মূল লেখায় যান

পর্বতকন্যের ইতিকথা

প্রদীপ চক্রবর্তীউপন্যাস১৫টি মন্তব্য

#পর্ব_৩৬

রাত্রি প্রায় বারোটা। বাইরে অঝোর ধারায় বৃষ্টি পড়ছে। আজ মহানবমীর শেষ প্রহর। তাই পাড়ার অলিগলিতে লোকে লোকারণ্য। আমরা সবাই ট্রেনে বসে বসে গল্প করছি। কালীঘাট স্টেশন থেকে আমরা যাদবপুর স্টেশন এসে গিয়েছি। সেখানে যাত্রী নামার জন্য অল্প সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
তাই অনেকে অল্পসময়ে ট্রেন থেকে দ্রুত নেমে পড়ছে।
স্টেশন চত্বরের একটা বিষয় খেয়াল করে দেখলাম যে কেউ কেউ একেক ভবের ভাবে ভবঘুরে হয়ে ঘুরছে।
কেউ গান গাইছে,কেউ ভিক্ষা চাইছে,কেউ বা সুযোগ পেলে পকেটমেরে নিচ্ছি।
আর এ পকেটমার থেকে বলরাম দাদার নিস্তার হলো না। আমি আর বিনোদ এক সিটে বসে আছি।
আর বলরাম দাদার পাশের সিটে এক লোক বসেবসে এক পকেটমারের গল্প করছে। আমরা সকলে মিলে গল্প  শুনছি। আর পার্বতী পকেটমারের ভয়ে নিজের কানেরদুল,গলার হার খুলে জয়িতা বৌদিকে দিয়ে দিয়েছে।
হঠাৎ করে এক লোক বলরাম দাদাকে এসে বলছে দাদা জানেন,পকেটমার কিভাবে টাকা পকেট থেকে নিয়ে যায়? বলরাম দাদা বলে উঠলেন কিভাবে নিয়ে থাকে আমি তো তা কখনো দেখি নাই। তখন এই লোক বলরাম দাদার পকেট হাত দিয়ে বলছে দাদা আপনি আমার দিকে না চেয়ে অন্যদিকে চেয়ে থাকুন। বলরাম এই কথা শুনে অন্যদিকে চেয়ে আছেন আর এই লোকটি দাদাকে বলছে পকেটে হাত দিয়ে দাদা এইভাবে এমন করে টাকা নিয়ে যায় আর এই কথা বলে লোকটি বলরাম দাদার পকেট থেকে পাঁচশো টাকার নোট নিয়ে দৌড় দিয়ে পালিয়ে যায়। এই ধর ধর বলতে বলতে পকেটমার লোকটি চলে যায়। আমি আর বিনোদ পিছু ছুটলে ধরতে পারি নাই। ট্রেনের সকল যাত্রী এই ঘটনা দেখে হতবাক। যাই হোক বাকি টাকা গুলো জয়িতা বৌদির কাছে ছিলো আর না হলে আমাদের বাড়ি ফেরা হত না।
বৃষ্টি থেমে গিয়েছে আকাশজুড়ে তারা রাজীর আলো।
আমাদের পাশের সিটে পার্বতী বসে বসে আকাশপানে চেয়ে আছে। তাহার এই চেয়ে থাকাতে আমিও আকাশপানে চেয়ে আছি.. কী সুন্দর সুনীল আকাশ,শ্যামল কানন,বিশদ জোছনা। যদি পার্বতী আকাশপানে না চেয়ে থাকতো তাহলে এই গভীর রাত্রিতে অভিসারের ক্ষণক্ষণে আমেজে দেখতে পেতাম না এই সুশোভিত আকাশ।
রাতের আকাশ দেখতে দেখতে আমরা হাওড়া স্টেশন চলে এসেছি। আরেকটি স্টেশন অতিক্রম করে বলরাম দাদার বাড়ি।

