মূল লেখায় যান

জ্যামেতিক জীবন

তৌহিদুল ইসলামএকান্ত অনুভূতি১৬টি মন্তব্য

সুখ-দুঃখ, পুলক-বেদনাময় কত বিচিত্র অভিজ্ঞতা, কত মানুষের সাথে মেলা-মেশার মধ্য দিয়ে জীবনের এই পথ অতিক্রম করে চলেছি আমি; জানি সে পথ একদিন শেষ হয়ে যাবে। জীবনের সবকিছুই পলাতকা ছবির বন্ধন হতে মুক্তির জন্য ঝুঁকছে। হাসি, অশ্রু, প্রেম লজ্জা, ভয়, অপমান, অত্যাচারের কোন নির্দিষ্ট স্থায়ী সত্ত্বা নেই। জীবন তার নিজ গতিতেই চলমান। এই গতিবেগের মধ্যে এসব সত্ত্বা কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছে। পিছনে রেখে গিয়েছে ক্ষণিকের তরে একটা অসামান্যতা ও রস মাধুর্যের স্পর্শ।

নানান জটিলতা ও দুঃখ-ক্ষোভ, লাভ-লোকসানের এই জীবনপথে বারবার জ্বর, ব্যধিতে আক্রান্ত হয়েছি, থেমে যাইনি। জরা বেদনার হিসেব করেতো আর জীবন চলেনা। কারন জীবনের প্রকৃত স্বরূপকে বিকৃত করেই এই বিশ্বসৃষ্টি একবার ভাঙছে আবার গড়ছে। কিছুইতো চিরস্থায়ী নয়। নব সৃষ্টির মূলেই যে প্রেম, সে প্রেম মানুষের যাত্রাপথকে অনির্বচনীয় আনন্দ সংগীত রসে অভিষিক্ত করে। ভাঙ্গাগড়ার যে খেলায় নেমেছে সে, তার সঙ্গী এখন আমি।

নির্ঝর রুদ্ধ ঘরে সন্ধ্যা দিবালোকে তুমি-আমি’র মিলনে নবজীবন প্রাপ্তির সুখলাভের মোহ আর জীবনের বিচিত্র সৌন্দর্য-মাধুর্য ইদানীংকালে জীবন যৌবনের বিপরীত সংগীত হয়ে ধরা দিচ্ছে। কথাশিল্পী তার শ্রেষ্ঠ রস-সম্ভোগ সমাপ্তির মেঠোপথে গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে চলেছে এক পা দু’পা করে। এসব দেখে কেউ হাসছে, কেউ উপহাস করছে। প্রকৃত বন্ধু চেনা বড্ড দায়!

বিশ্বপ্রকৃতির মানুষ, সৃষ্টিকর্তা এবং নিজের ব্যক্তিসত্ত্বা এই তিনের ঘাত-প্রতিঘাত, পরস্পরের সম্বন্ধ ও এদের প্রত্যেকের প্রকৃত রূপ আমার অনুভূতিকে গভীর ও প্রবলভাবে নাড়া দিয়ে যায় আজকাল। সৃষ্টির সাথে নিজের সম্বন্ধ, আমার ব্যাক্তিসত্ত্বার স্থান ও কাল মিলিত হয়েছে চক্রাকৃতি বৃত্তের কেন্দ্রে। ব্যক্তি জীবনের গতি, কৈশোর ও যৌবনের বিগত দিনের স্মৃতি, জীবন পথের দু’ধারে নানান দৃশ্য পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আমি জীবনকে নতুন ভঙ্গিতে, নতুন সুরে, নতুন রূপে কল্পনায় কাব্যে অমরত্ব লাভ করার নির্মোঘ আশায় দিনানিপাত করছি।

মাঝেমধ্যে ভাবি, তারুণ্যই গতি চাঞ্চল্য জীবনের ধর্ম হওয়া উচিত। যে প্রকৃতি তার গতিবেগের মধ্যে নিজের অস্তিত্বের পরিচয় দিয়ে চলেছে সেই প্রকৃতিকে আমি তারুন্যের মাঝে আবার ফিরে পেতে চাই। অতি সূক্ষ্মভাবে সৃষ্টিকর্তাকে তার পটভূমিকায় স্থাপন করে পারস্পরিক সম্বন্ধের এক রহস্যময় আলোয় নিজেকে আলোকিত করতে চাই। আমি ফিরে যেতে চাই আমার ছেলেবেলায়, কৈশরের উত্তাল উচ্ছ্বাসের দিনগুলিতে।

