মূল লেখায় যান

ভিন্ন বাস্তবতায় ঈদুল আযহা

তৌহিদুল ইসলামসমসাময়িক২৭টি মন্তব্য

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ। অথচ বর্তমান প্রেক্ষাপটে করোনাভাইরাসের প্রকোপে এক ভিন্ন বাস্তবতায় ঈদুল আযহা উদযাপন করছে বিশ্বের লাখো কোটি মানুষ। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে নিশ্চিতভাবেই। করোনার পাশাপাশি সমগ্র দেশে বন্যার প্রভাবে বানভাসি মানুষের মনে আনন্দ নেই, মুখে হাসি নেই। চরম অসহায় দিনানিপাত করছেন বন্যা কবলিত এলাকার সকল মানুষ। কেমন আছে তারা? অন্য সবার মত কিঞ্চিত ঈদের আনন্দ কি তাদের মাঝেও বিরাজমান? এই প্রশ্নে নিজেই উদ্বেলিত হচ্ছি আজ।

বৃষ্টিতে নাজেহাল অনেক এলাকার মানুষ বাজার সদাই করতে পারেননি। বিকিকিনি কম বলে গ্রামের সাধারণ খেটেখাওয়া জনগন হাট করতে পারেননি। খামারিরা তাদের নিজেদের গৃহপালিত পশুটিকে ন্যায্যমুল্যে বিক্রি করতে পারেননি। মলিন মুখে হাট থেকে গরু, ছাগল ফেরত নিয়ে যেতে দেখেছি অনেককেই। পরিবারের কথা ভেবে যে অনিশ্চয়তার ছায়া তাদের চোখেমুখে দেখেছি, মন কেঁদে উঠেছে আমার।

করোনা এবং বন্যার এই রেশ পড়েছে অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষদের মাঝেও। ঈদের তেমন কোন উচ্ছ্বাস নেই, মানুষের মুখে হাসি নেই। সবার মুখে কেমন যেন অস্পষ্ট বেদনাময় অনুভূতি। ছোটছোট নিষ্পাপ শিশুরাও কি করে যেন বুঝে গিয়েছে সবার মন খারাপ। বাজারে যাওয়া যাচ্ছেনা, নতুন পোষাকের বালাই নেই। অনেকেই কোরবানি দিতে পারেননি। ঈদ যেন হতাশাগ্রস্থের মত আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে সবাইকে।

করোনা সংক্রমণ রোধে ঈদুল ফিতরের মত এবারের ঈদুল আযহাতেও ঈদগাহে বা মসজিদে নামাজ পড়তে যাবোনা। এবারেও বাজারে গিয়ে কেনা হয়নি নতুন কোন কাপড়। আমার মতো এই অবস্থায় বেশিরভাগ মানুষই আছে এটা ভেবে নিজেকে সান্ত্বনা দিয়েছি। অন্তত খেয়ে পড়ে সুস্থ্যমত বেঁচে আছি এইবা কম কিসে! প্রতিবার যেভাবে আনন্দ নিয়ে কোরবানি দিতাম এবারে সেটাও উপলব্ধি করতে পারছিনা।

তিস্তা নদীর পাড়ে আমার গ্রামের বাড়ি হওয়ায় আমি দেখেছি বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের অসহায় অবস্থা আর দুর্গতিময় জীবনযাপন। পানি ডিঙিয়ে বাজার করা কিংবা চুলা জ্বালিয়ে দু’বেলা রান্না করে সন্তানদের মুখে আহার তুলে দিতে পারছেননা অনেকেই। অনেক জায়গার পানি কমে গেলেও সেখানে দেখা দিয়েছে ডাইরিয়াসহ বন্যা পরিবর্তী বিভিন্ন রোগের প্রাদূর্ভাব। দেশব্যাপী বন্যা কবলিত এলাকার মানুষগুলোর সবাই কিন্তু এই দূরাবস্থাতেই আছে। তাদের মুখে হাসি নেই, ঈদের আনন্দ তাদের ছুঁয়ে যায়নি নিশ্চিত। আমরা কি কেউ তাদের খোঁজ নিয়েছি? নাকি স্বার্থপরের মত নিজেরা তাদের এড়িয়ে গিয়েছি? কাল কি হবে কে জানে!

সমাজের সামর্থবান সকলের কাছে অনুরোধ, আপনার ঈদের আনন্দ বানভাসি এবং অসহায় মানুষদের সাথে ভাগাভাগি করে নিন। বিশ্বাস করুন, আপনার পাশের ঘরের মানুষ না খেয়ে থাকলে আপনি কোনভাবেই উৎফুল্ল থাকতে পারবেন না। নিজেদের কোরবানির আনন্দে তাদের সামিল করলে মানসিক আত্মতৃপ্তি পাবেন নিশ্চিত। অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর মত পূণ্য কোরবানির পূন্যের চেয়ে কোন অংশেই কম নয়।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন। সোনেলা ব্লগের সকল পাঠক, লেখক, শুভানুধ্যায়ী, মডারেটর, এডমিন প্যানেল সদস্য এবং উপদেষ্টা মণ্ডলীর সবাইকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।

