মূল লেখায় যান

গায়েবি ধর্ষণ

নাজমুল হুদাকবিতা৩৫টি মন্তব্য

অবক্ষয়ে সারা শরীর ছেয়ে গেছে কল্যাণী
ক্ষমতার ভিত্তিটা নড়বড়ে খুঁটিতে দাঁড়িয়ে
শিকারি মাছরাঙার মতো; পিপাসা মেটাচ্ছে
ভয় পায় না, মুখ চেপে উল্লাসিত মানুষ ছানা।

অগ্রিম রাতের লোভে ডুবে গেছে কল্যাণী
বিচারহীনতা বুকের মাংসে লুকিয়ে রেখে
নারীর মতো; আমি গন্তব্যহীন শুয়ে থাকি
উন্নত প্রযুক্তির পরীক্ষা চলবে
সুশীল,নেতা, বুদ্ধিজীবীও আসবে
প্রশ্ন করবে- “কী হয়েছে তোমার বাংলাদেশ?”

লজ্জায় জবুথবু আমি তাকিয়ে ছিলাম
বলছি কিছু না দেখো-
আমি বাংলাদেশ গায়েবি ধর্ষণ হলাম।

নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ

মোট পড়েছেনঃ ১৪৯০জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

৩৫টি মন্তব্য

  1. “লজ্জায় জবুথবু আমি তাকিয়ে ছিলাম
    বলছি কিছু না দেখো-
    আমি বাংলাদেশ গায়েবি ধর্ষণ হলাম। “

    সামাজিক অবক্ষয়ে
    বিবেক দেয় না সাড়া
    সভ্যতা আজ প্রশ্নের মুখে
    ভেবে হই দিশেহারা।
    শুভ কামনা।

  2. সামাজিক অবক্ষয়ে কি ভয়াবহ অবস্থা!
    ভাবতেই সারা শরীর শিউরে ওঠে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগি প্রতিক্ষণে ।
    বলে কিছু হবেনা তাই বলার কিছু নেই। দম বন্ধ হবার মতো অবস্থা।

    1. বিচারহীনতা আর ক্ষমতা একসাথে চলতে পারে না। এজন্যই মানুষ আজ আস্থাহীনতায় ভোগছে।
      বিশ্বাসযোগ্য রাষ্ট্র কাঠামো গঠন গড়ার বিকল্প নাই।

      ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে।

  3. লজ্জায় জবুথবু আমি তাকিয়ে ছিলাম
    বলছি কিছু না দেখো-
    আমি বাংলাদেশ গায়েবি ধর্ষণ হলাম।

    বাংলাদেশ ধর্ষিত ও লজ্জিত।
    সামাজিক অবক্ষয়ে
    বিবেক দেয় না সাড়া
    সভ্যতা আজ প্রশ্নের মুখে
    এই ভেবে দিশেহারা।

  4. ধর্ষকদের সবসময় সর্বোচ্চ শাস্তি হোক এটাই কাম্য। আইনের ফাঁক গলে কেউ যাতে ছাড় না পায়। আর আমাদের মানসিকতাই সবার আগে পরিবর্তন করতে হবে।

    কবিতা ভালো লেগেছে।

    1. সহমত ভাইয়া।
      তবে আজ যদি বিগত সালের ধর্ষণের অপরাধে দ্রুত কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হতো।
      তাহলে আস্থা অর্জন করতে পারতো নাগরিক সমাজ এবং দৃষ্টিভঙ্গিও পরিবর্তন হতো দ্রুত।

      বিচারহীনতা অপরাধকে আরো উস্কে দেয়। এর পিছনে অনেক যুক্তি আছে।

    1. গত ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের একজন শিক্ষার্থী গ্রুপ স্টাডি করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে যায়। তারপর বাসটপে নেমে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে রওনা হয় সেই মেয়েটি। সন্ধ্যা সাতটা আনুমানিক সময় তখন। কিন্তু হঠাৎ পিছন থেকে কে যেন মুখ ধরে ঝোপে নিয়ে ধর্ষণ করে অজ্ঞান অবস্থায়।সেই অজ্ঞাত পাষণ্ড।
      এটাই কবিতার গায়েবি ধর্ষণ হওয়ার মূল থিম।

    1. আপু প্রথমেই অনেক অনেক ধন্যবাদ সুন্দর একটি প্রশ্নের জন্য। আমি যখন লিখছি তখন এটা নিয়ে অনেক ভাবছি।

      আপু এই শব্দগুলোর যদি পদ বিশ্লেষণ করি তাহলে-
      “ধর্ষিত” শব্দটি বিশেষণ পদ। যার অর্থ ধর্ষণ করা হয়েছে এমন, অত্যাচারিত, বলাৎকৃত। যার স্ত্রীলিঙ্গ হয় *ধর্ষিতা এটাও বিশেষণ পদ।

      “ধর্ষণ” শব্দটি বিশেষ্য পদ । যার অর্থ নারীর উপর পাশবিক অত্যাচার, বলাৎকার, পীড়ন।

      এখন যদি কবিতার দিকে খেয়াল করি তাহলে-
      “ধর্ষিত হলাম” বললে হলাম শব্দটির এখানে অর্থবহন করে না। কারণ ধর্ষিত শব্দটি একটা কর্মের শেষ রূপ।

      আর “ধর্ষণ হলাম” বললে হলাম শব্দটির কার্যকারিতা ঠিক থাকে। কারণ ধর্ষণ হলাম মানে বাংলাদেশ একটি নারী চরিত্র এবং তাঁকে প্রশ্ন করা বিষয়টির উত্তর দিচ্ছে এই বলে- আমি বাংলাদেশ গায়েবি ধর্ষণ হলাম।

      সুতরাং, গায়েবি ধর্ষণ একটি বিশেষ্য পদ।

  5. সুশীল,নেতা, বুদ্ধিজীবীও আসবে
    প্রশ্ন করবে- “কী হয়েছে তোমার বাংলাদেশ?”

    এ দেশে ধর্ষিতারা বিচারের নামের নাটকে আরেকবার ধর্ষিত হয়।এ লজ্জা আমাদের। ভাল লিখেছেন।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।