[ছবি- নেট থেকে]

মোট পড়েছেনঃ ৯৩৬জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

১৬টি মন্তব্য

  1. জীবনের সব গুলো পথ একদিন একটাই গন্তব্যে গিয়ে থামে। নির্দিষ্ট গন্তব্যে চলাকালীন মুহুর্ত গুলো আমাদের হাসায়, কাঁদায়, বাচিঁয়ে রাখে। ফেলে যাওয়া পথ আর ছেড়ে যাওয়া সময়কে যদি ফেরত পাওয়া যেত!
    বৃত্তবন্দী জীবন তবুও বিন্দুতে ফেরা হয় না আগের মতন। আনন্দ হাসি ভয় কান্না লজ্জা শোক অপমানে জড়ানো স্মৃতির বোঝা দিনে দিনে মন্থর করে দিচ্ছে তারুণ্যের গতি। তবুও আশা নিয়ে চলতে থাকি গন্তব্যের শেষ পর্যন্ত।

    লেখাটা ভালো লেগেছে।
    পোস্ট প্রিয়তে নিলাম।
    ভালো থাকুন তৌহিদ ভাই 🌹🌹

  2. এতো মানুষ কিন্তু মানুষ কই? তাই চেনাচিনি বাদ। নিজের যা কিছু ভালোমন্দ আছে তাই নিয়ে ধীর গতিতে এগিয়ে চলাই জীবন। তাতেই তৃপ্ত হয়ে চলাই ভালো। প্রকৃত খুঁজতে গেলেই সমস্যা। শুভ কামনাভাই।

  3. জীবনের এ পর্যায়ে এমন অনুভুতি আমাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করে/করবে।
    সৃষ্টি ও স্রষ্টার সমীকরণ আমরা কতটুকু আর বুঝে নিতে পারি, পারি শুধুই অসহায় আত্মসমর্পণ, সেটুকু যেন ঠিকঠাক
    হয় এ কামনা আমাদের সবার।
    কৈশরে কে না ফিরতে চায়!! জানি ফেরা হবে না, ফেরা যায় না। তবুও চোখ শুধুই পেছনে তাকায়।
    সুন্দর লেখা।

  4. সব কিছু নিয়েই জীবন,
    এসব উপলব্দি করে অনুভব করাটাই আসল।
    বিশ্বপ্রকৃতি এক অপার বিষ্ময় আমাদের কাছে।
    জীবনকে তরুন ভাবনায় নেয়া সম্ভব নয় আর, ঐ সময়টায় জীবন ছিলো সরলতায় পূর্ন।
    বর্তমান সময়ে বিভিন্ন জটিলতায় ডুবে আছে,

    ভালো লেগেছে লেখা।
    শুভ কামনা।

    1. জীবনকে সামনে এগোতে দিতে গিয়ে নানান জটিলতা পঙ্কিলতায়য় মনে হয় জীবনের ছেলেবেলাটাই অনেক ভালো ছিলো। কোন টেনশন ছিলোনা।

      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ভাই।

  5. তারুণ্যই গতি চাঞ্চল্য জীবনের ধর্ম হওয়া উচিত। একদম ঠিক কথা। শৈশবের আনন্দ কভু ভোলা নাহি যায়। এ এক অন্য জগৎ, অন্যধারা জীবনের বাঁকে। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে বিস্ময় ফুটে ওঠে। খুব সুন্দর লেখা। ভালো থাকুন নিরাপদে থাকুন। ঈদের শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইলো

  6. সবকিছু উপেক্ষা করে শেষ গন্তব্যের দিকে ধাবিত হওয়ায় জীবন। ফেলে আসা ছেড়ে যাওয়া সময় গুলো, স্মৃতিগুলো এই বেলায় এসে হৃদয়ের ক্যানভাসে আঁকিবুঁকি করবেই। নিরবে নিভৃতে তা ভাবাবেই। তবুও জীবন চলে জীবনের নিয়মে
    চমৎকার মন্তব্যের ভাইয়া
    অনেক অনেক ভালো লাগা রইল