#পর্ব_৩৭

কাকডাকা ভোর,কুয়াশা ডাকা আকাশ আর শিশির জলে ভেজা ক্লান্ত তৃণকুসুম। স্টেশনে আশপাশ ঘিরে কাশফুলের সমারোহ।
গ্রামের রমণীগণ ঝাঁকে ঝাঁকে দলবেঁধে কেউ তুলছে ফুল কেউবা বাঁধছে কোঁপায় কাশফুল।
শীতের ভোর,তাই সুন্দরম্ মনোরম পরিবেশে নিজেকে প্রকৃতির কাছে বিলিয়ে দিতে চাই। বিচিত্র জগৎ,বিচিত্র মানব,বিচিত্র সৃজন হয় তা অনুসরণ অনুকরণ না করলে এসবের মর্ম তত্ত্ব খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়।
ট্রেনে বসে বসে একান্তভাবে আমি আর পাশের সিটে বসে থাকা পার্বতী দেখছি এসব আপনমনে।
প্রকৃতিতে ভাবাবিষ্ট হয়ে কোন এক ভ্রমণ পিপাসু মহাজন বলেছিলেন,
“বসিয়া নিরলে একান্ত গোপনে
বিচিত্র সৃজন দেখিতে।
সত্যি কী অপরূপ প্রকৃতির দান কি যে তাঁর অপরূপ লীলা আর বিচিত্র জগতে বিচিত্র মানুষের চিন্তাধারা।

আর এই বিচিত্র সৃজন আর প্রকৃতির অপরূপ প্রেম দেখে প্রকৃতি কবি জীবনানন্দ আর বনলতাকে স্মরণ করে লিখছি কবিতা।
.
প্রকৃতি প্রেম
প্রদীপ চক্রবর্তী
…
আমি বহুকাল ধরে বহুপথ দূরে,
আলোকিত রাত্রিতে আছি বসে বৃক্ষরাজির পদতলে।

অভিসারের শেষে ক্লান্তিহীন স্মৃতির স্রোতে,
খুঁজছি প্রিয় বনলতা আর জীবনানন্দ কে।
যেখানে দুচোখ ভরে দেখি প্রকৃতির ছায়াবীথি,
মধুময় মধুমাসে হিজল ফুলের শাড়ির নীলে যাজ্ঞসেনী।

শৈশব আমার গড়ে উঠা জীবনানন্দের পাঠশালায়,
প্রকৃতির মাতৃত্ব আমার নিভৃত বনলতার শিল্পশালায়।

দুচোখ ভরে প্রকৃতি প্রেম আসে জারুল হিজলের ডালে,
নিভৃত প্রেম অতলে ডুবে মিতালী মুখর মুগ্ধতা নিয়ে।
মুক্ত মন্দির দেবালয়ে বেজে ওঠে তপ্ত শঙ্খধ্বনি,
প্রাচীর বেয়ে উঠে রোজ মধু ক্ষণে কত অজস্র বিটপী।

নিভৃত মধুময় প্রেমে সবুজে শ্যামল গ্রন্থি আঁচলে হেম,
মধুমাসে জীবনানন্দ বিলিয়ে দেয় কত নিভৃত প্রেম।
পত্ররন্ধ্রে রোজনামচা মৃগ তৃষ্ণা খুঁজে ভরদুপুরে,
গন্ধ পুষ্পে মোহিত প্রকৃতির পূর্ণ হৃদয়ের ভাবনা আকেঁ।

পুলকিত প্রেমে স্থবিরতা বয়ে ললাট ঘিরে,
অমানিশা শেষে মধুময় প্রেমের আলিঙ্গনে।
..
প্রকৃতিতে আমি খুঁজে পাই আমার জীবনানন্দ আর বনলতাকে। তাই আপনমনে গ্রথিত কাব্যছন্দ উৎসর্গ করে দিলাম প্রকৃতি কবির কাছে।
স্নেহাস্পর্শে কবি আমায় ভুলিয়ে দিচ্ছেন মাথা।
আহ্ কী প্রশান্তি।
কি স্পর্শতার নির্যাস ছোঁয়া।
ভোর প্রায় চলন্তিকা সম্মুখপানে শুভ সকাল।
সবাই হু হা করে ঘুম থেকে উঠে পড়েছে।
পার্বতী রাত্রিতে থেকে সজাগ। বলা যেতে পারে ট্রেনের অতন্দ্রপ্রহরী। সে আমার পাশে এসে কানেকানে বলে উঠছে দীপ শুভ সকাল। একরাশ ভালোবাসা নিও।
আমিও তার ঠিক পরক্ষণে বলে উঠলাম শুভ সকাল প্রিয়তম পার্বতী। অনেক অনেক ভালোবাসা আর সূর্যস্নানে শিশিভেজা শুভেচ্ছা নিও।
বিনোদ আমার পাশে ঘুমিয়ে আছে এখনো সে ঘুম থেকে উঠেনি। বলরাম দাদা এসে বিনোদকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে নিলেন। কিছুক্ষণ পর আমরা সকলে বাড়ি চলে যাব। তাই বলরাম দাদা সকলকে বললেন কাপড়চোপড় বেগে গুছিয়ে নিতে।

