মূল লেখায় যান

কমেডিক হরতাল

বোকা মানুষবিবিধ, সমসাময়িক১৮টি মন্তব্য

আজ অফিস থেকে বাসায় ফেরার সময়টা ছিল আতঙ্ক আর কমেডির মিশ্রণে বেশ ঘটনাবহুল।

 

দুর্ঘটনা:

 

রিক্সায় করে আসছি, এমন সময় আমার রিক্সার ৪-৫ ফিটের মধ্যে বিকট শব্দে পরপর বেশ ক’টা হাতবোমা ফাটলো। সম্ভবত স্প্লিন্টার ছিলনা ভিতরে। থাকলে আর এই স্ট্যাটাস দিতে হতনা, সোজা হাসপাতাল। অবশ্য মন্দ হতনা মনে হয়, পারিবারের সদস্য আর বন্ধু বান্ধবদের কপট রাগ মাখা মনোযোগ পেতাম ক’দিন আর প্রতি বছরই প্রায় অব্যবহৃত থাকা সিক লিভ গুলোর মত এবছরের গুলোও বিফলে যেতনা। আর ভাগ্য নিতান্তই খারাপ হলে হরতালের নির্মমতার শিকার হিসেবে পত্রিকার শিরোনাম হতাম। 😛

 

কমেডি ঘটনা:

 

বোমাতঙ্ক ঠিকমত তখনও কাটে নাই। বাসার মোটামুটি কাছাকাছি এসে গেছে রিক্সা। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ঢোকার মুখটাতে হালকা জ্যামের কারনে রিক্সার গতি অনেকটা কমে এল। ঠিক এমন সময় একটা হিজড়া হঠাৎ লাফ দিয়ে আমার রিক্সায় উঠে পাশে বসে পড়ল। খনখনে গলায় বলল “টেকা দে, নইলে নামুম না রিসকা থেইকা”। এটা শুনে আমি শান্তভাবে একটু সরে বসে নির্বিকার ভাবে তাকে বললাম “বসতে পারছেন ঠিকমত”? আমার নির্বিকার ভাব দেখে আর প্রশ্ন শুনে একটু ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলেও আবারও বলল “টেকা দে কইতাসি, নাইলে হাছাই নামুম না”। আমি তখন বললাম “বিকালের নাস্তা মনে হয় করেন নাই। চলেন আমার বাসায়, চা নাস্তা খাওয়াবো। মাসের শেষ, বেতন পাই নাই, পকেট একদম খালি। রিক্সা ভাড়াটাও বাসা থেকে নিয়ে দেব। টাকা না দিলে আপনি যখন নামবেনই না, তখন চলেন আমার বাসায়। টাকা না দিতে না পারলেও চা নাস্তা তো খাওয়াতে পারবো”। রিক্সা ততক্ষণে যমুনা ফিউচার পার্ক পার হয়ে গেছে। আমার এই কথা শুনে সে চরম বিরক্তির সাথে আমাকে একটা অশ্লীল গালি দিয়ে বলল “এই _ _ _ _ তো দেহি আমগোত্থেও বেশি ছ্যাচ্চর”। তারপর রিক্সওয়ালাকে “ওই সাইড কর, নামুম” বলে নেমে গেল। আমিও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বাসায় ফিরলাম। 😀

মোট পড়েছেনঃ ৮৬৩জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

১৮টি মন্তব্য

  1. কমেডি কমেডিয়ানের মতোই হয়েছে।। দারুন মজা পেলাম।। আর দুর্ঘটনার জন্য বলবো, ভাই পারলে কিছু অগ্রিম লেখা খসড়া করে রেখে যান।।

    1. ধন্যবাদ। আমার মনে হয় উপস্থিত বুদ্ধি সবারই আছে। ঘটনার আকস্মিকতায় চমকে যায় বলেই হয়ত প্রকাশ হয়না তা। কিন্তু নানা ঘাত প্রতিঘাতে জীবন যাদের নির্লিপ্ত করে ফেলেছে, তারা চমকায় না, তাই মাথা ঠান্ড রেখেই বুদ্ধি প্রয়োগ করতে পারে। ;?

    1. ঠিক বলেছেন। কিন্তু জীবন কে এর মধ্যে দিয়েই তো চালিয়ে নিতে হবে। ব্যাঙ্গও প্রতিবাদের আরেক রকম ভাষা হতে পারে। সে চেষ্টা থেকেই এ লেখা। সরাসরি বলিনি, কিন্তু বোমার আঘাতে আমার কি প্রনতি হতে পারত তা স্যাটায়ার করে লিখে নাড়া দিতে চেয়েছি মানুষের ভাবনায়।

  2. আপনার নিক ‘বোকা মানুষ’ , মেনে নিচ্ছি ।
    কিন্তু লেখার হাতটি যে চমৎকার ।

    দু’টো ঘটনাতেই পরিত্রাণ , একটি দৈব অন্যটি অনবদ্য বুদ্ধিমত্তা ।
    সুন্দর উপস্থাপনা ।

    1. জিসান ভাই, আপনার এবং এবং আপনার মত আরও অনেকের ভালবাসাই তো আমাকে এখনও পর্যন্ত বাঁচিয়ে রেখেছে। ভালবাসা যত কমবে, মৃত্যুর দিকে তত আমি এগুব। কিন্তু ভালবাসা থাকলে শারীরিক মৃত্যু হলেও বেঁচে থাকব ভালবাসার মানুষদের মনে 🙂

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।