মূল লেখায় যান

জুমঘর

কামাল উদ্দিনভ্রমণ২৯টি মন্তব্য

আনুমানিক রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা। শীতের রাতে এটাই তো অনেক রাত, তার উপর পুরো পর্বত শ্রেণী ঢেকে আছে হিম শীতল কুয়াশায়। বান্দরবানের পর্বতের গহীন অরণ্য ধরে হেটে চলছে আমাদের ভ্রমণ টিম। পিঠে ভ্রমণ বোঝা। হাতে সাত দিন আগে চার্য দেওয়া নিভু নিভু টর্চের আলোটা অন্ধকার দূর না করে আরো যেন দূর্ভেদ্য করে তুলেছে। টর্চের লালচে আলো, খুব গাঢ় কুয়াশা, সেই সঙ্গে হুহু বাতাস আর পাহাড়ি পোকা-মাকড়ের শব্দ, কুয়াশা ভেজা চাঁদের ক্ষীণ আলো মিলে কেমন যেনো একটা ভৌতিক আবহ। কখনো জোঁকের কামড়কে মশার কামড় ভেবে হাটতে থাকি, আবার কখনো মশার কামড়কে জোঁকের কামড় মনে করে লাফিয়ে উঠি।

কোথাও ঝিরি পথের পিচ্ছিল পাথরে পা হড়কায়, কোথাও বা কাঁটা ঝোঁপের আঘাতে শরীর বিক্ষত হয়। তাতেও আমরা বিচলিত ছিলাম না, আমাদের লক্ষ্য ছিলো পরবর্তি পাহাড়িদের গ্রাম। ওখানেই রাত কাটিয়ে পরের দিন নাফাখুম, রেমাক্রি হয়ে থানচি পৌছাবো।

কুয়াশা ভেজা ক্ষয়ে যাওয়া চাঁদটা দেখেও পথের দিশা করতে না পেরে এক সময় আমাদের গাইড ঘোষণা দিলো সে পথ হারিয়েছে। ক্লান্তিতে শরীরটা ভেঙ্গে পরতে চাইলো। চরম হতাশা নিয়ে আরো কিছুটা পথ এগোলাম। এমন সময় আমাদের নজরে আসলো কিছুটা উপরের পাহাড়ে আবছা মতো একটা জুম ঘর দেখা যাচ্ছে। বুঝলাম ওটাই হতে যাচ্ছে আমাদের আজকে রাতের ঠিকানা। চার হাত পা দিয়ে খামচে উঠতে থাকলাম জুম ঘরের দিকে………..

মোট পড়েছেনঃ ১৮৬৪জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

২৯টি মন্তব্য

  1. এতো কষ্ট করে অনেকটা পথ পাড়ি দেবারপর গাইড বললো পথ ভুল হয়েছে। কেমনটা লাগে!
    আমার পথ ভুল হয়েছিল বলেই না জুম নামক কোনো ঘরে রাত্রি যাপনের সুযোগ হয়েছিল।

    1. ওই রাতটা কিযে কষ্টে কেটেছিল আপু তা আমরা যারা ভুক্তভোগী একমাত্র তারাই জানি। জুমের মাচার ফাঁক দিকে হুহু শীতল বাতাসে শীত আর ক্ষুধায় কাতরতা মিলে শুধুই সকালে অপেক্ষায় ছিলাম আমরা। তবে এখন কিন্তু গল্প বলার জন্য এটা ভালো একটা প্লট হয়ে আছে। শুভ সকাল আপু।

  2. এরপর হয়তো রাত শেষে ভোর হয়েছে। পূর্বাকাশে ভোরের রক্তিম সূর্য উদিত হয়েছে। কিন্তু আপনাদের গন্তব্যের পুরো কাহিনী জানা হলো না। আফসোস থেকে যায়। তাই অতিসত্বর গন্তব্যে পৌঁছানোর পুরো কাহিনী যানতে চাই।

  3. আপনারা করেছেন ভ্রমন আর আমার লাগে ভয়। আসলেই ভ্রমন একটি সাহসী কাজ। যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করতে পারে তাদেরই সাঁজে। খুব ভাল লাগল কামাল ভাই।

    1. কোন এক সময় হয়তো দিবো আপু। আর রাতের বেলা ছবি তোলা তো কোন ভাবেই সম্ভব ছিল না। তদুপরি আমার মূল ক্যামারাটা পানিতে পড়ে গিয়েছিল আর ছোট ক্যামেরাটার ব্যাটারি নিঃশেষ ছিল প্রায়।

  4. ট্রেন চালাইয়া হঠাৎ মাঝ পথে থামিয়ে দিলে আমরা পাঠকরা কোথায় যাব। দ্রুত দেন বাকী অংশ। জীবনের রিক্স নিয়ে আপনারা ভ্রমণ করেন আর আমরা পড়ে পড়ে মজা লই।ব্যাপারটা দারুণ না।
    ভ্রমণে শুভ কামনা রইল।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।