#পর্ব_৩৮

আজ বিজয়াদশমী।
আজ পুরো শহরের অলিগলি,পাড়া,মহল্লা রঙে রাঙিয়ে উঠবে। হাওড়া স্টেশন থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ মাছ উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের ইলিশ চড়া দামে বিক্রি হয়।
বলরাম সেখানে থেকে দশ কেজি ইলিশ মাছ কিনে নিয়ে বিনোদকে দিয়ে বললেন দেখো বিনোদ বিড়াল যেন গাঁফটি মেরে তোমার কাছ থেকে না নিয়ে পালিয়ে যায়। যাই হোক বিনোদ গুরুদায়িত্ব মাথা পেতে নিয়ে নিলো।
সকাল প্রায় নয়টা ট্রেন হাওড়া স্টেশন অতিক্রম করেছে। সকলে মিলে গরম গরম লুচি,সুজি আর ভেজা কাঁচাছানা দিয়ে প্রাতরাশ করে নিলাম। তারপূর্বে প্রাতক্রিয়া সম্পূর্ণ  হয়ে গিয়েছে। তাই আর এটা নিয়ে কারো বেশ চিন্তা ভাবনার কিছু নেই।
বলা যায় না বিনোদের কখন কী হয়।
বিনোদের বারোমাসের মধ্যে এগারোমাস পেটে সমস্যা থেকে যায়। জানিনা এসব তার কর্মদোষ কি না।
ইতিমধ্যে যা খাচ্ছে তা তো পেটের বিষ। যার আ্যকশন খুব ধীরে ধীরে। আর এসব লুচি,সুজি ইত্যাদি ইত্যাদি খেতে বেশ ভালোবাসে। বাড়িতে নিয়ে খাওয়ার জন্য বিনোদ পার্সেলের ব্যবস্থা করে পার্বতীর কাছে রেখে দিয়েছে।
পেটে যাই হোক খেতেই হবে।

