা!

মেঘালয়টা দক্ষিণ এশিয়ার
ডিপ ফ্রিজের বেলকনি,
মহান আল্লাহর সৃষ্টি দেখলে
প্রস্তুতি নাও এক্ষুনি!!

রচনাকাল: (১৭/০৮/২০১৯)

(দেড়মাস আগে ৫ জনের একটি গ্রুপ গিয়েছিলাম মেঘালয় ভ্রমণে, সেখানে লিখেছিলাম ২টি কবিতা, এখানে ১টি দিলাম।)

মোট পড়েছেনঃ ১৩০১জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

২২টি মন্তব্য

  1. কবিতায় ভ্রমন এই প্রথম পড়লাম। অবশ্যই ভালো লেগেছে। আপনি বেশির ভাগ জায়গার নাম ইংরেজি অক্ষরে লিখেছেন। হয়তো নামের উচ্চারণটা যেন সঠিক হয় এই জন্যে? কিন্তু এতে অনেকেই জায়গার নাম কি বুঝবেনা।

    অভিমানী Seven Sister
    গোমটা পড়ে লুকিয়ে আছে,
    এত লাজুক বোনগুলো তাই
    মেঘি পর্দার আড়ালে নাচে।,,,,,

    বানানটা ঘোমটা হবে, তাইনা ভাইয়া?

    1. বাংলায় সঠিক উচ্চারণ আসছে না বলেই ইংরেজিতে লিখেছি। তাছাড়া ঐ ঝর্ণাগুলোর প্রত্যেকটি খুবি ফেমাস!
      এভাবে ইংরেজিতে লিখে গুগলে সার্চ দিলে ছবিসহ প্রত্যেকটির বিস্তারিত বিবরণ চলে আসবে।

      বানান ঠিক করে দিয়েছি। এ জায়গায় আমি একটু বেখেয়াল! ধরিয়ে দিলে কৃতজ্ঞ থাকবো।

      আমার লেখাটি পড়ে মন্তব্য করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আবার আসবেন আমার ব্লগ কুটিরে।

    1. আমি সেখানে ২টি কবিতা লিখেছি।
      প্রথম কবিতা ছিলো ‘মেঘের কোলে’
      ……………..
      মেঘের কোলে
      (১৬/০৮/২০১৯)
      ★
      মেঘের কোলে বাহার ভেসেছে
      বাদল এসেছে ছুটি,
      পাঁচ হাজার ফিট উঠেছি উপরে
      ইচ্ছে আরো উঠি।

      মেঘের দানারা হুল ফুটায় গায়ে
      নাকে মুখে হাতে পায়ে,
      এরাই মাটিতে বন্যা নামায়
      বৃষ্টির মিছিল নিয়ে।

      হাসেরা ভাসে পানিতে জানি
      আমরা ভাসছি মেঘে,
      ঈদের ছুটিতে পাঁচ জনে আসতে
      নিশি কাটিয়েছি জেগে।

      আসতে পথে বিরতি নিতে
      দাঁড়িয়েছি সারতে লাঞ্চ,
      প্রকৃতি যেন বিছায়েছে কার্পেট
      আহা কী রোমাঞ্চ!

      ঝর্ণার পর ঝর্ণাগুলো যেন চঞ্চলা কিশোরীর খিল খিল হাসি,
      খোদার সৃষ্টি রহস্য জানতে আমরা
      মেঘের কোলে ভাসি।

      এখন বুঝতে পেরেছি ফিরতে চায় না
      কেন মন নিজের আলয়,
      বুঝতে পেরেছি নামটা কেন হয়েছে
      মেঘালয় মেঘালয়।

      (সিলং, মেঘালয়, ভারত)

      #কবিতাটি লিখেছি সিলং,
      এই আবৃতি করেছি Borhil Falls এর পাদদেশে। আবৃতি ভিন্ন জায়গায়ও করেছি।

    1. আপনি ঠিক বলেছেন, কবিতায় অনেক কিছুই বাদ পড়ে যায়।
      কী করবো বলেন! মেঘালয়ের অসাম সব দৃশ্যাবলী দেখে হু হু করে ছড়্ড়াগুলির মতো কবিতার পঙতি গুলো বেরিয়ে আসলো!!

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।