মূল লেখায় যান

কাজের বুয়া

মোহাম্মদ মনজুরুল আলম চৌধুরীএকান্ত অনুভূতি১৮টি মন্তব্য

কাজের বুয়া এ ঘরের কথা লাগায়
অন্য ঘরে। আর আপনি তা শুনেন রসিয়ে
রসিয়ে। তার মুখে দু ‘খিলি পান দেন
ঢুকিয়ে নিজেও খান পান দু ‘খিলি।
কার বউ কার সাথে করে ফষ্টিনষ্টি
আপনাকে কত রকমের দেয় ফিরিস্তি।
কার ছেলেটা বাপ মায়ের অমতে কার মেয়েকে
করেছে বিয়ে শুনতে লাগে বেশ চমৎকার।
মেয়েটার বিয়ের বয়স গেল চলে কে করবে
বিয়ে? তাঁকে নিয়ে করে কতই না মশকরা হাসি ঠাট্টা।
কার মেয়েটা জামাইকে দু’ঘা লাগিয়ে এসেছে
ফিরে বাপের বাড়ী, সে মেয়েটা ভাই বউদের
করে কত জ্বালাতন মাকে রাখে পেরেশানিতে।
বউ চলে গেল আরেক বউ এলো ঘরে সে করে
কেমন তাও শুনায় আপনাকে। আপনিও শুনেন
আর শুনেন। হন পুলকিত চমকিত আনন্দে আত্মহারা।
ওদের কাজ হল এ-কথা সে-কথা কুকথা শুনিয়ে আপনার
কাছ থেকে দু’টুকরো মাছ, গরু বা মুরগীর গোস্ত,
এক পেয়ালা শাক বা সবজী সঙ্গে আরও কিছু নিয়ে যাওয়া
তার ঘরে থাকা স্বামী ছেলে মেয়ের জন্য। তাছাড়া
একটা খালি হয়ে হয়ে আসা পাউডারের ডিব্বা
স্নো ক্রিম লিপস্টিক নেয়া তার মেয়েটার জন্যে
যে এগুলোর জন্য ধরেছে বায়না। বেচারি পারে না
কিনে দিতে। আপনাকে তো পটাতে হবে তাই না !
আপনাকে এনিয়ে বিনিয়ে হাছা মিছা কথা মিশিয়ে
বলে ফায়দা নেয় লুটিয়ে। তার যে নেই এসব কেনার
অর্থ আর সামর্থ্য। কিন্তু সাধ-আহ্লাদ কি আর মানে
গরীব দুঃখীর দুঃখ। অসহায় এরা তাই আপনাকে
যে এতো কথা বলে অন্যের ঘরের। আপনি শতভাগ
কি নিশ্চিত আপনার ঘরের কথা সে বলেনা অপরকে।
আপনার ঘরে মাঝে মধ্যে ঘটে যাওয়া অতি স্বাভাবিক কিছু
ঠুনকো দাম্পত্য কলহের কথা, আপনার ছেলেটা যে নেশা
করে, চাঁদাবাজি করে বা খুব ভালো একটা ছেলে অথবা
আপনার নিষ্পাপ মেয়েটার কথা। আরে বইলেন না
আপা ঐ বাড়ীর মেয়েটার কি যে ডাঁট মানেনা মা বাপ।
আপনার পোলাপান বড়ই সভ্য আর ভদ্র রেখেছে আপনাগো
সম্মান ইজ্জৎ। আপনিও হয়ে উঠেন আনন্দে খুশিতে বেশ গদগদ।
কারে করেন বিশ্বাস, দেখুন ভেবে একবার নয় বার বার।

ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত।

 

মোট পড়েছেনঃ ২০৫৩জনআজ পড়েছেনঃ ০জন
ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

১৮টি মন্তব্য

  1. চমৎকার কাব্যে বাস্তব কিছু সত্য কথা বলছেন।বেশির ভাগ নারীরা কাজের লোকের সাথে এমন গল্প আড্ডা দিয়ে থাকেন তখন তারা নিজের কথা বেমালুম ভুলে যায় যে ও গিয়ে আমাদের কথা অন্যকে বলতে পারে।
    অসংখ্য ধন্যবাদ লেখাটির জন্য।অনেক ভালো লাগলো।শুভ রাত্রি।

    1. আপু, আপনি আমার মনের কথাগুলোই বলেছেন। আপনার মূল্যবান মতামত আমার আগামী লেখার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে । সুস্থ আর ভালো থাকবেন। শুভ দুপুর।

  2. এজন্য বুয়াকে প্রথম শর্ত। কাজ করবা। কোন কথা নাই। করলে করো না করলে নাই। ঐ বাড়ির কথা এখানে বলা নিষেধ। ুজন্য আমার বুয়া যায় না। গল্প অফ।
    ভালো বিষয় নিয়ে লিখলেন।
    শুভকামনা

    1. আপা, আমাদেরই উচিৎ তাঁদের সঙ্গে আলাপ না করা। ওরা আমাদের পরিবারগুলোর মধ্যে অনেক ধরণের সন্দেহ অবিশ্বাস ভুল বুঝবুঝির সৃষ্টির অন্যতম কারণ। ধন্যবাদ আপা।

  3. গৃহিণীদের এই অভ্যাসটা চিরকালের। পরনিন্দা, পরচর্চা শতগুণ বেড়ে যায় এসব বুয়াদের জন্য। আগুনে ঘি ঢালার মতোই এসব নারী সহযোগীরা। অসংখ্য ধন্যবাদ এমন একটি বিষয়কে চমৎকার ভাবে উপস্থাপন করার জন্য। নিরন্তর শুভকামনা রইলো

  4. কাজের সাহায্যকারীদের সাথে সব বিষয়ে আলাপ করা উচিত নয়। একদিন সম্পর্কে টানাপোড়ন হলেই সেসব কথা অন্যদের কানে তুলবে। তাদের কাছে অন্যের কথা শোনাটাও অনূচিত। এসব জিনিস আমরা মানতে চাইনা অনেকেই।

    ভালো থাকুন ভাই।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।

অনলাইনে ডাক্তার দেখাতে চান?