মূল লেখায় যান

মধুর ডাক

হালিমা আক্তারএকান্ত অনুভূতি২০টি মন্তব্য

ছুটি চাইতে এসে শিক্ষার্থী বললো –আপা কাল আন্টির বাসায় বেড়াতে যাবো , ছুটি লাগবে | জিজ্ঞাসা করলাম , কী রকম আন্টি ? শিক্ষার্থীর উত্তর -আপন আন্টি | বুঝলাম আপন আন্টি , কিন্তু সে তোমার কী হয় ? খালা , ফুফু , চাচী , মামী | আবার উত্তর , আমার আন্টি হয় | বিস্তারিত কথা বলে বুঝতে পারলাম , খালার বাসায় যাবে |এতো সাম্প্রতিক ঘটনা |

অনেক বছর আগের কথা | তখন টিউশনি করতাম | একদিন নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রী দুঃখ করে বলতেছে , ওর কোন খালা নাই |অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম  – তোমার আম্মুরা কয় বোন ? উত্তর দিলো , তিন বোন | আম্মুর বড় বোন হচ্ছে – বড় আম্মু আর ছোট বোন হচ্ছে আন্টি |যখন তাকে বললাম , মায়ের বোনকে খালা বলে |

শিক্ষার্থীর উত্তর , আমি জানতাম না আন্টি | মনে হলো , এতো আমারই ব্যার্থতা | আমাদের এই ব্যার্থতার আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে সুমধুর ডাক গুলো | ছোট বেলা থেকে শিখে এসেছি  – কাকা /চাচা , মামা , খালা , ফুফু | এখন কোথায় সেই সুমধুর ডাক গুলো | কতনা মধুর ছিল সেই ডাক | রক্তের সম্পর্কের বাইরে আত্মীয়তার ডাক ছিল | ছেলে বা মেয়ের শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়কে বেয়াই – বিয়াইন , পুত্ররা – ঝিয়ারী | অঞ্চল ভেদে ভিন্ন হতে পারে  আঙ্কেল -আন্টির ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে সুন্দর সম্পর্কের ডাক | কমন ডাক – আঙ্কেল আন্টি কী গ্রাস করে নিবে মামা – চাচা কে | এভাবে কি হারিয়ে যাবে সম্পর্কের বাঁধনে বাঁধা সুমধুর ডাক গুলো |

মোট পড়েছেনঃ ২৪৩৫জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

২০টি মন্তব্য

  1. সুমধুর ডাক গুলো হারিয়ে যাচ্ছে কিছুটা আমাদের দোষে আর বাকিটা বর্তমান নবপ্রজন্মের অনিচ্ছার কারণে। আগে সবচেয়ে কাছের মায়ামাখা ডাক ছিলো মামা, খালা। কিন্তু এখন বাসের হেল্পার, রিক্সাওয়ালা থেকে ফুসকাওয়ালা সবাইকেই মামা ডাকা হয়। আর খালা বলতে কাজের মেয়ে, স্কুল/অফিসের বুয়া বুঝি।
    ডাক গুলো যেমন আমরা শেখাই, তেমনিই বাচ্চারাও একটু বড় হবার পর নিজেরা নিজেরা বানিয়ে নেয়। এখনকার উঠতি বয়সীরা খালু, ফুফা সম্বোধনের চাইতে আংকেল ডেকে বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করে। অনেক বয়স্করা তালোই-মাওয়ই বলে ডাকলে বিরক্ত হয়। আবার আপা’ সম্বোধন এর চাইতে অনেকেই খুশি হয় আপু/ম্যাডামে 🙂

    আপনার পোস্ট পড়ে মনে শান্তি শান্তি একটা ভাব কাজ করছে, কারণ আজই আমি আমার মেয়েদের সাথে এই সম্বোধন গুলো নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। শুধু আপনি বা আমি নই আমরা অনেকেই ব্যাথিত হচ্ছি সুমধুর ডাক গুলো নিখোঁজ হতে দেখে।
    আরও লিখুন, শুভ কামনা 🌹🌹

  2. সব কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে!
    আন্টি বান্টি ডাকে সন্তানদের যখন উৎসাহিত করা হয়
    সেখানে বাংলার কৃষ্টি কালচার বড়ই অসহায় হয়ে পড়ে।
    আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা জানবেন নিরন্তর।

  3. সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে অতিপ্রিয় ডাক গুলো।
    এখন কেউ সম্পর্কে ডাকগুলো বাচ্চাদের শিখায় না। এটা আমাদের ব্যর্থতা।বাংলার ঐতিহ্যের একটি অংশ এ-ই সম্পর্কের ডাক গুলো। এগুলো চর্চা করতে হবে।

  4. বাংলা ভাষায় যে সম্বোধন দিয়ে আমরা একে অন্যকে ডাকি তার সুমধুরতা আর কোন কিছুতেই পাইনা। আমরা আধুনিকতার নামে হারিয়ে ফেলছি সম্পর্কের ললিত ডাকগুলোকে।

    ভালো থাকুন আপু।

  5. আঙ্কেল -আন্টির ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে সুন্দর সম্পর্কের ডাক।
    সত্যিই বলেছেন।
    আমরা আধুনিকতায় অবগাহন করতে গিয়ে আমাদের সংস্কৃতিকে হারাতে বসেছি।
    কাকু, চাচা, চাচি, পিসি, এসব সমুধুর ডাক গুলো না ডেকে আংকেলে অবগাহন করছে।

  6. পশ্চিমা সংস্কৃতিকে ধারণ করতে গিয়ে নিজেদের মিষ্টতা, সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলেছি। আভিজাত্য, আধুনিকতা প্রকাশে অন্যের ভাষাকে হৃদয়ে ধারণ করছি। খুব ভালো লাগলো আপনার বিষয় নির্বাচন। ভালো থাকুন নিরাপদে থাকুন। শুভ রাত্রি

  7. খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে লিখেছেন আপু। বাংলায় একেকটি ডাকের আলাদা গুরুত্ব এবং দরদ ইংরেজি সম্বোধনে পাওয়া যায় না। আসলে বিশ্বায়নের যুগে আর ও অনেক পরিবর্তন আসতে পারে।
    কিছুই হয়তো করার নেই।