হঠাৎ সম্মুখে হাজির শতবর্ষী এক বৃদ্ধা। মাথায় একঝাঁক সাদা চুল। পরনে সাদা ধূতি পান্জাবী।
হাতে একদন্ড লাঠি। বেশ কথোপকথন হলো উনার সাথে আমাদের। অবশেষ জানতে পারলাম এই শতবর্ষী বৃদ্ধা লোক নেতাজীর সৈন্যদলে কাজ করেছিলেন।
এই কথাশুনে নিজের মস্তকখানা উনার পায়ে ঠেকিয়ে আশীর্বাদ নিলাম। এই শতবর্ষী লোক মাথায় হাত দিয়ে আমায় আশীর্বাদ করে বললেন অনেক বড় হও।
আর নিজের জীবন উৎসর্গ করো উৎসবে,বসনে,রাষ্ট্র, দুর্ভিক্ষ,বিপ্লবে। আমি ওনাকে বললাম আপনাকে তো আর অন্তর্যামী ঈশ্বরকে দেখতে হবে না আপনি ভারতবর্ষের এক মহান দিকপাল কে দেখেছেন।
উনি আমায় বললেন হ্যাঁ বাবা আমায় আর ঈশ্বর দেখতে হবে না। আমি নেতাজীর সৈন্যদলে যোগদান করে দেশকে স্বাধীন করতে পেরে খুবি গর্ববোধ করছি। বর্তমান ভারতবর্ষে নেতাজীর সৈন্যদলে কাজ করেছেন এমন লোকের সংখ্যা খুবি কম। অনেকেই শহীদ হয়ে গিয়েছেন। উনি ব্যারাকপুরে বিশেষ কাজে যাবেন।
উনি আমার পরিচয় নিলেন এবং দেশের পরিচয় নিলেন। আর আমাকে বলছেন বাবা তুমিও অনেক ভাগ্যবান,যে দেশ মাতৃভাষার জন্য ত্রিশ লক্ষাধিক লোক নিজের রক্ত বিসর্জন দিয়েছে।
উনার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমরা ট্রেন থেকে নেমে পড়লাম।টমটম করে সবাই বাড়ির উদ্দেশ্য যাত্রা নিলাম। মাত্র কুড়ি মিনিটের রাস্তা। বাড়ি গিয়ে সবাই তাড়াতাড়ি স্নান করে অঞ্জলি নিয়ে প্রসাদ খেয়ে বিছানায় শুয়ে শুয়ে আরাম আয়েশ করছি।
নিশিযাপন আর কত স্বপ্ন মনের মধ্যে একে একে গ্রথিত হচ্ছে। আজ গোধূলিলগ্নে দেবী দুর্গার বিসর্জন সমাপন করা হবে। এক নিমেষে শেষ হয়ে যাবে এই বছরের জন্য পূজার আনন্দের দিনগুলি।

#পর্ব_৩৯

শরতের বুকে কান রাখলে আগমনী দেবীর চলে যাওয়া ক্রন্দন ধ্বনি শোনা যায়। মধ্যাহ্ন ভোজন প্রায় সকলের শেষ। ধীরে ধীরে আগমনী দেবীর বিদায়ী যাত্রা হতে চলছে। চোখে কারো আনন্দের রেশ নেই। তবুও যে দেবীকে বিদায় দিতে হয়।
ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে পাড়া মহল্লায় রঙ খেলা। দেবী দুর্গাকে সিঁদুর রঙে রাঙিয়ে এই বছরের মত করে বিদায়ী যাত্রা দেওয়ার জন্য সকলে মিলে চললাম গঙ্গার ঘাটে। যেখানে কলকাতার সকল মূর্তি গঙ্গার ঘাটে বিসর্জন করানো হবে। গোধূলির প্রাক মুহূর্তে দেবীকে বিসর্জন করে আমরা সকলে রিক্ত হাতে বাড়ি ফিরলাম। আগমনী দেবীর যাত্রা গজে তাই আকাশে কালমেঘ যখনতখন বৃষ্টি নামবে। পুরো শহর জুড়ে কালোছায়া। কোথাও আলো নেই। রাত্রি তখন প্রায় আটটা বাজে। পাড়ার সকলের নিমন্ত্রণ আজ রাত্রিবেলা বলরাম দাদা বাড়িতে ভূরিভোজ করতে।
একে একে লোক বাড়িতে আসছে। বাড়ির আশেপাশে ইলিশ মাছের গন্ধে ভরপুর। আমি আর বিনোদ খেতে বসলাম আমাদের সাথে পার্বতী। তার চোখে চোখ রেখে রোজ কতবার অপলকে চেয়েছি। আর কত অসংখ্য বার মরে গিয়ে বেঁচেছি তার পুলকিত নয়নপানে।
তাকে ভালোবেসে কত নাম দিয়েছি তারমধ্য পার্বতী নামটা ছিলো অনবদ্য। আমাদের ভালোবাসা কখনো সাকার কখনো বা নিরাকার। সকল অহং ভাব মুছে আমাদের অন্তর থেকে সবসময় ধ্বনিত হয় ” অহম ব্রক্ষঃ। দুটি দেহের অন্তর আত্মা একি বন্দনে যে গ্রথিত তা ভাগ্যদেবতা প্রজাপতির কাছে সমর্পণ।
মৃত্যুের পর আমার প্রতি একাকীত্বটা ঘুচিয়ে রাখবে তোমায় আমার অজস্র কবিতা।
আমাদের মৃত্যু হলে আমরা কবির কবিতা হয়ে জন্মাবো। আমি কবি হলে তুমি কবিতা হবে।
অজস্র কবিতা লিখে যাব তোমায় নিয়ে।
আমৃত্যু পর্যন্ত তোমাকে আমার পাশে চাই।