ঈদ মোবারক।

মোট পড়েছেনঃ ৯৬৫জনআজ পড়েছেনঃ ০জন
ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

২৭টি মন্তব্য

  1. সমসাময়িক বিষয় নিয়ে লেখাটি পড়ে যেমন মন খারাপ হলো, তেমনি চিন্তিত হলাম ভাই।
    এইবারের বন্যা, করোনা, ঘুর্ণিঝড় সব একাকার হয়ে গেছে, দেশ মনে হয় এমন বিপদে আর পড়েনি। 😢

    1. জ্বী ভাই, একদম নাকাল অবস্থা অনেকের। এরমধ্যেই একটু খুশি সবাই মিলে ভাগবাটোয়ারা করতে পারছে এটাই শুকুর আআলহামদুলিল্লাহ।

      আপনিও ভালো থাকুন ভাই। ঈদ মোবারক।

  2. নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় আমরা যেমন প্রকৃতির অবারিত করুণা পেয়েছি তেমনি নির্মমতাও কম সইতে হচ্ছে না। আমাদের দেশে অন্যান্য রোগ বালাই বা সম্প্রতি করোনার প্রকোপে যতটা না ক্ষয়ক্ষতি হয়/হচ্ছে তার দ্বিগুণ কষ্ট সহ্য করতে হয় নদী ভাঙন আর বন্যার কবলে পড়ে। ভাঙন কবলিত এলাকা গুলোতে মানুষের দুইবেলা খাবার জোটাতেই হিমসিম খেতে হয়।
    ঈদ শুধু আনন্দ করার জন্যে আমাদের জীবনে আসে না। স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস, আস্থাশীলতার পাশাপাশি নিজ আত্মার সংযম, পরিশুদ্ধতার সুযোগ দিতে আসে। ঈদের আনন্দ তখনই যথার্থ আনন্দদায়ক হয় যখন সকলে মিলে সেই আনন্দ উপভোগ করা যায়।
    আপনার সাথে আমিও বলতে চাই, অন্যের মুখে/ অসহায়ের মুখে হাসি ফোটানোর মাঝে যে পুণ্য/ আনন্দ থাকে, তা যেকোনো উৎসব আনন্দের চাইতে অনেক অনেক বেশি।

    ঈদ মুবারক তৌহিদ ভাই 🌹🌹

    1. সুন্দর বললেন আপু। আসলে প্রকৃতিগতভাবেই এসব মোকাবেলা করতে হচ্ছে আমাদের। তবু একটু খুশি সবার সাথে ভাগ করতে পারছি অনেকেই এটাই আলহামদুলিল্লাহ।

      ভালো থাকুন আপু, ঈদ মোবারক।

  3. যেকোন উৎসব, আনন্দ তখনই পরিপূর্ণ হয় যখন সবাই সেই আনন্দের ভাগীদার হয়,সবাই স্বাভাবিক সুস্থ থাকে। এবার একেতো করোনার ছোবল তার উপর বন্যার আক্রমণ। ঈদের আমেজটাই নষ্ট হয়ে গেছে । তবুও নিয়ম মেনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে হবে, এসব দুঃস্থ অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে হবে। ভালো থাকবেন ভাইয়া। ঈদের শুভেচ্ছা রইলো

  4. ঢাকার বুকে থেকে বানভাসি মানুষের
    দু:খ দুর্দসা বুঝা বড় কষ্ট।
    তাগের কাছে ঈদ আনন্দটা বাড়তি মনোবেদনার
    কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
    তাদের কাছে সমবেদনা জানানোর ভাষা জানা নাই।
    ঈদ মুবারক।

  5. সমাজের সামর্থবান সকলের কাছে অনুরোধ, আপনার ঈদের আনন্দ বানভাসি এবং অসহায় মানুষদের সাথে ভাগাভাগি করে নিন। বিশ্বাস করুন, আপনার পাশের ঘরের মানুষ না খেয়ে থাকলে আপনি কোনভাবেই উৎফুল্ল থাকতে পারবেন না। নিজেদের কোরবানির আনন্দে তাদের সামিল করলে মানসিক আত্মতৃপ্তি পাবেন নিশ্চিত।

    এটাই হোক দশ কথার এক কথা।
    শুভকামনা থাকলো শ্রদ্ধেয় দাদা। সাথে পবিত্রঈদ-উল-আজহা’রপ্রীতিওশুভেচ্ছা।

  6. ভাইয়া এই করোনার মহামারী তার সাথে আবার আমাদের উত্তরবঙ্গের বন্যায় মানুষ সত্যি অসহায়,তবু এখনো সুস্থ আছি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া,আর আপনার বাড়ি তিস্তা শুনে ভালো লাগলো যে আমরা একই এলাকার।।

    1. তাই নাকি? বাহ! জেনে ভালো লাগলো আপু। আসলে নদী এলাকার মানুষের দুর্দশা বর্ণনা করা লেখায় সম্ভব নয়। সকলেই ভালো থাকুক এটাই চাওয়া।

      আপনিও ভালো থাকুন আপু।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।

অনলাইনে ডাক্তার দেখাতে চান?