#পর্ব_৪০

আমি আর বিনোদ বলরাম দাদার বাড়িতে অবস্থান করার আজ পনেরোতম দিবস। কেমন করে এত দিবস রজনী কেটে গিয়েছে বুঝে উঠতে পারিনি।
বেশ প্রশংসা করতে হয় বলরাম দাদার বাড়ির সকল সদস্যদের। সবাই সবসময় হাসিখুশিতে ভরপুর থাকে।
বাড়িতে পূজার্চনা আর আত্মীয়স্বজন সবকিছু মিলে আনন্দের রেশ বেশ জমজমাট হয়ে উঠে।
বলরাম দাদার পিতামহ ছিলেন একজন মুদী ব্যবসায়ী। যদিও উনি অনেক কাল আগে দেহত্যাগ করেছেন। উনার স্মৃতি হিসেবে একটা ছোটখাটো ঠং দোকান রয়েছে। বর্তমানে ইহাতে কোন আসবাবপত্র নেই। বলরাম দাদার ছেলে আবির সেখানে তার বাল্যবন্ধুদের নিয়ে বিকালবেলা খেলাধূলা করে থাকে।
আজ সন্ধ্যাবেলা বলরাম দাদার সাথে আমি আর বিনোদ অতিথি হিসেব কৃষ্ণনগর যাব। গোঁপাল ভাঁড়ের জন্মস্থান নদীয়ায়। এখনো সেখানে গোঁপালের অনেক স্মৃতি বিজড়িত। চললাম আমরা সকলে মিলে নদীয়ার পথে কৃষ্ণনগরে।
সেখানে আমাদের পৌঁছাতে প্রায় তিন থেকে চার ঘন্টা সময় লেগেছে। অতিথি হিসেবে আমাদের প্রতি তাদের আপ্যায়নের কোন কমতি ছিলোনা। কেননা বলরাম দাদা পদবীভুক্ত রায়বাহাদুর খেতাব গ্রহণ করছেন। একজন সম্মানিত ব্যক্তি। আমাদেরকে সবাই মিলে ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছে। বরণীয়দের মধ্যে একজন অবিবাহিতা মহিলা ছিলো। বয়স প্রায় কুড়ি একুশ বা তার চেয়ে কম। দেখিতে নবযৌবনা গঙ্গার জলরাশির মত স্নিগ্ধ আর রাতের আঁধারে ষোড়শীর ন্যায়। যার কপালে লালটিপ,চোখে কাজল,কোঁপায় বাঁধানো রজনীগন্ধা। বিনোদ আড়ালে মেয়েটির চোখপানে চেয়ে আছে। আমি খানিকক্ষণ তা দেখে একা একা হাসছি। মেয়েটিও বিনোদের দিকে চেয়ে আছে।
এ যেন নয়নে নয়নে ষোড়শীরূপে ভালোবাসার গ্রন্থি বন্দন গ্রথিত হচ্ছে দুজনের হৃদয় মন্দিরে।
আমি বলরাম দাদা ডানদিকের পিছন দিকে বসে আছি। আর বিনোদ আমার সামনের দিকে একটু বা পাশে বসে আছে। মেয়েটি একটু দূর হলেও দুজনের নয়ন গ্রন্থি বন্দন এক। রাত্রি প্রায় দশটা। ইতিমধ্যে প্রধান অতিথি হিসেবে বলরাম দাদার বক্তব্য শেষ।
কিছুক্ষণ পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হবে। তাই একে একে বিভিন্ন জায়গা থেকে লোক আসছে। মেয়েটি সেখানে গান গাইবে। তাই বাউল বসন পরে একে একে মঞ্চে উপবিষ্ট হচ্ছে। প্রথমে মঞ্চে উঠে মেয়েটি আমাদের বাংলাদেশের বাটিবাংলার প্রাণ পুরুষ বাউল গানের পুরোধা ব্যক্তিত্ব বাউল আব্দুল করিমের গান গেয়ে মঞ্চটা ভরপুর করে তুলেছে। গান শুনে আমাদের মন ভরে গিয়েছে। তার চেয়ে বেশি মন ভরে গিয়েছে বিনোদের।
শীতের রাত এত লোকের সমাগম চাঁদের গায়ে লেগেছে একবিংশ পুরুষের ষোড়শীজ নারীর পুলকিত প্রেম। এ যেন স্থবিরতা বহে ললাট ঘিরে অমানিশা শেষে মধুময় মধুর প্রেমে।

.

ক্রমশ…

মোট পড়েছেনঃ ১২১৭জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

১৫টি মন্তব্য

  1. পুরো ভারতবাসী সাংস্কৃতিকপ্রেমী। আমি জানি। জেনেছিলাম ১৯৯১ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন বিনা পাসপোর্টে ভারত গিয়েছিলা তখন। প্রথমে থাকতাম যাদবপুর। বাঘা যতিনও থেকেছি কিছুদিন। এরপর নিজের বোনের বাড়ি জলপাইগুড়ি বীরপাড়া। ভুটান সংলগ্ন পাহার ঘেঁষা এলাকা। প্রায় দেড় বছর থেকে অবশেষে নিঃস্ব হয়ে বাংলাদেশ নিজের জন্মভূমিতে। আপনার পর্বতকন্যের ইতিকথা গল্প পড়ে আজ সেসব কথা মনে পড়ে গেল।
    একবার মনে হয় ভারত ভ্রমণের গল্প এই ব্লগেই লিখেছিলাম। যাই হোক, পর্বতকন্যের ইতিকথা পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
    আপনাকে শুভেচ্ছা।

      1. যে ক’দিন ছিলাম দেখেছি! রাস্তা-ঘাটে, পাড়া মহল্লার আনাচে-কানাচে ক’দিন পরপরই অনুষ্ঠান আর অনুষ্ঠান। নাচ-গান সহ নাটক থিয়েটার। সাথে যাত্রানুষ্ঠান। দুর্দিনে ছিলাম। তুব আনন্দেই ছিলাম।

      1. সময়ের অভাবে পুরোটা শেষ করতে পারিনি দাদা। অসমাপ্ত রয়ে গেল। তবে হ্যাঁ, লেখা অসমাপ্ত থাকবে না, রাখবেও না। পর্ব চলবে শেষ পর্ব পর্যন্ত। স্মরণ করিয়ে দিয়ে উপকার করলেন। কৃতজ্ঞতার সাথে ধন্যবাদ।

  2. পুরো ভারত কিনা জানিনা তবে শুনেছি কোলকাতার বাঙালিরা দারুণ সংস্কৃতি প্রেমী। সুযোগ থাকলে অবশ্যই যাবো। তখন আপনাদের সাহায্য লাগবে কিন্তু দাদা।

    লেখা ভালো লাগছে। পরের পর্বের অপেক্ষায়।

    1. নির্দ্বিধায় বলতে পারেন দাদা অধিকাংশ ভারতবাসী সংস্কৃতি প্রেমী।
      এইবার জানুয়ারি মাসে যাব গৌহাটি কাছাড় আসাম।

      অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা দাদা।

  3. কল অহং ভাব মুছে আমাদের অন্তর থেকে সবসময় ধ্বনিত হয় ” অহম ব্রক্ষঃ। দুটি দেহের অন্তর আত্মা একি বন্দনে যে গ্রথিত তা ভাগ্যদেবতা প্রজাপতির কাছে সমর্পণ।
    মৃত্যুের পর আমার প্রতি একাকীত্বটা ঘুচিয়ে রাখবে তোমায় আমার অজস্র কবিতা।
    আমাদের মৃত্যু হলে আমরা কবির কবিতা হয়ে জন্মাবো। আমি কবি হলে তুমি কবিতা হবে।
    অজস্র কবিতা লিখে যাব তোমায় নিয়ে।
    আমৃত্যু পর্যন্ত তোমাকে আমার পাশে চাই।

    চমৎকার লেখা চলছে…..শুভ কামনা ভাইয়া।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।